। আবদুল হামীদ ইবনু মাহমূদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা জনৈক আমীরের পেছনে নামায আদায় করলাম। লোকের এত ভীড় হল যে, আমরা বাধ্য হয়ে দুই খুঁটির মাঝখানে নামাযে দাঁড়ালাম। যখন নামায শেষ করলাম, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে (এভাবে দাড়ানো) এড়িয়ে যেতাম। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১০০২)। এ অনুচ্ছেদে কুররা ইবনু ইয়াস আল-মুযানী (রাঃ) হতেও বর্ণিত হাদীস আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনাকৃত হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমাম আহমাদ ও ইসহাকের মতে, দুই খুঁটির মাঝখানে নামাযের কাতার করা মাকরূহ। কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম এর অনুমতি দিয়েছেন।
। হিলাল ইবনু ইয়াসাফ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যিয়াদ ইবনু আবুল যাদ আমার হাত ধরলেন। এ সময়ে আমরা রাক্কা নামক জায়গায় ছিলাম। তিনি আমাকে এক মুরুব্বির নিকট নিয়ে গেলেন। তিনি ছিলেন আসাদ গোত্রের ওয়াবিসা ইবনু মা'বাদ (রাঃ)। যিয়াদ বললেন, আমাকে এই মুরুব্বি বলেছেন, এক ব্যক্তি কাতারের পেছনে একাকি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করছিল। মুরুবিব লোকটি শুনছিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আবার নামায আদায়ের নির্দেশ দিলেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১০০৪)। এ অনুচ্ছেদে আলী ইবনু শাইবান ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ওয়াবিসার হাদীসটি হাসান। কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম কাতারের পেছনে একাকি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করা মাকরূহ বলেছেন। তারা আরো বলেছেন, কেউ এভাবে নামায আদায় করলে তাকে আবার নামায আদায় করতে হবে। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক এ মত গ্রহণ করেছেন। অপর দল বলেছেন, নামায হয়ে যাবে। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক ও শাফিঈ এমত গ্রহণ করেছেন। কৃফাবাসীদের একদল ওয়াবিসার হাদীসের ভিত্তিতে বলেছেন, সারির পেছনে একাকি দাড়িয়ে নামায আদায় করলে তা আবার আদায় করতে হবে। এদের মধ্যে রয়েছেন হাম্মাদ, ইবনু আবু লাইলা ও ওয়াকী"। হিলাল ইবনু ইয়াসাফের নিকট হতে প্রাপ্ত হুসাইনের হাদীসটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। যেমন আবুল আহওয়াস যিয়াদ ইবনু আবুল যাদ হতে, তিনি ওয়াবিসা হতে বর্ণনা করেছেন। হুসাইনের হাদীস হতে জানা যায়, হিলাল ওয়াবিসার সাক্ষাত পেয়েছেন। এ ব্যাপারে হাদীস বিশারদদের মধ্যে মতের অমিল রয়েছে। কিছু লোক বলেছেন, হিলালের নিকট হতে আমর ইবনু মুররা হতে বর্ণিত হাদীসটি বেশি সহীহ। আবার কিছু লোক বলেছেন, হিলালের নিকট হতে হুসাইনের বর্ণিত হাদীসটি অধিক সহীহ। আবু ঈসা বলেনঃ শেষের বর্ণনাটিই বেশি সহীহ। কেননা এই বর্ণনাটি হিলাল ছাড়াও অন্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
। ওয়াবিসা ইবনু মা'বাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি কাতারের পেছনে একাকী দাঁড়িয়ে নামায আদায় করলো। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আবার নামায আদায়ের নির্দেশ দিলেন। —সহীহ। দেখুন পূর্বের হাদীস। আবু ঈসা বলেনঃ আমি জারূদকে বলতে শুনেছি, তিনি ওয়াকীকে বলতে শুনেছেনঃ কোন ব্যক্তি কাতারের পেছনে একাকি দাড়িয়ে নামায আদায় করলে তাকে আবার ঐ নামায আদায় করতে হবে।
হাদিস 232 — Jami At Tirmidhi 2:84
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْعَطَّارُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِرَأْسِي مِنْ وَرَائِي فَجَعَلَنِي عَنْ يَمِينِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ بَعْدَهُمْ قَالُوا إِذَا كَانَ الرَّجُلُ مَعَ الإِمَامِ يَقُومُ عَنْ يَمِينِ الإِمَامِ .
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আমি এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নামায আদায় করলাম। আমি তার বাম পাশে দাঁড়ালাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার মাথার পেছনের চুল ধরে আমাকে তার ডান পাশে এনে দাঁড় করালেন -সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (৬২৩, ১২৩৩), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু আব্বাসের হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবা ও তাদের পরবর্তীদের মতে, ইমামের সাথে মাত্র একজন মুক্তাদী হলে সে তার (ইমামের) ডান পাশে দাঁড়াবে।
। সামুরা ইবনু জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিয়েছেনঃ আমরা যখন তিনজন এক সাথে নামায আদায় করি তখন আমাদের একজন যেন সামনে এগিয়ে যায় (ইমামতির জন্য)। সনদ দূর্বল আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে ইবনু মাসউদ, জাবির এবং আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। সামুরার হাদীসটি হাসান গারীব। বিশেষজ্ঞ আলিমগণ বলেছেন, তিনজন লোক হলে দুইজন ইমামের পেছনে দাড়াবে। ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি আলকামা ও আসওয়াদকে সাথে নিয়ে নামায আদায় করলেন, একজনকে তার ডান পাশে এবং অপরজনকে তার বাম পাশে দাড় করালেন। ইবনু মাসউদ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কেও এরূপ বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ ইসমাঈল ইবনু মুসলিমের স্মরণশক্তির সমালোচনা করেছেন।
হাদিস 234 — Jami At Tirmidhi 2:86
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ جَدَّتَهُ، مُلَيْكَةَ دَعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِطَعَامٍ صَنَعَتْهُ فَأَكَلَ مِنْهُ ثُمَّ قَالَ " قُومُوا فَلْنُصَلِّ بِكُمْ " . قَالَ أَنَسٌ فَقُمْتُ إِلَى حَصِيرٍ لَنَا قَدِ اسْوَدَّ مِنْ طُولِ مَا لُبِسَ فَنَضَحْتُهُ بِالْمَاءِ فَقَامَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَصَفَفْتُ عَلَيْهِ أَنَا وَالْيَتِيمُ وَرَاءَهُ وَالْعَجُوزُ مِنْ وَرَائِنَا فَصَلَّى بِنَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ انْصَرَفَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَيْهِ عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالُوا إِذَا كَانَ مَعَ الإِمَامِ رَجُلٌ وَامْرَأَةٌ قَامَ الرَّجُلُ عَنْ يَمِينِ الإِمَامِ وَالْمَرْأَةُ خَلْفَهُمَا . وَقَدِ احْتَجَّ بَعْضُ النَّاسِ بِهَذَا الْحَدِيثِ فِي إِجَازَةِ الصَّلاَةِ إِذَا كَانَ الرَّجُلُ خَلْفَ الصَّفِّ وَحْدَهُ وَقَالُوا إِنَّ الصَّبِيَّ لَمْ تَكُنْ لَهُ صَلاَةٌ وَكَأَنَّ أَنَسًا كَانَ خَلْفَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَحْدَهُ فِي الصَّفِّ . وَلَيْسَ الأَمْرُ عَلَى مَا ذَهَبُوا إِلَيْهِ لأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَقَامَهُ مَعَ الْيَتِيمِ خَلْفَهُ فَلَوْلاَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم جَعَلَ لِلْيَتِيمِ صَلاَةً لَمَا أَقَامَ الْيَتِيمَ مَعَهُ وَلأَقَامَهُ عَنْ يَمِينِهِ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ مُوسَى بْنِ أَنَسٍ عَنْ أَنَسٍ أَنَّهُ صَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَقَامَهُ عَنْ يَمِينِهِ . وَفِي هَذَا الْحَدِيثِ دَلاَلَةٌ أَنَّهُ إِنَّمَا صَلَّى تَطَوُّعًا أَرَادَ إِدْخَالَ الْبَرَكَةِ عَلَيْهِمْ .
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তার নানী মুলাইকা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাওয়াত করলেন। তিনি তার জন্য খাবার তৈরী করলেন। তিনি তা খেলেন, অতঃপর বললেনঃ উঠো, তোমাদের সাথে নামায আদায় করব। আনাস (রাঃ) বলেন, নামায আদায়ের জন্য আমি একটি কালো পুরানো চাটাই নিলাম। এটাকে পরিষ্কার ও নরম করার জন্য পানি ছিটিয়ে দিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপর দাড়ালেন। আমি এবং ইয়াতীম (ছেলে)-ও তার উপর তার পেছনে দাঁড়ালাম। বুড়ো নানী আমাদের পেছনে দাড়ালেন। তিনি আমাদের নিয়ে এভাবে দুই রাকাআত নামায আদায় করার পর চলে গেলেন। —সহীহ। বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ আনাসের হাদীসটি হাসান সহীহ। বিশেষজ্ঞ ‘আলিমগণ এ হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী আমল করেছেন। তারা বলেছেন, যদি ইমাম ছাড়া মুক্তাদীর সংখ্যা পুরুষ স্ত্রী মিলিয়ে দু’জন হয় তবে পুরুষ লোকটি ইমামের ডান পাশে এবং স্ত্রীলোকটি তাদের পেছনে দাড়াবে। কিছু আলিম এ হাদীসের দ্বারা প্রমাণ করেছেন যে, কাতারের পেছনে একাকি দাঁড়িয়ে কোন ব্যাক্তি নামায আদায় করলে তার নামায জায়িয হবে। কেননা আনাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে একা দাড়িয়েছিলেন। যেসব বালক তার সাথে দাড়িয়েছিল তাদের উপর তো নামায ফরযই হয়নি। (তিরমিয়ী বলেন,) কিন্তু এ দলীল বাস্তব ঘটনার পরিপন্থী। কেনান আনাসের সাথে বাচ্চাদের দাঁড় করানো এটাই প্রমাণ করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বালকদের জন্যও নামাযের ব্যবস্থা করেছেন। অন্যথায় তিনি আনাসকে তার ডান আছে, তিনি (আনাস) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নামায আদায় করলেন। তিনি তাকে নিজের ডান পাশে দাঁড় করালেন। এ হাদীস দ্বারা এটাও প্রমাণ হয় যে, তাদের ঘরে বারকাত হওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নফল আদায় করেছিলেন।
আওস ইবনু যাম'আজ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আবু মাসউদ আনসারী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরাআন বেশি ভাল পড়তে জানে সে লোকদের ইমামতি করবে। যদি কুর'আন পাঠে সবাই সমান হয়, তাহলে যে ব্যক্তি বেশি হাদীস (সুন্নাহ) জানে। যদি সুন্নাহর বেলায়ও সবাই সমান হয়, তাহলে যে ব্যক্তি প্রথম হিজরাত করেছে। যদি এ ব্যাপারেও সবাই সমান হয়, তাহলে যে ব্যক্তি বয়সে বড়। কোন ব্যক্তি যেন অন্যের অধিকার ও প্রভাবিত এলাকায় তার সম্মতি ছাড়া ইমামতি না করে এবং তার অনুমতি ছাড়া তার বাড়িতে তার নির্দিষ্ট আসনে না বসে। মাহমূদ বলেন, ইবনু নুমাইর তার হাদীসে (আকসারুহুম সিন্নান-এর স্থলে) আকদামুহুম সিন্নান বর্ণনা করেছেন (যে ব্যক্তি বয়জ্যেষ্ঠ)। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৯৮০), মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে আবু সাঈদ, আনাস ইবনু মালিক, মালিক ইবনু হুয়াইরিস ও আমর ইবনু সালামাহ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু মাসউদের হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসের আলোকে বিদ্বানগণ বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরআন ও হাদীসে রাসূলে বেশি জ্ঞানী, সে-ই লোকদের ইমামতি করার বেশি হকদার। তারা আরো বলেছেন, বাড়ির মালিক ইমামতি করার ব্যাপারে বেশি হকদার। কিছু বিশেষজ্ঞ বলেছেন, বাড়ির মালিকের সম্মতি বলে যে কেউ ইমামতি করতে পারে। কিন্তু অনেকে এটা পছন্দ করেননি। তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীঃ “অন্যের অধিকার ও প্রভাবিত এলাকায় কেউ যেন ইমামতি না করে এবং তার সম্মানের আসনে তার সম্মতি ছাড়া না বসে” –এখানে বসার সম্মতি দিলে তার মধ্যে ইমামতি করার আজ্ঞাও নিহিত রয়েছে। অনুমতি সাপেক্ষে ইমামতি করতেও দোষ নেই।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ লোকদের ইমামতি করলে সে যেন (নামায) সংক্ষেপ করে। কেননা তাদের মধ্যে ছোট বালক, দুর্বল ও অসুস্থ লোক থাকতে পারে। যখন সে একাকি নামায আদায় করে, বয়োবৃদ্ধ তখন নিজ ইচ্ছামত (দীর্ঘ করে) আদায় করতে পারে। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (৭৫৯), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে আদী ইবনু হাতিম, আনাস, জাবির ইবনু সামুরা, মালিক ইবনু আবদুল্লাহ, আবু ওয়াকিদ, উসমান ইবনু আবুল আস, আবু মাসউদ জাবির ইবনু আদুল্লাহ ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুরাইরার হাদীসটি হাসান সহীহ। দুর্বল, বৃদ্ধ ও রুগ্নদের কষ্ট হওয়ার আশংকায় বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ আলিম বলেছেন, ইমাম যেন নামায লম্বা না করে। আবু ঈসা বলেনঃ আবুয্ যাননাদের নাম আব্দুল্লাহ ইবনু যাকওয়ান। আল-আ'রাজ হলেন, আব্দুর রহমান ইবনু হুরমুজ আল-মাদীনী তার উপনাম আবু দাউদ।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব লোকের চেয়ে অধিক সংক্ষিপ্ত অথচ পূর্ণাঙ্গ নামায আদায়কারী ছিলেন। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। —সহীহ। বুখারী ও মুসলিম। আবু আউয়ানাহ'র নাম ওয়াযযাহ। আবু ঈসা বলেনঃ আমি কুতাইবাকে জিজ্ঞেস করলাম, আবু আউয়ানাহ'র নাম কি? তিনি বললেন, ওয়াযযাহ। জিজ্ঞেস করলাম, কার ছেলে? তিনি বললেন, জানি না। তিনি বাসরার এক মহিলার দাস ছিলেন।
। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নামাযের চাবি হল পবিত্রতা; তার তাহরীম হল শুরুতে আল্লাহু আকবার বলা; তার তাহলীল হল (শেষে) সালাম বলা। যে ব্যক্তি আলহামদু লিল্লাহ (সূরা ফাতিহা) ও অন্য সূরা পাঠ করেনি তার নামায হয়নি, চাই তা ফরয নামায হোক বা সুন্নাত নামায। —সহীহ। ইবনু মাজাহ-(২৭৫-২৭৬)। আবু ঈসা বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান। এ অনুচ্ছেদে আলী ও আয়িশাহ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। সনদের বিচারে ‘আলী (রাঃ)-এর হাদীস আবু সাঈদের হাদীসের তুলনায় বেশি শক্তিশালী ও সহীহ যা তাহারাত অধ্যায়ে লিপিবদ্ধ করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবা ও তাবিঈগণ এ হাদীসের ভিত্তিতে বলেছেন, "আল্লাহু আকবার’ বলে নামায শুরু করতে হবে। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এই মত ব্যক্ত করেছেন যে আল্লাহু আকবার বলা ছাড়া কেউ নামাযের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে না। আবদুর রহমান ইবনু মাহদী বলেছেন, কোন লোক যদি আল্লাহ তা'আলার নিরানব্বই নামের যে কোন সত্তরটি নাম নিয়ে নামায শুরু করে কিন্তু 'আল্লাহু আকবার’ না বলে, তাহলে তার নামায হবে না। আর সালাম ফিরানোর আগ মুহুর্তে যদি কারো ওযু ছুটে যায়, তাহলে আমি তাকে হুকুম করব, সে যেন আবার ওযু করে নিজ স্থানে এসে সালাম ফিরায়। এ হাদীসের জাহির আপাতদৃষ্ট অর্থই গ্রহণযোগ্য হবে। আবু নাদরাহ'র নাম আল-মুনযির ইবনু মালিক ইবনু কুতায়াহ।