حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ مَا تُقَامُ الصَّلاَةُ يُكَلِّمُهُ الرَّجُلُ يَقُومُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ فَمَا يَزَالُ يُكَلِّمُهُ فَلَقَدْ رَأَيْتُ بَعْضَنَا يَنْعَسُ مِنْ طُولِ قِيَامِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদা আমি ইকামাত হয়ে যাওয়ার পর এক ব্যক্তিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কথা বলতে দেখলাম। লোকটি তার ও কিবলার মাঝখানে দাড়ানো ছিল। সে অনেক সময় কথা বলল। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই দীর্ঘ সময় দাড়িয়ে থাকার ফলে আমি লোকদেরকে নিদ্রার আবেশে আচ্ছন্ন হতে দেখেছি। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১৯৭), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আযাদকৃত গোলাম আবু রাফি (রাঃ)-এর পুত্র উবাইদুল্লাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একবার মারওয়ান আবু হুরাইরা (রাঃ)-কে মাদীনায় তার প্রতিনিধি করে মক্কায় চলে গেলেন। আবু হুরাইরা (রাঃ) আমাদের জুমু'আর নামায আদায় করালেন। তিনি প্রথম রাকাআতে সূরা জুমুআ এবং দ্বিতীয় রাকাআতে সূরা ইযা জাআকাল মুনাফিকূন পাঠ করলেন। উবাইদুল্লাহ বলেন, আমি আবু হুরাইরার সাথে দেখা করে তাকে বললাম, আপনি এমন দুটি সূরা পাঠ করলেন যা আলী (রাঃ) কুফায় পাঠ করতেন। আবু হুরাইরা (রাঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ দুটো সূরা পাঠ করতে শুনেছি। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১১১৮), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস, নুমান ইবনু বাশীর ও আবু ইনাবা আল-খাওলানী (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুরাইরার হাদীসটি হাসান সহীহ। অপর এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু'আর নামাযে সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা’ ও ‘হাল আতাকা হাদীসুল গাশিয়া সূরা পাঠ করতেন। উবাইদুল্লাহ ইবনু আবী রাফি আলী (রাঃ)-এর কাতিব (সচিব) ছিলেন।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআর দিন ফজরের নামাযে তানযীলুস সিজদা এবং হাল আতা 'আলাল ইনসান সূরা দুটি পাঠ করতেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৮২১), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে সা’দ, ইবনু মাসউদ ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু আব্বাসের হাদীসটি হাসান সহীহ। সুফিয়ান সাওরী ও অন্যরা এ হাদীসটি মুখাওয়ালের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
। সালিম (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআর (ফরযের) পরে দুই রাকাআত নামায আদায় করতেন। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১১৩১), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে জাবির (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। নাফি (রহঃ) ইবনু উমার (রাঃ)-এর নিকট হতে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। একদল বিশেষজ্ঞ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। ইমাম শাফিঈ ও আহমাদ একই রকম কথা বলেছেন।
হাদিস 522 — Jami At Tirmidhi 4:35
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ Muslim
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ إِذَا صَلَّى الْجُمُعَةَ انْصَرَفَ فَصَلَّى سَجْدَتَيْنِ فِي بَيْتِهِ ثُمَّ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ ذَلِكَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি জুমুআর (ফরয) নামায শেষ করে বাড়িতে গিয়ে দুই রাকাআত নামায আদায় করতেন। তারপর তিনি বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা করতেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১১৩০), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জুমু'আর নামাযের পর নামায আদায় করতে চায় সে যেন চার রাকাআত আদায় করে। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১১৩২)। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা বলেন, সুহাইল ইবনু আবু সালিহ হাদীসশাস্ত্রে একজন নির্ভরযোগ্য রাবী। একদল আলিম এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেন। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) জুমুআর (ফরযের) পূর্বে চার রাকাআত এবং পরে চার রাকাআত (সুন্নাত) নামায আদায় করতেন। আলী (রাঃ) প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, তিনি জুমু'আর পর দুই রাকাআত তারপর চার রাকাআত আদায় করার হুকুম দিয়েছেন। সুফিয়ান সাওরী ও ইবনুল মুবারাক (রহঃ) ইবনু মাসউদের মত গ্রহণ করেছেন। ইসহাক বলেছেন, জুমুআর দিন যদি মসজিদে (সুন্নাত) নামায আদায় করা হয় তবে চার রাক'আত আদায় করবে আর যদি ঘরে আদায় করে তবে দুই রাকাআত আদায় করবে। তিনি দলীল হিসাবে এ হাদীস উল্লেখ করেছেন, وَاحْتَجَّ بِأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي بَعْدَ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَيْنِ فِي بَيْتِهِ “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু'আর পর বাড়িতে গিয়ে দুই রাকাআত (সুন্নাত) নামায আদায় করেছেন।” তিনি আরে বলেছেনঃ وَحَدِيثِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَنْ كَانَ مِنْكُمْ مُصَلِّيًا بَعْدَ الْجُمُعَةِ فَلْيُصَلِّ أَرْبَعًا “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জুমুআর (ফরযের) পরে নামায আদায় করতে চায় সে যেন চার রাক’আত আদায় করে।" আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু উমার (রাঃ) যিনি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে বর্ণনা করেছেন, “জুমুআর পর তিনি বাড়িতে গিয়ে দুই রাকাআত আদায় করতেন।” তিনিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু”আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে জুমু'আর নামাযের পর মসজিদেই দুই রাকাআত নামায আদায় করেছেন, তারপর চার রাকাআত আদায় করেছেন। আতা (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি ইবনু উমার (রাঃ)-কে জুমু'আর (ফরয নামাযের) পর দুই রাকাআত তারপর চার রাকাআত নামায আদায় করতে দেখেছি। -সহীহ। আবু দাউদ (১০৩৫, ১০৩৮) আমর ইবনু দীনার বলেন, যুহরীর চাইতে ভালভাবে হাদীস বর্ণনা করতে আমি আর কাউকে দেখতে পাইনি এবং তার মত আর কাউকে ধন-দৌলতকে তুচ্ছ ভাবিতে দেখিনি। তার দৃষ্টিতে ধন-দৌলত উটের মলতুল্য তুচ্ছ জিনিস। আমর ইবনু দীনার যুহরীর চাইতে বেশি বয়সী ছিলেন।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি (ইমামের সাথে) এক রাকাআত নামায পেল সে পূর্ণ নামায পেল। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১১২২), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশিরভাগ সাহাবা ও অন্যান্যরা উল্লেখিত হাদীসের পক্ষে মত দিয়েছেন। তারা বলেছেন, যে ব্যক্তি ইমামের সাথে জুমুআর এক রাকাআত নামায পায় সে এর সাথে বাকী রাকাআত পূর্ণ করবে। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় রাকাআতের বৈঠকে জামা'আতে উপস্থিত হয় সে চার রাকাআত (যুহর) আদায় করবে। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও একই রকম মত দিয়েছেন।
হাদিস 525 — Jami At Tirmidhi 4:38
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، رضى الله عنه قَالَ مَا كُنَّا نَتَغَدَّى فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلاَ نَقِيلُ إِلاَّ بَعْدَ الْجُمُعَةِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضى الله عنه . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে জুমুআর নামাযের পরেই দুপুরের খাবার খেতাম ও বিশ্রাম নিতাম। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১০৯৯), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জুমুআর দিন তোমাদের কোন ব্যক্তির ঘুমের আবেশ আসলে সে যেন নিজ জায়গা হতে উঠে যায়। -সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১০২৫), তা’লীক ইবনু খুজাইমাহ (১৮১৯) আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)-কে একটি সৈন্য বাহিনীর সাথে পাঠালেন। ঘটনাক্রমে তা ছিল জুমুআর দিন। তার সঙ্গীরা সকাল বেলা রাওয়ানা হয়ে গেলেন। তিনি বললেন, আমি পিছনে থেকে যেতে চাই, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নামায আদায় করব, তারপর তাদের সাথে মিলিত হব। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নামায আদায় করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখে ফেললেন। তিনি তাকে বললেন সকাল বেলা তোমার সঙ্গীদের সাথে একত্রে যেতে কোন জিনিস তোমাকে বাধা দিল? তিনি বললেন, আমি আপনার সাথে নামায আদায় করার ইচ্ছা করেছি, তারপর তাদের সাথে গিয়ে মিলিত হব। তিনি বললেনঃ দুনিয়ার সমস্ত কিছু ব্যয় করলেও তুমি সকাল বেলায় চলে যাওয়া দলের সমান ফাযীলাত ও মর্যাদা লাভ করতে পারবে না। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এটা গারীব হাদীস। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র উল্লেখিত সনদেই জেনেছি। শুবা বলেছেন, হাকাম মিকসামের নিকট মাত্র পাঁচটি হাদীস শুনেছেন। শুবা হাদীসগুলো গণনা করেছেন কিন্তু তার মধ্যে উল্লেখিত হাদীসটি নেই। সম্ভবত হাকাম এ হাদীসটি মিকসামের নিকট শুনেননি। জুম'আর দিন সফর প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতের অমিল আছে। একদল বলেছেন, যদি নামাযের ওয়াক্ত উপস্থিত না হয় তবে জুমুআর দিন সফরে বের হওয়ায় কোন সমস্যা নেই। অপর একদল বলেছেন, শুক্রবার সকাল হওয়ার পর জুমু'আর নামায আদায়ের আগে সফরে বের হবে না।