। সা'দ ইবনু আবু ওয়াক্কাস (রাঃ) বলেন, আমরা প্রথমে এরূপ করতাম (দুই হাত একসাথে মিলিয়ে দুই রানের মাঝখানে রাখতাম)। কিন্তু পরে আমাদেরকে এমনটি করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং রুকূর সময় হাটুর উপর হাত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৮৭৩), বুখারী ও মুসলিম। মুসআব ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে তার পিতা সাদের সূত্রেও উপরে উল্লেখিত হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। আবু হুমাইদ সায়িদীর নাম আব্দুর রহমান ইবনু সাদ ইবনুল মুনযির, আবু উসাইদের নাম মালিক ইবনু সুলামীর নাম আব্দুল্লাহ ইবনু হাবীব। আবু ইয়াফুর-এর নাম আব্দুর রহমান ইবনু উবাইদ। আবু ইয়াকুব আবদীর নাম ওয়াকিক। আর ইনিই আব্দুল্লাহ ইবনু আবী আউফা হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরা উভয়েই কুফাবাসী।
হাদিস 260 — Jami At Tirmidhi 2:112
সহিহসহিহহাসান SahihIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، بُنْدَارٌ حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، حَدَّثَنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ اجْتَمَعَ أَبُو حُمَيْدٍ وَأَبُو أُسَيْدٍ وَسَهْلُ بْنُ سَعْدٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ فَذَكَرُوا صَلاَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِصَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكَعَ فَوَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ كَأَنَّهُ قَابِضٌ عَلَيْهِمَا وَوَتَّرَ يَدَيْهِ فَنَحَّاهُمَا عَنْ جَنْبَيْهِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي حُمَيْدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ الَّذِي اخْتَارَهُ أَهْلُ الْعِلْمِ أَنْ يُجَافِيَ الرَّجُلُ يَدَيْهِ عَنْ جَنْبَيْهِ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ .
। আব্বাস ইবনু সাহল হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদা আবু হুমাইদ, আবু সাঈদ, সাহল ইবনু সা'দ এবং মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামা (রাঃ) একত্র হলেন। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামায সম্পর্কে একে অপরের সংগে আলাপ করছিলেন। আবু হুমাইদ (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামায আদায়ের নিয়ম সম্পর্কে আমি তোমাদের চেয়ে অনেক ভাল জানি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকুর সময় দুই হাত দুই হাটুতে রাখলেন। তিনি হাত দু'টোকে টানা তীরের মত (সোজা) রাখলেন এবং পার্শ্বদেশ হতে পৃথক (ফাক) করে রাখলেন। -সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (৭২৩), মিশকাত— (৮০১), সিফাতুস সালাত- (১১০)। এ অনুচ্ছেদে আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুমাইদ-এর হাদীসটি হাসান সহীহ। বিশেষজ্ঞগণ রুকু সিজদার সময় উভয় হাত পার্শ্বদেশ (পেট) হতে পৃথক রাখার নিয়মই অবলম্বন করেছেন।
। ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন তোমাদের কেউ রুকূ করবে তখন পবিত্রতা বর্ণনা করছি) বলবে। তাহলে তার রুকূ পূর্ণ হবে। আর এটা হল সর্বনিম্ন পরিমাণ। যখন সে সিজদা করবে তখন সিজদায় তিনবার সুবহানা রবিয়াল আলা' বলবে। তাহলে তার সিজদা পূর্ণ হবে। আর এটা হল সর্বনিম্ন পরিমাণ। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৮৯০) এ অনুচ্ছেদে হুযাইফা ও উকবা ইবনু আমির (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর হাদীসের সনদ মুত্তাসিল নয় (অর্থাৎ এটা সনদসূত্র কর্তিত হাদীস)। কেননা ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর সাথে আওন ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উতবার দেখা হয়নি। বিশেষজ্ঞ আলিমগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। তারা রুকু ও সিজদায় তিন তাসবীহ-এর কম না বলাই মুস্তাহাব বলেছেন। ইবনুল মুবারাক বলেছেন, আমি ইমামের জন্য পাঁচ বার তাসবীহ বলা মুস্তাহাব মনে করি। এতে মুক্তাদী ধীরেসুস্থে তিন তাসবীহ পাঠ করে নিতে পারবে। ইসহাক ইবনু ইবরাহীমও অনুরূপ কথা বলেছেন।
। হুযাইফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নামায আদায় করছেন। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রুকূতে সুবহানা রব্বিয়াল আযীম' এবং সিজদায় "সুবহানা রব্বিয়াল আ'লা বলতেন। যখনই কোন রহমত সম্পর্কিত আয়াতে আসতেন, তখনই তিনি সামনে অগ্রসর হওয়া বন্ধ রেখে রহমত চাইতেন। যখনই তিনি কোন শাস্তি সম্পর্কিত আয়াতে আসতেন, তখন সামনে অগ্রসর হওয়া বন্ধ রেখে শাস্তি হতে আশ্রয় চাইতেন। —সহীহ। মিশকাত— (৮৮১)। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 263 — Jami At Tirmidhi 2:115
সহিহসহিহসহিহ
قَالَ وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، نَحْوَهُ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ حُذَيْفَةَ، هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ أَنَّهُ صَلَّى بِاللَّيْلِ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ الْحَدِيثَ .
ইমাম তিরমিয়ী বলেনঃ মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী হতে, তিনি শু’বা হতে স্বীয় সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। —সহীহ। দেখুন পূর্বের হাদীস। হুযাইফা হতে অন্য সূত্রেও হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। তাতে তিনি রাত্রে নামায আদায় করেছেন বলে উল্লেখ আছে।
। আলী ইবনু আবু তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেনঃ কাচ্ছি নামক রেশমী কাপড় ও কড়া লাল রং-এর কাপড় পরতে, সোনার আংটি পরতে এবং রুকূর মধ্যে কুর'আনের আয়াত পাঠ করতে। -সহীহ। মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আলী (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান সহীহ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবা ও তাদের পরবর্তী বিদ্বানগণ রুকু ও সিজদার মধ্যে কুর'আনের আয়াত পাঠ করা মাকরুহ বলেছেন।
। আবু মাসউদ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রুকৃ ও সিজদাতে পিঠ স্থিরভাবে সোজা করে না তার নামায সহীহ হয় না। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৮৭০)। এ অনুচ্ছেদে আলী ইবনু শাইবান, আনাস, আবু হুরাইরা ও রিফা'আহ আয-যুরাকী হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু মাসউদের এ হাদীসটি হাসান সহীহ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও তাদের পরবর্তীদের মত অনুসারে রুকু এবং সিজদায় পিঠ স্থিরভাবে সোজা করতে হবে। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক বলেন, যে ব্যক্তি রুকূ-সিজদায় পিঠ স্থিরভাবে সোজা না করবে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের তাৎপর্য অনুযায়ী তার নামায বিফল হয়ে যাবে। আবু মামার এর নাম আব্দুল্লাহ ইবনু সাখবারাহ, আবু মাসউদ আনসারী এর নাম উকবা ইবনু আমর।
। আলী ইবনু আবু তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু হতে মাথা উঠানোর সময় বলতেনঃ “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ মিলআস সামাওয়াতি ওয়া মিলআল আরযি ওয়া মিলআ মা বাইনাহুমা ওয়া মিলআ মাশি’তা মিন শাই-ইম বাদু"। -সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (৭৩৮), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে ইবনু উমার, ইবনু আব্বাস, ইবনু আবু আওফা, আবূ জুহাইফা ও আবু সাঈদ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। একদল মনীষী এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। ইমাম শাফিঈ এই মত গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন, ফরয ও অন্যান্য সব নামাযেই এই দুআ পাঠ করতে হবে। কোন কোন কুফাবাসী (ইমাম আবু হানীফা ও তার মতানুসারীগণ) বলেছেন, এই দু'আ ফরয নামাযে পাঠ করবে না, নাফল ও অন্যান্য নামাযে পাঠ করবে।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইমাম যখন সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলে, তোমরা তখন রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ বল। কেননা যার কথা ফিরিশতাদের কথার সাথে মিলে যাবে তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (৭৯৪), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও তাদের পরবর্তীগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। তারা বলেছেন, ইমাম রুকু হতে উঠতে ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহী রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ বলবে এবং তার পেছনের লোকেরা রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ" বলবে। ইমাম আহমাদ এই মত দিয়েছেন। ইবনু সীরীন ও অপরাপর মনীষীগণ বলেছেন, ইমামের মত মুক্তাদীরাও সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ" বলবে। ইমাম শাফিঈ ও ইসহাক এই মত প্রকাশ করেছেন।
। ওয়াইল ইবনু হুজ্বর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি- তিনি যখন সিজদা করতেন তখন মাটিতে হাত রাখার আগে হাটু রাখতেন এবং যখন তিনি (সিজদা হতে) উঠতেন তখন হাটু উঠানোর আগে হাত উঠাতেন। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৮৮২) হাসান ইবনু আলী তার হাদীসে উল্লেখ করেছেন, ইয়াযীদ ইবনু হারূন বলেছেন। আসিমের নিকট হতে শারীক শুধু এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। শারীক ছাড়া আর কেউ এ হাদীস বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। বেশিরভাগ মনীষীই এ হাদীসের উপর আমল করেছেন এবং বলেছেন, সিজদায় যাওয়ার সময় মাটিতে প্রথমে হাটু ও পরে হাত রাখতে হবে এবং উঠার সময় আগে হাত ও পরে হাটু তুলতে হবে। হাম্মাম আসিমের নিকট হতে এ হাদীস মুরসাল হিসাবে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাতে ওয়াইল ইবনু হুজরের নাম উল্লেখ করেননি।