حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " التَّسْبِيحُ لِلرِّجَالِ وَالتَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَسَهْلِ بْنِ سَعْدٍ وَجَابِرٍ وَأَبِي سَعِيدٍ وَابْنِ عُمَرَ . وَقَالَ عَلِيٌّ كُنْتُ إِذَا اسْتَأْذَنْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُصَلِّي سَبَّحَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَيْهِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (ইমাম যখন নামাযে ভুল করে তাকে সতর্ক করার জন্য) পুরুষ মুক্তাদীগণ সুবহানাল্লাহ বলবে এবং স্ত্রীলোকেরা হাততালি’ দিবে। সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১০৩৪-১০৩৬), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আলী, সাহল ইবনু সাদ, জাবির, আবু সাঈদ ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আলী (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ভিতরে আসার সম্মতি চাইলে তিনি নামাযের মধ্যে থাকলে সুবহানাল্লাহ' বলতেন। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুরাইরা (রাঃ)র হাদীসটি হাসান সহীহ। আলিমগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেন। ইমাম আহমাদ এবং ইসহাকও একই রকম কথা বলেছেন।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নামাযের মধ্যে হাই তোলা শাইতানের তরফ হতে হয়ে থাকে। তোমাদের কারো হাই আসলে সে যেন তা ফিরাতে যথাসাধ্য চেষ্টা করে। —সহীহ। য’ঈফা— (২৪২০), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আবু সাঈদ আল-খুদরী এবং আদী ইবনু সাবিতের দাদা হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুরাইরা (রাঃ)’র হাদীসটি হাসান সহীহ। আলিমদের একটি দল নামাযের মধ্যে হাই তোলা মাকরূহ মনে করেন। ইবরাহীম নাখঈ বলেন, আমি কাশি দিয়ে হাই তোলা নিবারণ করি।
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোন ব্যক্তির বসে বসে নামায আদায় করা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি দাড়িয়ে (নফল) নামায আদায় করে সেটাই উত্তম। যে ব্যক্তি বসে নামায আদায় করে তার জন্য দাড়িয়ে নামায আদায়কারীর অর্ধেক নেকী রয়েছে। আর যে ব্যক্তি ঘুমে অসাড় অবস্থায় বা শুয়ে নামায আদায় করে তার জন্য বসে বসে নামায আদায়কারীর অর্ধেক নেকী রয়েছে। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১২৩১), বুখারী। এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আনাস ও সাইব (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ইমরান ইবনু হুসাইনের হাদীসটি হাসান সহীহ্।
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অসুস্থ ব্যক্তির নামায আদায় করা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ দাঁড়িয়ে নামায আদায় কর; যদি দাড়িয়ে আদায় করতে সক্ষম না হও তবে বসে নামায আদায় কর; যদি বসে নামায আদায় করতে সক্ষম না হও তবে (শুয়ে) কাত হয়ে নামায আদায় কর। —সহীহ। ইরওয়া— (২৯৯), বুখারী। আবু ঈসা বলেনঃ হুসাইন আল-মুয়াল্লিম হতে ইবরাহীম ইবনু তাহমানের বর্ণনার মতো অন্য কেউ বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। আবু উসামা এবং আরো অনেকে হুসাইন আল-মুয়াল্লিম হতে ঈসা ইবনু ইউনুসের বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিছু বিদ্বানের মতে নফল নামাযের জন্য এ সম্মতি দেয়া হয়েছে। হাসান (বাসরী) হতে বর্ণিত আছে, নফল নামায আদায়কারী ইচ্ছা করলে দাড়িয়ে, বসে বা শুয়েও নামায আদায় করতে পারে। সনদ সহীহ। যে অসুস্থ ব্যক্তি বসে নামায আদায় করতে অক্ষম সে ব্যক্তি কিভাবে নামায আদায় করবে এ ব্যাপারে বিদ্বানগণের মতের অমিল রয়েছে। একদল বিদ্বান বলেন, এমন ব্যক্তি ডানকাতে শুয়ে (কিবলার দিকে মুখ করে) নামায আদায় করবে। আরেক দল বিদ্বান বলেন, চিৎ হয়ে শুয়ে কিবলার দিকে পা দিয়ে (মাথা সামান্য উচু করে) নামায আদায় করবে। ইমরান ইবনু হুসাইনের এ হাদীসের ব্যাখ্যায় সুফইয়ান সাওরী বলেনঃ সুস্থ্য ব্যক্তি যার কোন উযর নেই সে বসে নামায পড়লে দাড়িয়ে নামায পড়ার অর্ধেক সাওয়াব পাবে যদি তা নফল নামায হয়। আর যে ব্যক্তির উযর বা আপত্তি আছে সে যদি বসে নামায পড়ে তবে সে দাড়িয়ে নামায পড়ার মতোই সাওয়াব পাবে। কোন কোন হাদীসে সুফইয়ান সাওরীর মতের সমর্থনে বর্ণনা রয়েছে।
হাদিস 373 — Jami At Tirmidhi 2:225
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ Muslim
حَدَّثَنَا الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ أَبِي وَدَاعَةَ السَّهْمِيِّ، عَنْ حَفْصَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى فِي سُبْحَتِهِ قَاعِدًا حَتَّى كَانَ قَبْلَ وَفَاتِهِ صلى الله عليه وسلم بِعَامٍ فَإِنَّهُ كَانَ يُصَلِّي فِي سُبْحَتِهِ قَاعِدًا وَيَقْرَأُ بِالسُّورَةِ وَيُرَتِّلُهَا حَتَّى تَكُونَ أَطْوَلَ مِنْ أَطْوَلَ مِنْهَا . وَفِي الْبَابِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ وَأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ حَفْصَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ جَالِسًا فَإِذَا بَقِيَ مِنْ قِرَاءَتِهِ قَدْرُ ثَلاَثِينَ أَوْ أَرْبَعِينَ آيَةً قَامَ فَقَرَأَ ثُمَّ رَكَعَ ثُمَّ صَنَعَ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ مِثْلَ ذَلِكَ . وَرُوِيَ عَنْهُ أَنَّهُ كَانَ يُصَلِّي قَاعِدًا فَإِذَا قَرَأَ وَهُوَ قَائِمٌ رَكَعَ وَسَجَدَ وَهُوَ قَائِمٌ وَإِذَا قَرَأَ وَهُوَ قَاعِدٌ رَكَعَ وَسَجَدَ وَهُوَ قَاعِدٌ . قَالَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ وَالْعَمَلُ عَلَى كِلاَ الْحَدِيثَيْنِ . كَأَنَّهُمَا رَأَيَا كِلاَ الْحَدِيثَيْنِ صَحِيحًا مَعْمُولاً بِهِمَا .
। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী হাফসা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকালের এক বছর পূর্ব পর্যন্ত আমি তাকে বসে বসে নফল নামায আদায় করতে দেখিনি। তারপর তিনি বসে বসে নফল নামায আদায় করতেন এবং সূরাসমূহ শান্ত-স্থিরভাবে থেমে থেমে পাঠ করতেন। এতে তা দীর্ঘ হতে দীর্ঘতর হত। —সহীহ। সিফাতুস সালাত- (৬০), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে উম্মু সালামা এবং আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ হাফসার হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে এরূপও বর্ণিত হয়েছেঃ “তিনি রাতের বেলা বসে নামায আদায় করতেন। কিরা'আতের তিরিশ অথবা চল্লিশ আয়াত বাকি থাকতে তিনি উঠে দাঁড়াতেন এবং তা পড়ে রুকূ-সিজদা করতেন। দ্বিতীয় রাকআতেও তিনি এরূপ করতেন। আরো বর্ণিত আছে, তিনি বসে নামায আদায় করতেন যখন তিনি দাড়িয়ে কিরা'আত পাঠ করতেন, রুকূ-সিজদাও দাঁড়িয়ে করতেন। তিনি বসে কিরা'আত পাঠ করলে রুকূ-সজদাহও বসে করতেন।” ইমাম আহমাদ ও ইসহাক বলেন, উভয় হাদীস অনুযায়ী আমল করা যায়। অর্থাৎ দু'টো হাদীসই সহীহ এবং তদনুযায়ী আমল করার যোগ্য।
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে নামায আদায় করলে কিরা'আতও বসে পাঠ করতেন। তার কিরা'আতের তিরিশ বা চল্লিশ আয়াত বাকি থাকতে তিনি উঠে দাঁড়িয়ে তা পাঠ করতেন, তারপর রুকূ-সিজদা করতেন। দ্বিতীয় রাকআতেও তিনি অনুরূপ করতেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১২২৬), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ।
আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক হতে আয়িশাহ (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি তাকে (আয়িশাহকে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নফল নামায আদায় করা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, তিনি কখনও দীর্ঘ রাত পর্যন্ত দাড়িয়ে নামায আদায় করতেন, আবার কখনও দীর্ঘ রাত ধরে বসে নামায আদায় করতেন। তিনি যখন দাড়িয়ে কিরা'আত পাঠ করতেন, তখন রুকূ-সিজদাও দাড়ানো অবস্থায় করতেন। তিনি বসে কিরা'আত পাঠ করলে রুকূ-সিজদাও বসে করতেন -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১২২৮), মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই আমি নামাযের মধ্যে বাচ্চার কান্না শুনতে পেলে তার মায়ের ব্যাকুল হওয়ার সম্ভাবনায় আমি নামায সংক্ষেপ করি। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৯৮৯), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আবু কাতাদা, আবু সাঈদ ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আনাসের হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ওড়না ব্যতিত প্রাপ্তবয়স্কা মেয়েদের নামায কুবুল হয় না। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৬৫৫)। এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীস বর্ণিত হায়িয শব্দের অর্থ বালেগ। আবু ঈসা বলেনঃ আয়িশাহ'র হাদীসটি হাসান। বিদ্বানগণ এ হাদীসের আলোকে বলেছেন, কোন মহিলা বালেগ হওয়ার পর নামাযের সময় মাথার চুলের কিছু অংশ খোলা রাখলে তার নামায জায়িয হবে না।। ইমাম শাফিঈ এমত পোষণ করেন। তিনি বলেছেন, তার শরীরের কোন অংশ অনাবৃত থাকলে তার নামায হবে না, হ্যাঁ পায়ের পাতার পিঠ খোলা থাকলে নামায হবে।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের মধ্যে সাদল করতে (কাপড় ঝুলিয়ে দিতে) নিষেধ করেছেন। এ অনুচ্ছেদে আবু জুহাইফা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাসান। মিশকাত— (৭৬৪), তা’লীক 'আলা ইবনু খুজাইমাহ– (৯১৮), সহীহ আবু দাউদ- (৬৫০)। আবু ঈসা বলেন, আবূ হুরায়রার হাদিসটি আমরা আতার সুত্রে মারফু হিসাবে জানতে পারিনি, তবে ইসল ইবনু সুফিয়ানের সূত্রে জেনেছি। নামাযের মধ্যে বন্ধনহীনভাবে কাপড় ঝুলিয়ে দেয়া প্রসঙ্গে বিদ্বানদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তাদের একদল এটাকে মাকরূহ বলেছেন। তারা আরো বলেছেন, ইহুদীরা এরূপ করে। অপর দল বলেছেন, এক কাপড়ে নামায আদায় করলে বন্ধনহীনভাবে কাপড় ঝুলিয়ে দেওয়া মাকরূহ। জামার উপর কাপড়ে সাদল করা হলে কোন আপত্তি নেই। ইমাম আহমাদ এই মত দিয়েছেন। ইবনুল মুবারাক নামাযের মধ্যে সাদল করা মাকরূহ বলেছেন।