। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন? যেসব দিনে সূর্য উদয় হয় তার মধ্যে জুমুআর দিনই উত্তম। এ দিনেই আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এ দিনই তাকে জান্নাত হতে বের করা হয়েছে। আর জুমুআর দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। —সহীহ। সহীহাহ– (১৫০২), সহীহ আবু দাউদ- (৯৬১), মুসলিম, তা’লীক সহীহ ইবনু খুজাইমাহ- (৩/১১৬)। এ অনুচ্ছেদে আবু লুবাবা, সালমান, আবু যার, সা’দ ইবনু উবাদা ও আওস ইবনু আওস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুরাইরার হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জুমুআর দিনের যে মুহুর্তে (দুআ কুবুল হওয়ার) আশা করা যায় তা আসরের পর হতে সূর্যাস্তের মধ্যে খোজ কর। -হাসান। মিশকাত— (১৩৬০), তা’লীকুর রাগীব- (১/২৫১)। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। অন্য একটি সূত্রেও এ হাদীসটি আনাসের নিকট হতে বর্ণিত হয়েছে। মুহাম্মাদ ইবনু আবু হুমাইদ একজন দুর্বল রাবী। একদল বিশেষজ্ঞ তার স্মরণশক্তি দুর্বল বলেছেন। তাকে হাম্মাদ ইবনু আবু হুমাইদও বলা হয়ে থাকে। কেউ কেউ বলেছেন, ইনি আবু ইবরাহীম আনসারী, ইনি একজন প্রত্যাখ্যাত রাবী। একদল সাহাবা ও তাবিঈর ধারণা হল দু’আ কুবুলের এ সময়টি আসরের পর হতে শুরু করে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত। ইমাম আহমাদ এবং ইসহাকও একই রকম কথা বলেছেন। আহমাদ বলেছেন, যে সময়ে দু’আ কবুলের আশা করা যায় সে সম্পর্কিত বেশিরভাগ হাদীস হতে জানা যায়, এ সময়টি আসরের পর এবং সূর্য ঢলে যাওয়ার পর হতেও এর আশা করা যায়।
। আমর ইবনু আওফ (রাঃ) হতে পর্যায় ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জুমুআর দিনের মধ্যে একটি বিশেষ সময় আছে। এ সময়ে বান্দাহ আল্লাহ তা'আলার নিকট যা চায় আল্লাহ তা'আলা তাকে তা দান করেন। লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এ সময়টি কখন? তিনি বললেনঃ যখন নামায শুরু হয় তখন হতে তা শেষ হওয়া পর্যন্ত। খুবই দুর্বল, ইবনু মাজাহ (১৩৮৪) এ অনুচ্ছেদে আবূ মূসা, আবূ যার, সালমান, আবদুল্লাহ ইবনু সালাম, আবূ লুবাবা ও সা’দ ইবনু উবাদা এবং আবূ উমামা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ আমর ইবনু আওফের হাদীসটি হাসান এবং গারীব।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যেসব দিনে সূর্য উদয় হয় তার মধ্যে জুমুআর দিনই সর্বশ্রেষ্ঠ। এ দিনেই আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল। এদিনেই তাকে সেখান হতে (পৃথিবীতে) নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এ দিনের মধ্যে এমন একটি সময় আছে যখন কোন মুসলিম বান্দা নামায আদায় করে আল্লাহ তা'আলার নিকট কিছু চাইলে তিনি অবশ্যই তাকে তা দান করেন। আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু সালামের সাথে সাক্ষাত করে তাকে এ হাদীস প্রসঙ্গে জানালাম। তিনি বলেন, আমি সে সময়টি জানি। আমি বললাম, তাহলে আমাকেও বলে দিন, এ ব্যাপারে কৃপণতা করবেন না। তিনি বললেন, এ সময়টি আসরের পর হতে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত। আমি বললাম, তা কি করে আসরের পর হতে পারে? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বান্দা নামাযরত অবস্থায় এই মুহুর্তটি পেয়ে...। অথচ আপনি যে সময়ের কথা বলেছেন, তখন তো নামায আদায় করা হয় না। 'আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননিঃ যে ব্যক্তি নামাযের অপেক্ষায় বসে থাকে প্রকারান্তরে সে নামাযের মধ্যেই থাকে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, সেটাই এ সময়। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১১৩৯)। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
সালিম (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমু'আর নামাযে আসে সে যেন গোসল করে আসে। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১০৮৮)। এ অনুচ্ছেদে উমার, আবু সাঈদ, জাবির, বারাআ, আয়িশাহ ও আবু দারদা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু উমারের হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে অন্য সূত্রেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরোক্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
হাদিস 494 — Jami At Tirmidhi 4:7
সহিহসহিহসহিহ - Agreed Upon
قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْغُسْلِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَيْضًا وَهُوَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ رَوَاهُ يُونُسُ وَمَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ بَيْنَمَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَخْطُبُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِذْ دَخَلَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَيَّةُ سَاعَةٍ هَذِهِ فَقَالَ مَا هُوَ إِلاَّ أَنْ سَمِعْتُ النِّدَاءَ وَمَا زِدْتُ عَلَى أَنْ تَوَضَّأْتُ . قَالَ وَالْوُضُوءَ أَيْضًا وَقَدْ عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِالْغُسْلِ . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَبَانَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ .
। ইবনু উমর (রাঃ) বলেনঃ একদা উমার (রাঃ) জুমু'আর নামাযের খুতবা দিচ্ছিলেন, এমন সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন সাহাবী এসে (মসজিদে) ঢুকলেন। তিনি (উমার) প্রশ্ন করলেন, এটা কোন সময় (দেরি কেন)? তিনি বললেন, আমি আযান শুনেই ওযু করে চলে এসেছি, মোটেই দেরি করিনি। তিনি (উমার) বললেন, শুধু ওযুই করলেন? অথচ আপনার জানা আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসল করারও নির্দেশ দিয়েছেন। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (৩৬৭), বুখারী ও মুসলিম। এ হাদীসটি আরো কয়েকটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
। ইউনুস যুহরী হতে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবু ঈসা বলেনঃ আমি মুহাম্মাদ বুখারীকে এই হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম, তিনি বললেন, সালিম তার পিতা থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
। আওস ইবনু আওস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ যে ব্যক্তি গোসল করল এবং গোসল করাল, সকাল সকাল মসজিদে আসল, ইমামের নিকটবর্তী হয়ে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনল এবং নিশ্চুপ থাকল— তার জন্য প্রতি কদমের বিনিময়ে এক বছরের (নফল) রোযা ও নামাযের সাওয়াব রয়েছে। ওয়াকী বলেন, ‘গোসল করল এবং করাল’ শব্দের অর্থ নিজে গোসল করল এবং স্ত্রীকে গোসল করাল। -সহীহ। ইবনু মাজাহ- (১০৮৭)। ইবনুল মুবারাক বলেনঃ গোসল করল ও গোসল করাল এর অর্থ হলো— নিজে গোসল করল এবং মাথা ধুল। এ অনুচ্ছেদে আবু বাকর, 'ইমরান ইবনু হুসাইন, সালমান, আবু যার, আবু সাঈদ, ইবনু উমার ও আবু আইউব (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। আবু আশ'আসের নাম শারাহীল। আবু জানাব হলেন, ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব।
। সামুরা ইবনু জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমুআর দিন শুধু ওযু করল সেটাই তার জন্য যথেষ্ট। আর যে ব্যক্তি গোসল করল, গোসল করাই উত্তম। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১০৯১)। এ অনুচ্ছেদে আবু হুরাইরা, আনাস ও আয়িশাহ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ সামুরার হাদীসটি হাসান। কেউ কেউ উল্লেখিত হাদীসটি মুরসাল হিসাবে বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী ও তাদের পরবর্তীগণ শুক্রবার গোসল করা উত্তম মনে করেছেন, যদিও শুধু ওযু করাও যথেষ্ট। ইমাম শাফিঈ বলেন, জুমু'আর দিন গোসল করার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে হুকুম দিয়েছেন তা মুস্তাহাব, ওয়াজিব নয়। তার বক্তব্যের সপক্ষে দলীল হলঃ উমার (রাঃ) উসমান (রাঃ)-কে বললেন, শুধু ওযুই করলেন? অথচ আপনি জানেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআর দিন গোসল করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ নির্দেশ দ্বারা যদি গোসল করা ওয়াজিব প্রমাণিত হত তবে উমার (রাঃ) উসমান (রাঃ)-কে বসতে দিতেন না; বরং তাকে মাসজিদ হতে বের হয়ে গোসল করে আসতে বাধ্য করতেন। অধিকন্তু উসমান (রাঃ) নিজেও গোসল করে আসতেন, শুধু ওযু করে আসতেন না। কেননা উসমান (রাঃ) পর্যাপ্ত জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। অতএব জুমুআর দিন গোসল করা উত্তম কিন্তু ওয়াজিব নয়।