। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আরোহী পদচারীকে, পদচারী বসা ব্যক্তিকে এবং অল্প সংখ্যক বেশি সংখ্যককে সালাম দিবে। ইবনুল মুসান্না বর্ণিত হাদীসে আরো আছেঃ বয়সে নবীনরা প্রবীণদেরকে সালাম করবে। সহীহঃ সহীহাহ (১১৪৫), বুখারী ও মুসলিম। ‘আবদুর রাহমান ইবনু শিবল, ফাযালাহ ইবনু উবাইদ ও জাবির (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে। আইয়ুব সাখতিয়ানী, ইউনুস ইবনু উবাইদ ও আলী ইবনু যাইদ বলেনঃ হাসান আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে হাদীস শ্রবণ করেননি।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অল্প বয়সী বেশি বয়সীদেরকে, পদচারী বসা লোকদেরকে এবং অল্প সংখ্যক বেশি সংখ্যককে সালাম করবে। সহীহঃ প্রাগুক্ত (১১৪৯), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ফাযালাহ ইবনু উবাইদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অশ্বারোহী পথচারীকে, পথচারী দাঁড়ানো ব্যক্তিকে এবং অল্প সংখ্যক বেশি সংখ্যককে সালাম দিবে। সহীহঃ প্রাগুক্ত (১১৫০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ আলী আল-জানবীর নাম 'আমর ইবনু মালিক।
হাদিস 2706 — Jami At Tirmidhi 42:19
হাসান Sahihহাসান SahihহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا انْتَهَى أَحَدُكُمْ إِلَى مَجْلِسٍ فَلْيُسَلِّمْ فَإِنْ بَدَا لَهُ أَنْ يَجْلِسَ فَلْيَجْلِسْ ثُمَّ إِذَا قَامَ فَلْيُسَلِّمْ فَلَيْسَتِ الأُولَى بِأَحَقَّ مِنَ الآخِرَةِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ أَيْضًا عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ কোন মাজলিসে উপস্থিত হলে সে যেন সালাম করে, তারপর তার ইচ্ছা হলে বসে পড়বে। তারপর সে যখন উঠে দাড়াবে, তখনো যেন সালাম করে। কেননা পরের সালামের চাইতে প্রথম সালাম বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। হাসান সহীহঃ সহীহাহ (১৮৩), তাখরীজুল কালিম (২০১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এ হাদীসটি ইবনু আজলান-সাঈদ আল-মাকবুরী হতে, তিনি তার বাবা হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রেও বর্ণিত আছে।
। আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক পর্দা তুলে কারো ঘরের মধ্যে তাকালো এবং সম্মতি পাওয়ার আগেই ঘরের গোপনীয় বিষয় দেখে ফেললো, সে দণ্ডনীয় অপরাধী হয়ে গেলো, যা করা তার পক্ষে বৈধ নয়। সে যখন ঘরের ভেতরে তাকিয়ে ছিলো, তখন কেউ যদি এগিয়ে এসে তার দু'চোখ ফুড়ে বা সমূলে উপড়ে ফেলে দিত তবে তাকে আমি অপরাধী সাব্যস্ত করতাম না। আর কেউ যদি উম্মুক্ত দরজার পাশ দিয়ে যায় যার পর্দা নেই, আর সে যদি এদিকে তাকায়, তবে তাতে তার কোন দোষ নেই, বরং দোষ বাড়িওয়ালার (পর্দা ঝুলানো তাদের দায়িত্ব)। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৩৫২৬) এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরা ও আবূ উমামা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে, আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা ইবনু আবূ লাহীআর রিওয়ায়াত ছাড়া এ রকম হাদীস জানতে পরিনি। আবূ আবদুর রহমান আল-হুবুলীর নাম আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ।
হাদিস 2708 — Jami At Tirmidhi 42:21
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ Bukhari
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ فِي بَيْتِهِ فَاطَّلَعَ عَلَيْهِ رَجُلٌ فَأَهْوَى إِلَيْهِ بِمِشْقَصٍ فَتَأَخَّرَ الرَّجُلُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, কোন এক সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘরে ছিলেন। তখন জনৈক ব্যক্তি তার দিকে উঁকি দিল। তিনি তীরের ফলা তার দিকে তাক করলে সে সরে পড়ল। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 2709 — Jami At Tirmidhi 42:22
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، أَنَّ رَجُلاً، اطَّلَعَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ جُحْرٍ فِي حُجْرَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِدْرَاةٌ يَحُكُّ بِهَا رَأْسَهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَوْ عَلِمْتُ أَنَّكَ تَنْظُرُ لَطَعَنْتُ بِهَا فِي عَيْنِكَ إِنَّمَا جُعِلَ الاِسْتِئْذَانُ مِنْ أَجْلِ الْبَصَرِ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। সাহল ইবনু সা'দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, জনৈক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘরের একটি ছিদ্রপথে তার দিকে উঁকি দিল। তখন তিনি একটি লোহার চিরুনি দিয়ে তার মাথার চুল বিন্যাস করছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি যদি জানতাম যে, তুমি উঁকি দিয়ে আমার দিকে তাকাচ্ছ, তাহলে এটা (চিরুনি) তোমার চোখে ঢুকিয়ে দিতাম। দৃষ্টিশক্তির কারণেই তো অনুমতি প্রার্থনার নিয়ম চালু করা হয়েছে। সহীহঃ সহীহুত তারগীব (৩/২৭৩), বুখারী ও মুসলিম। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। কালাদাহ ইবনু হাম্বল (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, সাফওয়ান ইবনু উমাইয়্যা (রাযিঃ) তাকে কিছু দুধ, ছানা ও তরকারীসহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পাঠান। সে সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপত্যকার উপরে অবস্থান করছিলেন। তিনি (কালাদাহ্) বলেন, আমি অনুমতিও চাইলাম না, সালামও করলাম না, বরং এমনি তার নিকট চলে গেলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তুমি ফিরে গিয়ে বল, আসসালামু আলাইকুম, আমি কি আসতে পারি? (তারপর আমার নিকট এসো)। আর এ ঘটনাটি সাফওয়ানের ইসলাম গ্রহণের পরের। সহীহঃ সহীহাহ (৮১৮) ইবনু সাফওয়ান জানিয়েছেন এবং এই সূত্রে তিনি বলেননি যে, আমি এ হাদীসটি কালাদার নিকট শুনেছি। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র ইবনু জুরাইজের রিওয়ায়াত হিসেবে জেনেছি। ইবনু জুরাইজের সূত্রে আবূ আসিমও উক্ত হাদীসের মতো বর্ণনা করেছেন। যাগাবীস এক প্রকার উদ্ভিদ যা খাওয়া যায়।
। জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার বাবার কিছু ঋণ ছিল। এ ব্যাপারে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যাওয়ার অনুমতি চাইলাম। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তুমি কে? আমি বললাম, আমি। তিনি বলেন, আমি, আমি। মনে হল যেন তিনি এ ধরনের উত্তর অপছন্দ করেছেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 2712 — Jami At Tirmidhi 42:25
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ نُبَيْحٍ الْعَنَزِيِّ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَاهُمْ أَنْ يَطْرُقُوا النِّسَاءَ لَيْلاً . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَابْنِ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . - وَقَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَاهُمْ أَنْ يَطْرُقُوا النِّسَاءَ لَيْلاً قَالَ فَطَرَقَ رَجُلاَنِ بَعْدَ نَهْىِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَوَجَدَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً .
। জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর থেকে ফিরে রাতের বেলায় স্ত্রীর নিকট যেতে তাদেরকে নিষেধ করেছেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আনাস, ইবনু উমার ও ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এ হাদীসটি জাবির (রাযিঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলায় সফর থেকে ফিরে এসে তাদেরকে স্ত্রীদের নিকট যেতে নিষেধ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এ নিষেধাজ্ঞার পরও দু'জন লোক রাতে তাদের স্ত্রীদের ঘরে ঢুকে তাদের প্রত্যেকের সাথে একজন করে পরপুরুষ দেখতে পেল।