। বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার জন্য কাধের হাড় অথবা তক্তা আন। তিনি তাতে এই আয়াত লিখালেনঃ “মুমিনদের মধ্যে যেসব লোক ঘরে বসে থাকে তারা সমকক্ষ হতে পারে না”। আমর ইবনু উম্মি মাকতুম (রাঃ) তার পিছনে বসা ছিলেন। তিনি বললেন, আমার জন্য (ঘরে বসে থাকার) অনুমতি আছে কি? তখন অবতীর্ণ হলঃ “ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ ব্যতীত”। সহীহ বুখারী (২৮৩১,৪৫৯৩,৪৫৯৪), মুসলিম (৬৪৩), তক্তা শব্দ ব্যতীত ইবনু আব্বাস, জাবির ও যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ ইসহাক হতে সুলাইমান আত-তাঈমীর সূত্রে গরীব। এ হাদীসটি আবূ ইসহাকের সূত্রে শুবা ও সুফিয়ান সাওরীও বর্ণনা করেছেন।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একজন লোক এসে তার কাছে জিহাদে যোগদানের সম্মতি চাইল। তিনি বললেন তোমার মা-বাবা কি বেঁচে আছে? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তুমি তাদের সেবায় জিহাদ কর। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৭৮২), নাসা-ঈ ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ্। আবূল আব্বাস ছিলেন মক্কার অধিবাসী একজন অন্ধ কবি। তার নাম সাইব ইবনু ফাররূখ।
ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একাকী ভ্রমণে যে কি (অনিষ্ট) রয়েছে, তা আমি যে রকম জানি, অন্যরাও সে রকম জানলে কোন ভ্রমণকারীই রাতে একাকী ভ্রমণ করত না। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৭৬৮), বুখারী
। আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একা ভ্রমণকারী এক শাইতান, দুইজন ভ্রমণকারী দুই শাইতান এবং তিনজন ভ্রমণকারী একটি জামা'আত। হাসান, সহীহা (৬৪), মিশকাত (৩৯১০), সহীহ আবূ দাউদ (২৩৪৬) ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আমরা এ হাদীসটি শুধু উল্লেখিত সূত্রেই আসিমের রিওয়ায়াত হিসাবে জেনেছি। আসিমের বাবা মুহাম্মাদ, দাদা যাইদ, পরদাদা আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ)। ইমাম বুখারী (রাহঃ) বলেন, আসিম নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী। আর আসিম ইবনু উমার আল-উমারী হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল। আমি তার সূত্রে কোন হাদীস বর্ণনা করি না। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান।
। আবূ ইসহাক (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ)-এর পাশে উপস্থিত ছিলাম। তাকে প্রশ্ন করা হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়টি যুদ্ধ করেছেন? তিনি বললেন, উনিশটি। আমি প্রশ্ন করলাম, আপনি কতটি যুদ্ধে তার সাথে ছিলেন? তিনি বললেন, সতেরটিতে। আমি বললাম, এর মধ্যে সর্বপ্রথম কোন যুদ্ধটি ছিল? তিনি বললেন, যাতুল উশাইর বা উশাইরার যুদ্ধ। সহীহ, নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের যুদ্ধে আমাদেরকে রাতের বেলা সারিবদ্ধভাবে বিন্যস্ত করেছেন। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে আবূ আইউব (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সনদসূত্রে এটি জেনেছি। আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে এ হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি এ প্রসঙ্গে অজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক (রাহঃ) সরাসরি ইকরিমা হতে হাদীস শুনেছেন। তিরমিয়ী বলেন, আমি ইমাম বুখারীর সাথে আমার সর্বপ্রথম সাক্ষাতে লক্ষ্য করি যে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু হুমাইদ আর-রায়ী প্রসঙ্গে ভাল ধারণা পোষণ করতেন। কিন্তু পরে তিনি তাকে দুর্বল রাবী বলে আখ্যায়িত করেন।
। ইবনু আবী আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি মুশরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে তাকে অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দু’আ করার সময় বলতে শুনেছিঃ “হে আল্লাহ! কিতাব অবতীর্ণকারী এবং দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী শক্রবাহিনীকে পরাজিত কর এবং তাদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত কর”। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (২৩৬৫), নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় প্রবেশ করেন এবং তার ক্ষুদ্র পতাকা ছিল সাদা রং-এর। হাসান, ইবনু মা-জাহ (৩৮১৭) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা গারীব বলেছেন। আমরা এ হাদীসটি শারীকের সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনু আদমের নিকট হতেই জেনেছি। আমি এ হাদীস প্রসঙ্গে মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে প্রশ্ন করলে তিনিও শুধু এই সূত্রটিই (শারীক-ইয়াহইয়া) উল্লেখ করেন। একাধিক বর্ণনাকারী পর্যায়ক্রমে শারীক, আম্মার, আবূয যুবাইর, তারপর জাবির (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় প্রবেশ করার সময় তার মাথায় ছিল কালো পাগড়ী”।ইমাম বুখারী (রাহঃ) বলেন, এটিই হল সেই হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, দুহন হল বাজীলা গোত্রের একটি শাখা গোত্র। আম্মার আদ-দুহনীর উপনাম আবূ মুআবিয়া। তিনি ছিলেন কূফার অধিবাসী। হাদীস বিশারদদের মতে তিনি সিকাহ (নির্ভরযোগ্য) বর্ণনাকারী।