। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ভালভাবে ওযু করে জুমু'আর নামায আদায় করতে আসে, ইমামের নিকটবর্তী হয়ে মনোযোগ সহকারে নীরবে খুতবা শুনে, তার এ জুমুআ হতে ঐ জুমুআ পর্যন্ত এবং আরো তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি কাকর-বালি ইত্যাদি নাড়াচাড়া করল সে বাজে কাজ করল। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১০৯০), মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি জুমুআর দিন নাপাকির গোসলের মত গোসল সেরে প্রথমে (জুমু'আর নামায আদায় করার জন্য) মসজিদে আসল সে যেন একটি উট কুরবানী করল। অতঃপর দ্বিতীয় মুহুর্তে যে ব্যক্তি আসল সে যেন একটি গাভী কুরবানী করল। তৃতীয় মুহুর্তে যে আসল সে যেন শিংযুক্ত একটি মেষ কুরবানী করল। চতুর্থ মুহুর্তে যে ব্যক্তি আসল সে যেন একটি মুরগী কুরবানী করল। পঞ্চম মুহুর্তে যে ব্যক্তি আসল সে যেন একটি ডিম কুরবানী করল। অতঃপর ইমাম যখন (নামাযের জন্য) বের হয়ে আসেন তখন ফেরেশতাগণ আলোচনা শুনার জন্য উপস্থিত হয়ে যান। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১০৯২)। এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও সামুরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবুল জা'দ আয-যমরী মুহাম্মাদ ইবনু "আমরের ধারণানুযায়ী তিনি একজন সাহাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক নিছক অলসতা ও গাফলতি করে পর পর তিন জুমুআ ছেড়ে দেয় আল্লাহ তা'আলা তার অন্তরে মোহর মেরে দেন। সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১১২৫)। এ অনুচ্ছেদে ইবনু উমার, ইবনু আব্বাস ও সামুরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবুল জাদের হাদীসটি হাসান। ইমাম বুখারীকে আবুল জাদের নাম জিজ্ঞেস করলে তিনি অজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, তার সূত্রে কেবল এই হাদীসটি বর্ণিত আছে। মুহাম্মাদ ইবনু আমরের সূত্রেই শুধুমাত্র আমরা এই হাদীসটি জেনেছি।
হাদিস 501 — Jami At Tirmidhi 4:14
দাঈফ Isnaadদাঈফ Isnaadদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ مَدُّويَهْ، قَالاَ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ ثُوَيْرٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَهْلِ قُبَاءَ عَنْ أَبِيهِ، وَكَانَ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم - قَالَ أَمَرَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَشْهَدَ الْجُمُعَةَ مِنْ قُبَاءَ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا وَلاَ يَصِحُّ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَلاَ يَصِحُّ فِي هَذَا الْبَابِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم شَيْءٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " الْجُمُعَةُ عَلَى مَنْ آوَاهُ اللَّيْلُ إِلَى أَهْلِهِ " . وَهَذَا حَدِيثٌ إِسْنَادُهُ ضَعِيفٌ إِنَّمَا يُرْوَى مِنْ حَدِيثِ مُعَارِكِ بْنِ عَبَّادٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ . وَضَعَّفَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيَّ فِي الْحَدِيثِ . قَالَ وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ عَلَى مَنْ تَجِبُ الْجُمُعَةُ فَقَالَ بَعْضُهُمْ تَجِبُ الْجُمُعَةُ عَلَى مَنْ آوَاهُ اللَّيْلُ إِلَى مَنْزِلِهِ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ لاَ تَجِبُ الْجُمُعَةُ إِلاَّ عَلَى مَنْ سَمِعَ النِّدَاءَ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ .
। জনৈক সাহাবী হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে কুবা পল্লী হতে জুমু'আর নামাযে হাযির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই হাদীসটির সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি আমরা কেবল উল্লেখিত সনদেই জানতে পেরেছি। এ অনুচ্ছেদে সহীহ সনদ সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন হাদীস নেই। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “এমন ব্যক্তির উপরও জুমুআ ওয়াজিব যে নামায আদায় করে রাতের প্রথম দিকেই নিজ পরিবারে পৌছে যেতে পারে।" এটাও যঈফ হাদীস। কেননা এ হাদীসের এক রাবী আবদুল্লাহ ইবনু সাঈদ আল-মাকবুরী হাদীসশাস্ত্রে দুর্বল। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল কাত্তান তাকে দুর্বল বলেছেন। জুমু'আর নামায কার উপর ওয়াজিব তা নিয়ে আলিমদের মধ্যে মতের অমিল আছে। কেউ কেউ বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমু'আর নামায আদায় করে রাতের মধ্যেই ঘরে পৌছে যেতে পারে তার উপর জুমুআ ওয়াজিব। অন্য একদল মনীষী বলেছেন, যতদূর আযানের শব্দ পৌছে ততদূর পর্যন্ত লোকদের উপর জুমুআ ওয়াজিব। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এই মত দিয়েছেন।
হাদিস 502 — Jami At Tirmidhi 4:15
Very DaifVery Daifদাঈফদাঈফ
سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ الْحَسَنِ، يَقُولُ كُنَّا عِنْدَ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ فَذَكَرُوا عَلَى مَنْ تَجِبُ الْجُمُعَةُ فَلَمْ يَذْكُرْ أَحْمَدُ فِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا . قَالَ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ فَقُلْتُ لأَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ فِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . فَقَالَ أَحْمَدُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ نُصَيْرٍ حَدَّثَنَا مُعَارِكُ بْنُ عَبَّادٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْجُمُعَةُ عَلَى مَنْ آوَاهُ اللَّيْلُ إِلَى أَهْلِهِ " . قَالَ فَغَضِبَ عَلَىَّ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ وَقَالَ لِي اسْتَغْفِرْ رَبَّكَ اسْتَغْفِرْ رَبَّكَ . قَالَ أَبُو عِيسَى إِنَّمَا فَعَلَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ هَذَا لأَنَّهُ لَمْ يَعُدَّ هَذَا الْحَدِيثَ شَيْئًا وَضَعَّفَهُ لِحَالِ إِسْنَادِهِ .
। আমি (তিরমিয়ী) আহমাদ ইবনু হাসানকে বলতে শুনেছিঃ আমরা আহমাদ ইবনু হাম্বলের নিকট উপস্থিত ছিলাম। কার উপর জুমুআ ওয়াজিব এ নিয়ে আলোচনা জমে উঠল। আহমাদ ইবনু হাম্বল এ বিষয়ের উপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন হাদীস উল্লেখ করেননি। আহমাদ ইবনু হাসান বলেন, আমি আহমাদ ইবনু হাম্বলকে বললাম, আবূ হুরাইরা (রাঃ) এ প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস! আমি বললাম, হ্যাঁ। আবূ হুরাইরা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "যে ব্যক্তি রাত হতে হতে বাড়ি পৌছতে পারবে তার উপরও জুমুআ ওয়াজিব।” এ হাদীস শুনে আহমাদ ইবনু হাম্বল আমার উপর রেগে গেলেন এবং বললেন, তোমার আল্লাহর নিকটে ক্ষমা চাও, তোমার আল্লাহর নিকটে ক্ষমা চাও। খুবই দুর্বল, মিশকাত (১৩৭৬) আবূ ঈসা বলেনঃ আহমাদ ইবনু হাম্বল একথা এজন্যই বলেছেন, তিনি এ হাদীসকে গণায়ই ধরেন না। কেননা তার সনদ দুর্বল।
হাদিস 503 — Jami At Tirmidhi 4:16
সহিহসহিহসহিহ Bukhari
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي الْجُمُعَةَ حِينَ تَمِيلُ الشَّمْسُ .
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য ঢলে গেলে জুমু'আর নামায আদায় করতেন। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (৯৯৫), বুখারী।
। উসমান ইবনু আব্দুর রহমান তাইমীর সূত্রেও আনাস (রাঃ) হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এ অনুচ্ছেদে সালামা ইবনুল আকওয়া, জাবির ও যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আনাস (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান সহীহ। বেশিরভাগ মনীষীর মতে সূর্য ঢলে যাওয়ার পর জুমু'আর ওয়াক্ত শুরু হয়, যেমন যুহরের ওয়াক্ত। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এই মত ব্যক্ত করেছেন। একদল আলিমের মতে, জুমু'আর নামায সূর্য চলে যাওয়ার পূর্বে আদায় করে নিলে তাও জায়িয এবং নামায হয়ে যাবে। ইমাম আহমাদ বলেন, যে ব্যক্তি সূর্য ঢলে যাওয়ার পূর্বে জুমুআ আদায় করে নিল আমর মতে তার নামায আবার আদায় করা তার উপর ওয়াজিব নয়।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর গাছের গুড়ির সাথে ভর দিয়ে জুমু'আর বক্তৃতা করতেন। যখন মিম্বার তৈরী করা হল খেজুরের গুড়িটা কাঁদতে লাগল। তিনি গাছটির নিকট গেলেন এবং তা স্পর্শ করলেন। ফলে এটা চুপ করল। -সহীহ। সহীহাহ– (২১৭৪), বুখারী। এ অনুচ্ছেদে আনাস, জাবির, সাহল ইবনু সা’দ, উবাই ইবনু কা'ব, ইবনু আব্বাস ও উম্মু সালামা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু উমারের হাদীসটি হাসান, গারীব সহীহ। মু'আয ইবনুল 'আলা বাসরার অধিবাসী, তিনি আবু আমর ইবনুল আলা এর ভাই।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআর দিনে খুতবা দিতেন, অতঃপর বসতেন, অতঃপর উঠে আবার খুতবা দিতেন, যেমন আজকালকার দিনে তোমরা কর। সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১০০২), ইরওয়া— (৬০৪), বুখারী ও মুসলিম সংক্ষিপ্তভাবে। এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ ও জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু উমারের হাদীসটি হাসান সহীহ। বিশেষজ্ঞগণ দুই খুতবার মাঝখানে বসে উভয় খুতবার মধ্যে দূরত্ব রচনা করার কথা বলেছেন।
। জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নামায আদায় করেছি। তার নামায ছিল মাঝারি ধরনের এবং খুতবাও ছিল মাঝারি ধরনের (সংক্ষেপও নয়, দীর্ঘও নয়)। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১১০৬), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আম্মার ইবনু ইয়াসির ও ইবনু আবৃ আওফা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ জাবির ইবনু সামুরার হাদীসটি হাসান সহীহ।