। আব্দুস সামাদ ইবনু সুলাইমান স্বীয় সানাদের কুতাইবার অর্থাৎ মু'আযের হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। লাইসের সূত্রে কুতাইবা ছাড়া আর কেউ এ হাদীস বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। লাইস-ইয়াযীদ-আবুত তুফাইল-মুআয (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনাটি গারীব। বিদ্বানদের নিকট আবুয-যুবাইর-আবুত তুফাইল-মুআয (রাঃ)-এর সনদে বর্ণিত হাদীসটি প্রসিদ্ধ যে, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুক যুদ্ধে যুহর ও আসর এবং মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করেছেন।” ইমাম শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাক এই মতের সমর্থক। তারা বলেছেন, সফরে দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে আদায় করতে কোন অপরাধ নেই।
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তার নিকট তার কোন এক স্ত্রীর মুমূর্ষ অবস্থার খবর এলে তিনি তাড়াতাড়ি রাওয়ানা হলেন এবং পথ চলতে চলতে (পশ্চিম আকাশের লালিমা) অদৃশ্য হয়ে গেল। তারপর তিনি (বাহন হতে) নেমে মাগরিব ও ইশার নামায একত্রে আদায় করলেন। তারপর তিনি সফরসঙ্গীদের বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের যখন তাড়াহুড়া করে যাওয়ার দরকার হত তখন তিনি এমনটিই করতেন। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১০৯০), বুখারী ও মুসলিম মারফুরূপে। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আব্বাদ ইবনু তামীম (রহঃ) হতে তার চাচার সূত্রে বর্ণিত আছে, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের নিয়ে বৃষ্টি প্রার্থনার জন্য বের হলেন। তাদেরকে নিয়ে তিনি দুই রাকাআত নামায আদায় করলেন। এতে তিনি সশব্দে কিরা'আত পাঠ করলেন। তিনি তার চাদর উল্টিয়ে দিলেন, দুই হাত উপরে তুললেন এবং কিবলামুখী হয়ে দুআ করলেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১২৬৭), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস, আবু হুরাইরা, আনাস ও আবুল লাহাম (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনু যাইদের হাদীসটি হাসান সহীহ। আলিমগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেন। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও একই রকম মত দিয়েছেন। আব্বাদ ইবনু তামীমের চাচার নাম ‘আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ ইবনু আসিম আল-মাযিনী (রাঃ)।
হাদিস 557 — Jami At Tirmidhi 6:14
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلاَلٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عُمَيْرٍ، مَوْلَى آبِي اللَّحْمِ عَنْ آبِي اللَّحْمِ، أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ أَحْجَارِ الزَّيْتِ يَسْتَسْقِي وَهُوَ مُقْنِعٌ بِكَفَّيْهِ يَدْعُو . قَالَ أَبُو عِيسَى كَذَا قَالَ قُتَيْبَةُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ عَنْ آبِي اللَّحْمِ وَلاَ نَعْرِفُ لَهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ هَذَا الْحَدِيثَ الْوَاحِدَ وَعُمَيْرٌ مَوْلَى آبِي اللَّحْمِ قَدْ رَوَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَحَادِيثَ وَلَهُ صُحْبَةٌ .
। আবুল লাহম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আহজরুয-যাইত নামক জায়গায় বৃষ্টি প্রার্থনা করতে দেখলেন। তিনি দুই হাত তুলে দু’আ করলেন। -সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১০৬৩)। আবু ঈসা বলেনঃ আমরা আবুল লাহমের সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই একটি মাত্র হাদীসই জেনেছি। তবে তার মুক্ত দাস উমাইর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সান্নিধ্য লাভ করেছেন।
। হিশাম ইবনু ইসহাক (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (ইসহাক) বলেন, মাদীনার গভর্নর ওয়ালীদ ইবনু উকবা (রাঃ) আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৃষ্টি প্রার্থনা প্রসঙ্গে জানার জন্য ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর নিকটে পাঠালেন। আমি তার নিকট এলে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণ পোশাক পরে বিনয় ও নম্রতা সহকারে বৃষ্টি প্রার্থনার জন্য বের হয়ে ঈদের মাঠে আসেন। তিনি তোমাদের এ খুতবা দেওয়ার মত খুতবা দেননি। বরং তিনি অবিরত দু'আ-আরাধনা ও তাকবীর বলতে থাকেন। তিনি ঈদের নামাযের মত দুই রাকাআত নামাযও আদায় করলেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১২৬৬)। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। অপর একটি সূত্রেও একই রকম হাদীস রয়েছে। তাতে মুতাখাশশিআন’ (ভীত-সন্ত্রস্ত) শব্দটিও উল্লেখ আছে এবং এ শেষোক্ত সূত্রে বর্ণিত হাদীসটিও হাসান সহীহ। এ হাদীসের ভিত্তিতে ইমাম শাফিঈ বলেন, বৃষ্টি প্রার্থনার নামায দুই ‘ঈদের নামাযের নিয়মেই আদায় করতে হবে। প্রথম রাকাআতে সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাকাআতে পাচ তাকবীর বলতে হবে। আবু ঈসা বলেনঃ মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, ঈদের নামাযের মত বৃষ্টি প্রার্থনার নামাযে (অতিরিক্ত) তাকবীর বলবে না। আবু হানিফা নুমান বলেন, বৃষ্টি প্রার্থনার নামায নেই। আমি চাদর পরিবর্তনের আদেশও দেই না। বরং তারা স্বাভাবিকভাবেই দুআ করবে। আবু ঈসা বলেনঃ তিনি সুন্নাতের বিরুদ্ধাচরণ করেছেন।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণকালে নামায আদায় করলেন। তিনি কিরা'আত পাঠ করলেন, তারপর রুকূ করলেন, আবার কিরা'আত পাঠ রুকূ করলেন, তারপর দুটি সিজদা করলেন। দ্বিতীয় রাকাআতও তিনি এভাবেই আদায় করলেন। -সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১০৭২), বুখারী ও মুসলিম। এই অনুচ্ছেদে আলী, আয়িশাহ, আব্দুল্লাহ ইবনু আমর, নুমান ইবনু বাশীর, মুগীরা ইবনু শুবা, আবু মাসউদ, আবু বাকরা, সামুরা, ইবনু আবদুল্লাহ, আবু মূসা, আবদুর রহমান ইবনু সামূরা ও উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু আব্বাসের হাদীসটি হাসান সহীহ। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে এও বর্ণিত আছে, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার রুকূতে চার রাকাআত সূর্যগ্রহণের নামায আদায় করেছেন।" ইমাম শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও একই রকম কথা বলেছেন। সূর্যগ্রহণের নামাযের কিরা'আত প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতের অমিল রয়েছে। একদল বলেছেন, দিনের বেলা অপরিস্ফুট স্বরে কিরা'আত পাঠ করবে। অপর দল বলেছেন, দুই ঈদ ও জুমু'আর নামাযের মত এ নামাযেও স্পষ্ট স্বরে কিরা'আত পাঠ করবে। ইমাম মালিক, আহমাদ এবং ইসহাক উচ্চস্বরে কিরা'আত পাঠের সমর্থক। ইমাম শাফিঈ বলেন, কিরা'আত স্বরবে পড়বে না। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উভয় মতই বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হয়েছে। অপর বর্ণনায় আছে– “তিনি ছয় রুকু’তে দুই রাকাআত নামায আদায় করেছেন।" বিশেষজ্ঞদের মতে এর প্রতিটি পদ্ধতিই জায়িয। এটা সূর্যগ্রহণের সময়সীমার উপর নির্ভর করবে। গ্রহণ দীর্ঘায়িত হলে চার ছয় রুকু’তে দুই রাক’আত আদায় করাও জায়িয। আবার চার রুকু’তে ও দীর্ঘ কিরাআতে দুই রাকাআত আদায় করাও জায়িয। আমাদের সঙ্গীরা সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের নামায জামা'আতে আদায় করার পক্ষে।
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে সূর্যগ্রহণ হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের নিয়ে (জামা'আতে) নামায আদায় করলেন। তিনি অধিক সময় ধরে কিরাআত পাঠ করলেন, তারপর রুকু করলেন এবং দীর্ঘসময় রুকূতে থাকলেন, তারপর মাথা তুললেন (রুকূ’ হতে উঠলেন)। তিনি আবার দীর্ঘ কিরা'আত পাঠ করলেন কিন্তু প্রথমবারের চেয়ে কম লম্বা করলেন, তারপর রুকূতে গেলেন এবং দীর্ঘ সময় রুকূতে থাকলেন, কিন্তু আগের চেয়ে সংক্ষেপে করলেন। তারপর তিনি রুকূ থেকে মাথা তুলে সিজদাতে গেলেন। তিনি দ্বিতীয় রাক'আতও উল্লেখিত পদ্ধতিতে আদায় করলেন। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১০৭১), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ্! এ হাদীসের পরিপ্রেক্ষিতে ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক বলেছেন, সূর্যগ্রহণের নামায চার রুকু ও চার সিজদায় আদায় করবে। শাফিঈ আরো বলেছেন, প্রথম রাকাআতে সূরা ফাতিহার পর সূরা আল-বাকারার মতো যে কোন লম্বা সূরা পাঠ করবে। দিনে হলে নীরবে কিরা'আত পাঠ করবে। তারপর রুকূতে গিয়ে কিরা'আত পাঠের পরিমাণ সময় রুকূতে থাকবে। তারপর আল্লাহু আকবার বলে মাথা তুলে দাড়াবে এবং সূরা ফাতিহার পর সূরা আলে-ইমরানের মতো লম্বা সূরা পাঠ করবে। তারপর রুকূতে গিয়ে কিরা'আত পাঠের পরিমাণ সময় রুকূতে থাকবে। তারপর সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলে মাথা তুলবে। তারপর দুটি পূর্ণাঙ্গ সিজদা করবে এবং প্রত্যেক সিজদা্তে রুকূর পরিমাণ সময় থাকবে। অতঃপর দাড়িয়ে সূরা ফাতিহার পর সূরা আন-নিসার মতো লম্বা সূরা পাঠ করবে, তারপর কিরাআতের মতো লম্বা রুকূ করবে। তারপর আল্লাহু আকবার বলে মাথা তুলে দাড়াবে। তারপর সূরা মায়িদার মতো লম্বা সূরা পাঠ করবে, রুকূও কিরাআতের মতো লম্বা করবে। অতঃপর মাথা তুলবে এবং সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ বলবে। অতঃপর দুটি সিজদা করে, তাশাহহুদ পাঠ করে সালাম ফিরিয়ে নামায সমাপ্ত করবে।
। সামুরা ইবনু জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সূর্যগ্রহণের নামায আদায় করালেন। কিন্তু আমরা তার (কিরা'আত পাঠের) কোন আওয়াজ শুনতে পাইনি। যঈফ, ইবনু মাজাহ (১২৬৪) অনুযায়ী আমল করার কথা বলেছেন। ইমাম শাফিঈর এটাই মত (নিঃশব্দে কিরাআত পাঠ করবে)।