। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (যাইদ) বলেন, যখন সকাল হল, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এলাম। তাকে (আমার) স্বপ্লের কথা বললাম। তিনি বললেনঃ “এটা নিশ্চয়ই বাস্তব (সত্য) স্বপ্ন। তুমি বিলালের সাথে যাও, কেননা তার কণ্ঠস্বর তোমার চেয়ে উচু এবং লম্বা। তাকে বলে দাও যা তোমাকে বলা হয়েছে এবং এগুলো দিয়ে সে আযান দেবে।” যাইদ (রাঃ) বলেন, "উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) যখন নামাযের জন্য বিলালের আযান শুনতে পেলেন, তখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্দেশ্যে বের হলেন। তিনি নিজের চাদর টানতে টানতে এবং এই বলতে বলতে আসলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল, সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্য সহযোগে পাঠিয়েছেন! বিলাল যেমন বলেছে আমি তেমনই স্বপ্নে দেখেছি। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এটা আরো প্রবল হল। -হাসান। ইবনু মাজাহ– (৭০৬)। এ অনুচ্ছেদে ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণনাকৃত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান সহীহ। অপর এক সূত্রে এ হাদীসটি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা হয়েছে এবং তাতে আযানের শব্দ দুই দুই বার এবং ইকামাতের শব্দ এক একবার উল্লেখ রয়েছে। এই হাদীসটি ছাড়া আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ ইবনু আবদি রাব (রাঃ) হতে আর কোন সহীহ হাদীস বর্ণনা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। আব্বাদ ইবনু তামীমের চাচা আব্দুল্লাহ ইবনু যাইদ ইবনু আসিম হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মুসলিমরা যখন হিজরাত করে মাদীনায় আসলেন, তখন তারা আন্দাজ করে নামাযের জন্য একটা সময় ঠিক করে নিতেন এবং সে অনুসারে সমবেত হতেন। নামাযের জন্য কেউ আহবান করত না। একদিন তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলেন। কেউ কেউ প্রস্তাব করলেন, খৃষ্টানদের মত একটি ঘন্টা বাজানো হোক। আবার কতেকে বললেন, ইয়াহুদীদের মত শিংগা বাজানো হোক। রাবী বলেন, উমার (রাঃ) বললেন, নামাযের জন্য ডাকতে তোমরা কি একজন লোক পাঠাতে পার না? রাবী বলেন, অতএব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে বিলাল! ওঠে এবং নামাযের জন্য আহবান কর। —সহীহ- বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইবনু উমার হতে গারীব।
। আবু মাহযুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিজের নিকট বসিয়ে আযানের প্রতিটি হরফ এক এক করে শিখিয়েছেন। (অধস্তন রাবী) ইবরাহীম বলেন, আমাদের আযানের মত। বিশর বলেন, আমি তাকে বললাম, আমার সামনে পুনঃপাঠ করুন। তিনি তারজী সহকারে তা বললেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৭০৮)। আবু ঈসা বলেনঃ আবু মাহযুরা (রাঃ)-এর আযান সম্পর্কিত হাদীসটি সহীহ। এ হাদীসটি তার নিকট হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। মক্কার পবিত্র ভূমিতে এ নিয়মেই আযান দেওয়া হয়। ইমাম শাফিঈ এ মতের সমর্থক।
। আবু মাহযুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তাকে উনিশ বাক্যে আযান এবং সতের বাক্যে ইকামাত শিক্ষা দিয়েছেন। -হাসান সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৭০৯)। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবু মাহযুরা এর নাম সামুরা ইবনু মিয়ার। কিছু মনীষী আযানের ব্যাপারে এ মত গ্রহণ করেছেন। অপর এক বর্ণনায় আছে, আবৃ মাহযুরা (রাঃ) ইকামাতের শব্দগুলো একবার করে বলতেন।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, বিলাল (রাঃ)-কে আযানের শব্দগুলো দুইবার এবং ইকামাতের শব্দগুলো এক একবার বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৭২৯-৭৩০)। এ অনুচ্ছেদে ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণনাকৃত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ আনাস (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কতক সাহাবা, তাবিঈন, ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এই মতের সমর্থক (ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের শব্দগুলো একবার করে বলতে হবে)।
। আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আযান ও ইকামাতের বাক্যগুলো জোড়ায় জোড়ায় ছিল (দুই দুইবার বলা হত)। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু যাইদের হাদীসটি ওয়াকী বর্ণনা করেছেন আমাশ হতে তিনি আমর ইবনু মুররাহ হতে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু আবী লাইলা হতে, তিনি বলেছেনঃ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবাগণ বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ (রাঃ) আযান স্বপ্নে দেখেছেন। আর শুবা বর্ণনা করেছেন আমর ইবনু মুররাহ হতে তিনি আব্দুর রহমান ইবনু আবী লাইলা হতে তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু যাইদ হতে যে, তিনি আযান স্বপ্নে দেখেছেন। প্রথম বর্ণনাটির চেয়ে পরবর্তী বর্ণনাগুলো বেশী সহীহ। আব্দুর রহমান ইবনু আবী লাইলা আব্দুল্লাহ ইবনু যায়িদ হতে হাদীস শুনেন নাই। কতক বিদ্বান বলেছেন, আযান ও ইকামাতের শব্দগুলো দুই দুইবার বলতে হবে। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক ও কুফাবাসীগণ এই মতেরই সমর্থক। আবূ ঈসা বলেনঃ ইবনু আবী লাইলা হলেন মুহাম্মাদ ইবনু আদির রহমান ইবনু আবী লাইলা। তিনি কুফার কাজী ছিলেন। তিনি তার পিতার নিকট কোন হাদীস শুনেন নাই। তিনি এক লোকের বরাতে তার পিতা থেকে হাদীস বর্ণনা করেন।
। জাবির ইবনু আদিল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল (রাঃ)-কে বললেনঃ হে বিলাল! যখন তুমি আযান দিবে, ধীরস্থিরভাবে ও দীর্ঘস্বরে আযান দিবে এবং যখন ইকামাত দিবে তাড়াতাড়ি ও অনুচ্চস্বরে ইকামাত দিবে। তোমার আযান ও ইকামাতের মাঝখানে এতটুকু সময় ফুরসত দিবে যেন খাবার গ্রহণকারী তার খাবার হতে, পানকারী তার পান হতে এবং পেশাব-পায়খানারত ব্যক্তি তার পায়খানা-পেশাব হতে অবসর হতে পারে। তোমরা আমাকে না দেখা পর্যন্ত নামাযে দাড়াবে না। খুবই দুর্বল। ইরওয়া (২২৮), হাদীসের বর্ণিত, তোমরা দাড়াইওনা অংশটুকু সহীহ। যাহা ৫১২ নং হাদীসেরও অংশ
। আবদ ইবনু হুমাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি ইউনুস ইবনু মুহাম্মাদ হতে তিনি আব্দুল মুনয়িম হতে..... পূর্বের হাদীসের অনুরূপ। দেখুন পূর্বের হাদীস আবূ ঈসা বলেনঃ জাবিরের এই হাদীসটি এই সূত্র ব্যতীত অন্য কোন সূত্রে আমরা জানতে পারিনি। যা আব্দুল মুনয়িম কর্তৃক বর্ণিত। আর এই সনদ সূত্র অপরিচিত। আব্দুল মুনয়িম বাসরার অধিবাসী একজন রাবী।
। আওন ইবনু আবু জুহাইফা (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (আবু জুহাইফা) বলেন, আমি বিলাল (রাঃ)-কে আযান দিতে দেখলাম এবং তাকে এদিক সেদিক ঘুরতে ও মুখ ঘুরাতে দেখলাম। তার (দুই হাতের) দুই আঙ্গুল উভয় কানের মধ্যে ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার রঙ্গীন তাবুর মধ্যে ছিলেন। (রাবী বলেন) আমার ধারণা, তিনি (আবু জুহাইফা) বলেছেন, এটা চামড়ার তাবু ছিল। বিলাল (রাঃ) ছোট একটা বর্শা নিয়ে সামনে আসলেন এবং তা বাতহার শিলাময় যমিনে গেড়ে দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা সামনে রেখে নামায আদায় করলেন। তার সামনে দিয়ে কুকুর এবং গাধা চলে যেত। তার গায়ে লাল চাদর ছিল। আমি যেন তার পায়ের গোছার উজ্জ্বলতা দেখতে পাচ্ছি। সুফিয়ান বলেন, আমার মনে হয় এটা ইয়ামানের তৈরী চাদর ছিল। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৭১১)। আবু ঈসা বলেনঃ জুহাইফার হাদীসটি হাসান সহীহ। মনীষীগণ আযানের সময় মুয়াযযিনের কানে আঙ্গুল দেওয়া মুস্তাহাব বলেছেন। ইমাম আওযাঈ ইকামাতের সময়ও কানে আঙ্গুল দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। আবু জুহাইফা (রাঃ)-এর নাম ওয়াহুব ইবনু আব্দুল্লাহ আস-সুয়াঈ।
। বিলাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনঃ ফযরের নামায ছাড়া অন্য কোন নামাযে ‘তাসবীব করো না। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৭১৫) এ অনুচ্ছেদে আবূ মাহযুরা (রাঃ) হতে বর্ণনাকৃত হাদীসও আছে। আবূ ঈসা বলেন, আমরা শুধু আবূ ইসরাঈলের সূত্রে বিলাল (রাঃ)-এর হাদীসটি জানতে পেরেছি। অথচ আবূ ইসরাঈল হাকামের নিকট এ হাদীসটি কখনও শুনেননি। বরং তিনি হাসান ইবনু উমারার মাধ্যমে হাকামের নিকট হতে এ হাদীসটি সংগ্রহ করেছেন। আবূ ইসরাঈলের নাম ইসমাঈল ইবনু আবূ ইসহাক। তিনি হাদীস বিশারদদের মতে নির্ভরযোগ্য রাবী নন। তাসবীব শব্দের ব্যাখ্যা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মাঝে মতপার্থক্য আছে। ইবনুল মুবারাক ও আহমাদের মতে, ফযরের আযানের 'আসসালাতু খাইরুম মিনান্ নাওম’ বাক্যটিকে তাসবীব বলা হয়। ইসহাকের মতে, আযানের পর যদি লোকেরা আসতে দেরি করে তবে আযান ও ইকামাতের মাঝখানে কাদ কামাতিস্ সালাহ, হাইয়াঅলাস্ সালাহ ও হাইয়া আলাল ফালাহ' বলে লোকদের ডাকার নাম হল তাসবীব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর লোকেরা এটা নতুনভাবে চালু করেছে বিধায় ইসহাকের উল্লেখিত এ তাসবীবকে আলিমগণ মাকরূহ বলেছেন। ইবনুল মুবারাক ও আহমাদ তাসবীবের (উপরের উল্লেখিত) যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, সেটাই নির্ভুল এবং সহীহ। ফজরের আযানে এ তাসবীব করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে একেই তাসবীব বলা হয়। আর আলিমগণ এ তাসবীবকেই পছন্দ করেছেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি ভোরের নামাযের সময় আস-সালাতু খাইরুম মিনান্ নাওম' বলে (লোকদের) ডাকতেন। মুজাহিদ হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)-এর সাথে কোন এক মসজিদে গেলাম। সেখানে আগেই আযান হয়ে গেছে। আমরা নামায আদায়ের উদ্দেশে সেখানে গিয়েছিলাম, এমন সময় মুয়াযযিন তাসবীব শুরু করে দিল। তা শুনা মাত্রই ইবনু উমর (রাঃ) এ বলতে বলতে মাসজিদ হতে বের হয়ে আসলেনঃ “এ বিদ'আতীর কাছ থেকে চলে আস।" তিনি সেখানে নামায আদায় করলেন না। পরবর্তী সময়ে লোকেরা যে তাসবীব আবিষ্কার করেছে, আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) এটাকে খুবই মন্দ জানতেন।