Qurani·قرآني
বাংলা

নামাযের অধ্যায়

303 হাদিস · #149–451

হাদিস 299 — Jami At Tirmidhi 2:151
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ
حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيُّ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ وَقَالَ ‏"‏ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ ثَوْبَانَ وَابْنِ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي سَعِيدٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ ‏.‏ وَالْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَقَدْ رَوَى خَالِدٌ الْحَذَّاءُ هَذَا الْحَدِيثَ مِنْ حَدِيثِ عَائِشَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ نَحْوَ حَدِيثِ عَاصِمٍ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ بَعْدَ التَّسْلِيمِ ‏"‏ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ ‏"‏ ‏.‏ وَرُوِيَ عَنْهُ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ ‏"‏ سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ وَسَلاَمٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ‏"‏ ‏.‏
। আসিম আল-আহওয়াল হতে উপরের হাদীসের মতই বর্ণিত হয়েছে। শুধু 'যাল-জালালি' শব্দের পূর্বে ইয়া' (হে) শব্দটি অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে। —সহীহ। দেখুন পূর্বের হাদীস। এ অনুচ্ছেদে সাওবান, ইবনু উমার, ইবনু আব্বাস, আবু সাঈদ, আবু হুরাইরা ও মুগীরা ইবনু শুবা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ “আয়িশাহ'র হাদীসটি হাসান সহীহ। খালিদ আল-হাযযা ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে আব্দুল্লাহ ইবনু হারিসের সূত্রে আসিমের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে আরো বর্ণিত হয়েছে, তিনি সালাম ফিরানোর পর এ দুআ পাঠ করতেনঃ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ “আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তার কোন শারীক নেই, (মহাবিশ্বের) রাজত্ব তারই হাতে, তার জন্য সকল প্রশংসা। তিনিই হায়াত দেন, তিনিই মউত দেন, তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! তুমি যাকে দান কর তা প্রতিরোধ করার শক্তি কারো নেই; তুমি যার প্রতিবন্ধক হও তাকে কেউ দান করতে পারে না এবং কোন চেষ্টা-তদবিরকারীই তার চেষ্টার মাধ্যমে তোমার নিকট হতে মঙ্গল ছিনিয়ে নিতে সমর্থ নয়।" অপর এক বর্ণনায় আছে, তিনি বলতেনঃ سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ وَسَلاَمٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ “তারা যা বলে থাকে তা থেকে আপনার রব, যিনি মহা মহিমান্বিত সকল ক্ষমতার মালিক, মহান পবিত্র। সালাম বর্ষিত হোক রাসূলদের প্রতি। সকল প্রশংসা সারা বিশ্বের প্রতিপালক আল্লাহর জন্যই।” (সূরাঃ আস-সাফফাত)
হাদিস 300 — Jami At Tirmidhi 2:152
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ Muslim
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُوسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي شَدَّادٌ أَبُو عَمَّارٍ، حَدَّثَنِي أَبُو أَسْمَاءَ الرَّحَبِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي ثَوْبَانُ، مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنْصَرِفَ مِنْ صَلاَتِهِ اسْتَغْفَرَ اللَّهَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ قَالَ ‏ "‏ اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَأَبُو عَمَّارٍ اسْمُهُ شَدَّادُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ‏.‏
। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্ত করা গোলাম সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামায হতে ফুরসত হতে চাইতেন তখন তিনবার মার্জনা প্রার্থনা করতেন; তারপর বলতেন, “হে আল্লাহ! তুমিই শান্তি আনায়নকারী। তোমার নিকট হতেই শান্তি আসে। হে পরাক্রম ও সম্মানের অধিকারী! তুমি বারকাত ও প্রাচুর্যময়”। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৯২৮), মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 301 — Jami At Tirmidhi 2:153
হাসান Sahihহাসান SahihহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ هُلْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَؤُمُّنَا فَيَنْصَرِفُ عَلَى جَانِبَيْهِ جَمِيعًا عَلَى يَمِينِهِ وَعَلَى شِمَالِهِ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَأَنَسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَأَبِي هُرَيْرَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ هُلْبٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ ‏.‏ وَعَلَيْهِ الْعَمَلُ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّهُ يَنْصَرِفُ عَلَى أَىِّ جَانِبَيْهِ شَاءَ إِنْ شَاءَ عَنْ يَمِينِهِ وَإِنْ شَاءَ عَنْ يَسَارِهِ ‏.‏ وَقَدْ صَحَّ الأَمْرَانِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ وَيُرْوَى عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ أَنَّهُ قَالَ إِنْ كَانَتْ حَاجَتُهُ عَنْ يَمِينِهِ أَخَذَ عَنْ يَمِينِهِ وَإِنْ كَانَتْ حَاجَتُهُ عَنْ يَسَارِهِ أَخَذَ عَنْ يَسَارِهِ ‏.‏
। কাবিসা ইবনু হুলব (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (হুলব) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ইমামতি করতেন। (সালাম ফিরানোর পর) তিনি ডান এবং বাম উভয় পাশেই ফিরে বসতেন। এ অনুচ্ছেদে ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, আনাস, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও হাদীস উল্লেখিত আছে। -হাসান সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৯২৯)। আবু ঈসা বলেনঃ হুলব-এর হাদীসটি হাসান। এ হাদীসের দ্বারা বিশেষজ্ঞগণ বলেন, ডান, বাম যে কোন পাশে ইচ্ছা ফিরে বসা যেতে পারে। দুই পাশের যে কোন পাশে ঘুরে বসার বিধান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ক্রটিহীনভাবে প্রমাণিত। ‘আলী (রাঃ) বলেন, যদি ডান পাশে ঘুরে বসার প্রয়োজন হয় তবে ডান পাশে ঘুরে বসবে; যদি বাম পাশে ঘুরে বসার প্রয়োজন হয় তবে সেদিকে ঘুরে বসবে।
হাদিস 302 — Jami At Tirmidhi 2:154
সহিহসহিহহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَلِيِّ بْنِ يَحْيَى بْنِ خَلاَّدِ بْنِ رَافِعٍ الزُّرَقِيِّ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَمَا هُوَ جَالِسٌ فِي الْمَسْجِدِ يَوْمًا قَالَ رِفَاعَةُ وَنَحْنُ مَعَهُ إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ كَالْبَدَوِيِّ فَصَلَّى فَأَخَفَّ صَلاَتَهُ ثُمَّ انْصَرَفَ فَسَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ وَعَلَيْكَ فَارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ ‏"‏ ‏.‏ فَرَجَعَ فَصَلَّى ثُمَّ جَاءَ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَقَالَ ‏"‏ وَعَلَيْكَ فَارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ ‏"‏ ‏.‏ فَفَعَلَ ذَلِكَ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا كُلُّ ذَلِكَ يَأْتِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَيُسَلِّمُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَيَقُولُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ وَعَلَيْكَ فَارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ ‏"‏ ‏.‏ فَخَافَ النَّاسُ وَكَبُرَ عَلَيْهِمْ أَنْ يَكُونَ مَنْ أَخَفَّ صَلاَتَهُ لَمْ يُصَلِّ فَقَالَ الرَّجُلُ فِي آخِرِ ذَلِكَ فَأَرِنِي وَعَلِّمْنِي فَإِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ أُصِيبُ وَأُخْطِئُ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ أَجَلْ إِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلاَةِ فَتَوَضَّأْ كَمَا أَمَرَكَ اللَّهُ ثُمَّ تَشَهَّدْ وَأَقِمْ فَإِنْ كَانَ مَعَكَ قُرْآنٌ فَاقْرَأْ وَإِلاَّ فَاحْمَدِ اللَّهَ وَكَبِّرْهُ وَهَلِّلْهُ ثُمَّ ارْكَعْ فَاطْمَئِنَّ رَاكِعًا ثُمَّ اعْتَدِلْ قَائِمًا ثُمَّ اسْجُدْ فَاعْتَدِلْ سَاجِدًا ثُمَّ اجْلِسْ فَاطْمَئِنَّ جَالِسًا ثُمَّ قُمْ فَإِذَا فَعَلْتَ ذَلِكَ فَقَدْ تَمَّتْ صَلاَتُكَ وَإِنِ انْتَقَصْتَ مِنْهُ شَيْئًا انْتَقَصْتَ مِنْ صَلاَتِكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَكَانَ هَذَا أَهْوَنَ عَلَيْهِمْ مِنَ الأَوَّلِ أَنَّهُ مَنِ انْتَقَصَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا انْتَقَصَ مِنْ صَلاَتِهِ وَلَمْ تَذْهَبْ ��ُلُّهَا ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَعَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ عَنْ رِفَاعَةَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ ‏.‏
। রিফাআ ইবনু রাফি (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে অবস্থান করছিলেন। রিফাআ (রাঃ) বলেন, আমরাও তার সাথে ছিলাম। এমন সময় বিদুইনের বেশে এক ব্যক্তি আসল। সে নামায আদায় করল, কিন্তু হালকাভাবে (তাড়াহুড়া করে, নামাযের রুকনসমূহ ঠিকভাবে আদায় না করে) নামায শেষ করে সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম করল। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাকেও (সালাম), ফিরে গিয়ে আবার নামায আদায় কর, কেননা তুমি নামায পড়নি। সে ফিরে গিয়ে নামায আদায় করল, তারপর এসে তাকে সালাম করল। তিনি পুনরায় বললেনঃ তোমাকেও (সালাম), ফিরে গিয়ে আবার নামায আদায় কর, কেননা তুমি নামায পড়নি। দুই অথবা তিনবার এরূপ হল। প্রত্যেকবার সে এসে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম করল। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে থাকলেনঃ তোমাকেও (সালাম), ফিরে গিয়ে আবার নামায আদায় কর, কেননা তুমি নামায আদায় করনি। ব্যাপারটা লোকদের (সাহাবাদের) নিকট ভয়ানক ও অস্বস্তিকর মনে হল যে, যে ব্যক্তি হালকাভাবে নামায আদায় করল তার নামাযই হল না। অবশেষে লোকটি বলল, আমাকে দেখিয়ে দিন, শিখিয়ে দিন, কেননা আমি তো একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নই, কখনও শুদ্ধ কাজ করি কখনও ক্রটি করি। তিনি বললেনঃ হ্যা, যখন তুমি নামায আদায় করতে দাড়াও, তখন তিনি (আল্লাহ) তোমাকে যেভাবে ওযু করার নির্দেশ দিয়েছেন সেভাবে ওযু কর, তারপর তাশাহহুদ পাঠ কর (আযান দাও), তারপর ইকামাত বল। যদি তোমার কুরআন জানা থাকে তবে তা হতে পাঠ কর। অন্যথায়- আলহামদুলিল্লাহ তাকবীর- আল্লাহু আকবার তাহলীল- “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু পাঠ কর, অতঃপর রুকু কর, শান্তভাবে রুকূতে অবস্থান কর। তারপর রুকু হতে সোজা হয়ে দাড়াও, তারপর সিজদায় যাও, ঠিকভাবে সিজদা কর, সিজদা হতে উঠে শান্তভাবে বস, তারপর উঠো। যদি তুমি এভাবে নামায আদায় কর তবে তোমার নামায পূর্ণ হল। যদি তুমি তাতে কোনরূপ ভুল কর তবে তোমার নামাযের মধ্যেই ভুল করলে। রাবী বলেন, পূর্বের কথার চেয়ে এই পরবর্তী কথাটা লোকদের (সাহাবাদের) নিকট সহজ লাগল। কেননা যে নামাযের মধ্যে কোনরূপ ভুল করল তার নামাযে ভুল হল কিন্তু পরিপূর্ণ নামায নষ্ট হল না। —সহীহ। মিশকাত— (৮০৪), সিফাতুস সালাত (মূল), সহীহ আবু দাউদ- (৮০৩-৮০৭), ইরওয়া— (১/৩২১-৩২২)। এ অনুচ্ছেদে আবু হুরাইরা ও আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ রিফাআ ইবনু রাফি'র হাদীসটি হাসান। এ হাদীসটি রিফা'আ (রাঃ)-এর নিকট হতে অন্যান্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
হাদিস 303 — Jami At Tirmidhi 2:155
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَدَخَلَ رَجُلٌ فَصَلَّى ثُمَّ جَاءَ فَسَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَرَدَّ عَلَيْهِ السَّلاَمَ فَقَالَ ‏"‏ ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ ‏"‏ ‏.‏ فَرَجَعَ الرَّجُلُ فَصَلَّى كَمَا كَانَ صَلَّى ثُمَّ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَرَدَّ عَلَيْهِ السَّلاَمَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ ‏"‏ ‏.‏ حَتَّى فَعَلَ ذَلِكَ ثَلاَثَ مِرَارٍ فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أُحْسِنُ غَيْرَ هَذَا فَعَلِّمْنِي ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ إِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلاَةِ فَكَبِّرْ ثُمَّ اقْرَأْ بِمَا تَيَسَّرَ مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ ثُمَّ ارْكَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ رَاكِعًا ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَعْتَدِلَ قَائِمًا ثُمَّ اسْجُدْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ سَاجِدًا ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ جَالِسًا وَافْعَلْ ذَلِكَ فِي صَلاَتِكَ كُلِّهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ قَالَ وَقَدْ رَوَى ابْنُ نُمَيْرٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ‏.‏ وَرِوَايَةُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَصَحُّ ‏.‏ وَسَعِيدٌ الْمَقْبُرِيُّ قَدْ سَمِعَ مِنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَرَوَى عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبُو سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيُّ اسْمُهُ كَيْسَانُ وَسَعِيدٌ الْمَقْبُرِيُّ يُكْنَى أَبَا سَعْدٍ وَكَيْسَانُ عَبْدٌ كَانَ مُكَاتَبًا لِبَعْضِهِمْ ‏.‏
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে গেলেন। এ সময় একটি লোক এসে নামায আদায় করল। (নামায শেষ করে) সে এসে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম করল। তিনি সালামের উত্তর দিয়ে তাকে বললেনঃ তুমি আবার গিয়ে নামায আদায় করে এসো, তোমার নামায হয়নি। এভাবে সে তিনবার নামায আদায় করল। তারপর লোকটি তাকে বলল, সেই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন! আমি এর চেয়ে ভালভাবে নামায আদায় করতে পারছি না, আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ যখন তুমি নামায আদায় করতে দাড়াও তখন তাকবীর (তাহরীমা) বল, তারপর কুরআনের যে জায়গা হতে পাঠ করতে সহজ হয় তা পাঠ কর; তারপর রুকূতে যাও এবং রুকূর মধ্যে স্থির থাক; তারপর মাথা তুলে সোজা হয়ে দাড়াও; তারপর সিজদা কর এবং সিজদার মধ্যে স্থির থাক; তারপর মাথা তুলে আরামে বস। তোমার সমস্ত নামায এভাবে আদায় কর। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১০৬০), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইবনু নুমাইর বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার হতে, তিনি সাঈদ আল-মাক্ববুরী হতে তিনি আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। এই বর্ণনায় সাঈদ তার পিতা থেকে কথাটি উল্লেখ নেই। উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার হতে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদের বর্ণনাটি অধিক সহীহ। সাঈদ মাক্ববুরী আবু হুরাইরার নিকট হাদীস শুনেছেন। আবার তার পিতার সূত্রে আবু হুরাইরা হতেও বর্ণনা করেছেন। আবু সাঈদ মাক্ববুরীর নাম কাইসান। উপনাম আবু সাঈদ। কাইসান মুকাতাব দাস ছিলেন।
হাদিস 304 — Jami At Tirmidhi 2:156
সহিহসহিহহাসান SahihIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ، قَالَ سَمِعْتُهُ وَهُوَ، فِي عَشَرَةٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَحَدُهُمْ أَبُو قَتَادَةَ بْنُ رِبْعِيٍّ يَقُولُ أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِصَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ قَالُوا مَا كُنْتَ أَقْدَمَنَا لَهُ صُحْبَةً وَلاَ أَكْثَرَنَا لَهُ إِتْيَانًا قَالَ بَلَى ‏.‏ قَالُوا فَاعْرِضْ ‏.‏ فَقَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ اعْتَدَلَ قَائِمًا وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ اللَّهُ أَكْبَرُ ‏"‏ ‏.‏ وَرَكَعَ ثُمَّ اعْتَدَلَ فَلَمْ يُصَوِّبْ رَأْسَهُ وَلَمْ يُقْنِعْ وَوَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ‏"‏ ‏.‏ وَرَفَعَ يَدَيْهِ وَاعْتَدَلَ حَتَّى يَرْجِعَ كُلُّ عَظْمٍ فِي مَوْضِعِهِ مُعْتَدِلاً ثُمَّ أَهْوَى إِلَى الأَرْضِ سَاجِدًا ثُمَّ قَالَ ‏"‏ اللَّهُ أَكْبَرُ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ جَافَى عَضُدَيْهِ عَنْ إِبْطَيْهِ وَفَتَخَ أَصَابِعَ رِجْلَيْهِ ثُمَّ ثَنَى رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَقَعَدَ عَلَيْهَا ثُمَّ اعْتَدَلَ حَتَّى يَرْجِعَ كُلُّ عَظْمٍ فِي مَوْضِعِهِ مُعْتَدِلاً ثُمَّ أَهْوَى سَاجِدًا ثُمَّ قَالَ ‏"‏ اللَّهُ أَكْبَرُ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ ثَنَى رِجْلَهُ وَقَعَدَ وَاعْتَدَلَ حَتَّى يَرْجِعَ كُلُّ عَظْمٍ فِي مَوْضِعِهِ ثُمَّ نَهَضَ ثُمَّ صَنَعَ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ مِثْلَ ذَلِكَ حَتَّى إِذَا قَامَ مِنَ السَّجْدَتَيْنِ كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ كَمَا صَنَعَ حِينَ افْتَتَحَ الصَّلاَةَ ثُمَّ صَنَعَ كَذَلِكَ حَتَّى كَانَتِ الرَّكْعَةُ الَّتِي تَنْقَضِي فِيهَا صَلاَتُهُ أَخَّرَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَقَعَدَ عَلَى شِقِّهِ مُتَوَرِّكًا ثُمَّ سَلَّمَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ قَالَ وَمَعْنَى قَوْلِهِ وَرَفَعَ يَدَيْهِ إِذَا قَامَ مِنَ السَّجْدَتَيْنِ يَعْنِي قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ ‏.‏
। মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনু আতা (রঃ) হতে আবু হুমাইদ আস-সাইদী (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (মুহাম্মাদ) বলেন, আমি তাকে (আবু হুমাইদকে) দশজন সাহাবীর উপস্থিতিতে এ হাদীস বলতে শুনেছি। আবু কাতাদা ইবনু রিবঈ (রাঃ)-ও তাদের অন্তর্ভুক্ত। তাদের সামনে তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামায সম্পর্কে তোমাদের চেয়ে বেশি জানি। তারা বললেন, তা কেমন করে? তুমি তো আমাদের আগে তার সান্নিধ্য লাভ করতে পারনি। তাছাড়া তুমি তার নিকট আমাদের চেয়ে বেশি যাতায়াত করতে না। তিনি বললেন, হ্যা। তারা বললেন, ঠিক আছে বর্ণনা কর। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাযে দাড়াতেন তখন সোজা হয়ে দাড়াতেন, কাধ পর্যন্ত হাত তুলতেন (তাকবীরে তাহরীমা করার জন্য); যখন রুকূতে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন কাঁধ পর্যন্ত হাত তুলতেন; তারপর 'আল্লাহু আকবার’ বলে রুকূতে যেতেন এবং শান্তভাবে রুকূতে থাকতেন, মাথা নীচের দিকেও ঝুঁকতেন না এবং উপরের দিকেও উঠাতেন না, উভয় হাত উভয় হাটুতে রাখতেন; তারপর সামিআল্লাহু (উভয় হাত উপরের দিকে তুলতেন) এবং সোজা হয়ে দাড়াতেন, এমনকি প্রতিটি হাড় নিজ নিজ স্থানে স্বাভাবিকভাবে এসে যেত। তারপর সিজদার জন্য যমিনের দিকে নীচু হতেন এবং আল্লাহু আকবার বলতেন; দুই বাহু দুই বগল হতে আলাদা রাখতেন; পায়ের আঙ্গুলগুলোকে ফাক করে দিতেন; বাম পা বিছিয়ে দিয়ে তার উপর বসতেন; অতঃপর সোজা হয়ে বসতেন যাতে তার প্রতিটি হাড় নিজ নিজ স্থানে ঠিকভাবে বসে যেত; অতঃপর দ্বিতীয় সিজদায় যেতেন; "আল্লাহু আকবার’ বলে সিজদা হতে উঠে পা বিছিয়ে দিয়ে বসতেন (জলসায়ে ইস্তিরাহাত করতেন); এমনকি প্রতিটি হাড় নিজ নিজ স্থানে ঠিকভাবে বসে যেত; তারপর দাড়াতেন; তারপর দ্বিতীয় রাকাআতেও এরূপ করতেন। তারপর দুই রাকাআত আদায় করতে যখন দাড়াতেন, তখনও তাকবীর বলতেন এবং দুই হাত নামায শুরু করার সময়ের মত কাঁধ পর্যন্ত তুলতেন। বাকী নামাযেও তিনি এরূপ করতেন; তারপর যখন শেষ সিজদায় পৌছতেন যেখানে তার নামায শেষ হত তখন বা পা বিছিয়ে দিতেন এবং পাছার উপর চেপে বসতেন; তারপর সালাম ফিরাতেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১০৬১)। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। দুই সিজদার পর যখন দাড়াতেন’ বাক্যাংশটুকুর অর্থ দুই রাকাআত শেষ করে যখন দাড়াতেন।
হাদিস 305 — Jami At Tirmidhi 2:157
সহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ الْحُلْوَانِيُّ، وَسَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، وَغَيْرُ، وَاحِدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ النَّبِيلُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا حُمَيْدٍ السَّاعِدِيَّ، فِي عَشَرَةٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ أَبُو قَتَادَةَ بْنُ رِبْعِيٍّ فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ بِمَعْنَاهُ وَزَادَ فِيهِ أَبُو عَاصِمٍ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ هَذَا الْحَرْفَ قَالُوا صَدَقْتَ هَكَذَا صَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى زَادَ أَبُو عَاصِمٍ الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ فِي هَذَا الْحَدِيثِ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ هَذَا الْحَرْفَ قَالُوا صَدَقْتَ هَكَذَا صَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏
। মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনু আতা (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আবু হুমাইদ আস-সায়েদী (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দশজন সাহাবীর সামনে বলতে শুনেছি, তাদের মধ্যে কাতাদ ইবনু রিবঈ (রাঃ)-ও উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তী বর্ণনা ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদের হাদীসের অনুরূপ। তবে আবু আসিম এ হাদীসে আবদুল হামীদ ইবনু জাফরের সূত্রে এ কথাটুকুও বর্ণনা করেছেনঃ তারা বললেন, তুমি সত্যিই বলেছ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুরূপভাবেই নামায আদায় করতেন। -সহীহ। দেখুন পূর্বের হাদিস।
হাদিস 306 — Jami At Tirmidhi 2:158
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Bukhari And Muslim
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مِسْعَرٍ، وَسُفْيَانَ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عَلاَقَةَ، عَنْ عَمِّهِ، قُطْبَةَ بْنِ مَالِكٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي الْفَجْرِ ‏:‏ ‏(‏وَالنَّخْلَ بَاسِقَاتٍ ‏)‏ فِي الرَّكْعَةِ الأُولَى ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ وَجَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ السَّائِبِ وَأَبِي بَرْزَةَ وَأُمِّ سَلَمَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ قُطْبَةَ بْنِ مَالِكٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَرُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَرَأَ فِي الصُّبْحِ بِالْوَاقِعَةِ ‏.‏ وَرُوِيَ عَنْهُ أَنَّهُ كَانَ يَقْرَأُ فِي الْفَجْرِ مِنْ سِتِّينَ آيَةً إِلَى مِائَةٍ ‏.‏ وَرُوِيَ عَنْهُ أَنَّهُ قَرَأَ ‏:‏ ‏(‏إِذََا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ ‏)‏ ‏.‏ وَرُوِيَ عَنْ عُمَرَ أَنَّهُ كَتَبَ إِلَى أَبِي مُوسَى أَنِ اقْرَأْ فِي الصُّبْحِ بِطِوَالِ الْمُفَصَّلِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَعَلَى هَذَا الْعَمَلُ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ وَبِهِ قَالَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ ‏.‏
। কুতবা ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ফযরের প্রথম রাকআতে ওয়ান-নাখলা বাসিকাতিন’ (সূরা কাফ) পাঠ করতে শুনেছি। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৮১৬)। এ অনুচ্ছেদে আমর ইবনু হুরাইস, জাবির ইবনু সামুরা, ‘আবদুল্লাহ ইবনুস সায়িব, আবু বারযা ও উম্মু সালামা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ কুতবা ইবনু মালিকের হাদীসটি হাসান সহীহ। অপর এক বর্ণনায় আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকালের নামাযে সূরা ওয়াকিয়া পাঠ করেছেন। অপর এক বর্ণনায় আছে, তিনি ফযরের নামাযে ষাট হতে একশো আয়াত পাঠ করতেন। আর এক বর্ণনায় আছে, তিনি “ইযাশ শামসু কুব্বিরাত" সূরা পাঠ করেছেন। বর্ণিত আছে যে, উমার (রাঃ) আবু মূসা (রাঃ)-কে লিখে পাঠালেন, তুমি ফযর নামাযে লম্বা সূরা (তিওয়ালে মুফাসসাল) পাঠ কর। আবু ঈসা বলেনঃ আলিমগণ এর উপরই আমল করেছেন। সুফিয়ান সাওর, ইবনুল মুবারাক ও শাফিঈ একই রকম অভিমত দিয়েছেন।
হাদিস 307 — Jami At Tirmidhi 2:159
হাসান SahihসহিহহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْرَأُ فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ بِالسَّمَاءِ ذَاتِ الْبُرُوجِ وَالسَّمَاءِ وَالطَّارِقِ وَشِبْهِهِمَا ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ خَبَّابٍ وَأَبِي سَعِيدٍ وَأَبِي قَتَادَةَ وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَالْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَرَأَ فِي الظُّهْرِ قَدْرَ تَنْزِيلُ السَّجْدَةَ ‏.‏ وَرُوِيَ عَنْهُ أَنَّهُ كَانَ يَقْرَأُ فِي الرَّكْعَةِ الأُولَى مِنَ الظُّهْرِ قَدْرَ ثَلاَثِينَ آيَةً وَفِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ قَدْرَ خَمْسَ عَشْرَةَ آيَةً ‏.‏ وَرُوِيَ عَنْ عُمَرَ أَنَّهُ كَتَبَ إِلَى أَبِي مُوسَى أَنِ اقْرَأْ فِي الظُّهْرِ بِأَوْسَاطِ الْمُفَصَّلِ ‏.‏ وَرَأَى بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ الْقِرَاءَةَ فِي صَلاَةِ الْعَصْرِ كَنَحْوِ الْقِرَاءَةِ فِي صَلاَةِ الْمَغْرِبِ يَقْرَأُ بِقِصَارِ الْمُفَصَّلِ ‏.‏ وَرُوِيَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ أَنَّهُ قَالَ تَعْدِلُ صَلاَةُ الْعَصْرِ بِصَلاَةِ الْمَغْرِبِ فِي الْقِرَاءَةِ ‏.‏ وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ تُضَاعَفُ صَلاَةُ الظُّهْرِ عَلَى صَلاَةِ الْعَصْرِ فِي الْقِرَاءَةِ أَرْبَعَ مِرَارٍ ‏.‏
। জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর এবং আসরের নামাযে সূরা “ওয়াস সামায়ি যাতিল বুরূজ’, ‘ওয়াস সামায়ি ওয়াত তারিকু এ ধরনের (আকার বিশিষ্ট) সূরা পাঠ করতেন। —হাসান সহীহ। সিফাতুস সালাত— (৯৪), সহীহ আবু দাউদ- (৭৬৭)। এ অনুচ্ছেদে খাব্বাব, আবু সাঈদ, আবু কাতাদা, যাইদ ইবনু সাবিত ও বারাআ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ জাবির ইবনু সামুরার হাদীসটি হাসান সহীহ্। এক বর্ণনায় আছে, সাজদা’র মত লম্বা সূরা পাঠ করেছেন। অপর এক বর্ণনায় আছে, তিনি যুহরের প্রথম রাকআতে তিরিশ আয়াত পরিমাণ এবং দ্বিতীয় রাকআতে পনের আয়াত পরিমাণ কিরাআত পাঠ করতেন। উমার (রাঃ) হতেও বর্ণিত আছে, তিনি আবু মূসা (রাঃ)-কে লিখে পাঠানঃ যুহরের নামাযে মধ্যম (আওসাতে মুফাসসাল) ধরনের সূরা পাঠ কর। কিছু বিদ্বান আসরের নামাযে মাগরিবের নামাযের মত সূরা অর্থাৎ কিসারি মুফাসসাল ধরনের সূরা পাঠ করার পক্ষে মত দিয়েছেন। ইবরাহীম নাখঈ বলেছেন, আসরের নামাযের কিরা'আত মাগরিবের নামাযের কিরা'আতের সমান হবে। তিনি আরো বলেছেন, যুহরের নামাযের কিরা'আত আসরের কিরা'আতের চার গুণ লম্বা হবে।
হাদিস 308 — Jami At Tirmidhi 2:160
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أُمِّهِ أُمِّ الْفَضْلِ، قَالَتْ خَرَجَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَاصِبٌ رَأْسَهُ فِي مَرَضِهِ فَصَلَّى الْمَغْرِبَ فَقَرَأَ بِالْمُرْسَلاَتِ قَالَتْ فَمَا صَلاَّهَا بَعْدُ حَتَّى لَقِيَ اللَّهَ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ وَابْنِ عُمَرَ وَأَبِي أَيُّوبَ وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أُمِّ الْفَضْلِ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَرَأَ فِي الْمَغْرِبِ بِالأَعْرَافِ فِي الرَّكْعَتَيْنِ كِلْتَيْهِمَا ‏.‏ وَرُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَرَأَ فِي الْمَغْرِبِ بِالطُّورِ ‏.‏ وَرُوِيَ عَنْ عُمَرَ أَنَّهُ كَتَبَ إِلَى أَبِي مُوسَى أَنِ اقْرَأْ فِي الْمَغْرِبِ بِقِصَارِ الْمُفَصَّلِ ‏.‏ وَرُوِيَ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ أَنَّهُ قَرَأَ فِي الْمَغْرِبِ بِقِصَارِ الْمُفَصَّلِ ‏.‏ قَالَ وَعَلَى هَذَا الْعَمَلُ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ وَبِهِ يَقُولُ ابْنُ الْمُبَارَكِ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ ‏.‏ وَقَالَ الشَّافِعِيُّ وَذُكِرَ عَنْ مَالِكٍ أَنَّهُ كَرِهَ أَنْ يُقْرَأَ فِي صَلاَةِ الْمَغْرِبِ بِالسُّوَرِ الطُّوَلِ نَحْوِ الطُّورِ وَالْمُرْسَلاَتِ قَالَ الشَّافِعِيُّ لاَ أَكْرَهُ ذَلِكَ بَلْ أَسْتَحِبُّ أَنْ يُقْرَأَ بِهَذِهِ السُّوَرِ فِي صَلاَةِ الْمَغْرِبِ ‏.‏
। উম্মুল ফযল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আসলেন। অসুখের কারণে এ সময়ে তার মাথায় পট্টি বাধা ছিল। তিনি মাগরিবের নামায আদায় করলেন এবং তাতে সূরা “ওয়াল মুরসালাত" পাঠ করলেন তারপর তিনি মহান আল্লাহ তা'আলার সাথে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আর কখনও এ সূরা পাঠ করেননি। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৮৩১), বুখারী ও মুসলিম এ অনুচ্ছেদে যুবাইর ইবনু মুতঈম, ইবনু উমার, আবু আইউব ও যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ উম্মুল ফযলের হাদীসটি হাসান সহীহ। বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের উভয় রাকআতে সূরা আল-আরাফ হতেও পাঠ করেছেন। আরো বর্ণিত আছে যে, তিনি মাগরিবের নামাযে সূরা তুর পাঠ করেছেন। উমার (রাঃ) মাগরিবের নামাযে ছোট সূরা (কিসারি মুফাসসাল) পাঠ করার জন্য আবু মূসা (রাঃ)-কে নির্দেশ পাঠান। আবু বাকর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি মাগরিবের নামাযে ছোট আকারের সূরা পাঠ করতেন। ইমাম তিরমিয়ী বলেন, বিশেষজ্ঞ ‘আলিমগণ এরকমই 'আমল করেছেন। ইবনুল মুবারাক, আহমাদ ও ইসহাক এরকমই বলেছেন। ইমাম শাফিঈ বলেন, ইমাম মালিক মাগরিবের নামাযে সূরা তুর, মুরসালাত ইত্যাদির মত লম্বা সূরা পাঠ করা মাকরূহ জানতেন। শাফিঈ আরো বলেন, আমি মাগরিবের নামাযে এ ধরনের লম্বা সূরা পাঠ করা মাকরূহ মনে করি না, বরং মুস্তাহাব মনে করি।
← আগের সংগ্রহে ফিরে যান পরের →

শুধুমাত্র সহিহ ও হাসান হাদিস দেখানো হয়।