। জাবির ইবনু ইয়াযীদ ইবনু আসওয়াদ (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (ইয়ামীদ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তার বিদায় হাজ্জে উপস্থিত ছিলাম। আমি তার সাথে (মিনায় অবস্থিত) মসজিদে খাইফে ফযরের নামায আদায় করলাম। নামায শেষ করে তিনি মোড় ফিরলেন। তিনি লোকদের এক প্রান্তে দুই ব্যক্তিকে দেখলেন, তারা তার সাথে নামায আদায় করেনি। তিনি বললেনঃ এদেরকে আমার নিকট নিয়ে এসো। তাদেরকে নিয়ে আসা হল, (কিন্তু ভয়ে) তাদের ঘাড়ের রগ কাপছিল। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ আমার সাথে নামায আদায় করতে তোমাদের উভয়কে কিসে বাধা দিল? তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা বাড়িতে নামায আদায় করে এসেছি। তিনি বললেনঃ এরূপ আর করবে না। তোমরা বাড়িতে নামায আদায়ের পর যদি মসজিদে এসে জামা'আত হতে দেখ, তাহলে তাদের সাথে আবার নামায আদায় করবে। এটা তোমাদের উভয়ের জন্য নফল হবে। —সহীহ। মিশকাত— (১১৫২), সহীহ আবু দাউদ- (৫৯০)। এ অনুচ্ছেদে মিহজান ও ইয়াযীদ ইবনু আমির (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ইয়াযিদ ইবনু আসওয়াদের হাদীসটি হাসান সহীহ। সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক বলেছেন, কোন ব্যক্তি একাকি নামায আদায়ের পর আবার জামা'আত পেলে পুনরায় নামায আদায় করে নেবে। যদি সে মাগরিবের নামায একাকি আদায়ের পর জামা'আত পায় তাহলে জামা'আতের সাথে তিন রাকাআত পড়ার পর সে আরো এক রাকাআত মিলিয়ে আদায় করবে। সে পূর্বে একাকী যে নামায আদায় করল সেটা তাদের মতে ফরয হিসেবে গণ্য হবে।
। আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি এমন সময় (মসজিদে) আসল যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায আদায় করে নিয়েছেন। তিনি বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কে এই ব্যক্তির সাথে ব্যবসা করতে চায়? এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়াল এবং তার সাথে নামায আদায় করল। —সহীহ। মিশকাত— (১১৪৬), ইরওয়া— (৫৩৫), রাওযুন নাযীর— (৯৭৯)। এ অনুচ্ছেদে আবু উমামা, আবু মূসা ও হাকাম ইবনু উমাইর (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু সাঈদ বর্ণিত হাদীসটি হাসান। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক বিশেষজ্ঞ সাহাবা এবং তাবিঈদের মতেঃ মসজিদে জামা'আত হওয়ার পর কিছু লোক একত্র হয়ে আবার জামা’আত করে নামায আদায় করে নিলে এতে কোন দোষ নেই। ইমাম আহমাদ এবং ইসহাকও এমন কথা বলেছেন। অপর একদল বিদ্বান বলেছেন, প্রথম জামা'আত হওয়ার পরে আসা লোকেরা একাকি নামায আদায় করবে। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, মালিক ও শাফিঈ একাকি নামায আদায় করা পছন্দ করেছেন। সুলাইমান আন-নাজী বাসরীকে সুলাইমান ইবনু আসওয়াদও বলা হয়। আবুল মুতাওয়াক্কিলের নাম আলী ইবনু দাউদ।
। উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এশার নামায জামা'আতের সাথে আদায় করে তার জন্য অর্ধরাত (নফল) নামায আদায়ের সাওয়াব রয়েছে। যে ব্যক্তি ইশা ও ফযরের নামায জামা'আতের সাথে আদায় করে তার জন্য সারারাত (নফল) নামায আদায়ের সমপরিমাণ সাওয়াব রয়েছে। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (৫৫৫), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে ইবনু উমার, আবু হুরাইরা, আনাস, উমারাহ ইবনু রুআইবা, জুনদাব, উবাই ইবনু কাব, আবু মূসা ও বুরাইদা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ উসমান হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। আব্দুর রহমানের সূত্রে হাদীসটি উসমান হতে মাওকুফভাবেও বর্ণিত হয়েছে। আবার বিভিন্ন সূত্রে উসমান হতে মারফুরূপেও বর্ণিত হয়েছে।
। জুনদাব ইবনু সুফিয়ান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি ফযরের নামায আদায় করল সে আল্লাহর হিফাজাতে চলে গেল। অতএব তোমরা আল্লাহ তা'আলার হিফাজাতকে চূর্ণ কর না, তুচ্ছ মনে কর না। সহীহ। তালীকুর রাগীব- (১/১৪১, ১৬৩), মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 223 — Jami At Tirmidhi 2:75
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ كَثِيرٍ أَبُو غَسَّانَ الْعَنْبَرِيُّ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ الْكَحَّالِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَوْسٍ الْخُزَاعِيِّ، عَنْ بُرَيْدَةَ الأَسْلَمِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " بَشِّرِ الْمَشَّائِينَ فِي الظُّلَمِ إِلَى الْمَسَاجِدِ بِالنُّورِ التَّامِّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مَرْفُوعٌ هُوَ صَحِيحٌ مُسْنَدٌ وَمَوْقُوفٌ إِلَى أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يُسْنَدْ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
। বুরাইদা আল-আসলামী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যারা অন্ধকার পার হয়ে মসজিদে যায় তাদেরকে কিয়ামতের দিনের পরিপূর্ণ নূরের সুখবর দাও। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৭৭৯-৭৮১)। আবু ঈসা বলেনঃ এই হাদীসটি এই সনদে মারফু গারীব। সহীহ সনদে হাদীসটি মাওকুফ।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পুরুষ লোকদের জন্য প্রথম কাতার হচ্ছে সবচেয়ে ভাল এবং খুবই খারাপ হচ্ছে সবার পেছনের কাতার। স্ত্রীলোকদের জন্য সবার পেছনের কাতার সবচেয়ে ভাল এবং খুবই খারাপ হচ্ছে প্রথম কাতার। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১০০০-১০০১)। এ অনুচ্ছেদে জাবির, ইবনু আব্বাস, আবু সাঈদ, উবাই, আয়িশাহ, ইরবায ইবনু সারিয়াহ ও আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুরাইরার হাদীসটি হাসান সহীহ। বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম কাতারের লোকদের জন্য তিনবার এবং দ্বিতীয় কাতারের লোকদের জন্য একবার ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।
হাদিস 225 — Jami At Tirmidhi 2:77
সহিহসহিহসহিহ - Agreed Upon
وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَوْ أَنَّ النَّاسَ يَعْلَمُونَ مَا فِي النِّدَاءِ وَالصَّفِّ الأَوَّلِ ثُمَّ لَمْ يَجِدُوا إِلاَّ أَنْ يَسْتَهِمُوا عَلَيْهِ لاَسْتَهَمُوا عَلَيْهِ " . قَالَ حَدَّثَنَا بِذَلِكَ إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ حَدَّثَنَا مَعْنٌ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ سُمَىٍّ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকেরা যদি জানতে পারত আযান দেওয়া ও প্রথম কাতারে দাড়ানোর মধ্যে কত সাওয়াব রয়েছে, তাহলে তাদের এতো ভীড় হত যে, শেষ পর্যন্ত লটারি করে ঠিক করতে হত (কে আযান দেবে এবং কে প্রথম কাতারে দাঁড়াবে)। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৯৯৮), বুখারী ও মুসলিম। এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনু মূসা আনসারী, তিনি মা'ন হতে, তিনি মালিক হতে, তিনি সুমাই হতে তিনি আবু সালিহ হতে তিনি আবু হুরাইরা হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে।
। নুমান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাতারসমূহ সমান করে দিতেন। একদিন তিনি (ঘর হতে) বের হয়ে এসে দেখলেন, এক ব্যক্তির বুক কাতারের বাইরে এগিয়ে রয়েছে। তিনি বললেনঃ তোমরা তোমাদের সারিগুলো সোজা করে দাড়াবে, অন্যথায় আল্লাহ তা'আলা তোমাদের মুখমণ্ডলে বিভেদ সৃষ্টি করে দেবেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৯৯৪), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে জাবির ইবনু সামুরা, বারাআ, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ, আনাস, আবু হুরাইরা ও আয়িশাহ (রাঃ) হতেও বর্ণনাকৃত হাদীস রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ নুমান ইবনু বাশীরের হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেনঃ কাতার ঠিক করা নামায পরিপূর্ণ করার অন্তর্ভুক্ত। উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি কাতার ঠিক করার জন্য একজন লোক নিযুক্ত করতেন। যে পর্যন্তনা তাকে জানানো না হত যে, কাতার সোজা হয়েছে সে পর্যন্ত তিনি তাকবির (তাহরীমা) বলতেন না। উসমান এবং আলী (রাঃ) এদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতেন এবং তারা বলতেন, তোমরা সোজা হও। আলী (রাঃ) তো নাম ধরেই বলতেন, অমুক একটু আগাও, অমুক একটু পিছাও।”
। আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের মধ্যে যারা বয়স্ক ও বুদ্ধিমান তারা যেন আমার নিকটে দাঁড়ায়; অতঃপর যারা (উভয় গুণে) এদের নিকটবর্তী; অতঃপর যারা এদের নিকটবর্তী। আঁকাবাঁকা (কাতারে) দাঁড়িও না, তাতে তোমাদের অন্তরসমূহ আলাদা হয়ে যাবে। সাবধান! মাসজিদকে বাজারে পরিণত কর না (হৈচৈ করে)। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (৬৭৯), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে উবাই ইবনু কা'ব, আবু মাসউদ, আবু সাঈদ, বারাআ ও আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু মাসউদের হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাজির ও নিকট হতে তারা (নামাযের নিয়ম কানুন সঠিকভাবে) শিখে নেবে। খালিদ আল-হায্যা তিনি হলেন, খালিদ ইবনু মিহরান, উপনাম আবুল মানাযিল। তিরমিয়ী বলেনঃ আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে বলতে শুনেছি, বলা হয়ে থাকে যে, খালিদ আল-হাযযা কখনো জুতা পরিধান করেননি। হায্যা’র নিকট বসতেন বলে তাকে হায্যা বলা হয়। আবু মা’শার-এর নাম যিয়াদ ইবনু কুলাইব।