। আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি রাসাল্লাম বলেন ; তোমাদের কেউ যখন নামাযে দাঁড়ায় তখন সে যেন তার সামনের কাকর না মোছে। কেননা তখন রহমত’ তার সামনে -থাকে। যঈফ, ইবনু মাজাহ
। মু'আইকীব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নামাযের মধ্যে কাকর সরানো প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ যদি তা সরানো খুবই দরকার হয় তবে একবার মাত্র সরাবে। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১০২৬)। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। উম্মু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আফলাহ নামের যুবককে দেখলেন, সে যখন সিজদায় যায় তখন ফু দিয়ে ধুলা সরায়। তিনি বললেনঃ হে আফলাহ! তোমার চেহারায় ধুলাবালি লাগাও। যঈফ, তালীকুর রাগীব (১/১৯৩), মিশকাত (১০০২), যঈফাহ (৫৪৮৫) আহমাদ ইবনু মানী বলেন, আব্বাদ ইবনু আওয়াম (রাঃ) নামাযের মধ্যে ফু দেয়া মাকরূহ মনে করতেন। তিনি বলেছেন, এরূপ করলে নামায অবশ্য নষ্ট হবে না। আহমাদ ইবনু মানী বলেনঃ আমি এই অভিমত সমর্থন করি। অপর এক বর্ণনায় এ যুবকের নাম রাবাহ’ বলে উল্লেখ আছে।
। আহমাদ ইবনু আবদা আয-যাব্বী হতে, তিনি হাম্মাদ ইবনু যাইদ হতে, তিনি মাইমূন হতে..... উক্ত সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এই বর্ণনায় গোলামের নাম রাবাহ উল্লেখিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেনঃ উম্মু সালামার হাদীসের সনদ তেমন একটা সুবিধাজনক নয়। মাইমুন-আবূ হামাযাকে কিছু বিশেষজ্ঞ দুর্বল বলেছেন। নামাযের মধ্যে ফুঁ দেয়া প্রসঙ্গে আলিমদের মধ্যে মতের অমিল আছে। একদল বলেছেন, নামাযের মধ্যে ফুঁ দিলে আবার নামায আদায় করতে হবে। সুফিয়ান সাওরী ও কুফাবাসীগণ এ মত ব্যক্ত করেছেন। অপর দল বলেছেন, এটা মাকরূহ, তবে এতে নামায নষ্ট হবে না। আহমাদ ও ইসহাক একথা বলেছেন।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কোন ব্যক্তিকে কোমরে হাত রেখে নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন। —সহীহ। সিফাতুস সালাত- (৬৯), সহীহ আবু দাউদ- (৮৭৩), রাওয- (১১৫২), ইরওয়া— (৩৭৪), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে ইবনু উমার (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুরাইরার হাদীসটি হাসান সহীহ। একদল বিশেষজ্ঞ কোমরে হাত দিয়ে নামাযে দাড়ানো মাকরুহ বলেছেন। অপর একদল বিদ্বান কোমরে হাত রেখে হাটা মাকরূহ বলেছেন। নামাযের মধ্যে এক হাত অথবা দুই হাত কোমরে রাখাকে ইখতিসার বলে। বর্ণিত আছে, ইবলীস পথ চলার সময় কোমরে হাত রেখে চলে।
। আবু রাফি (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি হাসান ইবনু ‘আলী (রাঃ)-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি নামায আদায় করছিলেন। তার চুল ঘাড়ের নিকট বাধা ছিল। তিনি (আবু রাফি) তা খুলে দিলেন। এতে হাসান (রাঃ) রাগান্বিত হয়ে তার দিকে তাকালেন। তিনি (আবু রাফি) বললেন, নামাযে মনোনিবেশ কর, রাগ কর না। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, এটা (নামাযে চুল বাধা) শাইতানের অংশ। -হাসান। সহীহ আবু দাউদ- (৬৫৩)। এ অনুচ্ছেদে উম্মু সালামা ও আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু রাফির হাদীসটি হাসান। বিদ্বানগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। তারা ঘাড়ের নিকট চুল বাধা রেখে নামায আদায় করা মাকরুহ বলেছেন। আবু ঈসা বলেনঃ ইমরান ইবনু মূসা মক্কাবাসী কুরাইশ, তিনি আইয়ুব ইবনু মূসার ভাই।
। ফযল ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নামায দুই দুই রাকাআত; প্রতি দুই রাকাআত পর তাশাহহুদ পাঠ করতে হবে; নামায়ীকে বিনয়ী হতে হবে, মিনতির সাথে প্রার্থনা করতে হবে; কপর্দকহীন হতে হবে। কোন কিছুকে ওয়াসীলা করে চাইতে হবে। এ অবস্থায় তোমার প্রতিপালকের দরবারে নিজের দু'হাত তুলবে, হাতের তালু তোমার চেহারার দিকে থাকবে, তারপর বলবে, হে প্ৰভু, হে প্রতিপালক। যে ব্যক্তি এমনটি না করবে তার নামায এরূপ এবং এরূপ হবে। যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৩২৫) আবূ ঈসা বলেনঃ ইবনুল মুবারাক ছাড়া অন্যান্য রাবীগণ হাদীসের শেষের অংশ এরূপ বর্ণনা করেছেনঃ যে ব্যক্তি এরূপ (বিনয়-নম্রতা অবলম্বন) করল না তার নামায পূর্ণাঙ্গ হল না। আবূ ঈসা বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল বুখারীকে বলতে শুনেছি, শুবা এ হাদীসটি আবদে রাব্বিহি ইবনু সাঈদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি কয়েকটি জায়গায় ভুল করেছেন। তিনি বলেছেন, আনাস ইবনু আবী আনাস হতে প্রকৃত পক্ষে তা হবে ইমরান ইবনু আবী আনাস, তিনি বলেছেন আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস হতে প্রকৃত পক্ষে তা হবে আব্দুল্লাহ ইবনু নাফি হতে তিনি রাবীয়া ইবনুল হারিস হতে। শুবা বলেছেন আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস হতে তিনি মুত্তালিব হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। প্রকৃত পক্ষে তা হবে রাবীয়া ইবনুল হারিস ইবনু আব্দুল মুত্তালিব হতে, তিনি ফাযল ইবনুল আব্বাস হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। মুহাম্মাদ (বুখারী) বলেছেন, শুবার বর্ণিত হাদীসের চেয়ে লাইসের বর্ণনাটি বেশি সহীহ।
। কাব ইবনু উযরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন তোমাদের কেউ ভালভাবে ওযু করে নামায আদায়ের নিয়্যাতে মসজিদের দিকে যেতে থাকে তখন সে যেন নিজের হাতের আঙ্গুলগুলো পরস্পরের মধ্যে প্রবেশ না করায়। কেননা সে তখন নামাযের মধ্যেই আছে।-সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৯৭৬)। আবু ঈসা বলেনঃ কাব ইবনু উযরার হাদীসটি একাধিক সূত্রে ইবনু আজলান হতে লাইসের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে। শারীক তার সনদ পরম্পরায় এ হাদীসটি আবু হুরাইরার নিকট হতে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তার বর্ণনাসূত্রটি সঠিকভাবে রক্ষিত হয়নি।
হাদিস 387 — Jami At Tirmidhi 2:239
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قِيلَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَىُّ الصَّلاَةِ أَفْضَلُ قَالَ " طُولُ الْقُنُوتِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُبْشِيٍّ وَأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ .
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হল, কোন ধরনের নামায উত্তম? তিনি বললেনঃ যে নামাযে দীর্ঘক্ষণ দাড়ানো হয়। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১৪২১), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু হুবশী ও আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ জাবির ইবনু আব্দুল্লাহর হাদীসটি হাসান সহীহ। উল্লেখিত হাদীসটি জাবিরের নিকট হতে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
। মাদান ইবনু আবু তালহা আল-ইয়ামারী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আযাদকৃত দাস সাওবান (রাঃ)-এর সাথে দেখা করলাম। আমি তাকে বললাম, আমাকে এমন একটি কাজের কথা বলে দিন যার বিনিময়ে আল্লাহ তা'আলা আমাকে উপকৃত করবেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আমার প্রশ্নে তিনি কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন। তারপর তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমি অবশ্যই বেশি বেশি সিজদা করবে। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে কোন বান্দাহ আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তার জন্য একটি সিজদা করে, আল্লাহ তা'আলা তার একটি মর্যাদা বাড়িয়ে দেন এবং তার একটি গুনাহ ক্ষমা করে দেন। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১৪২৩), মুসলিম।