। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাযের জন্য তাকবীর তাহরীমা বলতেন তখন হাতের আঙ্গুলগুলো ফাক করে ছড়িয়ে দিতেন। যঈফ, তা’লীক আলা ইবনু খুযাইমাহ (৪৫৮) আবূ ঈসা বলেনঃ আবূ হুরাইরার হাদীসটি হাসান। এ হাদীসটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এক বর্ণনায় শব্দগুলো নিম্নরূপ "আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাযে প্রবেশ করতেন, তখন উভয় হাত খাড়া করে (আঙ্গুল ফাক করে) উত্তোলন করতেন।” (তিরমিয়ী বলেন,) শেষোক্ত বর্ণনাটি ইয়াহইয়া ইবনু ইয়ামানের বর্ণনার চেয়ে বেশি সহীহ। ইবনুল ইয়ামান এ হাদীসের রিওয়ায়াতে ভুল করেছেন।
। সাঈদ ইবনু সামআন (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আবু হুরাইরা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাযে দাঁড়াতেন, তখন নিজের উভয় হাতের আঙ্গুলগুলো ফাঁক করে উপরে তুলতেন। —সহীহ। সিফাতুস সালাত- (৬৭), তালীক আ'লা ইবনু খুযাইমাহ (৪৫৯), সহীহ আবু দাউদ- (৭৩৫)। আবু ঈসা বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুর রহমান বলেছেন, এই হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবনুল ইয়ামানের হাদীস হতে অধিক সহীহ।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার সন্তোষ অর্জনের উদ্দেশ্যে একাধারে চল্লিশ দিন তাকবীরে উলার (প্রথম তাকবীর) সাথে জামা'আতে নামায আদায় করতে পারলে তাকে দুটি নাজাতের ছাড়পত্র দেওয়া হয়ঃ জাহান্নাম হতে নাজাত এবং মুনাফিকী হতে মুক্তি। -হাসান। তা’লীকুর রাগীব- (১/১৫১), সহীহাহ– (২৬৫২)। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি আনাসের নিকট হতে একাধিক সূত্রে মাওকুফ হিসাবে বর্ণিত হয়েছে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা নয়, আনাসের কথা হিসাবে)। হাবীব ইবনু আবী সাবিত ব্যাতীত অন্য কোন সূত্রে হাদীসটি মারফুরূপে বর্ণিত হয়েছে বলে আমার জানা নেই। বরং হাদীসটি হাবীব ইবনু আবী হাবীব আল-বাজালীর সূত্রে আনাস হতে মাওকুফ রূপে বর্ণিত হয়েছে। অপর একটি সূত্রে দেখা যায়, আনাস (রাঃ) উমর (রাঃ)-এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ বর্ণনাটি অসংরক্ষিত এবং মুরসাল। কেননা এই সনদের রাবী উমারাহ ইবনু গাযিয়াহ আনাসের সাক্ষাত পাননি। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল বলেন, হাবীব ইবনু আবী হাবীবের উপনাম আবু কাশূসা বা আবু উমাইরাহ।
। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে নামায আদায় করতে উঠে প্রথমে তাকবীর (আল্লাহু আকবার) বলতেন, অতঃপর এই দু'আ পাঠ করতেনঃ 'সুবহানাকা আল্লাহুমা ...... ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।' অর্থাৎ “হে আল্লাহ! তুমি মহাপবিত্র, তোমার জন্যই প্রশংসা, তোমার নাম বারকাতপূর্ণ, তোমার মর্যাদা সর্বোচ্চ এবং তুমি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই।" অতঃপর তিনি বলতেনঃ 'আল্লাহু আকবার কাবীরা', অতঃপর বলতেনঃ 'আউযু বিল্লাহিস ..... ওয়া নাফাসিহি। অর্থাৎ “অভিশপ্ত শাইতান এবং তার কুমন্ত্রণা, ঝাড়ফুক ও যাদুমন্ত্র হতে আমি সর্বশ্রোতা ও সর্বময় জ্ঞানের অধিকারী আল্লাহ তা'আলার নিকটে আশ্রয় চাই”। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৮০৪)। আবু ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে আলী, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, আয়িশাহ, জাবির, জুবাইর ইবনু মুতাইম ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু সাঈদের হাদীসটি অধিক মাশহুর। একদল বিদ্বান এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেন। কিন্তু বেশিরভাগ বিদ্বান বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুবহানাকা .... ইলাহা গাইরুকা' পর্যন্ত পড়তেন। উমার ইবনুল খাত্তাব ও ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে এরূপই বর্ণিত আছে। বেশিরভাগ তাবিঈ ও অন্যান্যরা এই হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। (তিরমিয়ী বলেন,) আবু সাঈদের হাদীসটি সমালোচিত হয়েছে। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ এ হাদীসের এক রাবী আলী ইবনু আলীর সমালোচনা করেছেন (দুর্বল বলেছেন)। ইমাম আহমাদ বলেছেন, এ হাদীসটি সহীহ নয়।
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামায শুরু করতেন তখন বলতেনঃ “সুবহানাকা আল্লাহুমা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তা'আলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা”। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৮০৬)। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি আমরা উল্লেখিত সনদ পরম্পরায়ই জেনেছি। এ হাদীসের এক রাবী হারিসা ইবনু আবু রিজালের স্মরণশক্তির সমালোচনা করা হয়েছে। আবু রিজালের নাম মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুর রহমান আল-মাদীনী।
। ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমার পিতা (আবদুল্লাহ) আমাকে নামাযের মধ্যে শব্দ করে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' পাঠ করতে শুনলেন। তিনি বললেন, হে বৎস! এটা তো বিদ'আত; বিদ'আত হতে সাবধান হও। তারপর তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবাদের চেয়ে অন্য কাউকে ইসলামে বিদ'আতের প্রচলন করার প্রতি এত বেশী ঘৃণা ও শত্রুতা পোষণ করতে দেখিনি। তিনি আরো বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাকার (রাঃ), উমার (রাঃ) ও উসমান (রাঃ)-এর সাথে নামায আদায় করেছি। কিন্তু তাদের কাউকে বিসমিল্লাহ সশব্দে পাঠ করতে শুনিনি। অতএব তুমিও সশব্দে পাঠ কর না। যখন তুমি নামায আদায় করবে তখন আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন” এর মাধ্যমে কিরা'আত শুরু করবে। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৮১৫) আবূ ঈসা বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু মুগাফফালের হাদীসটি হাসান। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ সাহাবা (রাঃ) এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন (তাসমিয়া চুপে চুপে পাঠ করেছেন)। আবূ বাকার, উমার, উসমান ও আলী (রাঃ) তাদের অন্যতম। বেশিরভাগ তাবিঈ এই মতের অনুসারী। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, আহমাদ ও ইসহাক এ মত গ্রহণ করেছেন। তারা বলেছেন, তাসমিয়া জোরে পাঠ করবে না, বরং আস্তে পাঠ করবে।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম দিয়ে নামায শুরু করতেন। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসের সনদ খুব একটা শক্তিশালী নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবা এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আবূ হুরাইরা, ইবনু উমার, ইবনু আব্বাস ও ইবনু যুবাইর (রাঃ)। তাবিঈদের একদল এই মত গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন, সূরা ফাতিহা ও অন্যান্য সূরার মত বিসমিল্লাহও সশব্দে পাঠ করতে হবে। ইমাম শাফিঈ এই মত সমর্থন করেছেন। ইসমাঈল ইবনু হাম্মাদ তিনি ইবনু আবূ সুলাইমান এবং আবূ খালিদের নাম হুরমুয তিনি কুফী।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বাকার, উমার ও উসমান (রাঃ) আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন দিয়ে নামাযের কিরা'আত শুরু করতেন। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৮১৩), মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবা, তাবিঈন ও তাবা তাবিঈন এ হাদীস (অর্থাৎ সূরা ফাতিহা) দিয়েই নামাযের কিরাআত শুরু করেছেন। ইমাম শাফিঈ বলেন, এ হাদীসের তাৎপর্য হল, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বাকার, উমার ও উসমান (রাঃ) অন্য সূরা পাঠের পূর্বে সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন। এর অর্থ এই নয় যে, তারা বিসমিল্লাহ পাঠ করতেন না। ইমাম শাফিঈর মত হল, বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম' দিয়েই কিরাআত শুরু করতে হবে এবং যখন সূরা ফাতিহা উচ্চস্বরে পাঠ করা হবে তখন “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম”ও উচ্চস্বরে পাঠ করতে হবে।
। উবাদা ইবনু সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পাঠ করেনি তার নামায হয়নি। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৮৩৭), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আবু হুরাইরা, আয়িশাহ, আনাস, আবু কাতাদা ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, উবাদার হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাহাবী এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। উমার ইবনুল খাত্তাব, ‘আলী ইবনু আবী তালিব, জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ, ইমরান ইবনু হুসাইন ও অপরাপর সাহাবী (রাঃ) বলেছেন, সূরা ফাতিহা পাঠ করা না হলে নামায হবে না। আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ) বলেনঃ “যে নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করা হয়নি ঐ নামায অসম্পূর্ণ” ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এ মত গ্রহণ করেছেন।
। ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে “গাইরিল মাগযুবি আলাইহিম অলায-যালীন পাঠ করতে এবং আমীন' বলতে শুনেছি। আমীন বলতে গিয়ে তিনি নিজের কণ্ঠস্বর দীর্ঘ ও উচ্চ করলেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৮৫৫)। এ অনুচ্ছেদে আলী ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ওয়াইল ইবনু হুজরের হাদীসটি হাসান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবা, তাবিঈন ও তাদের পরবর্তীগণ ‘আমীন’ স্বশব্দে বলার পক্ষে মত দিয়েছেন এবং নিঃশব্দে বলতে নিষেধ করেছেন। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এই মত গ্রহণ করেছেন। শুবা এ হাদীসটি সালামা ইবনু কুহাইলের সূত্রে তিনি বর্ণনা করেছেন। তাতে আছেঃ “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাইরিল মাগযুবি আলাইহিম অলায-যাল্লীন পাঠ করলেন। অতঃপর নীচু স্বরে আমীন' বললেন।" -শাজ। সহীহ আবু দাউদ- (৮৬৩)। আবু ঈসা বলেনঃ আমি মুহাম্মাদকে (বুখারীকে) বলতে শুনেছি, এ বিষয়ে শু’বার হাদীসের তুলনায় সুফিয়ানের হাদীস বেশি সহীহ। কেননা শু'বা এ হাদীসের কয়েকটি স্থানে ভুল করেছেন। যেমন তিনি বলেছেন عن حجر ابى العنبس অথচ হবে حجر بن العنبس দ্বিতীয়তঃ তিনি আলকামার নাম বাড়িয়ে বলেছেন, অথচ তিনি হাদীসের রাবী নন। এখানে সনদ হবে حجر بن العنبس عن واءل بن حجر তৃতীয়তঃ তিনি বর্ণনা করেছেন وحفص بها صوته অথচ হবে مد بها صوته আবু ঈসা বলেনঃ আমি আবু যুরআকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, শু'বার হাদীসের চেয়ে সুফিয়ানের হাদীসটি বেশি সহীহ।