। মাযীদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মক্কায় যাওয়ার সময় তার তরবারি ছিল সোনা-রূপা খচিত। (অধঃস্তন রাবী) তালিব বলেন, আমি তাকে (হুদকে) রূপা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তরবারির হাতলটি ছিল রৌপ্য খচিত। যঈফ, মুখতাসার শামায়িল মুহাম্মাদীয়া (৮৭) ইরওয়া (৩/৩০৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি গারীব। হুদ-এর নানার নাম ছিল মাযীদা আল-আসরী।
হাদিস 1691 — Jami At Tirmidhi 23:22
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرِ بْنِ حَازِمٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كَانَتْ قَبِيعَةُ سَيْفِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ فِضَّةٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَهَكَذَا رُوِيَ عَنْ هَمَّامٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ وَقَدْ رَوَى بَعْضُهُمْ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ قَالَ كَانَتْ قَبِيعَةُ سَيْفِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ فِضَّةٍ .
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তলোয়ারের হাতল ছিল রৌপ্যখচিত। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (২৩২৬-২৩২৮), ইরওয়া (৮২২), মুখতাসার শামাইল (৮৫,৮৬) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। হাম্মামও কাতাদার সূত্রে, তিনি আনাসের সূত্রে একইরকম বর্ণনা করেছেন। কয়েকজন বর্ণনাকারী কাতাদা হতে, তিনি সাঈদ ইবনু আবীল হাসান হতে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তলোয়ারের বাট ছিল রৌপ্যখচিত (এই সূত্রে এটি মুরসাল হাদীস)।
হাদিস 1692 — Jami At Tirmidhi 23:23
হাসানহাসানহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ، قَالَ كَانَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم دِرْعَانِ يَوْمَ أُحُدٍ فَنَهَضَ إِلَى الصَّخْرَةِ فَلَمْ يَسْتَطِعْ فَأَقْعَدَ طَلْحَةَ تَحْتَهُ فَصَعِدَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهِ حَتَّى اسْتَوَى عَلَى الصَّخْرَةِ فَقَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " أَوْجَبَ طَلْحَةُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ أُمَيَّةَ وَالسَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ .
। যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিধানে দুটি লৌহ বর্ম ছিল। তিনি তা পরিহিত অবস্থায় (আহত হওয়ার পর) একটি পাথরের উপর উঠার চেষ্টা করেন, কিন্তু উঠতে পারেননি। তিনি তালহা (রাঃ)-কে নিচে বসিয়ে তার কাঁধে চড়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাথরের উপর উঠে উপবিষ্ট হন। যুবাইর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ তালহা (তার জন্য জান্নাত) নির্ধারিত করে নিল। হাসান, মিশকাত (৬১১২), মুখতাসার শামাইল (৮৯), সহীহ আবূ দাউদ (২৩৩২) আবূ ঈসা বলেন, সাফওয়ান ইবনু উমাইয়্যা ও সাইব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা এটি শুধুমাত্র মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের হাদীস হিসাবে জেনেছি।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন লোহার শিরস্ত্রাণ পরে মক্কায় প্রবেশ করেন। তাকে বলা হল, কাবার পর্দার সাথে ইবনু খাতাল জড়িয়ে আছে। তিনি বললেনঃ তাকে মেরে ফেল। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৮০৫), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ গরীব বলেছেন। এই হাদীসটি যুহরী (রাহঃ) হতে মালিক (রাহঃ) ব্যতীত অন্য কোন প্রবীণ বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন কি না তা আমরা জানি না।
। উরওয়া আল-বারিকী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত পর্যন্ত ঘোড়ার কপালে কল্যাণ বাধা রয়েছেঃ পুরস্কার ও গানীমাত। সহীহ, নাসা-ঈ ইবনু উমার, আবূ সাইদ, জারীর, আবূ হুরায়রা, আসমা বিনতু ইয়াযীদ, মুগীরা ইবনু শুবা ও জাবির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। উরওয়া হলেন আবূল জা'দ আল-বারিকীর পুত্র, তাকে উরওয়া ইবনুল-জা'দও বলা হয়। ইমাম আহমাদ বলেন, এ হাদীসে যে গভীর তাৎপর্য নিহিত আছে তা হল, কিয়ামত পর্যন্ত প্রত্যেক ইমামের নেতৃত্বে জিহাদ অব্যাহত থাকবে।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লাল রং-এর ঘোড়ায় কল্যাণ রয়েছে। হাসান সহীহ, মিশকাত (৩৮৭৯), তা’লীকুর রাগীব (২/১৬২), সহীহ আবূ দাউদ (২২৯৩) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। আমরা এটি শুধু এই সূত্রে শাইবানের হাদীস হিসাবে জেনেছি।
। আবূ কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কালো রং-এর ঘোড়া সবচাইতে উত্তম, যার কপাল ও উপরের ওষ্ঠ সাদা। তারপর যে ঘোড়ার ডান পা ও কপাল ব্যতীত বাকী পাগুলো সাদা রং-এর। কালো বর্ণের ঘোড়া পাওয়া না গেলে লাল-কালো মিশ্রিত বর্ণের অনুরূপ ঘোড়া উত্তম। সহীহ, ইবনু মা-জাহ
। উপরোক্ত হাদীসের মতো মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-ওয়াহব ইবনু জারীর হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি ইয়াহিয়া ইবনু আইউব হতে, তিনি ইয়াযীদ ইবনু আবী হাবীব হতে এই সূত্রেও অনুরূপ অর্থের হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব সহীহ বলেছেন।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিকাল ঘোড়া অর্থাৎ তিন পা সাদা ও এক পা শরীরের রং বিশিষ্ট ঘোড়া অপছন্দ করেছেন। সহীহ, ইবনু মাজাহ (৭২১০) মুসলিম আবূ ঈসা বলেছেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস শুবা আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ আল-খাসআমী হতে তিনি আবূ যুরআ হতে তিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একই রকম বর্ণনা করেছেন। আবূ যুরআর নাম হারিম, তিনি “উমারা ইবনুল কাকা হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেনঃ ইবরাহীম নাখাঈ (রাহঃ) আমাকে বলেছেনঃ আপনি আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করলে আবূ যুরআর সূত্রে তা বর্ণনা করবেন। কারণ তিনি এক সময় আমার নিকট একটি হাদীস বর্ণনা করেন। বেশ কয়েক বছর পর আমি আবার তাকে সেই হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি অক্ষরে অক্ষরে তা হুবহু বর্ণনা করেন, তাতে একটুও ত্রুটি করেননি। যঈফ, সনদ বিচ্ছিন্ন
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, হাফইয়া হতে সানিয়্যাতুল বিদা পর্যন্ত জায়গাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশেষ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হালকা শরীরবিশিষ্ট ঘোড়াসমূহের দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন। এই দু’টি জায়গার মাঝের দূরত্ব ছয় মাইল। তিনি সানিয়াতুল বিদা হতে যুরাইক বংশের মাসজিদ পর্যন্ত ভারী দেহবিশিষ্ট অপ্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ঘোড়াসমূহের দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন। এ দুটি জায়গার মাঝের দূরত্ব এক মাইল। আমিও ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় যোগ দেই। আমার ঘোড়াটি আমাকে-সহ লাফ দিয়ে একটি দেয়াল টপকে যায়। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৮৭৭), নাসা-ঈ। বুখারীতে দেয়াল টপকানোর কথা উল্লেখ নেই। আবূ হুরাইরা, জাবির, আইশা ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ সাওরীর সূত্রে গারীব বলেছেন।