। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আমরা গরমের দিনে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে নামায আদায়কালে গরম থেকে বাচার জন্য কাপড়ের উপর সিজদা করতাম। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১০৩৩), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে জাবির ইবনু আবদুল্লাহ ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। উল্লেখিত হাদীসটি ওয়াকী (রহঃ) খালিদ ইবনু আবদুর রহমানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস 585 — Jami At Tirmidhi 6:42
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ Muslim
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا صَلَّى الْفَجْرَ قَعَدَ فِي مُصَلاَّهُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। জাবির ইবনু সামুরা হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামায আদায়ের পর সূর্য উঠা পর্যন্ত নিজের নামাযের জায়গায় বসে থাকতেন। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১১৭১), মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামায জামাআতে আদায় করে, তারপর সূর্য উঠা পর্যন্ত বসে বসে আল্লাহ তা'আলার যিকর করে, তারপর দুই রাকাআত নামায আদায় করে- তার জন্য একটি হাজ্জ ও একটি উমরার সাওয়াব রয়েছে। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পূর্ণ, পূর্ণ, পূর্ণ (হাজ্জ ও উমরার সাওয়াব)। -হাসান। তা’লীকুর রাগীব- (১/১৬৪, ১৬৫), মিশকাত- (৯৭১)। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। তিনি আরো বলেন, বললেন, তিনি হাদীস বর্ণনার উপযুক্ত। তার নাম হিলাল।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহু ওয়াসাল্লাম নামাযরত অবস্থায় ডানে-বাঁয়ে তাকাতেন কিন্তু পিছনের দিকে ঘাড় ফেরাতেন না। —সহীহ। মিশকাত— (৯৯৮)। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি গারীব, ওয়াকী (রহঃ) তার বর্ণনায় আল-ফাযল ইবনু মূসার বর্ণনার সাথে মতপার্থক্য করেছেন।
হাদিস 588 — Jami At Tirmidhi 6:45
হাসান
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ بَعْضِ، أَصْحَابِ عِكْرِمَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَلْحَظُ فِي الصَّلاَةِ . فَذَكَرَ نَحْوَهُ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَعَائِشَةَ .
ইকরামার কিছু সঙ্গী হতে বর্ণিত আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযে এদিক-সেদিক চোখ ঘুরাতেন উপরের হাদীসের মতো। সহীহ দেখুন পূর্বোক্ত হাদীস। এ অনুচ্ছেদে আনাস ও আয়িশাহ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ হে প্রিয় বৎস সাবধান! নামাযের মধ্যে কখনো এদিক-সেদিক দেখবে না। কেননা নামাযরত অবস্থায় এদিক-সেদিক তাকানো সর্বনাশ ডেকে আনে। যদি তাকানোর খুবই দরকার হয় তবে নফল নামাযে তাকাও, ফরয নামাযে নয়। যঈফ, তালিকাতুল জিয়াদ, তালিকুর রাগীব- (১৯৯১), মিশকাত- (৯৯৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নামাযরত অবস্থায় এদিক-সেদিক তাকানো প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ এটা নামায থেকে কিছু অংশ নিয়ে যায়। —সহীহ। ইরওয়া— (৩৭০), বুখারী। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান গারীব।
। মু'আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ নামায আদায় করতে এসে ইমামকে কোন এক অবস্থায় পেল। ইমাম যেরূপ করে সেও যেন অনুরূপ করে (তাকে যে অবস্থায় পাবে সেই অবস্থায় তার সাথে নামাযে শারীক হয়ে যাবে।)। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (৫২২), আস-সাহীহাহ– (১১৮৮)। আবু ঈসা বলেনঃ এটি গারীব হাদীস। উল্লেখিত সূত্রটি ছাড়া আর কোন সূত্রে এ হাদীসটি কেউ বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। বিদ্বানগণ এ হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। কোন ব্যক্তি মসজিদে এসে ইমামকে সিজদারত অবস্থায় পেলে সেও তার সাথে সিজদায় শারীক হবে। যদি ইমামকে রুকূতে না পায় তবে সেই রাকাআত পেল না। আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক ইমামের সাথে সিজদায় শারীক হওয়া পছন্দ করেছেন। কোন কোন বিদ্বান প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে, তারা বলেছেন, আশা করা যায় এ সিজদা হতে মাথা তোলার আগেই তাকে মাফ করা হবে।
। আব্দুল্লাহ ইবনু কাতাদা (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত, তিনি (আবু কাতাদা) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নামাযের জন্য ইকামাত দেয়া হলে আমাকে (কামরা হতে) বের হতে না দেখা পর্যন্ত তোমরা দাড়াবে না। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ– (৫৫০), আর রাউজুন নামীর- (১৮৩), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ আবু কাতাদার হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। কিন্তু তার হাদীসটি সুরক্ষিত নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবা ও অন্যরা দাড়িয়ে দাঁড়িয়ে ইমামের জন্য বিলম্ব করা মাকরূহ বলেছেন। অপর দল বলেছেন, ইমাম মসজিদে হাযির থাকলে এবং নামাযের ইকামাতও বললে উঠে দাঁড়াবে। ইবনুল মুবারাক একথা বলেছেন।
হাদিস 593 — Jami At Tirmidhi 6:50
হাসান Sahihসহিহহাসান SahihIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنْتُ أُصَلِّي وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ مَعَهُ فَلَمَّا جَلَسْتُ بَدَأْتُ بِالثَّنَاءِ عَلَى اللَّهِ ثُمَّ الصَّلاَةِ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ دَعَوْتُ لِنَفْسِي فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " سَلْ تُعْطَهْ سَلْ تُعْطَهْ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا الْحَدِيثُ رَوَاهُ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ آدَمَ مُخْتَصَرًا .
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি নামায আদায় করছিলাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আবু বাকর এবং উমর (রাঃ)-ও উপস্থিত ছিলেন। আমি (শেষ বৈঠকে) বসলাম, প্রথমে আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করলাম, তারপর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সালাম নিবেদন করলাম, তারপর নিজের জন্য দু'আ করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি প্রার্থনা করতে থাক তোমাকে দেয়া হবে, তুমি প্রার্থনা করতে থাক তোমাকে দেয়া হবে। -হাসান সহীহ। সিফাতুস সালাত, তাখরাজুল মুখতারাহ- (২৫৫), মিশকাত— (৯৩১)। এ অনুচ্ছেদে ফাযালী ইবনু উবাইদ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদের হাদীসটি হাসান সহীহ। আহমাদ ইবনু হাম্বাল হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবনু আদমের সূত্রে সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা করেছেন।