। আলী ইবনু ত্বালক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ বায়ু ত্যাগ করলে সে যেন ওযু করে। তোমরা নারীদের গুহ্যদ্বারে সহবাস কর না। যঈফ, যঈফ আবূ দাউদ (২৬) হাদীসে বর্ণিত রাবী আলী, ইনি হলেন আলী ইবনু তালক।
মাইমূনা বিনতু সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদিমা (সেবিকা) ছিলেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বামী ব্যতীত অন্য লোকের সামনে যে নারী সাজগোজ করে আকর্ষণীয় পোশাকে প্রকাশিত হয় সে কিয়ামতের দিনের অন্ধকার সমতুল্য। সেদিন তার জন্য কোন আলোর ব্যবস্থা থাকবে না। যঈফ, যঈফা (১৮০০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি আমরা শুধুমাত্র মূসা ইবনু উবাইদার সূত্রেই জেনেছি। কিন্তু তাকে স্মরণশক্তির দিক হতে হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল বলা হয়েছে, যদিও তিনি একজন সত্যবাদী লোক হিসেবে স্বীকৃত। এ হাদীসটি শুবা, সুফিয়ান ও অন্যরাও তার নিকট হতে বর্ণনা করেছেন, কোন কোন বর্ণনাকারী উক্ত হাদীসটি মূসা ইবনু উবাইদা হতেও বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তারা কেউই এটা মারফু হিসেবে বর্ণনা করেননি (মূসার উক্তি হিসাবেই বর্ণনা করেছেন)।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলার গাইরাত (সূক্ষ্ম আত্মমর্যাদাবোধ) আছে এবং মুমিনেরও গাইরাত আছে। আল্লাহ তা'আলা মুমিনের জন্য যা হারাম করে দিয়েছেন, সে তাতে লিপ্ত হলে আল্লাহ তা'আলার গাইরাতে আঘাত লাগে। — সহীহ, বুখারী, মুসলিম আইশা ও আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আসমা বিনতু আবু বাকর (রাঃ) হতেও অন্য একটি সূত্রে বর্ণিত আছে এবং এ সূত্রটিও সহীহ। আল হাজ্জাজ আস-সাওয়াফের পিতার নাম মইসারাহ, ডাক নাম আবূ উসমান আর বলেছেন, হাজ্জাজ আস-সাওয়াফ একজন জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি।
। আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ ও আখিরাতের উপর যে সকল মহিলা ঈমান রাখে, তার সাথে তার পিতা অথবা তার ভাই অথবা তার স্বামী অথবা তার ছেলে অথবা তার কোন মাহরাম আত্মীয় না থাকলে সে সকল মহিলার জন্য তিন দিন বা তার বেশি সময় (একাকী) সফর করা বৈধ নয়। — সহীহ, ইবনু মাজাহ (২৮৯৮), বুখারী, মুসলিম আবু হুরাইরা, ইবনু আব্বাস ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে আরো বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেনঃ “কোন মহিলা যেন এক দিন ও এক রাতের পথও অতিক্রম না করে তার সাথে কোন মাহরাম আত্মীয় না নিয়ে (একাকী)"। এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। কোন মাহরাম আত্মীয় ব্যতীত কোন মহিলার একাকী ভ্রমণকে তারা মাকরূহ বলেছেন। কোন মহিলার ধন-সম্পদ আছে কিন্তু কোন মাহরাম আত্মীয় নেই, সে মহিলা এরকম পরিস্থিতিতে হাজের সফরে বের হতে পারবে কি-না এই বিষয়ে আলিমদের মধ্যে দ্বিমত আছে। একদল আলিম বলেন, হাজ্জ আদায় করা সে মহিলার জন্য ফরজ নয়। কেননা, রাস্তা অতিক্রমের যোগ্যতা থাকার শর্তের মধ্যে মাহরাম আত্মীয় সাথে থাকার শর্ত অন্তর্ভুক্ত আছে। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “এই ঘরে পৌছানো পর্যন্ত যে লোকের সামর্থ্য আছে”। অতএব, তারা বলেন, যখন তার কোন মাহরাম আত্মীয় নেই তখন এই ঘর (কাবা) পর্যন্ত পৌছার সামর্থ্যও তার নেই। এই মত সুফিয়ান সাওরী ও কুফাবাসী আলিমদের। আর একদল আলিম বলেছেন, যাতায়াতের রাস্তা যদি বিপদ মুক্ত হয় তবে সে ভিন্ন লোকের সাথে হাজ্জ আদায়ের উদ্দেশ্যে যেতে পারে। এই মত দিয়েছেন ইমাম মালিক ও শাফিঈ।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মাহরাম আত্মীয় ব্যতীত একাকী যেন কোন মহিলা এক দিন ও এক রাতের দূরত্বও অতিক্রম না করে। — সহীহ, ইবনু মাজাহ (২৮৯৯), বুখারী, মুসলিম এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। উকবা ইবনু আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবধান! মহিলাদের সাথে তোমরা কেউ অবাধে দেখা-সাক্ষাৎ করবে না। আনসার সম্প্রদায়ের এক লোক বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! দেবর সম্পর্কে আপনার মত কি? তিনি বললেনঃ সে তো মৃত্যু (সমতুল্য)। — সহীহ, গায়াতুল মারাম (১৮১), বুখারী, মুসলিম উমার, জাবির ও আমর ইবনুল আস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উকবা ইবনু আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। অবাধে স্ত্রীলোকদের সাথে মেলা-মেশার খারাপ পরিণতি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একইরকম হাদীস আরও আছে। তিনি বলেনঃ ‘একজন স্ত্রীলোকের সাথে একজন পুরুষ একাকী থাকলে তাদের মধ্যে শাইতান তৃতীয় ব্যক্তি হিসাবে যোগ দেয়”। “হামউ" অর্থ হচ্ছে স্বামীর ভাই'। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভাবীর সাথে দেবরকেও একাকী থাকতে নিষেধ করেছেন।
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাদের স্বামী উপস্থিত নেই, সে সকল মহিলাদের নিকট তোমরা যেও না। কেননা, তোমাদের সকলের মাঝেই শাইতান (প্রবাহিত) রক্তের ন্যায় বিচরণ করে। আমরা বললাম, আপনার মধ্যেও কি? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, আমার মধ্যেও। কিন্তু আমাকে আল্লাহ তা'আলা সাহায্য করেছেন, তাই আমি নিরাপদ। — সহীহ, এই হাদীসের প্রথম অংশকে পূর্বের হাদীস সমর্থন করে। পূর্ণ হাদীসটি সহীহতে আছে। সহীহ, আবু দাউদ (১১৩৩-২১৩৪), তাখরাজু ফিকহিস সীরাহ (৬৫)। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা উল্লেখিত সনদসূত্রে গারীব বলেছেন। মুজালিদ ইবনু সাঈদের স্মরণশক্তি সম্পর্কে একদল মুহাদ্দিস সমালোচনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী “কিন্তু আল্লাহ তা'আলা আমাকে সাহায্য করেছেন, তাই আমি নিরাপদ”-এর ব্যাখ্যায় সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা বলেন, তার নিকট হতে আমি নিরাপদে থাকি বা আত্মরক্ষা করতে পারি। কারণ, আল্লাহ তা'আলা আমাকে সাহায্য করেন। সুফিয়ান আরো বলেন, কেননা, শাইতান কখনও অনুগত হয় না বা ইসলাম গ্রহণ করে না। যে সকল মহিলাদের স্বামী তাদের নিকট উপস্থিত নেই এমন স্ত্রীলোকদেরকেই মুগীবাত” বলে। মুগীবাহ’ শব্দের বহুবচন মুগীবাত।
। আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহিলারা হচ্ছে আওরাত (আবরণীয় বস্তু)। সে বাইরে বের হলে শাইতান তার দিকে চোখ তুলে তাকায়। — সহীহ, মিশকাত (৩১০৯), ইরওয়া (২৭৩), তা’লীক আলা ইবনি খুযাইমা (১৬৮৫) এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন।
। মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পৃথিবীতে কোন স্ত্রীলোক যখনই তার স্বামীকে কষ্ট দেয় তখনই (জান্নাতের) বিস্তৃত চক্ষুবিশিষ্ট হুরদের মধ্যে তার (ভাবী) স্ত্রী বলে, হে অভাগিনী! তাকে কষ্ট দিও না। তোমাকে আল্লাহ তা'আলা যেন ধ্বংস করে দেন! তোমার নিকট তো তিনি কিছু সময়ের মেহমান মাত্র। শীঘ্রই তোমার হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে তিনি আমাদের নিকট চলে আসবেন। — সহীহ, ইবনু মাজাহ (২০৪১) এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। শুধুমাত্র উল্লেখিত সনদসূত্রেই আমরা এটি জেনেছি। ইসমাঈল ইবনু আইয়্যাশের সিরিয়ার মুহাদ্দিসগণ হতে বর্ণিত হাদীসগুলো অনেক বেশি সহীহ, কিন্তু হিজায ও ইরাকের মুহাদিসদের নিকট হতে তার বর্ণনার মধ্যে অনেক প্রত্যাখ্যাত রিওয়ায়াত আছে।