। সালিম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই দলের মধ্য থেকে এক দলের সাথে এক রাকাআত নামায আদায় করলেন। এ সময় অপর দল শক্রর মুখামুখি দাড়িয়ে থাকলো। তারপর প্রথম দল এক রাক’আত আদায় করে দ্বিতীয় দলের জায়গায় অপেক্ষায় থাকল। দ্বিতীয় দল আসলে তিনি তাদের সাথে দ্বিতীয় রাকাআত নামায আদায় করে সালাম ফিরান। তারা উঠে নিজেদের বাকী রাকাআত পূর্ণ করলো। তারপর তারা আবার অপেক্ষায় থাকলো এবং প্রথম দল এসে তাদের বাকি রাকাআত পূর্ণ করলো। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১১৩২), ইরওয়া- (৩/৫০), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি সহীহ। মূসা ইবনু উকবার সূত্রেও এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। এ অনুচ্ছেদে মাসউদ, সাহল ইবনু আবু হাসমা, আবু আইয়াশ আয-যুরাকী ও আবু বাকরাহ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম মালিক বিপদকালীন নামাযের ব্যাপারে সাহল ইবনু আবৃ হাসমা (রাঃ)-এর হাদীসের অবলম্বন করেছেন। ইমাম শাফিঈও তার অনুসরণ করেছেন। ইমাম আহমাদ বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে বিপদকালীন নামাযের বেশ কয়েকটি পদ্ধতি বর্ণিত আছে। আমি এগুলোর মধ্যে শুধু সাহল ইবনু আবু হাসমার হাদীসকেই সহীহ মনে করি। অনুরূপভাবে ইসহাক ইবনু ইবরাহীম বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে বিপদকালীন নামাযের বেশ কয়েকটি পদ্ধতিই বর্ণিত আছে। এগুলোর যে কোন পদ্ধতিতেই নামায আদায় করা যায়। এটা বিপদকালীন অবস্থার উপর নির্ভর করবে। তিনি আরো বলেছেন, আমি অন্যান্য বর্ণনার উপর সাহলের বর্ণনাকে প্রাধান্য দেই না।
। সাহল ইবনু আবু হাসমা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বিপদকালীন নামায সম্পর্কে বলেন, ইমাম কিবলামুখী হয়ে দাঁড়াবে। একদল তার সাথে দাঁড়াবে এবং অপর দল শক্রকে বাধা দান করবে। তাদের অবস্থান শত্রুর দিকে থাকবে। ইমাম প্রথম দলের সাথে এক রাক’আত আদায় করবে, তারপর মুক্তাদীরা এক রুকূ ও দুই সিজদা করবে (আরো এক রাক’আত আদায় করবে)। অতঃপর তারা গিয়ে প্রতিরক্ষা বুহ্য রচনা করবে এবং দ্বিতীয় দল আসলে ইমাম তাদের সাথে আর এক রাকাআত নামায আদায় করবে। তাদের সাথে দুটি সিজদা করবে, এতে তার দুই রাকাআত পূর্ণ হবে এবং তাদের হবে এক রাকাআত। অতঃপর তারা আরো এক রাক’আত আদায় করবে এবং দুটি সিজদা করবে। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১২৫৯), বুখারী ও মুসলিম।
। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ অন্য সূত্রে এ হাদীসটি সাহল ইবনু হাসমার হাদীসের মত বর্ণনা করেছেন। তিনি আমাকে আরো বলেন, এ হাদীসটি ঐ হাদীসটির পাশাপাশিই লিখে নাও। হাদীসটি আমার মনে না থাকলেও এটা ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারীর হাদীসের মতই ছিল আবু ঈসা বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান সহীহ। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারী এ হাদীসটি কাসিম ইবনু মুহাম্মাদের সূত্রে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেননি। আনসারীর সাথীরা এ হাদীসটি মাওকূফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু শু'বা এটিকে আবদুর রহমান ইবনুল কাসিম ইবনু মুহাম্মাদের সূত্রে মারফু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস 567 — Jami At Tirmidhi 6:24
হাসান Sahihসহিহ - Agreed Upon
وَرَوَى مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ رُومَانَ، عَنْ صَالِحِ بْنِ خَوَّاتٍ، عَمَّنْ صَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْخَوْفِ فَذَكَرَ نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَبِهِ يَقُولُ مَالِكٌ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَرُوِيَ عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى بِإِحْدَى الطَّائِفَتَيْنِ رَكْعَةً رَكْعَةً فَكَانَتْ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَانِ وَلَهُمْ رَكْعَةٌ رَكْعَةٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى أَبُو عَيَّاشٍ الزُّرَقِيُّ اسْمُهُ زَيْدُ بْنُ صَامِتٍ .
। ইমাম মালিক তার সনদ পরম্পরায় এ হাদীসের মতো হাদীস এমন একজন সাহাবী হতে বর্ণনা করেছেন যিনি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সালাতুল খাওফ (শংকাকালীন নামায) আদায় করেছেন। আবু ঈসা বলেনঃ এ বর্ণনাটিও হাসান সহীহ। ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এ হাদীস অনুযায়ী সালাতুল খাওফ আদায় করার কথা বলেছেন। আরো কয়েকটি সূত্রে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক এক দলের সাথে এক এক রাকাআত নামায আদায় করেছেন। এভাবে তার দুই রাকাআত পূর্ণ হয়েছে এবং মুক্তাদীদের এক রাকাআত হয়েছে।
। আবূ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে (কুরআনে) এগারটি সিজদা করেছি যার মধ্যে সূরা নাজমের সিজদটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। যঈফ, ইবনু মাজাহ
। আবূ দারদা (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ..... পূর্বোক্ত হাদীসের মতো। যঈফ, প্রাগুক্ত আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি পূর্ব বর্ণিত আব্দুল্লাহ ইবনু ওয়াহবের হাদীস হতে বেশী সহীহ। তিনি আরও বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে আলী, ইবনু আব্বাস আবূ হুরাইরাহ, ইবনু মাসউদ যাইদ ইবনু সাবিত এবং আমর ইবনু আস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। তিনি আরও বলেনঃ আবূ দারদার এ হাদীসটি গারীব। এটি আমরা কেবল উমার ইবনু হায়্যান আদ-দিমাশকীর বরাতে সাঈদ ইবনু আবূ হিলাল হতেই জেনেছি।
। মুজাহিদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কোন এক সময় আমরা ইবনু উমার (রাঃ)-এর কাছে হাযির ছিলাম। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মহিলাদেরকে রাতের বেলা মসজিদে যাওয়ার সম্মতি দাও। তার (ইবনু উমারের) ছেলে বললো, আল্লাহ তা'আলার কসম! তাদেরকে মসজিদে যাওয়ার অনুমতি কখনো দিব না। কেননা তারা এটাকে মওকা হিসেবে গ্রহণ করবে। ইবনু উমার বললেন, আল্লাহ তোমার অমঙ্গল করেছেন এবং করবেন! আমি বলছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন (অনুমতি দিতে), আর তুমি বলছো, অনুমতি দিব না। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ– (৫৭৭), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আবু হুরাইরা, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদের স্ত্রী যাইনাব ও যাইদ ইবনু খালিদ (রাঃ) হতে ও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু উমারের হাদীসটি হাসান সহীহ।
। তারিক ইবনু আবদুল্লাহ আল-মুহারিবী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি নামায আদায়কালে তোমার ডান দিকে থুথু ফেল না, বরং তোমার পিছনে অথবা বাঁ দিকে অথবা বাঁ পায়ের নীচে থুথু ফেল। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১০২১)। এ অনুচ্ছেদে আবু সাঈদ, ইবনু উমার, আনাস ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ তারিকের হাদীসটি হাসান সহীহ্। আলিমগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করার কথা বলেছেন। ওয়াকী (রহঃ) বলেন, রিবঈ ইবনু হিরাশ (খিরাশ) ইসলামে কখনও মিথ্যা বলেননি। আবদুর রহমান ইবনু মাহদী বলেন, কুফায় সবচেয়ে বিশ্বস্ত হলেন, মানসূর ইবনুল মু'তামির।
হাদিস 572 — Jami At Tirmidhi 6:29
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْبُزَاقُ فِي الْمَسْجِدِ خَطِيئَةٌ وَكَفَّارَتُهَا دَفْنُهَا " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মসজিদে থুথু ফেলা গুনাহের কাজ। এর জরিমানা হলো তা মাটিতে পুঁতে ফেলা। —সহীহ। রওজ— (৪৮), সহীহ আবু দাউদ- (৪৯৪), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 573 — Jami At Tirmidhi 6:30
সহিহসহিহসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى، عَنْ عَطَاءِ بْنِ مِينَاءَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ سَجَدْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي (اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ ) وَ (إِذََا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ )
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে 'ইকরা বিসমি রব্বিকা' ও 'ইযাস সামাউন শাক্কাত' সূরা দুটিতে সিজদা করেছি। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১০৫৮), মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।