। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ কিছু লিখলে (শুকানোর জন্য) তার ওপর যেন কিছু ধুলা ছিটিয়ে দেয়। কেননা তা লক্ষ্য পূরণে পরিপূরক। যঈফ, মিশকাত (৫৬৫৭), যঈফা (১৭৩৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি মুনকার। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই আবু্য যুবাইর হতে এ হাদীস জেনেছি। আমার মতে হামযা হলেন আমর আন-নাসীবীর পুত্র এবং তিনি হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল।
। যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে উপস্থিত হলাম। তার সম্মুখে একজন লেখক বসে ছিলেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনলামঃ তোমার কানে কলমটি রেখে দাও, কেননা তা বিষয়বস্তু মনে রাখতে সহায়ক। মাওযু, যঈফা (৮৬৫) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সনদেই এ হাদীস জেনেছি। উহার সনদ দুর্বল। মুহাম্মাদ ইবনু যাযান ও আনবাসা ইবনু আবদুর রহমান উভয়েই হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল বলে আখ্যায়িত।
। যাইদ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ইয়াহুদীদের কিতাবী ভাষা (হিব্রু) অধ্যয়নের জন্য আদেশ করেন এবং বলেনঃ আল্লাহর কসম! আমি আমার পত্রাদির ব্যাপারে ইয়াহুদীদের উপর নিশ্চিন্ত হতে পারি না। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, তারপর মাসের অর্ধেক যেতে না যেতেই আমি সুরিয়ানী ভাষা আয়ত্ত করে ফেললাম। এ ভাষা শিক্ষার পর থেকে তিনি ইয়াহুদীদের নিকট কোন কিছু লিখতে চাইলে আমিই তা লিখে দিতাম। আর তারা তার নিকট কোন চিঠি পাঠালে, আমি তাকে তা পড়ে শুনাতাম। হাসান সহীহঃ মিশকাত (৪৬৫৯) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি ভিন্ন সূত্রেও যাইদ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। আমাশ-সাবিত ইবনু উবাইদ হতে, তিনি যাইদ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সুরিয়ানী ভাষা শিখতে আদেশ করেন।
হাদিস 2716 — Jami At Tirmidhi 42:29
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ Muslim
حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ حَمَّادٍ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَتَبَ قَبْلَ مَوْتِهِ إِلَى كِسْرَى وَإِلَى قَيْصَرَ وَإِلَى النَّجَاشِيِّ وَإِلَى كُلِّ جَبَّارٍ يَدْعُوهُمْ إِلَى اللَّهِ وَلَيْسَ بِالنَّجَاشِيِّ الَّذِي صَلَّى عَلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ .
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মৃত্যুর পূর্বে কিসরা, কাইসার ও নাজাশী এবং তখনকার সব পরাক্রান্ত রাজা বাদশাহদের নিকট তাদেরকে আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াত দিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। তবে ইনি সেই নাজাশী নন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার জানাযা আদায় করেছিলেন। সহীহঃ মুসলিম (৫/১৬৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, আবূ সুফইয়ান ইবনু হারব (রাযিঃ) তাকে বলেছেন, তিনি কুরাইশদের একটি ব্যবসায়ী দলে সিরিয়া গিয়েছিলেন। হিরাকল (হিরাক্লিয়াস) তাকে ডেকে পাঠালেন। তিনি তার নিকট গেলেন। তারপর বর্ণনাকারী তার বর্ণিত হাদীসটি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি চিঠি নিয়ে আসা হল এবং তা পড়ানো হল। তাতে লিখা ছিলঃ বিসমিল্লা-হির রাহমা-নির রাহীম, আল্লাহর বান্দা ও তার রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ হতে রোমের রাষ্ট্রপ্রধান হিরাকলের প্রতি। হিদায়াতের অনুসারীদের প্রতি সালাম। তারপর সমাচার এই...। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ সুফইয়ান (রাযিঃ)-এর নাম সখির ইবনু হারব।
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অনারবদের নিকট চিঠি লিখতে চাইলেন, তখন তাকে বলা হল, অনারবগণ সীল লাগানো ব্যতীত কোন চিঠিপত্র গ্রহণ করে না। তারপর তিনি একটি আংটি (সীল) বানালেন। তিনি (আনাস) বলেন, এখনও মনে হচ্ছে যেন আমি তার হাতে এর শুভ্রতা (আংটির চাকচিক্য) দেখতে পাচ্ছি। সহীহঃ মুখতাসার শামা-য়িল (৭৪), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 2719 — Jami At Tirmidhi 42:32
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ Muslim
حَدَّثَنَا سُوَيْدٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الأَسْوَدِ، قَالَ أَقْبَلْتُ أَنَا وَصَاحِبَانِ، لِي قَدْ ذَهَبَتْ أَسْمَاعُنَا وَأَبْصَارُنَا مِنَ الْجَهْدِ فَجَعَلْنَا نَعْرِضُ أَنْفُسَنَا عَلَى أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَيْسَ أَحَدٌ يَقْبَلُنَا فَأَتَيْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَتَى بِنَا أَهْلَهُ فَإِذَا ثَلاَثَةُ أَعْنُزٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " احْتَلِبُوا هَذَا اللَّبَنَ بَيْنَنَا " . فَكُنَّا نَحْتَلِبُهُ فَيَشْرَبُ كُلُّ إِنْسَانٍ نَصِيبَهُ وَنَرْفَعُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَصِيبَهُ فَيَجِيءُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ اللَّيْلِ فَيُسَلِّمُ عَلَيْنَا تَسْلِيمًا لاَ يُوقِظُ النَّائِمَ وَيُسْمِعُ الْيَقْظَانَ ثُمَّ يَأْتِي الْمَسْجِدَ فَيُصَلِّي ثُمَّ يَأْتِي شَرَابَهُ فَيَشْرَبُهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। মিক্দাদ ইবনুল আসওয়াদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং আমার দু’জন সাখী এমন অবস্থায় (মাদীনায়) পৌছালাম যে, আমাদের চোখ-কান ক্ষুধার যন্ত্রণায় অচল হয়ে যাবার উপক্রম হল। তারপর আমরা আমাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের নিকট উপস্থাপন করতে লাগলাম; কিন্তু কেউই আমাদেরকে গ্রহণ করলেন না। অবশেষে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হলাম। তিনি আমাদেরকে নিয়ে তাঁর পরিবারের নিকট গেলেন। সেখানে তিনটি বকরী ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা এগুলোর দুধ দোহন কর। তারপর আমরা এগুলো দোহন করে প্রত্যেকেই যার যার অংশের দুধ পান করতাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অংশ উঠিয়ে রেখে দিতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলায় আসতেন এবং এমনভাবে সালাম দিতেন যে, ঘুমন্ত লোকেরা জাগ্রত হত না অথচ জাগ্রত লোকেরা তা শুনতে পেত। তারপর তিনি মসজিদে গিয়ে নামায আদায় করতেন, তারপর তার জন্য রাখা দুধ পান করতেন। সহীহঃ আদাবুয যিফা-ফ নতুন সংস্করণ (১৬৭-১৯৬), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রস্রাবরত অবস্থায় একজন লোক তাকে সালাম দিল। কিন্তু তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের উত্তর দেননি। হাসান সহীহঃ ৯০ নং হাদীসের পুনরুক্তি। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া আন নাইশাবূরী-মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ হতে, তিনি সুফইয়ান হতে, তিনি যাহহাক ইবনু উসমান (রাহঃ) হতে একই সনদে উপরোক্ত হাদীসের সমার্থবোধক হাদীস বর্ণিত আছে। আলকামা ইবনু ফাগওয়া, জাবির, বারাআ ও মুহাজির ইবনু কুনফু্য (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ তামীম আল-হুজাইমী (রাযিঃ) হতে তার বংশের জনৈক ব্যক্তির সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খোঁজ করে না পেয়ে বসে রইলাম। এরই মধ্যে আমি তাকে একদল লোকের মাঝে দেখতে পেলাম, কিন্তু আমি তাকে চিনতাম না। তাদের মাঝে তিনি মীমাংসা করছিলেন। কাজ শেষে কয়েকজন তার সাথে উঠে দাঁড়ালো এবং বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি ইহা দেখে তাকে বললাম, আলাইকাস সালামু ইয়া রাসূলুল্লাহ আলাইকাস সালামু ইয়া রাসূলুল্লাহ আলাইকাস সালামু ইয়া রাসূলুল্লাহ! তিনি বললেনঃ “আলাইকাস সালামু হল মৃত ব্যক্তির জন্য সালাম। এ কথাটি তিনি তিন বার বললেন। তারপর তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেনঃ কোন ব্যাক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের সাথে সাক্ষাতের সময় যেন বলে, "আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সালামের উত্তর দিলেনঃ ওয়া 'আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ, ওয়া 'আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ, ওয়া আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ। সহীহঃ সহীহাহ (১৪০৩) আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি আবূ তামীমাহ আল-হুজাইমী-আবূ জুরায়্যি জাবির ইবনু সুলাইম আল-হুজাইমীর সূত্রে আবূ গিফার বর্ণনা করেছেন। আবূ জুরায়্যি (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলাম... তিনি পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন। আবূ তামীমার নাম তারীফ ইবনু মুজালিদ।
। জাবির ইবনু সুলাইম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললাম, আলাইকাস সালাম’। তিনি বললেনঃ 'আলাইকাস সালাম বল না, বরং 'আসসালামু 'আলাইকা' বল। তারপর তিনি দীর্ঘ ঘটনা বর্ণনা করেন। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।