। আবু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, আয়িশাহ (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হল, রামাযান মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামাযের বৈশিষ্ট্য কি বা ধরন কেমন ছিল? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রামাযান মাসে ও অন্যান্য সময়ে (রাতের বেলা) এগার রাকাআত নামাযের বেশি আদায় করতেন না। তিনি চার রাক’আত করে মোট আট রাক’আত আদায় করতেন। এর সৌন্দর্য এবং দৈর্ঘ্য সম্পর্কে তুমি আমাকে আর প্রশ্ন কর না। অতঃপর তিনি তিন রাকাআত নামায আদায় করতেন। আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি বিতর আদায়ের পূর্বে ঘুমান? তিনি বললেন, হে আয়িশাহ! আমার চক্ষু দুটি ঘুমায় কিন্তু আমার অন্তর ঘুমায় না। —সহীহ। সালাতুত তারাবীহ, সহীহ আবু দাউদ- (১২১২), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা এগার রাকাআত নামায আদায় করতেন। তার মধ্যে এক রাকাআত বিতর আদায় করে নিতেন। তিনি নামায শেষে অবসর হয়ে ডান কাতে শুয়ে যেতেন। সহীহ। এই হাদীসে শুবার বর্ণনাটি সাজ, সহীহ আবু দাউদ(১২০৬)। সঠিক কথা হচ্ছে- শুবার বর্ণনা ফজরের সুন্নাতের পরে- বুখারী।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা তের রাকাআত নামায আদায় করতেন। -সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১২০৫), বুখারী ও মুসলিম আরো পূর্ণরূপে। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবু জামরাহ যুবাঈর নাম নাসর ইবনু ইমরান যুবাঈ।
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা নয় রাকাআত নামায আদায় করতেন। সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১২১৩), মুসলিম আরো পূর্ণরূপে। এ অনুচ্ছেদে আবু হুরাইরা, যাইদ ইবনু খালিদ ও ফযল ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আয়িশাহ (রাঃ)-এর হাদীসটি উল্লেখিত সনদে হাসান সহীহ গারীব।
। সুফিয়ান সাওরী আমাশের বরাতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবু ঈসা বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাতের (তাহাজ্জুদের) নামায বিতরসহ সর্বোচ্চ তের রাকাআত এবং সর্বনিম্ন নয় রাকাআত ছিল বলে বর্ণিত আছে।
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি বেশি ঘুম অথবা তন্দ্রার কারণে রাতের নামায আদায় করতে সক্ষম না হতেন, তবে দিনের বেলা বার রাকাআত আদায় করে নিতেন। —সহীহ। মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। রাবী হিশাম তিনি ইবনু আমির আর হিশাম ইবনু আমির সাহাবীদের মধ্যে একজন। বাহয ইবনু হাকীম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যুরারা ইবনু আওফা বসরার কাযী (বিচারপতি) ছিলেন। তিনি কুশাইর গোত্রের ইমামতি করতেন। একদিন সকালের নামাযে তিনি এই আয়াত পাঠ করলেনঃ “স্মরণ কর, যখন শিংগায় ফু দেওয়া হবে। সে দিনটি বড়ই কঠোর ও সাংঘাতিক হবে”— (সূরাঃ আল-মুদ্দাসসিরঃ ৮, ৯)। তিনি সাথে সাথে পড়ে গিয়ে মারা গেলেন। যারা তাকে তুলে তার ঘরে নিয়ে গেলেন, আমিও তাদের সাথে ছিলাম। —সনদ হাসান।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা রাতের প্রথম এক-তৃতীয়াংশ চলে যাওয়ার পর প্রতি রাতে পৃথিবীর নিকটতম আকাশে অবতরণ করেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ আমিই রাজাধিরাজ। আমার নিকট প্রার্থনাকারী কে আছে, আমি তার প্রার্থনা কুবুল করব। আমার নিকট আবেদনকারী কে আছে, আমি তার আবেদন পূর্ণ করব। আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনাকারী কে আছে, আমি তাকে ক্ষমা করব। সকাল আলোকিত না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা তার বান্দাদের এভাবে আহবান করতে থাকেন। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১৩৬৬), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আলী ইবনু আবু তালিব, আবু সাঈদ, রিফাআ আল-জুহানী, জুবাইর ইবনু মুত'ইম, ইবনু মাসউদ, আবু দারদা ও উসমান ইবনু আবুল আস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুরাইরা (রাঃ) এর হাদীসটি হাসান সহীহ। উল্লেখিত হাদীসটি আবু হুরাইরার নিকট হতে অসংখ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে এও বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ রাতের এক-তৃতীয়াংশ বাকি থাকতে বারকাতময় আল্লাহ তা'আলা (পৃথিবীর) নিকটতম আকাশে অবতীর্ণ হন। সব বর্ণনাগুলোর মধ্যে এটিই সর্বাধিক সহীহ বর্ণনা।
। আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বাকার (রাঃ)-কে বললেনঃ আমি আপনার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন আপনি নামায আদায় করছিলেন এবং আপনার কণ্ঠস্বর খুব নীচু ছিল। তিনি (আবু বাকর) বললেন, আমি তাকে শুনাচ্ছিলাম যিনি আমার কানকথাও জানেন। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ কিছুটা উচ্চস্বরে পাঠ করুন। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উমর (রাঃ)-কে বললেনঃ আমি আপনার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন আপনি নামায আদায় করছিলেন এবং আপনার কণ্ঠস্বর খুব উচু ছিল। তিনি (উমার) বললেন, আমি অলসদের জাগরিত করছিলাম এবং শাইতানকে তাড়াচ্ছিলাম। তিনি বললেন, আপনার কণ্ঠস্বর কিছুটা নীচু করুন। সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১২০০), মিশকাত— (১২০৪)। এ অনুচ্ছেদে আয়িশাহ, উম্মু হানী, আনাস, উম্মু সালামাহ ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। উল্লেখিত হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবনু ইসহাক মুসনাদ হিসাবে বর্ণনা করেছেন, আর অনেকেই এই হাদীসটিকে আবদুল্লাহ ইবনু আবু রবাহর নিকট হতে মুরসাল হিসাবেও বর্ণনা করেছেন।
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনের একটি আয়াত পাঠ করেই রাত কাটিয়ে দিলেন। —সনদ সহীহ। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি উপরোক্ত সূত্রে হাসান গারীব।