। আবু ঈসা বলেনঃ আবু বাকর মুহাম্মাদ ইবনু আবান, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু নুমাইর হতে, তিনি 'আলা ইবনু সালিহ আল-আসাদী হতে। তিনি সালামাহ ইবনু কুহাইল হতে তিনি হুজর ইবনু আনবাস হতে, তিনি ওয়াইল ইবনু হুজর হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে সালামা ইবনু কুহাইলের সূত্রে সুফিয়ানের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। -সহীহ। দেখুন পূর্বের- (২৪৮ নং) হাদীস।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইমাম যখন আমীন’ বলবে তোমরাও তখন আমীন বলবে। কেননা যার আমীন বলা ফেরেশতাদের আমীন বলার সাথে সাথে হবে তার পূর্বেকার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৮৫১), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুরাইরার হাদীসটি হাসান সহীহ।
। সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে দু'টি বিরতিস্থান মুখস্থ করে নিয়েছি। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) এতে ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, আমি একটি মাত্র বিরতিস্থান মুখস্থ করেছি। (সামুরা বলেন, এর মীমাংসার জন্য) আমরা মাদীনায় উবাই ইবনু কাব (রাঃ)-এর কাছে পত্র লিখলাম। তিনি উত্তরে লিখে জানালেন, সামুরাই সঠিকভাবে মুখস্থ রেখেছে। সাঈদ বলেন, আমরা কাতাদাকে প্রশ্ন করলাম, বিরতি দুটো কোন কোন জায়গায়ঃ তিনি বলেন, যখন তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নামাযে প্রবেশ করতেন (তাকবীরে তাহরীমা বাঁধার পর) এবং যখন কিরাআত শেষ করতেন। পরে তিনি (কাতাদা) বললেন, যখন তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অলায-যআল্লীন পাঠ করতেন। রাবী বলেন, কিরা'আত পাঠের পর তিনি ভালভাবে নিঃশ্বাস নেয়া পর্যন্ত বিরতি দেওয়া খুবই পছন্দ করতেন। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৮৪৪, ৮৪৫) এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ সামুরার হাদীসটি হাসান। কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম নামায শুরু করার পর এবং কিরা'আত শেষ করার পর ইমামের জন্য বিরতি দেওয়াকে মুস্তাহাব বলেছেন। ইমাম আহমাদ, ইসহাক ও আমাদের (তিরমিয়ীর) সঙ্গীরা এ মতের সমর্থক।
। কাবীসা ইবনু হুলব (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (হুলব) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ইমামতি করতেন এবং (দাড়ানো অবস্থায়) নিজের ডান হাত দিয়ে বা হাত ধরতেন। -হাসান, ইবনু মাজাহ– (৮০৯)। এ অনুচ্ছেদে ওয়াইল ইবনু হুজর, গুতাইফ ইবনু হারিস, ইবনু আব্বাস, ইবনু মাসউদ ও সাহল ইবনু সাদ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ হুলব এর হাদীসটি হাসান। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবা, তাবিঈন ও তাবা-তাবিঈন এ হাদীসের ভিত্তিতে মত দিয়েছেন যে, নামাযের মধ্যে ডান হাত বা হাতের উপর রাখতে হবে। কারো কারো মতে হাত নাভির উপরে বাধতে হবে; আবার কারো কারো মতে নাভির নীচে বাধতে হবে। তারা এরূপও বলেছে যে, নাভির উপরে-নীচে যে কোন স্থানে হাত বাধার অবকাশ আছে। হুলব এর নাম ইয়াযিদ ইবনু কুনাফা আত-তাঈ।
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, (নামাযরত অবস্থায়) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেকবার উঠা, নীচু হওয়া, দাড়ানো ও বসার সময় 'আল্লাহু আকবার’ বলতেন। আবু বাকার এবং উমার (রাঃ)-ও এরূপ আমল করতেন। —সহীহ। ইরওয়া— (৩৩০)। এ অনুচ্ছেদে আবু হুরাইরা, আনাস, ইবনু উমার, আবু মালিক আশআরী, আবু মূসা, ইমরান ইবনু হুসাইন, ওয়াইল ইবনু হুজর এবং ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদের হাদীসটি হাসান সহীহ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবা যেমন আবু বাকর, উমার, উসমান ও আলী (রাঃ), তাদের পরবর্তীগণ এবং সমস্ত ফিকহবিদ ও বিশেষজ্ঞ আলিমগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন।
হাদিস 254 — Jami At Tirmidhi 2:106
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُنِيرٍ الْمَرْوَزِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ الْحَسَنِ، قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُكَبِّرُ وَهُوَ يَهْوِي . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِنَ التَّابِعِينَ قَالُوا يُكَبِّرُ الرَّجُلُ وَهُوَ يَهْوِي لِلرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ .
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম (নামাযে) নীচের দিকে যেতে তাকবীর বলতেন। —সহীহ। ইরওয়া— (৩৩১), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। সাহাবয়ি কিরাম ও তাবিঈনেরও এই মত রুকূ-সিজদায় যাওয়ার সময় ঝুকে পড়ে আল্লাহু আকবার" বলবে।
। সালিম (রাহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (আবদুল্লাহ) বলেন, আমি দেখেছি, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায শুরু করতেন, তখন নিজের কাধ পর্যন্ত হাত তুলতেন এবং যখন রুকূতে যেতেন এবং রুকু হতে উঠতেন (তখনও এরূপ করতেন)। ইবনু আবু উমার তার বর্ণিত হাদীসে আরো বলেছেন, কিন্তু তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুই সিজদার মাঝখানে হাত তুলতেন না। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৮৫৮), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু উমারের বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবু ঈসা বলেনঃ ফাযল ইবনু সাবাহ বাগদাদী তিনি সুফইয়ান ইবনু উয়াইনাহ হতে তিনি যুহরী হতে এই সনদ পরম্পরায় ইবনু আবী উমারের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। -সহীহ। দেখুন পূর্বের হাদীস এ অনুচ্ছেদে উমার, আলী, ওয়াইল ইবনু হুজর, মালিক ইবনু সাদ, মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামা, আবু কাতাদা, আবু মূসা আশ'আরী, জাবির ও উমাইর লাইসী (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবা "আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) ও আরো অনেকে; তাবিঈদের মধ্যে হাসান বাসরী, আতা, তাউস, মুজাহিদ, নাফি, সালিম ইবনু আবদুল্লাহ, সাঈদ ইবনু যুবাইর প্রমুখ রুকূতে যাওয়া এবং রুকু হতে উঠার সময় ‘রাফউল ইয়াদাইন’ করার পক্ষে মত দিয়েছেন। ইমাম মালিক মামার, আওযায়ী ইবনু উয়াইনাহ ইমাম ‘আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) এই মত গ্রহণ করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক বলেন, হাত উত্তোলন সম্পর্কিত হাদীস সুপ্রতিষ্ঠিত ও সুপ্রমাণিত। ইবনু মাসউদ (রাঃ) যে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু একবার রাফউল ইয়াদাইন করেছেন, অতঃপর আর কখনো করেননি এ হাদীসটি প্রমাণিত নয় এবং প্রতিষ্ঠিতও নয়। আমাকে এ কথা আহমাদ ইবনু আবদাহ বলেছেন, তিনি ওয়াহব ইবনু যামআর সূত্রে, তিনি সুফিয়ান ইবনু আবদুল মালিকের সূত্রে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাকের সূত্রে পেয়েছেন। জারুদ ইবনু মুআয বলেনঃ সুফইয়ান ইবনু উয়াইনা, উমার ইবনু হারুন, নাযর ইবনু শুমাইল প্রমুখ ইমামগণ নামায শুরু করতে রুকুতে যাওয়ার সময় এবং রুকু হতে উঠার সময় রাফউল ইয়াদাইন করতেন।
। আলকামা (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বললেন, আমি কি তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের (নিয়মে) নামায আদায় করে দেখাব না? তিনি (আবদুল্লাহ) নামায আদায় করলেন, কিন্তু প্রথম বার (তাকবীরে তাহরীমার সময়) ছাড়া আর কোথাও রাফউল ইয়াদাইন করেননি। —সহীহ। সিফাতুস সালাত, মূল- মিশকাত— (৮০৯)। এ অনুচ্ছেদে বারা ইবনু আযিব (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু মাসউদের হাদীসটি হাসান। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক সাহাবা ও তাবিঈন এ হাদীসের অনুকূলে মত দিয়েছেন। সুফিয়ান সাওরী ও কুফাবাসীগণ এই মত গ্রহণ করেছেন।
। আবু আবদুর রাহমান আস-সুলামী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) আমাদের বললেন, রুকূতে হাটুতে হাত রাখা তোমাদের জন্য সুন্নাত। অতএব তোমরা হাঁটুতে হাত রাখ। -সনদ সহীহ। এ অনুচ্ছেদে সাদ, আনাস, আবু হুমাইদ, আবু উসাইদ, সাহল ইবনু সাদ, মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামা ও আবু মাসউদ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ উমারের হাদীসটি হাসান সহীহ। সাহাবা, তাবিঈন ও তাবি তাবিঈনের মধ্যে রুকূর সময় হাটুতে হাত রাখার ব্যাপারে কোন দ্বিমত নেই। কিন্তু ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে যা বর্ণিত হয়েছে (রুকূর সময় দুই হাত একত্রে মিলিয়ে দুই উরুর মাঝখানে রাখা) তার সাথে সামঞ্জস্য বিধানের জন্য বিশেষজ্ঞ আলিমগণ বলেন, তার বর্ণনাটি মানসুখ (বাতিল) হয়ে গেছে।