। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ তার নামাযে কি উটের মত ভর দিয়ে বসবে? আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। কেননা এ হাদীসটি আমরা শুধুমাত্র আবুষ যিনাদের সূত্রেই জেনেছি। সহীহ। মিশকাত— (৮৯৯), ইরওয়া— (২/৭৮), সহীহ আবু দাউদ– (৭৮৯)। 'আবদুল্লাহ ইবনু সাঈদ আল-মাকবুরী তার পিতার সূত্রে আবু হুরাইরার নিকট হতে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান ও অন্যরা আবদুল্লাহ ইবনু সাঈদ আল-মাকবুরীকে যঈফ (দুর্বল) বলেছেন।
। আবু হুমাইদ আস-সায়েদী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা করতেন তখন নিজের নাক ও কপাল যমিনের সাথে লাগিয়ে রাখতেন, উভয় হাত পাজর হতে আলাদা রাখতেন এবং হাতের তালু কাঁধ বরাবর রাখতেন। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ– (৭২৩), মিশকাত— (৮০১), সিফাতুস সালাত- (১২৩)। এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস, ওয়াইল ইবনু হুজর ও আবু সাঈদ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুমাইদের হাদীসটি হাসান সহীহ। আলিমগণের মতে, নাক ও কপাল দিয়ে সিজদা করতে হবে। যদি শুধু কপাল দিয়ে সিজদা করা হয় এবং নাক মাটিতে না ঠেকান হয় তবে এক দল আলিমের মতে নামায হয়ে যাবে। কিন্তু অন্য দলের মতে নাক ও কপাল মাটিতে না ঠেকালে নামায সম্পূর্ণ হবে না।
। আবু ইসহাক (রাহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলামঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদাতে মুখমণ্ডল কোন জায়গায় রাখতেন? তিনি বললেন, দুই হাতের তালুর মাঝ বরাবর রাখতেন। —সহীহ। মুসলিম- (২/১৩)। এ অনুচ্ছেদে ওয়াইল ইবনু হুজর ও আবু হুমাইদ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ বারাআ-এর হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। কোন কোন বিদ্বান এ হাদীস অনুযায়ী সিজদাতে উভয় হাত কান বরাবর রাখার নিয়ম অবলম্বন করেছেন।
। আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ বান্দা যখন সিজদা করে তখন তার সাথে তার (শরীরের) সাতটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও সিজদা করে অর্থাৎ মুখমণ্ডল, উভয় হাতের তালু, দুই হাটু ও দুই পা। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৮৮৫), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস, আবু হুরাইরা, জাবির ও আবু সাঈদ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আব্বাসের হাদীসটি হাসান সহীহ। বিশেষজ্ঞগণ এ হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী আমল করেন।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদিষ্ট হয়েছেন সাত অঙ্গের সমন্বয়ে সিজদা করতে এবং (নামাযের মধ্যে) চুল ও কাপড় না গোছাতে। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৮৮৪), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস 274 — Jami At Tirmidhi 2:126
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَقْرَمِ الْخُزَاعِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنْتُ مَعَ أَبِي بِالْقَاعِ مِنْ نَمِرَةَ فَمَرَّتْ رَكَبَةٌ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَائِمٌ يُصَلِّي . قَالَ فَكُنْتُ أَنْظُرُ إِلَى عُفْرَتَىْ إِبْطَيْهِ إِذَا سَجَدَ أَىْ بَيَاضِهِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَابْنِ بُحَيْنَةَ وَجَابِرٍ وَأَحْمَرَ بْنِ جَزْءٍ وَمَيْمُونَةَ وَأَبِي حُمَيْدٍ وَأَبِي مَسْعُودٍ وَأَبِي أُسَيْدٍ وَسَهْلِ بْنِ سَعْدٍ وَمُحَمَّدِ بْنِ مَسْلَمَةَ وَالْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ وَعَدِيِّ بْنِ عَمِيرَةَ وَعَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَأَحْمَرُ بْنُ جَزْءٍ هَذَا رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَهُ حَدِيثٌ وَاحِدٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَقْرَمَ حَدِيثٌ حَسَنٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ دَاوُدَ بْنِ قَيْسٍ وَلاَ نَعْرِفُ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَقْرَمَ الْخُزَاعِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم غَيْرَ هَذَا الْحَدِيثِ . وَالْعَمَلُ عَلَيْهِ عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَقْرَمَ الْخُزَاعِيُّ إِنَّمَا لَهُ هَذَا الْحَدِيثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَرْقَمَ الزُّهْرِيُّ صَاحِبُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَهُوَ كَاتِبُ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ .
। উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আকরাম আল-খুযাঈ (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (আবদুল্লাহ) বলেন, আমি আমার পিতার সাথে নামিরার সমতল ভূমিতে অবস্থান করছিলাম। ইতিমধ্যে একদল সাওয়ারী (আমাদের) পার হয়ে গেল। হঠাৎ দেখলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাড়িয়ে নামায আদায় করছেন। রাবী বলেন, যখন তিনি সিজদায় যেতেন তখন আমি তার বগলের শুভ্রতা দেখে নিতাম। --সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৮৮১)। এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস, ইবনু বুহাইনা, জাবির, আহমাদ ইবনু সাদ, মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামা, বারাআ ইবনু আযিব, আদী ইবনু আমীরা ও আয়িশাহ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আহমার ইবনু জায নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত। আবু ঈসা বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবনু আকরামের হাদীসটি হাসান। দাউদ ইবনু কাইসের মাধ্যমেই আমরা এ হাদীসটি জেনেছি। আবদুল্লাহ ইবনু আকরাম (রাঃ)-এর নিকট হতে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ হাদীসটিই শুধু আমরা জানি। তিনি একটিমাত্র হাদীস বর্ণনা করেছেন। আলিমগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেন (সিজদাতে হাত এমনভাবে ছড়িয়ে রাখতে হবে যেন বগল ফাঁক থাকে)। 'আবদুল্লাহ ইবনু আরকাম আয-যুহরী সাহাবী ছিলেন এবং তিনি আবু বাকার সিদীক (রাঃ)-এর কাতিব (সচিব) ছিলেন। আর আবদুল্লাহ ইবনু আকরাম আল-খুযাঈ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুধু এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন সিজদা করে তখন সে যেন সঠিকভাবে সিজদা করে এবং কুকুরের মত যমিনে যেন হাত বিছিয়ে না দেয়। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৮৯১)। এ অনুচ্ছেদে আবদুর রহমান ইবনু শিবল, বারাআ, আনাস, আবৃ হুমাইদ ও আয়িশাহ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ জাবিরের হাদীসটি হাসান সহীহ। আলিমগণ সঠিকভাবে সিজদা করার (এবং দুই সিজদার মাঝখানে বিরতি দেয়ার) প্রতি জোর দিয়েছেন এবং হিংস্র জন্তুর মত হাত মাটিতে বিছিয়ে দেয়াকে মাকরূহ বলেছেন।
। কাতাদা (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সঠিকভাবে সিজদা কর। তোমাদের কেউ যেন নামাযের মধ্যে কুকুরের মত যমিনে হাত বিছিয়ে না দেয়। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৮৯২), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আমির ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত (তালু) মাটিতে রাখতে এবং পা খাড়া রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। -হাসান। সিফাতুস সালাত- (১২৬)।
। অপর এক বর্ণনায় আছে আমির ইবনু সা’দ এ হাদীসটি মুরসাল হিসাবে বর্ণনা করেছেন। (হাসান) পূর্বের হাদীসের কারণে। এ বর্ণনা সূত্রটি ওহাইবের বর্ণনার চেয়ে বেশি সহীহ। মনীষীগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করা পছন্দ করেছেন।