ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বাকর, উমার ও উসমান (রাঃ)-এর সাথে একত্রে সফর করেছি। তারা যুহর ও আসরের (ফরয) নামায দুই রাকাআত দুই রাকাআত আদায় করেছেন। তারা এর আগে বা পরে কোন (সুন্নাত বা নফল) নামায আদায় করেননি। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমাকে যদি এর (ফরযের) আগে অথবা পরে নামায আদায় করতেই হত তবে আমি ফরয নামায পূর্ণ আদায় করতাম! সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১০৭১), বুখারী ও মুসলিম সংক্ষিপ্ত। এ অনুচ্ছেদে উমার, আলী, ইবনু আব্বাস, আনাস, ইমরান ইবনু হুসাইন ও আয়িশাহ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু উমারের হাদীসটি হাসান গারীব। ইয়াহইয়া ইবনু সুলাইমের সূত্রেই শুধুমাত্র আমরা এ হাদীসটি জেনেছি। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (বুখারী) বলেন, উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার সুরাকার সন্তানের সূত্রে, তিনি ইবনু উমার (রাঃ)-এর সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আবু ঈসা বলেনঃ আতিয়া আল-আওফী (রহঃ) ইবনু উমার (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেনঃ “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে ফরয নামাযের পূর্বে এবং পরে নফল নামায আদায় করতেন।” وَقَدْ صَحَّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَقْصُرُ فِي السَّفَرِ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ صَدْرًا مِنْ خِلاَفَتِهِ সহীহ সনদসূত্রে প্রমাণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বাকর ও উমর (রাঃ) সফরে নামায কসর করতেন। উসমান (রাঃ) তার খিলাফাতের প্রথম দিকে সফরে কসর করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও তাবিঈ সফরে নামায কসর করতেন। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি সফরে সম্পূর্ণ নামায আদায় করতেন (কসর করতেন না, বুখারী)। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার বেশিরভাগ সাহাবী যেভাবে কসর করেছেন তদনুযায়ী আমল করতে হবে। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও একই রকম কথা বলেছেন। কিন্তু ইমাম শাফিঈ আরো বলেছেন, সফরে কসর করাটা ব্যক্তির ইচ্ছাধীন ব্যাপার। যদি কেউ পূর্ণ নামায আদায় করে তবে তার নামায হয়ে যাবে, নতুন করে তা আদায় করতে হবে না।
। আবু নাযরাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ)-কে মুসাফিরের নামায প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হাজ্জ করেছি। তিনি চার রাকাআতের পরিবর্তে দুই রাক’আত আদায় করেছেন। আবু বাকর (রাঃ)-এর সাথেও হাজ্জ করেছি তিনিও দুই রাকাআত আদায় করেছেন। উমার (রাঃ)-এর সাথেও এবং তিনিও দুই রাকাআত আদায় করেছেন। আমি উসমান (রাঃ)-এর সাথেও হাজ্জ করেছি। তিনিও তার খিলাফাতের (প্রথম) ছয় অথবা আট বছর দুই রাকাআতই আদায় করেছেন -সহীহ। পূর্বের হাদীসের কারণে।
হাদিস 546 — Jami At Tirmidhi 6:3
সহিহসহিহসহিহসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، وَإِبْرَاهِيمَ بْنِ مَيْسَرَةَ، سَمِعَا أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ صَلَّيْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ بِالْمَدِينَةِ أَرْبَعًا وَبِذِي الْحُلَيْفَةِ الْعَصْرَ رَكْعَتَيْنِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ .
। মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির ও ইবরাহীম ইবনু মাইসারা (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে। তারা দুজনেই আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মাদীনায় যুহরের নামায চার রাকাআত আদায় করেছি এবং যুল-হুলাইফায় আসরের নামায দুরাকাআত আদায় করেছি। -সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১০৮৫), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদিসটি সহীহ
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার উদ্দেশ্যে মাদীনা হতে বের হলেন। এ সময় সারা বিশ্বের প্রতিপালক ছাড়া আর কারো ভয় তার ছিল না। তিনি (চার রাকাআত ফরযের স্থলে) দুই রাকাআত আদায় করেছেন। —সহীহ। ইরওয়া- (৩/৬)। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মক্কার উদ্দেশ্যে মাদীনা হতে রাওয়ানা হলাম। তিনি দুই রাকাআত নামায আদায় করলেন। ইয়াহইয়া ইবনু ইসহাক বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কত দিন মক্কায় ছিলেন? তিনি বললেন, দশ দিন। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১০৭৭), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদিসটি হাসান সহিহ। এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস ও জাবির (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। وَقَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ أَقَامَ فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ تِسْعَ عَشْرَةَ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَنَحْنُ إِذَا أَقَمْنَا مَا بَيْنَنَا وَبَيْنَ تِسْعَ عَشْرَةَ صَلَّيْنَا رَكْعَتَيْنِ وَإِنْ زِدْنَا عَلَى ذَلِكَ أَتْمَمْنَا الصَّلاَةَ . ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কোন সফরে উনিশ দিন থাকলেন। তিনি বরাবর (চার রাকাআত ফরযের স্থলে) দুই রাকাআতই আদায় করতে থাকলেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এজন্য আমরাও উনিশ দিন থাকলে দুই রাকাআতই আদায় করে থাকি। যদি এরপর আরো বেশি দিন থাকতে হয় তবে আমরা পূর্ণ নামায আদায় করি।” আলী (রাঃ) বলেন, যদি কোন ব্যক্তি সফরে দশ দিন থাকেন তবে সে পূর্ণ নামায আদায় করবে। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি পনের দিন থাকবে সে পূর্ণ নামায আদায় করবে। ইবনু উমর (রাঃ)-এর অপর মতে বার দিনের কথা উল্লেখ আছে। সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব (রহঃ) বলেন, যে ব্যক্তি চার দিন থাকবে সে চার রাক’আত আদায় করবে। কাতাদা ও আতা তার এ মত বর্ণনা করেছেন। দাউদ ইবনু আবু হিন্দ তাঁর নিকট হতে এর বিপরীত বর্ণনা করেছেন। এ ব্যাপারে আলিমদের মধ্যে যথেষ্ট মতের অমিল রয়েছে। সুফিয়ান সাওরী ও কুফাবাসীগণ পনের দিনের সময়সীমা ঠিক করেছেন। তারা বলেছেন, যদি কমপক্ষে পনের দিন (সফর একই এলাকায়) থাকার নিয়াত করা হয় তবে পূর্ণ নামায আদায় কর। মালিক, শাফিঈ ও আহমাদ বলেন, যদি চার দিন একই জায়গায় থাকার নিয়াত করা হয় তবে পূর্ণ নামায আদায় করতে হবে। ইসহাক বলেন, শক্তিশালী মত হল ইবনু আব্বাসের হাদীসে বর্ণিত মত। তিনি এ হাদীসই অনুসরণ করেছেন। তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে বর্ণিত তার নিজের হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। এ হাদীসের মর্ম অনুযায়ী যদি কোন ব্যক্তি সফরে কোথাও উনিশ দিন থাকার নিয়াত করে তবে সে পূর্ণ নামায আদায় করবে। বহুবিধ মত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বিদ্বানগণ একটি বিষয়ে মতৈক্যে পৌছেছেন। তা হল, মুসাফির ব্যক্তি কোন স্থানে নির্দিষ্ট কতদিন থাকবে তা যদি নির্ধারণ না করে থাকে বা তার নিয়াত না করে থাকে তবে সে কসরই আদায় করতে থাকবে, তা যত বছরই হোক না কেন।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সফরে গিয়ে উনিশ দিন থাকলেন। এ কয়দিন তিনি দুই রাকাআত দুই রাকাআত করে নামায আদায় করলেন (চার রাকাআত ফরযের পরিবর্তে) ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমরাও আমাদের (মাদীনার ও মক্কার) মধ্যেকার উনিশ দিনের পথে দুই রাকাআত দুই রাক’আত করে নামায আদায় করে থাকি। যখন এর চেয়ে বেশি দিন থাকি তখন চার রাকাআতই আদায় করে থাকি। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১০৭৫), বুখারী। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব হাসান সহীহ।
হাদিস 550 — Jami At Tirmidhi 6:7
দাঈফদাঈফহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ أَبِي بُسْرَةَ الْغِفَارِيِّ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ صَحِبْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَمَانِيَةَ عَشَرَ سَفَرًا فَمَا رَأَيْتُهُ تَرَكَ الرَّكْعَتَيْنِ إِذَا زَاغَتِ الشَّمْسُ قَبْلَ الظُّهْرِ . وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ الْبَرَاءِ حَدِيثٌ غَرِيبٌ . قَالَ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْهُ فَلَمْ يَعْرِفْهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ وَلَمْ يَعْرِفِ اسْمَ أَبِي بُسْرَةَ الْغِفَارِيِّ وَرَآهُ حَسَنًا . وَرُوِيَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يَتَطَوَّعُ فِي السَّفَرِ قَبْلَ الصَّلاَةِ وَلاَ بَعْدَهَا . وَرُوِيَ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَتَطَوَّعُ فِي السَّفَرِ . ثُمَّ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ بَعْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَرَأَى بَعْضُ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَتَطَوَّعَ الرَّجُلُ فِي السَّفَرِ وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَلَمْ تَرَ طَائِفَةٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنْ يُصَلَّى قَبْلَهَا وَلاَ بَعْدَهَا . وَمَعْنَى مَنْ لَمْ يَتَطَوَّعْ فِي السَّفَرِ قَبُولُ الرُّخْصَةِ وَمَنْ تَطَوَّعَ فَلَهُ فِي ذَلِكَ فَضْلٌ كَثِيرٌ . وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ يَخْتَارُونَ التَّطَوُّعَ فِي السَّفَرِ .
। বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আঠার মাস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গী ছিলাম। আমি তাকে সূর্য চলে যাওয়ার পর যুহরের (ফরয নামাযের) পূর্বে দু' রাকাআত (সুন্নাত) নামায ছেড়ে দিতে দেখিনি। যঈফ,যঈফ আবূ দাউদ ২২২)) এ অনুচ্ছেদে ইবনু উমার (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমি মুহাম্মাদকে (ইমাম বুখারীকে) এ হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি এটা লাইস ইবনু সাদের সূত্রেই জেনেছি এবং তিনি আবূ বুসরার নাম বলতে পারেননি, তবে তাকে উত্তম ধারণা করেছেন। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে নামাযের পূর্বে বা পরে সুন্নাত বা নফল নামায আদায় করতেন না। অপর এক বর্ণনায় আছে, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সফরে নফল নামায আদায় করতেন। অতএব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর আলিমদের মধ্যে মত পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। একদল সাহাবার মত হল, সফরে নফল নামায আদায় করবে। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক এই মতের পক্ষে। অপর একদল বিশেষজ্ঞ বলেছেন, সফরে ফরয নামাযের আগে বা পরে কোন নফল নামায নেই। যে লোক নফল নামায আদায় করল না সে সম্মতি ও ফুরসতের সুযোগ গ্রহণ করল। আর যদি কেউ নফল আদায় করে তবে সে ফাযীলাত লাভ করল। বেশিরভাগ বিদ্বানের মতে সফরে নফল এবং সুন্নাত নামায আদায় করাই ভাল।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সফরে যুহরের নামায দুই রাকাআত আদায় করেছি। এরপর আরো দুই রাক’আত আদায় করেছি। সনদ দুর্বল। তার বর্ণিত পূর্ববর্তী ৫৩৬ নং হাদীসের বিরোধী হওয়ার ফলে মতন ও মুনকার আবূ ঈসা বলেনঃ এটি হাসান হাদীস। ইবনু আবী লাইলা আতিয়্যাহ এবং নাফি এর সূত্রে ইবনু উমার হতে বর্ণনা করেছেন।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি নিজ এলাকায় থাকার সময় এবং সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নামায আদায় করেছি। বাড়িতে থাকার সময় তার সাথে যুহরের (ফরয) নামায চার রাকাআত আদায় করেছি। অতঃপর দুই রাকাআত (সুন্নাত) আদায় করেছি। সফরে তার সাথে যুহরের (ফরয) নামায দুই রাকাআত আদায় করেছি। অতঃপর দুই রাকাআত (সুন্নাত) নামায আদায় করেছি। আসরের (ফরয) নামায দুই রাক’আত আদায় করেছি। তারপর তিনি আর কোন নামায আদায় করেননি। মাগরিবের (ফরয) নামায সফরে ও বাসস্থানে সমানভাবে তিন রাক’আত আদায় করেছি। এটা সফরে ও বাসস্থানে কম হয় না। আর এটাই হল দিনের বিতরের (বেজোর) নামায। তারপর দুই রাকাআত (সুন্নাত) আদায় করেছি। সনদ দুর্বল, মতন মুনকার। দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেনঃ এটি হাসান হাদীস। আমি মুহাম্মাদকে বলতে শুনেছি, ইবনু আবী লাইলার বর্ণনাগুলোর মধ্যে এই বর্ণনাটিই আমার নিকট বেশি সুন্দর। তবে আমি তার কোন হাদীস বর্ণনা করিনা।
। মু'আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুকের যুদ্ধে ব্যস্ত থাকাকালে সূর্য ঢলে যাওয়ার আগে নিজের তাবু ত্যাগ করলে যুহরের নামায দেরি করে আসরের সাথে একত্রে আদায় করতেন। তিনি সূর্য ঢলে যাওয়ার পর তাবু ত্যাগ করলে ‘আসরের নামায এগিয়ে এনে যুহরের সাথে একত্রে আদায় করতেন। তিনি মাগরিবের আগে তাবু ত্যাগ করলে মাগরিব দেরি করে ইশার সাথে একত্রে আদায় করতেন। তিনি মাগরিবের পর তাবু ত্যাগ করলে ইশাকে এগিয়ে এনে মাগরিবের সাথে একত্রে আদায় করতেন। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১১০৬), ইরওয়া (৫৭৮) এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ অনুচ্ছেদে আলী, ইবনু উমার, যাইদ ও জাবির (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।