। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, দুই রাকাআত নামায আদায়ের পর বসে যা পাঠ করতে হবে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তা শিক্ষা দিয়েছেন। তা হলঃ “আত্তাহিয়াতু লিল্লাহি...... আবদুহু ওয়া রাসূলুহু"। অর্থাৎ- “সমস্ত সম্মান, ইবাদাত, আরাধনা এবং পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, আল্লাহর রহমত এবং প্রাচুর্যও। আমাদের উপর এবং আল্লাহর পুণ্যশীল বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ তার বান্দাহ ও রাসূল।” —সহীহ। ইরওয়া— (৩৩৬), দেখুন ইবনু মাজাহ– (৮৯৯)। এ অনুচ্ছেদে ইবনু উমার, জাবির, আবু মূসা ও আয়িশাহ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু মাসউদের হাদীসটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। তাশাহহুদ সম্পর্কিত এ হাদীসটি বেশি সহীহ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশিরভাগ সাহাবা এবং তাদের পরবর্তীগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, আহমাদ ইসহাক এরকম অভিমত দিয়েছেন। আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু মূসার সূত্রে তিনি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক হতে, তিনি মামার হতে, তিনি খুসাইফ হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন– “আমি স্বপ্লে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে পেয়ে বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকেরা তাশাহহুদের ব্যাপারে বিভক্ত হয়ে গেছে। তিনি বললেন, ‘তুমি ইবনু মাসউদ বর্ণিত তাশাহহুদকে আঁকড়ে ধর”।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে যেভাবে কুরআন শিক্ষা দিতেন ঠিক অনুরূপভাবে তাশাহহুদ’ শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলতেনঃ “আত্তাহিয়াতুল মুবারাকাতুস সালাওয়াতুত তাইয়্যিবাতু লিল্লাহি ------ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৯০০), মুসলিম। অর্থাৎ, “সমস্ত বারকাতময় সম্মান, ইবাদাত এবং পবিত্রতা আল্লাহ তা'আলার জন্য। হে নবী! আপনার প্রতি শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও প্রাচুর্য বর্ষিত হোক। আমাদের উপর এবং আল্লাহ তা'আলার নেক বান্দাদের উপরও শান্তি আসুক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ তা'আলা ব্যাতিত কোন মাবুদ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ আল্লাহ্ তায়ালার রাসুল। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু আব্বাসের হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আরো কয়েকটি সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। জাবির (রাঃ)-এর নিকট হতেও এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এ বর্ণনাটি সংরক্ষিত নয়। ইমাম শাফিঈ এ হাদীসে উল্লেখিত তাশাহহুদ গ্রহণ করেছেন।
। ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নিঃশব্দে তাশাহহুদ পাঠ করাই সুন্নাত। -সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (৯০৬), সিফাতুস সালাত- (১৪২)। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু মাসউদের এ হাদীসটি হাসান গারীব। ‘আলিমগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেন।
। ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি মাদীনায় আসলাম। আমি (মনে মনে) বললাম, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামায আদায় করা দেখব। তিনি যখন তাশাহহুদ পাঠ করতে বসলেন তখন বাম পা বিছিয়ে দিলেন, বাম হাত বাম উরুর উপর রাখলেন এবং ডান পা খাড়া করে রাখলেন। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (৭১৬)। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ্। বেশিরভাগ বিদ্বান এ হাদীসের উপর আমল করেছেন। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক ও কুফাবাসীগণও (অাৰু হানীফ ও তার অনুসারীগণ) এ মতই ব্যক্ত করেছেন।
। আব্বাস ইবনু সাহল আস-সাইদী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবু হুমাইদ, আবু উসাইদ, সাহল ইবনু সা’দ ও মুহাম্মাদ ইবনু মসলাম (রাঃ) একত্র হলেন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামায আদায়ের নিয়ম প্রসঙ্গে একে অপরে আলাপ করলেন। আবু হুমাইদ (রাঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামায সম্পর্কে তোমাদের চেয়ে অনেক ভাল জানি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাশাহহুদ পাঠ করতে বসতেন, তখন বাম পা বিছিয়ে দিতেন, ডান পায়ের (পাতার) মাথার দিকটা কিবলার দিকে রাখতেন, ডান হাতের তালু ডান হাটুর উপর, বাম হাতের তালু বাম হাটুর উপর রাখতেন এবং তর্জনী (শাহাদত আংগুল) দিয়ে ইশারা করতেন। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (৭২৩)। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। কোন কোন বিদ্বান এ হাদীসের উপর আমল করেছেন। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এ হাদীসের অনুগামী। তারা বলেন, শেষ বৈঠকে নিতম্বের উপর বসতে হবে। তারা আবু হুমাইদের হাদীস দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন, প্রথম বৈঠকে বা পায়ের উপর বসতে হবে এবং ডান পা খাড়া রাখতে হবে।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাযে বসতেন তখন ডান হাত (ডান) হাঁটুতে রাখতেন, (ডান হাতের) বৃদ্ধাঙ্গুলের পার্শ্ববর্তী আঙ্গুল (তর্জনী) উত্তোলন করতেন এবং তা দিয়ে দুআ করতেন এবং বা হাত বা হাটুর উপর বিছিয়ে রাখতেন। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৯১৩), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর, নুমাইর আল-খুযাঈ, আবু হুরাইরা, আবু হুমাইদ ও ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে, আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু উমারের হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু উল্লেখিত সনদেই এ হাদীসটি জেনেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী এবং তাবিঈগণ তাশাহহুদ পাঠের সময় ইশারা করা পছন্দ করেছেন। আমাদের সঙ্গীরা এ কথাই বলেছেন।
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায শেষে ডান দিকে তারপর বাম দিকে এ বলে সালাম ফিরাতেন, আসসালামু 'আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৯১৪), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে সা’দ ইবনু আবু ওয়াক্কাস, ইবনু উমার, জাবির ইবনু উমাইরা ও জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু মাসউদের হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশিরভাগ সাহাবা এবং তাদের উত্তরসুরিগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, আহমাদ এবং ইসহাকও একই রকম কথা বলেছেন।
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযে এক সালামই ফিরাতেন, প্রথমে সামনের দিকে (শুরু করে) তারপর ডান দিকে কিছুটা মুখ ঘুরাতেন। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৯১৯)। এ অনুচ্ছেদে সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আমরা শুধু উল্লেখিত সূত্রেই আয়িশার হাদীসটি মারফু হিসাবে পেয়েছি। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (বুখারী) বলেন, সিরিয়াবাসীগণ মুহাম্মাদ ইবনু যুহাইরের সূত্রে মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইরাকবাসীগণ তার নিকট হতে যে বর্ণনা গ্রহণ করেছে তা অধিক সহীহ। মুহাম্মাদ বলেন, আহমাদ ইবনু হাম্বল বলেছেন, সিরিয়াবাসীগণ যে যুহাইরের দেখা পেয়েছিলেন সম্ভবতঃ তিনি সেই যুহাইর নন যার বর্ণনা ইরাকবাসীগণ গ্রহণ করেছেন। সম্ভবতঃ ইনি অন্য এক ব্যক্তি। আবু ঈসা বলেনঃ কোন কোন আলিম হাদীসে উল্লেখিত নিয়মে নামাযে সালাম ফিরানোর পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। কিন্তু সবচাইতে সহীহ বর্ণনামতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’বার সালাম ফিরাতেন। বেশিরভাগ সাহাবা, তাবিঈন ও তাবউ’ তাবিঈন এ মতই গ্রহণ করেছেন। একদল সাহাবা, তাবি"ঈন ও অন্যান্যরা ফরয নামাযে একবার সালাম ফিরানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। ইমাম শাফিঈ বলেছেন, দুটি পদ্ধতিরই অনুমতি আছে, ইচ্ছা করলে এক সালাম বা দুই সালামও ফিরাতে পারে।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সালামের মধ্যে হযফ করা সুন্নাত। যঈফ, যঈফ আবূ দাউদ (১৭৯) আবূ ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। আলী ইবনু হুজ্বর বলেন, ইবনুল মুবারাক বলেছেন, ‘হযফের' তাৎপর্য হল, সালাম খুব লম্বা করে না টেনে বরং স্বাভাবিক অবস্থায় রাখা। বিশেষজ্ঞগণ এ নিয়মকে মুসতাহাব বলেছেন। ইবরাহীম নাখঈ বলেছেন, তাকবীর এবং সালাম অধিকক্ষণ টানবে না। রাবী হিকল সম্পর্কে বলা হয় যে, তিনি ইমাম আওযায়ীর সচীব ছিলেন।
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফিরানোর পর এই দু'আ পাঠের বেশি সময় বসতেন না- “আল্লাহুম্মা আনতাস্ সালামু ..... ওয়াল ইকরাম।” অর্থাৎ- “হে আল্লাহ! তুমিই শান্তিদাতা তোমার নিকট হতেই শান্তি আসে। হে সম্মান ও গৌরবের মালিক! তুমি প্রাচুর্যময় ও বারকাতময়"। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৯২৪), মুসলিম।