। আবু উবাইদা ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেছেন, খন্দকের যুদ্ধের দিন মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে (লড়াইয়ে বিব্রত করে) চার ওয়াক্ত নামায হতে নিবৃত্ত রাখে। পরিশেষে আল্লাহর ইচ্ছায় যখন কিছু রাত চলে গেল তখন তিনি বিলালকে আযান দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি আযান দিলেন এবং ইক্কামাত বললেন। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুহরের নামায আদায় করালেন। অতঃপর বিলাল ইকামাত দিলে তিনি আসরের নামায আদায় করালেন। অতঃপর বিলাল ইকামাত দিলে তিনি মাগরিবের নামায আদায় করালেন। অতঃপর বিলাল ইকামাত দিলে তিনি ইশার নামায আদায় করালেন। —হাসান, ইরওয়া— (১/২৫৭)। এ অনুচ্ছেদে আবু সাঈদ ও জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর হাদীসের সনদের মধ্যে কোন ক্রটি নেই। কিন্তু আবু উবাইদা সরাসরি আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর নিকট কিছু শুনেননি। এ হাদীসের ভিত্তিতে এক দল বিদ্বান বলেছেন, একসাথে কয়েক ওয়াক্তের নামায ছুটে গেলে তার কাযা করার সময় প্রত্যেক ওয়াক্তের জন্য পৃথকভাবে ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিবে, তবে ইকামাত না দিলেও চলে। ইমাম শাফিঈ এ মত গ্রহণ করেছেন।
হাদিস 180 — Jami At Tirmidhi 2:32
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Agreed Upon
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، بُنْدَارٌ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، قَالَ يَوْمَ الْخَنْدَقِ وَجَعَلَ يَسُبُّ كُفَّارَ قُرَيْشٍ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا كِدْتُ أُصَلِّي الْعَصْرَ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَاللَّهِ إِنْ صَلَّيْتُهَا " . قَالَ فَنَزَلْنَا بُطْحَانَ فَتَوَضَّأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَتَوَضَّأْنَا فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعَصْرَ بَعْدَ مَا غَرَبَتِ الشَّمْسُ ثُمَّ صَلَّى بَعْدَهَا الْمَغْرِبَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, খন্দকের যুদ্ধের দিন উমর (রাঃ) কুরাইশ কাফিরদের গালি দিতে দিতে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সূর্য ডুবে গেল অথচ আমি আসরের নামায আদায় করার সুযোগ পেলাম না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহর শপথ! আমিও তা আদায় করার সুযোগ পাইনি। উমার (রাঃ) বললেন, আমরা বুতহান নামক উপত্যকায় গিয়ে নামলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযু করলেন, আমরাও ওযু করলাম। সূর্য ডুবে যাওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের নামায আদায় করলেন, এরপর মাগরিবের নামায আদায় করলেন। —সহীহ- বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মধ্যবর্তী নামায হচ্ছে আসরের নামায। —সহীহ। মিশকাত— (৬৩৪), মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا مَنْصُورٌ، وَهُوَ ابْنُ زَاذَانَ عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ سَمِعْتُ غَيْرَ، وَاحِدٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَكَانَ مِنْ أَحَبِّهِمْ إِلَىَّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْفَجْرِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَعَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَأَبِي سَعِيدٍ وَعُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَابْنِ عُمَرَ وَسَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَمُعَاذِ بْنِ عَفْرَاءَ وَالصُّنَابِحِيِّ وَلَمْ يَسْمَعْ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَسَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَعَائِشَةَ وَكَعْبِ بْنِ مُرَّةَ وَأَبِي أُمَامَةَ وَعَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ وَيَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ وَمُعَاوِيَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ الْفُقَهَاءِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ بَعْدَهُمْ أَنَّهُمْ كَرِهُوا الصَّلاَةَ بَعْدَ صَلاَةِ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَبَعْدَ صَلاَةِ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ وَأَمَّا الصَّلَوَاتُ الْفَوَائِتُ فَلاَ بَأْسَ أَنْ تُقْضَى بَعْدَ الْعَصْرِ وَبَعْدَ الصُّبْحِ . قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ قَالَ شُعْبَةُ لَمْ يَسْمَعْ قَتَادَةُ مِنْ أَبِي الْعَالِيَةِ إِلاَّ ثَلاَثَةَ أَشْيَاءَ حَدِيثَ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ وَبَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَحَدِيثَ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لا يَنْبَغِي لأَحَدٍ أَنْ يَقُولَ أَنَا خَيْرٌ مِنْ يُونُسَ بْنِ مَتَّى " . وَحَدِيثَ عَلِيٍّ " الْقُضَاةُ ثَلاَثَةٌ " .
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক সাহাবীর নিকট হতে এ হাদীস শুনেছি যাদের মধ্যে উমার (রাঃ)-ও ছিলেন। সাহাবাদের মধ্যে তিনিই ছিলেন আমার নিকট বেশি প্রিয়। (তারা বলেছেন) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফযরের নামাযের পর সূর্য উদয় না হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের নামাযের পর সূর্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোন নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১২৫০), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আলী, ইবনু মাসউদ, উকবা ইবনু আমির, আবু হুরাইরা, ইবনু উমার, সামুরা ইবনু জুনদুব, সালামা ইবনুল আকওয়া, যাইদ ইবনু সাবিত, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর, মুআয ইবনু আফরাআ, সুনাবিহী, আয়িশাহ, কাব ইবনু মুররা, আবু উমামা, আমর ইবনু আবাসা, ইয়া'লা ইবনু উমাইয়া এবং মু'আবিয়া (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ উমর (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান সহীহ। সুনাবিহী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে সরাসরি কোন হাদীস শুনেননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশিরভাগ ফকীহ সাহাবা ও তাদের পরবর্তীগণ ফযর নামাযের পর হতে সূর্য উঠা পর্যন্ত এবং আসরের পর হতে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোন নামায আদায় করা মাকরুহ বলেছেন, কিন্তু ছুটে যাওয়া (ফওত হওয়া ফরয) নামায ফযর ও আসরের পর আদায় করা যাবে। আলী ইবনুল মাদীনী- ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদের সূত্রে, তিনি শু’বার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি (শুবা) বলেছেন, কাতাদা আবুল আলীয়ার নিকট হতে তিনটি কথা ছাড়া আর কিছুই শুনেননি। এক. 'উমার (রাঃ)-এর হাদীস- “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের নামাযের পর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত এবং ফযরের নামাযের পর সূর্য উঠা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন"। দুই. ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীস- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “কারো পক্ষে এটা শোভা পায় না যে, সে দাবি করবে, আমি ইউনুস (আঃ) ইবনু মাত্তার চেয়ে উত্তম” ৷ তিন. আলী (রাঃ)-এর হাদীস- 'বিচারক তিন রকমের হয়ে থাকে।
হাদিস 184 — Jami At Tirmidhi 2:36
দাঈফ Isnaadদাঈফ Isnaadদাঈফ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ إِنَّمَا صَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ لأَنَّهُ أَتَاهُ مَالٌ فَشَغَلَهُ عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ فَصَلاَّهُمَا بَعْدَ الْعَصْرِ ثُمَّ لَمْ يَعُدْ لَهُمَا . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَأُمِّ سَلَمَةَ وَمَيْمُونَةَ وَأَبِي مُوسَى . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رَوَى غَيْرُ وَاحِدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ صَلَّى بَعْدَ الْعَصْرِ رَكْعَتَيْنِ . وَهَذَا خِلاَفُ مَا رُوِيَ عَنْهُ أَنَّهُ نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ " . وَحَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ أَصَحُّ حَيْثُ قَالَ لَمْ يَعُدْ لَهُمَا . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ نَحْوُ حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَائِشَةَ فِي هَذَا الْبَابِ رِوَايَاتٌ رُوِيَ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَا دَخَلَ عَلَيْهَا بَعْدَ الْعَصْرِ إِلاَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَرُوِيَ عَنْهَا عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ وَبَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ . وَالَّذِي اجْتَمَعَ عَلَيْهِ أَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ عَلَى كَرَاهِيَةِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ وَبَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ إِلاَّ مَا اسْتُثْنِيَ مِنْ ذَلِكَ مِثْلُ الصَّلاَةِ بِمَكَّةَ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ وَبَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ بَعْدَ الطَّوَافِ فَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رُخْصَةٌ فِي ذَلِكَ . وَقَدْ قَالَ بِهِ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ بَعْدَهُمْ . وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَدْ كَرِهَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ بَعْدَهُمُ الصَّلاَةَ بِمَكَّةَ أَيْضًا بَعْدَ الْعَصْرِ وَبَعْدَ الصُّبْحِ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَبَعْضُ أَهْلِ الْكُوفَةِ .
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের নামাযের পর দুই রাকাআত নামায আদায় করলেন। কেননা তার নিকট কিছু সম্পদ এসেছিল, তিনি তা বিলি করতে ব্যস্ত ছিলেন এবং যুহরের (ফরযের) পরের দুই রাকাআত আদায়ের সুযোগ পাননি। এই দুই রাকাআতই তিনি আসরের নামাযের পর আদায় করলেন। তারপর তিনি কখনো তার পুণসঙ্ঘটন করেননি। সনদ দুর্বল। তারপর তিনি কখনও পুণসঙ্ঘটন করেননি, অংশটুকু মুনকার এ অনুচ্ছেদে আইশা, উম্মু সালামা, মাইমূনা ও আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও আছে। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান। একাধিক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আসরের পর দুই রাকাআত নামায আদায় করেছিলেন। এই হাদীসটি আসরের পর নামায সম্পর্কিত নেতিবাচক হাদীস পরিপন্থী। ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীসটি বেশী সহীহ, যাতে তিনি বলেছেনঃ তারপর তিনি তার পুণসঙ্ঘটন করেননি। ইবনু আব্বাসের হাদীসের অনুরূপ হাদীস যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতেও বর্ণিত আছে। এ অনুচ্ছেদে আইশা (রাঃ)-এর বেশ কয়েকটি বর্ণনা আছে। একটি বর্ণনা হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের নামাযের পর তার ঘরে গেলেই তিনি দুই রাকাআত নামায আদায় করতেন। আইশা (রাঃ)-এর দ্বিতীয় হাদীসটি উম্মু সালামা (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত, এতে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের পর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত এবং ফযরের পর সূর্য উঠা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন। এ বিষয়ে বিদ্ধানগণের অধিকাংশই ঐকমত্য পোষণ করেন যে, মক্কা মুআযযমায় বাইতুল্লাহ তাওয়াফের পর আসরের পর হতে সূর্য ডুবা পর্যন্ত এবং ফযরের পর হতে সূর্য উঠা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নামায আদায় করা এই নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত রাখা হয়েছে। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওয়াফের পর উল্লেখিত সময়ে নামায আদায়ের অনুমতি দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও তাদের পরবর্তীগণ (মাক্কাতে) উল্লেখিত সময়ে নামায আদায়ের অনুমতি দিয়েছেন। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও এ অভিমত দিয়েছেন। সাহাবাদের অপর দল ও তাদের পরবর্তীগণ ফজরের পর এবং আসরের পর মক্কাতেও নামায আদায় করা মাকরুহ বলেছেন। সুফইয়ান সাওরী, মালিক ইবনু আনাস এবং কিছু কুফাবাসী এ মত সমর্থন করেছেন।
হাদিস 185 — Jami At Tirmidhi 2:37
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ كَهْمَسِ بْنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلاَةٌ لِمَنْ شَاءَ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدِ اخْتَلَفَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّلاَةِ قَبْلَ الْمَغْرِبِ فَلَمْ يَرَ بَعْضُهُمُ الصَّلاَةَ قَبْلَ الْمَغْرِبِ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُمْ كَانُوا يُصَلُّونَ قَبْلَ صَلاَةِ الْمَغْرِبِ رَكْعَتَيْنِ بَيْنَ الأَذَانِ وَالإِقَامَةِ . وَقَالَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ إِنْ صَلاَّهُمَا فَحَسَنٌ . وَهَذَا عِنْدَهُمَا عَلَى الاِسْتِحْبَابِ .
। আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রত্যেক দুই আযানের মাঝখানে নামায আছে, যে চায় তা আদায় করতে পারে। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১১৬২), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান সহীহ। মাগরিবের নামাযের পূর্বে (অতিরিক্ত) নামায আদায় সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবাদের মধ্যে মতের অমিল রয়েছে। তাদের কতেকের মত হল, মাগরিবের (আযানের পর এবং ইকামাতের) পূর্বে কোন নামায না আদায় করাই শ্রেয়। অপর দিকে একাধিক সাহাবা মাগরিবের আযান ও ইকামাতের মাঝখানে দুই রাকাআত নামায আদায় করতেন। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক বলেন, কেউ যদি এ দুই রাকাআত নামায আদায় করে তবে সে ভালোই করে এ দুরাক’আত আদায় করে নেয়াটা মুস্তাহাব।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি সূর্য উঠার পূর্বে ফযরের এক রাকাআত (ফরয নামায) পেল সে ফযরের নামায পেল। আর যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের এক রাকাআত পেল সেও আসরের নামায পেল। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৬৭০, ৬৯৯), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ, ইসহাক ও আমাদের সাথীরা এ হাদীসকে তাদের দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন। তাদের মতে হাদীসে অর্পিত এ সুবিধা শুধু তারাই পাবে যাদের অজুহাত রয়েছে। যেমন কেউ ঘুমিয়ে ছিল এবং এমন সময় জেগেছে যখন সূর্য উঠা বা ডুবার উপক্রম হয়েছে, অথবা নামাযের কথা ভুলে গেছে এবং ঐ সময়ে মনে পড়েছে।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভয় অথবা বৃষ্টিজনিত কারণ ছাড়াই মাদীনাতে যুহর ও আসরের নামায একত্রে এবং মাগরিব ও ইশার নামায একত্রে আদায় করেছেন। সাঈদ ইবনু যুবাইর বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হল, এরূপ করার পেছনে তার (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি উদ্দেশ্য ছিল? তিনি বললেন, উন্মাতের অসুবিধা হ্রাস করাই তার উদ্দেশ্য ছিল। —সহীহ। ইরওয়া— (১/৫৭৯), সহীহ আবু দাউদ- (১০৯৬), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু আব্বাসের হাদীসটি তার নিকট হতে বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হয়েছে। জাবির ইবনু যাইদ, সাঈদ ইবনু যুবাইর এবং আবদুল্লাহ ইবনু শাকীকও এ হাদীসটি তার নিকট হতে বর্ণনা করেছেন। ইবনু আব্বাসের সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ভিন্নরূপও বর্ণিত হয়েছে।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন অজুহাত ছাড়াই যে ব্যক্তি দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে আদায় করে সে কাবীরা গুনাহের স্তরসমূহের মধ্যে একটি স্তরে পৌছে যায়। খুবই দুর্বল। তা’লীকুর রাগীব (১১৯৮),যঈফাহ্ (৪৫৮১) আবূ ঈসা বলেনঃ হাদীস বিশারদদের বিচারে হানাশ, উপনাম আবূ ‘আলী আল-রাহবী, নাম হুসাইন ইবনু কাইস একজন দুর্বল রাবী। ইমাম আহমাদ ও অন্যরা তাকে দুর্বল মনে করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে সফর ও আরাফাতের ময়দান ছাড়া দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে আদায় করা যাবে না। কিছু তাবিঈ রুগ্ন ব্যক্তিকে দুই ওয়াক্তের নামায একত্র করার অনুমতি দিয়েছেন। আহমাদ ও ইসহাক এ মত গ্রহণ করেছেন। কিছু বিশেষজ্ঞ বৃষ্টির কারণে দুই নামায একত্রে আদায় করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছেন। শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও অনুরূপ কথা বলেছেন। কিন্তু শাফিঈ রুগ্ন ব্যক্তিকে দুই নামায একত্রে আদায়ের অনুমতি দেননি।