। অপর একটি সূত্রে আবু হুরাইরার নিকট হতেও এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসর সনদে চারজন তাবিঈ রয়েছেন তারা পরস্পরের নিকট হতে বর্ণনা করেছেন। বেশির ভাগ বিদ্বান এ হাদীসের উপর আমল করেছেন তাদের মতে উল্লেখিত সূরা দুটিতে সিজদা আছে।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা নাজম-এ সিজদা করেছেন। মুসলিম, মুশরিক, জ্বিন ও মানুষ সবাই তার সাথে সিজদা করেছেন। -সহীহ। বুখারী, কিসসাতুল গারানীক— (১৮, ২৫, ৩১ পৃঃ), বুখারী। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে ইবনু মাসউদ ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। একদল বিদ্বানের মতে সূরা নাজম-এ সিজদা রয়েছে। একদল সাহাবা ও তাবিঈনের মতে মুফাসসাল সূরাসমূহে কোন সিজদা নেই। মালিক ইবনু আনাস এই মতের সমর্থক। কিন্তু প্রথম দলের মতই বেশি সহীহ। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ ও আহমাদ প্রথম মতের সমর্থক। (অর্থাৎ মুফাসসাল সূরায় সিজদা আছে)।
হাদিস 576 — Jami At Tirmidhi 6:33
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُسَيْطٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النَّجْمَ فَلَمْ يَسْجُدْ فِيهَا . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَتَأَوَّلَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ هَذَا الْحَدِيثَ فَقَالَ إِنَّمَا تَرَكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم السُّجُودَ لأَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ حِينَ قَرَأَ فَلَمْ يَسْجُدْ لَمْ يَسْجُدِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم . وَقَالُوا السَّجْدَةُ وَاجِبَةٌ عَلَى مَنْ سَمِعَهَا فَلَمْ يُرَخِّصُوا فِي تَرْكِهَا . وَقَالُوا إِنْ سَمِعَ الرَّجُلُ وَهُوَ عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ فَإِذَا تَوَضَّأَ سَجَدَ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ وَبِهِ يَقُولُ إِسْحَاقُ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِنَّمَا السَّجْدَةُ عَلَى مَنْ أَرَادَ أَنْ يَسْجُدَ فِيهَا وَالْتَمَسَ فَضْلَهَا وَرَخَّصُوا فِي تَرْكِهَا إِنْ أَرَادَ ذَلِكَ . وَاحْتَجُّوا بِالْحَدِيثِ الْمَرْفُوعِ حَدِيثِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ حَيْثُ قَالَ قَرَأْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم النَّجْمَ فَلَمْ يَسْجُدْ فِيهَا . فَقَالُوا لَوْ كَانَتِ السَّجْدَةُ وَاجِبَةً لَمْ يَتْرُكِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم زَيْدًا حَتَّى كَانَ يَسْجُدُ وَيَسْجُدُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم . وَاحْتَجُّوا بِحَدِيثِ عُمَرَ أَنَّهُ قَرَأَ سَجْدَةً عَلَى الْمِنْبَرِ فَنَزَلَ فَسَجَدَ ثُمَّ قَرَأَهَا فِي الْجُمُعَةِ الثَّانِيَةِ فَتَهَيَّأَ النَّاسُ لِلسُّجُودِ فَقَالَ إِنَّهَا لَمْ تُكْتَبْ عَلَيْنَا إِلاَّ أَنْ نَشَاءَ . فَلَمْ يَسْجُدْ وَلَمْ يَسْجُدُوا . فَذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِلَى هَذَا . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ .
। যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সূরা নাজম পাঠ করে শুনালাম, কিন্তু তিনি সিজদা করেননি। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১২৬৬), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ যাইদ ইবনু সাবিতের হাদীসটি হাসান সহীহ। কিছু আলিম উল্লেখিত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, যেহেতু যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) সিজদা করেননি তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও সিজদা করেননি। তাদের মতে তিলাওয়াতকারী সিজদা না করলে শ্রোতার উপর সিজদা ওয়াজিব হয় না। কতকে বলেন, শ্রবণকারীর উপরও সিজদা করা ওয়াজিব, এটা ছেড়ে দেয়ার কোন অনুমতি নেই। যদি ওযুহীন অবস্থায় শুনে তবে ওযু করার পর সিজদা করবে। সুফিয়ান সাওরী ও কুফাবাসীগণ একথা বলেছেন। ইসহাকও একই রকম মত দিয়েছেন। অপর একদল বিদ্বান বলেছেন, যে ব্যক্তি সিজদা করতে চায় এবং তার ফাযীলাত (সাওয়াব) লাভের ইচ্ছে করে শুধুমাত্র সেই সিজদা করবে। সিজদা ছেড়ে দেয়ারও অনুমতি আছে। অর্থাৎ সে ইচ্ছা করলে সিজদা নাও করতে পারে। তারা উপরে উল্লেখিত যাইদ (রাঃ)-এর মারফু হাদীসকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তারা বলেন, যদি সিজদা করা ওয়াজিব হতো তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাইদ (রাঃ)-কে সিজদা করতে বাধ্য করতেন এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেও সিজদা করতেন। তারা উমার (রাঃ)-এর হাদীসও নিজেদের দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। “তিনি মিম্বারের উপর (জুমুআর খুতবায়) সিজদার আয়াত পাঠ করলেন, তারপর মিম্বার থেকে নেমে সিজদা করলেন। উল্লেখিত সিজদার আয়াতটি তিনি (উমার) পরবর্তী জুমুআর দিনও (খুতবার মধ্যে) পাঠ করলেন। লোকেরা সিজদা দেওয়ার প্রস্তুতি নিল। তিনি বললেন, সিজদা করা আমাদের জন্য আবশ্যক নয়, হ্যাঁ, যে চায় (সে করতে পারে)। উমার (রাঃ)-ও সিজদা করলেন না এবং লোকেরাও সিজদা করলো না।" (বুখারীতেও এ হাদীস উল্লেখিত হয়েছে)। একদল আলিম এই মত অবলম্বন করেছেন। ইমাম শাফিঈ এবং আহমাদও এ মত সমর্থন করেছেন।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সূরা সাদ'-এ সিজদা করতে দেখেছি। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ এটা ওয়াজিব সিজদার অন্তর্ভুক্ত নয়। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১২৭০)। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। উল্লেখিত সিজদা প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও তাবিঈদের মধ্যে মতের অমিল রয়েছে। একদল সিজদা করার পক্ষে মত দিয়েছেন। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এই মতের পক্ষপাতি। অপর দল বলেছেন, এটাতো একজন নবীর (দাউদ আলাইহিস সালামের) তওবার সিজদা ছিল। অতএব এ সূরায় কোন সিজদা নেই।
। উকবা ইবনু আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সূরা হাজকে অত্যন্ত অধিক মর্যাদা দেয়া হয়েছে। কেননা এর মধ্যে দুটি সিজদা রয়েছে। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। যে ব্যক্তি এই সিজদা্ দুটো না করে সে যেন এই দুটো (সিজদার আয়াত) পাঠ না করে। —হাসান। সহীহ আবু দাউদ- (১২৬৫), মিশকাত— (১০৩০)। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটির সনদ খুব একটা শক্তিশালী নয়। সূরা হাজ্জের সিজদার ব্যাপারে ‘আলিমদের মধ্যে মতের অমিল রয়েছে। উমার ইবনুল খাত্তাব ও আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বলেছেন, সূরা হাজ্জকে সম্মানিত করা হয়েছে। কারণ এতে দুটো সিজদা রয়েছে। ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও একই রকম কথা বলেছেন। অপর এক দল বলেছেন, সূরা হাজে একটি মাত্র সিজদা। সুফিয়ান সাওরী, মালিক ও কুফাবাসীগণ এই মত গ্রহণ করেছেন।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আজ রাতে নিজেকে স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি ঘুমিয়ে আছি, আমি যেন একটি গাছের পিছনে নামায আদায় করছি। আমি তিলাওয়াতের সিজদা করলাম এবং গাছটিও আমার সিজদার সাথে সাথে সিজদা করলো। আমি গাছটিকে বলতে শুনলাম– “হে আল্লাহ! এই সিজদার বিনিময়ে তোমার কাছে আমার জন্য সাওয়াব নির্ধারণ করে রাখ, এর বিনিময়ে আমার একটি গুনাহ দূর কর, এটাকে তোমার কাছে আমার জন্য সঞ্চয় হিসেবে জমা রাখ এবং এটা আমার নিকট হতে গ্রহণ করে নাও, যেভাবে তুমি তোমার বান্দা দাউদ (আঃ)-এর নিকট গ্রহণ করেছিলে।” ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদার আয়াত পাঠ করলেন এবং সিজদা করলেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) আবার বললেন, আমি তাকে তখন সেই গাছের দু'আটির মতো পাঠ করতে শুনলাম, যে সম্পর্কে ইতোপূর্বে লোকটি তাকে জানিয়েছিল। -হাসান। ইবনু মাজাহ– (১০৫৩)। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। উপরোক্ত সূত্রেই কেবল আমরা হাদীসটি জেনেছি। এ অনুচ্ছেদে আবু সাঈদ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা তিলাওয়াতের সিজদাতে এই দু'আ পাঠ করতেনঃ “আমার চেহারা সেই মহান সত্তার জন্য সিজদা করলো যিনি নিজ শক্তি ও সামর্থে একে সৃষ্টি করেছেন এবং এতে শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি দান করেছেন।” -সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১২৭৩)। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ‘আবদুর রহমান ইবনু আবদুল কারী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আমি 'উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের নিয়মিত ও নির্দিষ্ট পরিমাণ (কুরআন) তিলাওয়াত অথবা তার অংশবিশেষ বাকী রেখে ঘুমিয়ে গেল এবং ফজর ও যুহরের মাঝামাঝি সময়ে তা পাঠ করে নিল, সে যেন তা রাতেই পাঠ করে নিয়েছে বলে গণ্য হবে। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১৩৪৩), মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবু সাফওয়ানের নাম আব্দুল্লাহ ইবনু সাঈদ, হুমাইদীসহ স্বনামধন্য ইমামগণ তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইমামের আগে (রুকূ-সিজদা থেকে) মাথা উত্তোলনকারীর কি ভয় নেই যে, আল্লাহ তা'আলা তার মাথাকে গাধার মাথায় রূপান্তরিত করে দিবেন? —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৯৬১), বুখারী ও মুসলিম। আবু হুরাইরা (রাঃ) আমা ইয়াখশা' (সে কি ভয় করে না) শব্দ বলেছেন। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মাগরিবের নামায আদায় করতেন, তারপর নিজের গোত্রে গিয়ে তাদের ইমামতি করতেন। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (৭৫৬), বুখারী ও মুসলিম আরো পূর্ণরূপে। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আমাদের সঙ্গী ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। তারা বলেছেন, কোন ব্যক্তি ফরয নামায আদায় করার পর আবার ইমাম হয়ে সে যদি ঐ নামায আদায় করায় তবে তার পিছনে ইকতিদাকারীদের নামায আদায় হয়ে যাবে। তারা উপরের হাদীস নিজেদের দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এটা একটা সহীহ হাদীস। আর এটা বেশ কয়েকটি সূত্রে জাবির (রাঃ)-এর হতে বর্ণিত হয়েছে। “আবু দারদা (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হলো, এক ব্যক্তি মসজিদে গেল, লোকেরা তখন আসরের নামায আদায় করছিল। সে ধারণা করলো তারা যুহরের নামায আদায় করছে। সে জামা'আতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে নামায আদায় করলো (তার নামাযের হুকুম কি)। তিনি বলেন, তার নামায জায়িয হয়েছে।” কুফাবাসীদের একদল বলেছেন, একদল লোক ইমামের পিছনে এসে ইকতিদা করলো। সে তখন আসরের নামায আদায় করছিল। তারা মনে করলো, সে (ইমাম) যুহরের নামায আদায় করছে। সে তাদের নামায আদায় করালো এবং তারাও তার পিছনে ইকতিদা করলো। এ অবস্থায় তাদের নামায ফাসিদ (নষ্ট) হয়ে যাবে। কেননা ইমাম ও মুক্তাদীদের নিয়াতের মধ্যে প্রভেদ সৃষ্টি হয়ে গেছে।