। ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের (ফরয নামাযের) পূর্বে চার রাকাআত নামায আদায় করতেন। তিনি (আল্লাহর) নৈকট্য লাভকারী ফেরেশতা ও তাদের অনুগামী মুসলিম এবং মুমিনদের প্রতি সালাম করার মাধ্যমে এ নামাযের মাঝখানে বিভক্তি করতেন (দুই সালামে চার রাকাআতৃ আদায় করতেন। -হাসান। ইবনু মাজাহ– (১১৬১), এটা পূর্বে বর্ণিত ৪২৫ নং হাদীসের বাকী অংশ। এ অনুচ্ছেদে ইবনু উমার ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আলী (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আসরের পূর্বে এক সালামেই চার রাক’আত আদায় করা পছন্দ করেছেন। তিনি এ হাদীসকে দলীল হিসাবে গ্রহণ করে বলেছেন, সালামের মাধ্যমে বিভক্তি করার’ তাৎপর্য হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই রাকাআত পর তাশাহহুদ পাঠ করতেন। ইমাম শাফিঈ এবং আহমাদের মতে, রাত এবং দিনের (ফরয নামায ছাড়া অন্যান্য সব) নামায দুই রাকাআত করে আদায় হবে। তারা উভয়ে আসরের পূর্বের চার রাকাআতে দুই রাকাআত পর পর সালাম ফিরানোই পছন্দ করেছেন।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি আসরের পূর্বে চার রাকাআত নামায আদায় করবে আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি অনুগ্রহ করুন। -হাসান। মিশকাত- (১১৭০), সহীহ আবু দাউদ- (১১৫৪), তা’লীকুর রাগীব- (১/২০৪), তা’লীক আলা ইবনু খুজাইমাহ– (১১৯৩)। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মাগরিবের পরের দুই রাকাআতে এবং ফজরের পূর্বের দুই রাকাআতে “কুল ইয়া আয়ু হাল কাফিরূন" এবং “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ" সূরা দুটি এত সংখ্যকবার পাঠ করতে শুনেছি যে, তা গণনা করে শেষ করতে পারব না। এ অনুচ্ছেদে ইবনু 'উমার (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১১৬৬)। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু মাসউদের হাদীসটি গারীব। আবদুল মালিক ইবনু মা'দান হতে শুধুমাত্র আসিমের সূত্রেই এই হাদীসটি আমরা জেনেছি।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তার বাসায় মাগরিবের পর দুই রাকাআত সুন্নাত নামায আদায় করেছি। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১১৫৮), বুখারী। এ অনুচ্ছেদে রাফি ইবনু খাদীজ ও কাব ইবনু উজরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু উমারের হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে দশ রাকাআত নামায মুখস্থ রেখেছি। তিনি দিনরাত (চব্বিশ ঘন্টায়) এ নামাযগুলো আদায় করতেন। যুহরের পূর্বে দুই রাকাআত এবং পরে দুই রাকাআত, মাগরিবের পরে দুই রাকাআত এবং ইশার পর দুই রাকাআত। রাবী বলেন হাফসাহ আমাকে বলেছেন, তিনি (রাসূলুল্লাহ) ফজরের পূর্বেও দুই রাক’আত আদায় করতেন। -সহীহ। ইরওয়া- (৪৪০), বুখারী। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 434 — Jami At Tirmidhi 2:287
হাসান Sahihসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। সালিম হতে ও ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে .... একই হাদীস পুনর্বার বর্ণিত হয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ্।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি মাগরিবের পর ছয় রাকাআত নামায আদায় করলে এবং তার মাঝখানে কোন অশালীন কথা না বললে তাকে এর বিনিময়ে বার বছরের ইবাদাতের সমান সাওয়াব দেয়া হবে। অত্যন্ত দুর্বল, ইবনু মাজাহ (১১৬৭) আবূ ঈসা বলেনঃ আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মাগরিবের পর বিশ রাক'আত নামায আদায় করে আল্লাহ্ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরী করেন। আবূ ঈসা বলেনঃ আবূ হুরাইরার হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র যাইদ ইবনু হুবাব হতে উমর ইবনু আবূ খাসআমের সূত্রেই এ হাদীসটি জানতে পেরেছি। আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে বলতে শুনেছি, উমার ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ খাসআম একজন প্রত্যাখ্যাত রাবী। হাদীসশাস্ত্রে তিনি খুবই দুর্বল।
। আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি , বলেন, আমি আয়িশাহ (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামায প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, তিনি (রাসূলুল্লাহ) যুহরের পূর্বে দুই রাকাআত এবং পরে দুই রাকাআত, মাগরিবের পর দুই রাকাআত, ইশার পর দুই রাকাআত এবং ফজরের পূর্বে দুই রাকাআত নামায আদায় করতেন। —সহীহ। মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আলী ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনু শাকীকের সূত্রে আয়িশাহ'র হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রাতের নামায দুই দুই রাকাআত (করে আদায় করতে হয়)। তুমি যদি ভোর হয়ে যাওয়ার ভয় কর তবে এক রাকাআত আদায় করে বিতর পূর্ণ করে নাও। বিতের নামাযকেই তোমার সর্বশেষ নামায কর। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১৩১৯, ১৩২০), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আমর ইবনু আবাসা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু উমারের হাদীসটি হাসান সহীহ। বিশেষজ্ঞগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন এবং রাতের নামায দুই দুই রাকাআত করে আদায় করেছেন। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাক এই কথা বলেছেন।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রামাযান মাসের রোযার পর সর্বোৎকৃষ্ট রোযা হল আল্লাহ তা'আলার মাস মুহাররামের রোযা। ফরয নামাযের পর সর্বোৎকৃষ্ট নামায হল রাতের (তাহাৰ্জ্জুদের) নামায। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১৭৪২), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে জাবির, বিলাল ও আবু উমামা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুরাইরা (রাঃ)র হাদীসটি হাসান সহীহ। আবু ঈসা বলেনঃ রাবী আবু বিশরের নাম জাফর ইবনু আবী ওয়াহশীয়াহ আবু ওয়াহশীয়ার নাম ইয়াস।