। আবদুর রহমান ইবনু আবূ লাইলা (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবু লাইলা বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঘরের মধ্যে সাপ দেখা গেলে তোমরা বল, “আমরা নূহ (আঃ)-এর দোহাই ও সুলাইমান ইবনু দাউদ (আঃ)-এর দোহাই দিয়ে বলছি, তুমি আমাদের কষ্ট দিও না। এরপরও তা দেখা গেলে তোমরা একে হত্যা কর। যঈফ, যঈফা (১৫০৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা ইবনু আবূ লাইলার রিওয়াত হিসেবে সাবিত আল-বুনানীর সূত্রেই শুধু উল্লেখিত হাদীসটি জেনেছি।
। আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুকুর (আল্লাহ্ তা'আলার) সৃষ্ট প্রাণীগুলোর একটি প্রাণী না হলে আমি এর সবগুলোকে মেরে ফেলার হুকুম করতাম। অতএব এগুলোর মধ্যে যে কুকুরগুলো অত্যাধিক কালো সেগুলোকে তোমরা মেরে ফেল। সহীহ্, মিশকাত তাহকীক ছানী (৪১০২), গাইয়াতুল মারাম (১৪৮), সহীহ আৰূ দাউদ (২৫৩৫) ইবনু উমার, জাবির, আবূ রাফি ও আবূ আইয়ূব (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আব্দুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। কোন কোন হাদীসের বর্ণনায় আছেঃ “কালো রং-এর কুকুরগুলো শাইতান”। সেগুলোই ঘোর কালো কুকুরের পর্যায়ে পরে যেগুলোর মধ্যে সাদা রং-এর কোন চিহ্নমাত্রও পাওয়া যায় না। কালো কুকুরের শিকার খাওয়াকে একদল আলিম মাকরূহ মনে করেন।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক শিকারী কুকুর অথবা গবাদিপশু পাহারাদার কুকুর ব্যতীত ভিন্ন উদ্দেশ্যে কুকুর লালন-পালন করে থাকে, তার সাওয়াব হতে প্রতিদিন দুই কীরাত (উহুদ পর্বতের সমতুল্য নেকি) পরিমাণ কমে যায়। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (২৫৩৪), নাসা-ঈ আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল, আবূ হুরাইরা ও সুফিয়ান ইবনু আবৃ যুহাইর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ 'আও কালবা যারইন’ (অথবা ফসলাদি পাহারাদার কুকুর ব্যতীত)।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিকারী কুকুর অথবা গবাদিপশু পাহারাদার কুকুর ব্যতীত অন্যান্য কুকুর মারার হুকুম দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, তাকে বলা হল, আবু হুরাইরা বলেন, "অথবা ফসলাদি পাহারাদার কুকুর" বর্ণনাকারী বলেন, আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর কৃষিভূমি ছিল। সহীহ, ইরওয়া (২৫৪৯), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুতবা দিচ্ছিলেন তখন তার চেহারার সম্মুখ থেকে যারা খেজুর গাছের ডাল সরিয়ে রেখেছিলেন তাদের মধ্যে আমিও ছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ কুকুর যদি (আল্লাহ্ তা'আলার) সৃষ্ট প্রজাতিসমূহের মধ্যে একটি প্রজাতি না হতো তবে আমি এগুলোকে ধ্বংসের জন্য নির্দেশ দিতাম। অতএব এদের মধ্যে যে কুকুরগুলো মিশমিশে কালো তাদেরকে মেরে ফেল। যে বাড়ীর মানুষেরা শিকারের উদ্দেশ্যে, ফসলাদি ও মেষপাল পাহারা দেয়ার উদ্দেশ্য ব্যতীত কুকুর পালন করে থাকে তাদের সৎ আমল হতে প্রতিদিন এক কীরাত করে (সাওয়াব) কমে যায়। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩২০৫) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। এ হাদীসটি একাধিক সূত্রে হাসান হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদেও বর্ণিত আছে।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গবাদিপশু পাহারাদার কুকুর, শিকারী কুকুর অথবা কৃষিক্ষেত পাহারাদার কুকুর ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্য নিয়ে যে লোক কুকুর লালন-পালন করে থাকে তার সাওয়াব হতে প্রতিদিন এক কীরাত পরিমাণ কমে যায়। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩২০৪) নাসা-ঈ, বুখারীতে শিকারী কুকুরের উল্লেখ আছে মুয়াল্লাকভাবে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। কেবলমাত্র একটি ছাগলের মালিককেও আতা ইবনু আবূ রাবাহ (রাহঃ) কুকুর পালনের সম্মতি প্রদান করেছেন। ইসহাক ইবনু মানসূর-হাজ্জাজ ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি ইবনু জুরাইজ হতে, তিনি আতা (রাহঃ) হতে এইসূত্রে তা বর্ণিত।