। বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামাযের নিয়ম ছিলঃ যখন তিনি রুকূ করতেন, যখন রুকু হতে মাথা তুলতেন, যখন সিজদা করতেন এবং সিজদা হতে মাথা তুলতেন তখন এ কাজগুলোর মধ্যে সময়ের ব্যবধান প্রায় সমানই হত। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (৭৯৮), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার তিনি মুহাম্মাদ ইবনু জাফর হতে, তিনি শুবা হতে তিনি হাকাম হতে, তিনি স্বীয় সনদে পূর্বের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবু ঈসা বলেনঃ বারাআ’র হাদীসটি হাসান সহীহ। বিশেষজ্ঞ আলিমগণ উপরোক্ত হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন।
। আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাদেরকে বারাআ (রাঃ) বলেছেন আর তিনি মিথ্যাবাদী নন। আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে নামায আদায় করতাম, তখন তিনি রুকু হতে মাথা তুলার পর সিজদায় যাওয়ার আগে আমাদের কেউই নিজ নিজ পিঠ (সিজদার জন্য) ঝুঁকিয়ে দিত না। তিনি সিজদায় যাওয়ার পর আমরা সিজদায় যেতাম। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (৬৩১-৬৩৩), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আনাস, মুআবিয়া, ইবনু মাসআদা ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ বারাআ’র হাদীসটি হাসান সহীহ। আলিমগণ বলেছেন, মুক্তাদীগণ ইমামের প্রতিটি কাজে তাকে অনুসরণ করবে এবং ইমাম রুকূতে যাওয়ার পর তারা রুকূতে যাবে, তার মাথা তুলার পর তারা মাথা তুলবে। এ ব্যাপারে বিদ্বানদের মধ্যে কোন মতের অমিল আছে বলে আমাদের জানা নেই।
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আলী! আমি নিজের জন্য যা ভাল মনে করি তোমার জন্যও তা হিত মনে করি এবং আমার নিজের জন্য যা অপছন্দ করি তোমার জন্যও তা অপছন্দ করি। তুমি দুই সিজদার মাঝখানে ইকআ রীতিতে বস না। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৮৯৪, ৮৯৫)। আবূ ঈসা বলেনঃ আলী (রাঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি শুধু মাত্র আবূ ইসহাক হতে হারিসের সূত্রে জানতে পেরেছি। কোন কোন জ্ঞানী এ হাদীসের রাবী হারিসকে যঈফ বলেছেন। বেশিরভাগ বিদ্বান এ হাদীসের উপর আমল করেছেন এবং ইকআ পদ্ধতিতে বসা মাকরূহ বলেছেন। এ অনুচ্ছেদে আইশা, আনাস আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
। তাউস (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে ইক'আ সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, এটা সুন্নাত। আমরা বললাম, এতে আমরা পায়ে ব্যথা পাই। তিনি আবার বললেন, এটা তোমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ– (৭৯১), মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। কিছু জ্ঞানী সাহাবা (রাঃ) এ হাদীসের উপর আমল করেছেন। তারা ইক্ব'আয় (দুই পায়ের পাতা খাড়া রেখে তার উপর নিতম্ব রেখে বসাতে) কোন সমস্যা দেখেন না। মক্কার কোন কোন ফিকহবিদেরও এই মত। কিন্তু বেশিরভাগ বিদ্বান দুই সিজদার মাঝখানে এভাবে বসা মাকরূহ মনে করেন।
। হাসান ইবনু আলী আল-খাল্লাল আল-হুলওয়ানী, তিনি ইয়াযিদ ইবনু হারুন হতে, তিনি যাইদ ইবনু হুবাব হতে, তিনি আবুল 'আলা কামিল হতে স্বীয় সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আলী (রাঃ) হতে একই রকম হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এ হাদীসের সমর্থক। তারা ফরয, নফল সব নামাযে এ দু’আ পাঠ করা জায়িয বলেছেন। কেউ কেউ এ হাদীসটি আবুল 'আলা কামিল হতে মুরসাল হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস 286 — Jami At Tirmidhi 2:138
দাঈফদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ سُمَىٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ اشْتَكَى بَعْضُ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَشَقَّةَ السُّجُودِ عَلَيْهِمْ إِذَا تَفَرَّجُوا فَقَالَ " اسْتَعِينُوا بِالرُّكَبِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ اللَّيْثِ عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ . وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ سُمَىٍّ عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ هَذَا . وَكَأَنَّ رِوَايَةَ هَؤُلاَءِ أَصَحُّ مِنْ رِوَايَةِ اللَّيْثِ .
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবাগণ তার নিকট অভিযোগ করলেনঃ যখন তারা সিজদায় যান তখন কনুই পৃথক রাখতে তাদের খুব অসুবিধা হয়। তিনি বললেনঃ হাটুর সাথে কনুই ঠেকিয়ে সাহায্য নাও। যঈফ, যঈফ আবূ দাউদ (১৬০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গরীব। এ হাদীসটি আমরা আবূ সালিহের সনদ পরম্পরায় লাইসের মাধ্যমে ইবনু আজলানের সূত্রেই শুধু জানতে পেরেছি। নুমান ইবনু আবূ আইয়াশও এরকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। লাইসের বর্ণনার চাইতে এই বর্ণনা বেশী সহীহ।
। মালিক ইবনু হুয়াইরিস আল-লাইসী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নামায আদায় করতে দেখেছেন। তিনি যখন নামাযের বেজোড় রাকআতে থাকতেন তখন (সিজদা হতে উঠে) সোজা হয়ে না বসা পর্যন্ত (পরবর্তী রাকাআতের জন্য) দাড়াতেন না। —সহীহ। ইরওয়া— (২/৮২-৮৩), সিফাতুস সালাত- (১৩৬), বুখারী। আবু ঈসা বলেনঃ মালিক ইবনু হুযাইরিসের হাদীসটি হাসান সহীহ। কোন কোন বিদ্বান এ হাদীসের উপর আমল করেছেন। ইমাম ইসহাক (রহঃ) ও আমাদের কিছু সঙ্গীরা এই মত গ্রহণ করেছেন। মালিকের উপনাম আবূ সুলাইমান।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযে (সিজদা হতে সরাসরি) নিজের পায়ের তালুতে (ভরদিয়ে) দাঁড়িয়ে যেতেন। যঈফ, ইরওয়া (৩৬২) আবূ ঈসা বলেন, বিদ্বানগণ আবূ হুরাইরা বর্ণিত হাদীসের উপর আমল করেছেন। তারা নামাযের মধ্যে (সিজদা হতে সরাসরি) পায়ের পাতার উপর দাঁড়ানোই মনঃপূত করেছেন। হাদীস বিশারদদের মতে খালিদ ইবনু আইয়াশ একজন যঈফ রাবী। তাকে খালিদ ইবনু ইয়াসও বলা হয়। আর সালিহ তিনি হলেন সালিহ ইবনু আবূ সালিহ। আবূ সালিহ এর নাম নাবহান, তিনি মদীনার অধিবাসী।