আবদুল্লাহ ইবনু আবূ মুলাইকা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর (রাঃ) হুবশী নামক স্থানে মারা গেলেন। পরে তাকে মক্কায় এনে এখানে কবর দেয়া হল। আইশা (রাঃ) মক্কায় এসে (ভাই) আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাক্রের কবর য়ারাতে গেলেন। তিনি কবরের পাশে দাড়িয়ে নিম্নোক্ত কবিতা আবূত্তি করেনঃ “আমরা দু'জন জায়ীমার দুই সহচর দীর্ঘকাল কাটিয়েছি একসাথে এমনকি বলা হত আমরা কখনো বিচ্ছিন্ন হব না কিন্তু যখন পৃথক হলাম আমি মালিকের থেকে মনে হচ্ছে এক রাতও কাটাইনি একসাথে।" তারপর তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলার কসম! আমি যদি হাযির থাকতাম তবে আপনার মউতের জায়গাতেই আপনাকে দাফন করা হত। আমি যদি আপনার দাফনের সময় হাযির থাকতাম, তবে আমি আপনার কবর যিয়ারাতে আসতাম না। যঈফ, মিশকাত
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, কবর যিয়ারাতকারী মহিলাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিসম্পাত করেছেন। – হাসান, ইবনু মাজাহ (১৫৭৬) ইবনু আব্বাস ও হাসসান ইবনু সাবিত (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। একদল বিশেষজ্ঞ আলিম মনে করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারাতের অনুমতি দেওয়ার পূর্বেকার হাদীস এটি। তিনি কবর যিয়ারাতের অনুমতি দেওয়ার পর এই অনুমতির মধ্যে নারী-পুরুষ সকলেই অন্তর্ভুক্ত। কোন কোন আলিম মনে করেন, স্ত্রীলোকদের মাঝে অল্প ধৈর্য এবং বেশি অস্থিরতা থাকার জন্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কবর যিয়ারাত অপছন্দ করেছেন।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা কবরে প্রবেশ করলেন। তার জন্য একটি আলো জ্বালানো হল। তিনি কিবলার দিক হতে মৃতদেহ ধরলেন এবং বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা তোমায় রহম করুন! তুমি ছিলে বেশী নরমদিলের এবং বেশী কুরআন তিলাওয়াতকারী। তিনি তার (নামাযে) চারবার আল্লাহু আকবার বললেন। যঈফ, মিশকাত (১৭০৬) তিনি রাত্রে কবরে প্রবেশ করলেন এ অংশটুকু হাসান, আহকামুল জানায়িয এ অনুচ্ছেদে জাবির ও ইয়াযীদ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইয়াযীদ (রাঃ) যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ)-এর অগ্রজ। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান। একদল আলিম এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। তারা বলেন, মৃতকে কিবলার দিক হতে কবরে নামাবে। আর একদল আলিমের মতে পায়ের দিক হতে নামাতে হবে। বেশীরভাগ বিশেষজ্ঞ আলিম রাতে মৃতদেহ দাফন করা জায়িয মনে করেন।
হাদিস 1058 — Jami At Tirmidhi 10:94
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ مُرَّ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِجَنَازَةٍ فَأَثْنَوْا عَلَيْهَا خَيْرًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَجَبَتْ " . ثُمَّ قَالَ " أَنْتُمْ شُهَدَاءُ اللَّهِ فِي الأَرْضِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَكَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একটি মৃত ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। লোকজন তার প্রশংসা করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার জন্য (জান্নাত) নির্ধারিত হয়ে গেল। এরপর তিনি বললেনঃ পৃথিবীতে তোমরা (মুমিনরা) আল্লাহ তা'আলার সাক্ষী। – সহীহ, ইবনু মাজাহ (১৪৯১), বুখারী, মুসলিম উমার, কাব ইবনু উজরা ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবুল আসওয়াদ আদ-দীলী (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি মাদীনাতে এসে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে বসলাম। (আমাদের সামনে দিয়ে) লোকেরা একটি লাশ নিয়ে যাচ্ছিল। তারা তার ভালো গুণাবলীর প্রশংসা করছিল। উমার (রাঃ) বললেন, নির্ধারিত হয়ে গেল। তাকে আমি প্রশ্ন করলাম, কি নির্ধারিত হলো? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন আমি শুধু তাই বলেছি। তিনি বলেছেনঃ তিনজন লোকও যদি কোন মুসলিমের পক্ষে উত্তম সাক্ষী দেয় তাহলে তার জন্য জান্নাত নির্ধারিত হয়ে যায়। উমার (রাঃ) বলেন, আমরা প্রশ্ন করলাম, দু’জন লোক যদি এমন সাক্ষী দেয়? তিনি বললেনঃ দু'জন লোক (সাক্ষী) দিলেও। উমার (রাঃ) বলেন, তারপর একজনের সাক্ষ্যের কথা আমরা প্রশ্ন করিনি। — সহীহ, আল আহকাম (৪৫), বুখারী আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবুল আসওয়াদের নাম যা-লিম, পিতা আমর এবং দাদা সুফিয়ান।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিম ব্যক্তির তিনটি শিশু সন্তান মারা গেলে তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না; তবে শপথ ভঙ্গ করে থাকলে (স্পর্শ করবে)। — সহীহ, ইবনু মাজাহ (১৬০৩) উমার, মুআয, কাব ইবনু মালিক, উতবা ইবনু আবদ, উম্মু সুলাইম, জাবির, আনাস, আবু যার, ইবনু মাসউদ, আবু সালাবা আল-আশজাঈ, ইবনু আব্বাস, উকবা ইবনু আমির, আবু সাঈদ এবং কুররা ইবনু ইয়াস আল-মুযানী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই একটি মাত্র হাদীসই আবু সালাবা হতে বর্ণিত আছে। ইনি আবু সালাবা আল-খুশানী নন। আবু হুরাইরার হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তিনটি অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান (আল্লাহ্ তা'আলার কাছে) পাঠিয়েছে, তারা তার জন্য (জাহান্নামের বিরুদ্ধে) সুরক্ষিত কেল্লা হবে। আবূ যার (রাঃ) বললেন, আমি দুটি সন্তান আগে পাঠিয়েছি। তিনি বললেনঃ দু'টি পাঠালেও। কুরআন বিশেষজ্ঞদের নেতা উবাই ইবনু কাব (রাঃ) বললেন, আমি একটি আগে পাঠিয়েছি? তিনি বললেনঃ একটি পাঠালেও। কিন্তু এটা শুধু তার জন্য যে প্রথম চোটেই সহিষ্ণুতা অবলম্বন করেছে। যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৬০৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আবূ উবাইদা (রহঃ) তার পিতার কাছে হাদীস শুনেননি।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যে যার দুটি মৃত সন্তান থাকবে, তাদের প্রতিদানে আল্লাহ তা'আলা তাকে জানাতে প্রবেশ করাবেন। আইশা (রাঃ) তাকে প্রশ্ন করলেন, আপনার উন্মাতের মধ্যে যার একটি মৃত সন্তান থাকবে? তিনি বললেনঃ হে কল্যাণময়ী। যার এমন একটি সন্তান থাকবে তাকেও। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, আপনার উম্মাতের মধ্যে যার কোন অগ্রগামী সন্তান নেই? তিনি বললেনঃ আমিই আমার উম্মাতের জন্য অগ্রগামী। কেননা আমার ইন্তেকালে তারা যে কষ্ট পাবে তেমন আর কারো ইন্তেকালে পাবে না। যঈফ, তা’লীকুর রাগীব (৩/৯৩), মিশকাত (১৭৩৫) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। কেননা আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র আবদু রব্বিহি ইবনু বারিকের সূত্রেই জেনেছি। একাধিক মুহাদ্দিস তার নিকট হতে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। আহমাদ ইবনু সাঈদ-হাব্বান ইবনু হিলাল হতে তিনি আবদে রব্বিহির সূত্রে উপরের হাদীসের মতই হাদীস বর্ণনা করেছেন। সিমাক ইবনুল ওয়ালীদ, তিনি হলেন আবূ যুমাইল হানাফী।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শহীদ পাঁচ প্রকারেরঃ মহামারীর কারণে যে লোক মারা যায়, যে পেটের অসুখের কারণে মারা যায়, পানিতে ডুবে যে লোক মারা যায়, চাপা পড়ে যে লোক মারা যায় এবং যে লোক আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় (যুদ্ধক্ষেত্রে) শহীদ হয়। — সহীহ, আল আহকাম (৩৮) বুখারী, মুসলিম আনাস, সাফওয়ান ইবনু উমাইয়া, জাবির ইবনু আতীক, খালিদ ইবনু উরফুতা, সুলাইমান ইবনু সুরাদ, আবু মূসা ও আইশা (রাঃ) হতেও এ আন অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন।
। আবু ইসহাক আস-সাবীঈ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, খালিদ ইবনু উরফুতা (রাঃ)-কে সুলাইমান ইবনু সুরাদ (রাঃ) অথবা সুলাইমান (রাঃ)-কে খালিদ (রাঃ) প্রশ্ন করলেন, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একথা বলতে শুনেছেনঃ "যে লোককে পেটের পীড়া মৃত্যু দিয়েছে কবরে সে লোককে কোন রকম শাস্তি দেয়া হবে না"। তাদের একজন অন্যজনকে বললেন, হ্যাঁ। - সহীহ, আল আহকাম (৩৮) আবু ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে এ হাদীসটি হাসান গারীব। অন্য সূত্রেও এটি বর্ণিত হয়েছে।