। আওফ ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক মৃত ব্যক্তির জানাযার নামায আদায় কালে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে দু’আ পাঠ করতে শুনেছি আমি তার বাক্যগুলি মনে রেখেছিঃ “হে আল্লাহ্! তাকে ক্ষমা করুন, তাকে দয়া করুন এবং তাকে এমনভাবে (আপনার দয়ার) শিশির বিন্দু দিয়ে ধৌত করুন যেভাবে কাপড় ধোয়া হয়”। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫০০) মুসলিম এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল বুখারী (রহঃ) এটাকেই এই অনুচ্ছেদের সবচেয়ে বেশি সহীহ হাদীস বলেছেন।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, জানাযার নামাযে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা ফাতিহা পাঠ করেছেন। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৪৯৫), বুখারী উম্মু শারীক (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের সনদ খুব একটা মজবুত নয়। বর্ণনাকারী ইবরাহীম ইবনু উসমান হচ্ছেন আবূ শাইবা আল-ওয়াসিতী। তিনি প্রত্যাখ্যাত বর্ণনাকারী অর্থাৎ তার বর্ণিত হাদীস প্রত্যাখ্যাত। ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর বক্তব্য হিসাবে বর্ণিত রিওয়ায়াতটিই সহীহ। তিনি বলেন, জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করা সুন্নাত।
। তালহা ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আওফ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) এক মৃত ব্যক্তির জানায আদায় করলেন এবং তাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করলেন। তাকে এ প্রসঙ্গে আমি প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, এটা সুন্নাত অথবা সুন্নাতের পূর্ণতা দানকারী। — সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ আমল করেছেন। জানাযার নামাযে প্রথম তাকবীর পাঠ করার পর সূরা ফাতিহা পাঠকে তারা পছন্দ করেছেন। এই মত ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকেরও। অপর একদল বিশেষজ্ঞ আলিম বলেছেন, জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করবে না। কেননা, এটা হচ্ছে আল্লাহর প্রশংসা, নবীর প্রতি দরূদ পাঠ এবং মৃতের জন্য দুআ করা। এই মত সুফিয়ান সাওরী ও কুফাবাসী আলিমদের। রাবী তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ ইবনু আউফ হলেন আব্দুর রাহমান ইবনু আউফের ভ্রাতুষ্পপুত্র। তার নিকট হতে যুহরী হাদীস বর্ণনা করেছেন।
। মারসাদ ইবনু আবদুল্লাহ আল-ইয়াযানী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যখন মালিক ইবনু হুবাইরা (রাঃ) জানাযার নামায আদায় করতেন তখন লোকজনের উপস্থিতি অল্প হলে তাদেরকে তিনি তিন সারিতে ভাগ করতেন। তারপর তিনি বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির জানাযার নামায তিন কাতার লোক আদায় করেছে তার জন্য (জান্নাত) অবধারিত হয়েছে। – হাসান, আহকামুল জানায়িয (১২৮) আইশা, উম্মু হাবীবা, আবু হুরাইরা ও মাইমূনা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। মালিক ইবনু হুবাইরা হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। অনেক বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবরাহীম ইবনু সা’দ ও মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি মারসাদ ও মালিক ইবনু হুরাইরার মাঝে আরও একজন বর্ণনাকারী উল্লেখ করেছেন। পূর্বোক্ত বর্ণনাই আমার মতে বেশি সহীহ।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোন মুসলিম মারা যাওয়ার পর একশত জনের একদল মুসলিম তার জানাযার নামায আদায় করে এবং তারা তার জন্য সুপারিশ করে, তবে তার জন্য তাদের সুপারিশকে কুবুল করা হবে। আলী (ইবনু হুজর) তার বর্ণিত হাদীসে (একশতের স্থলে) একশত বা ততোধিক' বাক্য উল্লেখ করেছেন। — সহীহ, আল আহকাম (৯৮), মুসলিম আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটিকে কিছু বর্ণনাকারী মাওকুফ হিসাবে বর্ণনা করেছেন, মারফু হিসাবে নয়।
। উকবা ইবনু আমির আল-জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এমন তিনটি সময় আছে যে সময়ে আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায আদায় করতে অথবা আমাদের মৃত ব্যক্তিদের দাফন সম্পন্ন করতে বারণ করতেনঃ চকমক করে সূর্য উঠার সময় হতে তা সম্পূর্ণভাবে না উঠা পর্যন্ত; দুপুরের সময় সূর্য ঠিক (মাথার উপর) সোজা হয়ে যাওয়া হতে যতক্ষণ পর্যন্ত তা ঢলে না পড়ে এবং যে সময় সূর্য ডুবার সময় হয়, সম্পূর্ণভাবে তা ডুবে না যাওয়া পর্যন্ত। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫১৯), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী ও একদল আলিম আমল করেছেন। জানাযার নামায উল্লেখিত ওয়াক্তসমূহে আদায় করাকে তারা মাকরূহ বলেছেন। ইবনুল মুবারাক বলেছেন, মৃতকে দাফন না করার কথা বলে এ হাদীসে জানাযার নামায না আদায় করা বুঝানো হয়েছে। সূর্য উদয়ের সময়, ঠিক দুপুরে এবং সূর্য ডুবার সময়। তিনি জানাযার নামায আদায় করাকে মাকরূহ বলেছেন। এই মত গ্রহণ করেছেন ইমাম, আহমাদ ও ইসহাক। ইমাম শাফিঈ বলেছেন, যেসব ওয়াক্তে নামায আদায় করা মাকরূহ সেসব ওয়াক্তে জানাযার নামায আদায় করাতে কোন সমস্যা নেই।
। মুগীরা ইবনু শুবা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আরোহী ব্যক্তি লাশের পিছে পিছে যাবে, আর পায়ে হাঁটা ব্যক্তি যেদিক দিয়ে ইচ্ছা সেদিক দিয়ে যেতে পারবে এবং শিশুর (লাশের) জানাযাও আদায় করতে হবে। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫০৭) এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ইসরাঈল এবং আরও অনেকে হাদীসটি সাঈদ ইবনু উবাইদুল্লাহ হতে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিম আমল করেছেন। পূর্ণাঙ্গ দেহ বিশিষ্ট বাচ্চা জনানোর পর চিৎকার না করলেও তার জানাযা নামায আদায় করতে হবে। এই কথা বলেছেন ইমাম আহমাদ ও ইসহাক।
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন শিশু যদি জন্মগ্রহণ করার পরে চিৎকার না করে তবে তার জানাযার নামায আদায় করতে হবে না, সে কোন ব্যক্তির ওয়ারিস হবে না এবং তারও কেউ ওয়ারিস হবে না। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫০৮) আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসের বর্ণনায় রাবীগণের গরমিল আছে। এটাকে একদল মারফু হাদীস রূপে জাবির (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আশআস ইবনু সাওওয়ার এবং আরও অনেকে এটাকে জাবির হতে মাওকুফ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক আতা ইবনু আবূ বারাহ-এর বরাতে জাবির হতে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মারফু বর্ণনা হতে মাওকুফ বর্ণনাটিই বেশি সহীহ। এ হাদীস অনুযায়ী একদল বিশেষজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। শিশু জন্মগ্রহণ করার পর চিৎকার না করলে তাদের মত আনুযায়ী তার জানাযা আদায় করবে না। এই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী ও শাফিঈ (রহঃ)।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সুহাইল ইবনু বাইযা (রাঃ)-এর জানাযা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের অভ্যন্তরভাগে আদায় করেছেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫১৮) এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করেন। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, ইমাম মালিক (রাহঃ) বলেছেন, জানাযার নামায মসজিদের অভ্যন্তরভাগে আদায় করা যাবে না। শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, মসজিদে জানাযার নামায আদায় করা যায়। এ হাদীস নিজের অনুকূলে তিনি দলীল হিসাবে উপস্থাপন করেন।
। আবু গালিব (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আনাস (রাঃ)-এর সাথে আমি এক লোকের জানাযার নামায আদায় করলাম। তিনি লাশের মাথা বরাবর দাঁড়ালেন। তারপর লোকেরা কুরাইশ বংশের এক মহিলার লাশ নিয়ে আসলো। তারা বলল, হে হামযার পিতা! এর জানাযা আদায় করুন। তিনি তার খাটিয়ার মাঝ বরাবর দাঁড়ালেন। তাকে আলা ইবনু যিয়াদ (রাহঃ) বললেন, স্ত্রীলোকটির খাটিয়ার মাঝ বরাবর এবং পুরুষ লোকটির মাথা বরাবর আপনি যেভাবে দাড়ালেন, এভাবে কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাড়াতে দেখেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। নামায শেষে তিনি বললেন, তোমরা এই নিয়ম ভালোভাবে স্মরণ রাখ। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৪৯৪) সামুরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। হাম্মামের সূত্রে একাধিক বর্ণনাকারী একইরকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। এই হাদীস হাম্মামের সূত্রে ওয়াকী (রাহঃ) বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি সনদে গড়মিল করেছেন। তিনি বলেছেন গালিব আনাস হতে, সঠিক হল আবূ গালিব। আব্দুল ওযারিস এবং আরও অনেকে হাম্মামের মতই আবু গালিব হতে বর্ণনা করেছেন। আবু গালিবের নাম নিয়ে মত পার্থক্য আছে। কেউ বলেছেন, তার নাম নাফি, কেউ বলেছেন রাফি। এ হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করেছেন। এই মত আহমাদ ও ইসহাকেরও।