। সামুরা ইবনু জুনদাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মহিলার জানাযা আদায় করলেন, তিনি তার কোমর বরাবর দাড়ালেন। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৪৯৩), বুখারী, মুসলিম আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। হুসাইন আল-মুআল্লিমের সূত্রে শুবা (রহঃ) এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
। আবদুর রাহমান ইবনু কাব ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, জাবির (রাঃ) তাকে জানিয়েছেন যে, উহুদের যুদ্ধের দুই দুইজন শহীদকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই কাপড়ে একসাথে কাফন সম্পন্ন করেছেন। তিনি প্রশ্ন করতেনঃ এদের দুজনের মধ্যে কোন ব্যক্তির বেশি কুরআন মুখস্ত আছে? তাদের কোন একজনের দিকে ইশারা করা হলে তিনি প্রথমে তাকে (কিবলার দিকে) কবরে রাখতেন। তারপর তিনি বলতেনঃ এদের জন্য আমি কিয়ামতের দিন সাক্ষী হব। (বর্ণনাকারী বলেন) তিনি রক্তমাখা দেহেই তাদেরকে দাফন করার হুকুম দিয়েছেন এবং তাদের জানাযা আদায় করেননি, এমনকি তাদের গোসলও করানো হয়নি। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫১৪), বুখারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। যুহরী তার সনদের ধারাবাহিকতায় উল্লেখিত হাদীসটি আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। যুহরী হতে আব্দুল্লাহ ইবনু সালাবা ইবনু আবু সুয়াইবের বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতেও হাদীসটি বর্ণিত আছে। কোন কোন রাবী হাদীসটি জাবির হতেও বর্ণনা করেছেন। বিশেষজ্ঞ আলিমদের মধ্যে শহীদ ব্যক্তির জানাযা আদায়ের ব্যাপারে মতের অমিল আছে। একদল আলিম তাদের জানাযা আদায় না করার কথা বলেছেন। মদীনার আলিমগণ এই মত দিয়েছেন। একইরকম কথা বলেছেন ইমাম। শাফিঈ এবং আহমাদও। অপর একদল আলিম বলেন, শহীদ ব্যক্তিদের জানাযা আদায় করতে হবে। “হামযা (রাঃ)-এর জানাযা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদায় করেছেন” তারা দলীল হিসাবে এই হাদীস নিজেদের পক্ষে উপস্থাপন করেছেন। এই মত সুফিয়ান সাওরী এবং কুফাবাসী আলিমদের। একইরকম মত দিয়েছেন ইমাম ইসহাকও।
। শাবী (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এমন এক ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বিচ্ছিন্ন করব দেখলেন। অতঃপর তিনি তার সাহাবীদেরকে তার পিছনে কাতারবন্দী করে দাঁড় করালেন এবং তার উপর (কবরের উপর) জানাযার নামায আদায় করলেন। বর্ণনাকারীকে প্রশ্ন করা হল, কে আপনাকে জানিয়েছেন? তিনি বললেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ)। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫৩০), বুখারী, মুসলিম আনাস, বুরাইদা, ইয়াজীদ ইবনু সাবিত, আবূ হুরায়রা, আমির ইবনু রাবীআ, আবু কাতাদা ও সাহল ইবনু হুনাইফ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিম আমল করেছেন। এই মত দিয়েছেন ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। অপর একদল বিশেষজ্ঞ আলিম বলেছেন, জানাযার নামায কবরের উপর আদায় করা যাবে না। মালিক ইবনু আনাস (রাহঃ)-এর এই মত। ইবনুল মুবারাক বলেছেন, মৃত ব্যক্তিকে যদি জানাযার নামায আদায় না করে দাফন করে তাহলে কবরের উপর জানাযা আদায় করা যাবে। অর্থাৎ কবরের উপর জানাযা আদায় করা ইবনুল মুবারাকের মতে জায়িয। আহমাদ ও ইসহাক বলেছেনঃ একমাস পর্যন্ত কবরের উপরে জানাযার নামায পড়া যাবে। তারা উভয়ে বলেছেন, ইবনুল মুসায়িবের নিকট আমরা যা শুনেছি তা হলঃ সা’দ ইবনু উবাদা (রাঃ)-এর মায়ের কবরের উপর এক মাস পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযার নামায আদায় করেছেন।
হাদিস 1038 — Jami At Tirmidhi 10:74
দাঈফদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ أُمَّ سَعْدٍ، مَاتَتْ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم غَائِبٌ فَلَمَّا قَدِمَ صَلَّى عَلَيْهَا وَقَدْ مَضَى لِذَلِكَ شَهْرٌ .
। সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, সাদ (রাঃ)-এর আম্মা ইন্তিকাল করেন। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাযির ছিলেন না। তিনি (সফর হতে) প্রত্যাবর্তন করে তার জানাযার নামায আদায় করেন। ইতিমধ্যে (মৃত্যুর পর) একমাস চলে গিয়েছিল। - যঈফ, ইরওয়া
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের ভাই নাজাশী মারা গেছেন। তোমরা তার জন্য দাঁড়িয়ে নামায আদায় কর। বর্ণনাকারী বলেন, মৃত ব্যক্তির জানাযার নামাযের ন্যায় আমরা দাড়িয়ে কাতার বাঁধলাম এবং তার জন্য জানাযার নামায আদায় করলাম। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫৩৫), মুসলিম আবু হুরাইরা, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ, আবু সাঈদ, হুযাইফা ইবনু উসাইদ ও জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উল্লেখিত সনদ সূত্রে হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন। হাদীসটি আবু কিলাবা তার চাচা আবুল মুহাল্লাবের বরাতে ইমরান ইবনু হুসাইন হতে বর্ণনা করেছেন। আবুল মুহাল্লাবের নাম আবদুর রাহমান, পিতার নাম আমর। অপর মতে তার নাম মুআবিয়া।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক জানাযার নামায আদায় করল সে লোকের জন্য এক কীরাত সাওয়াব। আর জানাযার সাথে সাথে যে লোক যায় এবং দাফন সমাপ্ত পর্যন্ত থাকে তার জন্য দুই কীরাত সাওয়াব। এর একটি অথবা অপেক্ষাকৃত ছোটটি উহুদ পাহাড়ের সমান। (বর্ণনাকারী বলেন) এ কথা ইবনু উমারের নিকট আমি বর্ণনা করলে তিনি আইশা (রাঃ)-এর নিকট পাঠিয়ে এ প্রসঙ্গে তাকে প্রশ্ন করেন। জবাবে তিনি বললেন, আবু হুরাইরা সত্য কথা বলেছেন। ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, আমরা তো তাহলে অনেক কীরাত হতে বঞ্চিত হয়েছি। - সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫৩৯),বুখারী, মুসলিম বারাআ, আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, আবূ সাঈদ, উবাই ইবনু কা'ব, ইবনু উমার ও সাওবান (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর হাদীসটিকে আবৃ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখিত হাদীসটি আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে।
। আব্বাস ইবনু মানসূর (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমি আবূল মুহাযযিমকে বলতে শুনেছিঃ আমি দশ বছর ধরে আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর সান্নিধ্যে ছিলাম। আমি তাকে বলতে শুনেছি, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি লাশের পিছে পিছে গেল এবং তা তিনবার বহন করল সে মৃত ব্যক্তির প্রতি তার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে পালন করল। যঈফ,মিশকাত (১৬৭০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। কিছু রাবী এ হাদীসটি উল্লেখিত সনদ সূত্রে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেননি। আবূল মুহাযযিমের নাম ইয়াযীদ, পিতার নাম সুফিয়ান। শুবা (রাহঃ) তাকে যঈফ বলেছেন।
। আমির ইবনু রাবীআ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে যেতে দেখলে তোমরা দাঁড়িয়ে যাবে। তোমরা দাঁড়িয়ে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত না তা তোমাদেরকে ছাড়িয়ে যায় অথবা তা মাটিতে না রাখা হয়। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫৪২), বুখারী, মুসলিম আবু সাঈদ, জাবির, সাহল ইবনু হুনাইফ, কাইস ইবনু সা’দ ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আমির ইবনু রাবীআর হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে যেতে দেখলে তোমরা দাড়িয়ে যাবে। লাশের পিছু পিছু যে লোক যাবে সে লোক যেন না বসে যতক্ষণ পর্যন্ত তা নিচে নামিয়ে না রাখা হয়। -সহীহ বুখারী, মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আবু সাঈদ (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) বলেছেন, কাঁধ হতে মৃত ব্যক্তিকে নিচে নামিয়ে না রাখা পর্যন্ত লাশের অনুসরণকারী বসবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিম প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, লাশ ছাড়িয়ে তারা আগে চলে যেতেন এবং বসে থাকতেন যতক্ষণ পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির লাশ না পৌছাত। ইমাম শাফিঈর মতও তাই।
। আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, মৃত ব্যক্তিকে নিচে না রাখা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকা” প্রসঙ্গে তার সামনে আলোচনা করা হলে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগে দাড়াতেন কিন্তু পরবর্তীতে বসে থেকেছেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫৪৪), মুসলিম হাসান ইবনু আলী ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা সহীহ বলেছেন। উল্লেখিত হাদীসের সনদে চারজন রাবী হলেন তাবিঈ। তাদের মাঝে একজন অন্য জনের নিকট হতে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী একদল বিশেষজ্ঞ আলিম আমল করেন। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি এ অনুচ্ছেদে অধিকতর সহীহ। পূর্ববর্তী দাঁড়ানো প্রসঙ্গে হাদীসের নির্দেশকে এই হাদীস মানসূখ (রহিত) করে দিয়েছে। ইমাম আহমাদ (রাহঃ) বলেন, ইচ্ছা করলে কোন লোক দাড়াতেও পারে আবার নাও দাড়াতে পারে। “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগে দাড়াতেন কিন্তু পরবর্তীতে বসে থেকেছেন” তিনি দলীল হিসাবে এই হাদীসটিকে পেশ করেছেন। ইসহাক ইবনু ইবরাহীমও একইরকম কথা বলেছেন। আবু ঈসা বলেনঃ “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগে দাড়াতেন কিন্তু পরবর্তীতে বসে থেকেছেন” আলী (রাঃ)-এর এই কথার তাৎপর্য এই যে, মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে যেতে দেখলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাড়াতেন এবং এ অভ্যাস পরবর্তী কালে ছেড়ে দিয়েছেন। তারপর তিনি আর লাশ নিয়ে যেতে দেখলে দাঁড়াতেন না।