। উসামা ইবনু যাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, মহামারী প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলোচনা করলেন এবং বললেনঃ যে গযব বা শাস্তি বনী ইসরাঈলের এক গোষ্ঠীর উপর এসেছিলো, তার বাকী অংশই হচ্ছে মহামারী। অতএব, কোথাও মহামারী দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থানরত থাকলে সে জায়গা হতে চলে এসো না। অপরদিকে কোন এলাকায় এটা দেখাদিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থান না করলে সে জায়গাতে যেও না। – সহীহঃ বুখারী, মুসলিম সা'দ, খুযাইমা ইবনু সাবিত, আবদুর রাহমান ইবনু আওফ, জাবির ও আইশা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উসামা ইবনু যাইদের হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক আল্লাহ তা'আলার সাক্ষাত লাভ করা পছন্দ করে, তার সাথে সাক্ষাত করতে আল্লাহ তা'আলাও পছন্দ করেন। আল্লাহ্ তা'আলার সাথে সাক্ষাত করতে যে লোক পছন্দ করে না, তার সাথে সাক্ষাত করতে আল্লাহ্ তা'আলাও পছন্দ করেন না। - সহীহ, বুখারি, মুসলিম। আবু মূসা, আবু হুরাইরা ও আইশা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উবাদা ইবনুস সা-মিত (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার সাথে সাক্ষাত করতে যে লোক পছন্দ করে তার সাথে সাক্ষাত করতে আল্লাহ্ তা'আলাও পছন্দ করেন। আল্লাহ্ তা'আলার সাথে সাক্ষাত করতে যে লোক পছন্দ করে না, তার সাথে সাক্ষ করাকে আল্লাহ তা'আলাও পছন্দ করেন না। আইশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মৃত্যুকে তো আমরা সবাই অপছন্দ করি। তিনি বললেনঃ এর অর্থ তা নয়, বরং যখন আল্লাহ্ তা'আলার রহমত, তার সন্তোষ ও তার জান্নাতের সুসংবাদ কোন মু'মিন লোককে দেয়া হয় তখন সে লোক আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করতে ইচ্ছা করে এবং তার সাথে সাক্ষাত করাকে আল্লাহ তা'আলাও পছন্দ করেন। অপরপক্ষে যখন কাফির লোককে আল্লাহর নির্ধারিত আযাব ও তার গযবের দুঃসংবাদ দেয়া হয় তখন আল্লাহ তা'আলার সাথে সাক্ষাত করাকে সে লোক পছন্দ করে না এবং তার সাথে সাক্ষাত করাকে আল্লাহ্ তা'আলাও পছন্দ করেন না। - সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৪২৬৪), বুখারী, মুসলিম এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন।
। জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, কোন এক লোক আত্মহত্যা করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযা আদায় করেননি। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫২৬), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। আলিমদের মাঝে আত্মহত্যাকারীর জানাযা আদায়ের ব্যাপারে মতের অমিল আছে। একদল আলিম বলেন, কিবলার দিকে ফিরে যেসব লোক নামায আদায় করে তাদের ও আত্মহত্যাকারীর জানাযা আদায় করা হবে। এই মতের প্রবক্তা হচ্ছেন সুফিয়ান সাওরী ও ইসহাক (রহঃ)। ইমাম আহমাদ বলেন, আত্মহত্যাকারীর জানাযার নামায ইমাম সাহেব আদায় করবেন না, তবে অন্যান্য লোকেরা তা আদায় করবে।
হাদিস 1069 — Jami At Tirmidhi 10:105
সহিহসহিহহাসান SahihIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِرَجُلٍ لِيُصَلِّيَ عَلَيْهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ فَإِنَّ عَلَيْهِ دَيْنًا " . قَالَ أَبُو قَتَادَةَ هُوَ عَلَىَّ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بِالْوَفَاءِ " . قَالَ بِالْوَفَاءِ . فَصَلَّى عَلَيْهِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَسَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ وَأَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي قَتَادَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আবদুল্লাহ ইবনু আবূ কাতাদা (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, কোন এক মৃত ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট জানাযার উদ্দেশ্যে আনা হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা তোমাদের সার্থীর জানাযা আদায় কর; কেননা, তার ঋণ(অপরিশোধিত অবস্থায়) আছে। আবু কাতাদা (রাঃ) বললেন, তার দেনা পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তা পরিশোধ করে দেবে তো? তিনি বললেন, অবশ্যই পরিশোধ করব। তারপর তিনি সে ব্যক্তির জানাযার নামায আদায় করলেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৪০৭),বুখারী, মুসলিম জাবির, সালামা ইবনুল আকওয়া ও আসমা বিনতু ইয়াযীদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ কাতাদাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, ঋণগ্রস্ত মৃত ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিয়ে আসা হলে তিনি প্রশ্ন করতেন, তার ঋণ পরিশোধ করার মত কোন কিছু রেখে গেছে কি এ ব্যক্তি? সে লোক ঋণ পরিশোধ করার মত সম্পদ রেখে গেছে বলা হলে তবে তিনি তার জানাযার নামায আদায় করতেন। অন্যথায় তিনি মুসলিমদের বলতেনঃ তোমাদের ভাইয়ের জানাযার নামায তোমরা আদায় কর। তারপর তাকে আল্লাহ তা'আলা অসংখ্য বিজয় দিলে তিনি দাড়িয়ে বললেনঃ মু'মিনদের জন্য তাদের নিজেদের চাইতেও আমি বেশি কল্যাণকামী। অতএব, মুমিনদের মাঝে কোন লোক যদি ঋণগ্রস্ত হয়ে মারা যায় তবে তা পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার। আর ধন-সম্পদ রেখে যে ব্যক্তি মারা যায় তা তার ওয়ারিসদের প্রাপ্য। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৪১৫), বুখারী, মুসলিম এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। উপরোক্ত হাদীসের মতই লাইস ইবনু সাদের সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনু বুকাইর ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত লোককে বা তোমাদের কাউকে যখন কবরের মধ্যে রাখা হয় তখন কালো বর্ণের এবং নীল চোখ বিশিষ্ট দু'জন ফেরেশতা আসেন তার নিকট। তাদের মধ্যে একজনকে মুনকার এবং অন্যজনকে নাকীর বলা হয়। তারা উভয়ে (মৃত ব্যক্তিকে) প্রশ্ন করেনঃ তুমি এ ব্যক্তির (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) প্রসঙ্গে কি বলতে? মৃত ব্যক্তিটি (যদি মুমিন হয় তাহলে) পূর্বে যা বলত তাই বলবেঃ তিনি আল্লাহর বান্দা ও তার রাসূল। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বান্দা ও রাসূল। তারা উভয়ে তখন বলবেন, আমরা তো জানতাম তুমি একথাই বলবে। তারপর সে ব্যক্তির কবর দৈর্ঘ্য-প্রস্থে সত্তর গজ করে প্রশস্ত করা হবে এবং তার জন্য এখানে আলোর ব্যবস্থা করা হবে। তারপর সে লোককে বলা হবে, তুমি ঘুমিয়ে থাক। তখন সে বলবে, আমার পরিবার-পরিজনকে সুসংবাদ দেওয়ার জন্য আমি তাদের নিকট ফিরে যেতে চাই। তারা উভয়ে বলবেন, বাসর ঘরের বরের মত তুমি এখানে এমন গভীর ঘুম দাও, যাকে তার পরিবারের সবচাইতে প্রিয়জন ব্যাতিত আর কোন ব্যাক্তি জাগিয়ে তুলতে পারে না। অবশেষে আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাকে তার বিছানা হতে জাগিয়ে তুলবেন। মৃত লোকটি যদি মুনাফিক হয় তাহলে (প্রশ্নের উত্তরে) বলবে, তার প্রসঙ্গে লোকেরা একটা কথা বলত আমিও তাই বলতাম। এর বেশি কিছুই আমি জানি না। ফেরেশতা দু'জন তখন বলবেন, আমরা জানতাম, এ কথাই তুমি বলবে। তারপর যমীনকে বলা হবে, একে চাপ দাও। সে লোককে এমন শক্ত করে যমীন চাপা দেবে যে, তার পাজরের হাড়গুলো পরস্পরের মাঝে ঢুকে পরবে। (কিয়ামতের দিন) আল্লাহ তাকে তার এ বিছানা হতে উঠানো পর্যন্ত সে লোক এভাবেই আযাব পেতে থাকবে। — হাসান, মিশকাত (১৩০), সহীহাহ (১৩৯১) আলী, জাইদ ইবনু সাবিত, ইবনু আব্বাস, বারাআ ইবনু আজিব, আবু আইয়ুব, আনাস, জাবির, আইশা ও আবু সাঈদ (রাঃ) সকলেই এ অনুচ্ছেদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে কবরের শাস্তি সম্পর্কিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক মারা গেলে তার সামনে সকাল ও সন্ধ্যায় তার (আখিরাতের) বাসস্থান তুলে ধরা হয়। সে লোক জান্নাতে বসবাসকারীদের অন্তর্ভুক্ত হলে তাকে জান্নাতের জায়গা দেখানো হয়। আর যদি সে লোক জাহান্নাম বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয় তাহলে তাকে জাহান্নামীদের জায়গা দেখানো হয়। তারপর বলা হয়, তোমার থাকার জায়গা এটাই। তোমাকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা এখানে পাঠাবেন। — সহীহ, বুখারী ও মুসলিম এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে, তাকেও দুর্দশাগ্রস্তের সমান বদলা দেয়া হয়। যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৬০২) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। শুধু আলী ইবনু আসিমের সূত্রেই আমরা এ হাদীসটি মারফু হিসেবে জেনেছি। কিছু রাবী মুহাম্মাদ ইবনু সূকার সূত্রে এটা মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, মারফু হিসেবে নয়। কথিত আছে যে, আলী ইবনু আসিম এই হাদীসের জন্যে সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন। মুহাদ্দিসগণ তাকে দোষারোপ করেছেন।
। আদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জুমুআর দিনে অথবা জুমুআর রাতে কোন মুসলিম ব্যক্তি যদি মৃত্যুবরণ করে তাহলে কবরের ফিতনা হতে আল্লাহ তাকে রক্ষা করেন। — হাসান, মিশকাত (১৩৬৭), আল আহকাম (৩৫) এ হাদীসটিকে আবু ঈসা গারীব বলেছেন। তিনি আরও বলেছেন, এর সনদ পরস্পর সংযুক্ত নয়। কেননা আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)-এর নিকট হতে রাবীআ ইবনু সাইফ সরাসরি আব্দুল্লাহ ইবনু আমর হতে কোন হাদীস শুনেছেন বলে আমাদের জানা নেই। মূলতঃ তিনি আবদুর রাহমান আল-হুবুল্লীর সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনু আমর হতে হাদীস বর্ণনা করেন।