حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ الْمُؤَدِّبُ الْبَغْدَادِيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَامِرُ بْنُ صَالِحٍ الزُّبَيْرِيُّ، هُوَ مِنْ وَلَدِ الزُّبَيْرِ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِبِنَاءِ الْمَسَاجِدِ فِي الدُّورِ وَأَنْ تُنَظَّفَ وَتُطَيَّبَ .
। আইশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাড়ায় পাড়ায় মাসজিদ নির্মাণ করতে, তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং সুবাসিত করতে হুকুম দিয়েছেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৭৫৯)।
হাদিস 595 — Jami At Tirmidhi 6:52
সহিহ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، وَوَكِيعٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ فَذَكَرَ نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا أَصَحُّ مِنَ الْحَدِيثِ الأَوَّلِ .
। হিশাম ইবনু উরওয়া (রহঃ) হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন........ উপরের হাদীসের মতোই। আবু ঈসা বলেনঃ এই বর্ণনা সূত্র পূর্ববর্তী সূত্রের চেয়ে বেশি সহীহ্।
হাদিস 596 — Jami At Tirmidhi 6:53
সহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ فَذَكَرَ نَحْوَهُ . قَالَ سُفْيَانُ قَوْلُهُ " بِبِنَاءِ الْمَسَاجِدِ فِي الدُّورِ " . يَعْنِي الْقَبَائِلَ .
। হিশাম ইবনু উরওয়া (রহঃ) হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন...... উপরের হাদীসের মতোই। সুফিয়ান সাওরী বলেছেন, পাড়ায় পাড়ায় মাসজিদ নির্মাণের অর্থ প্রতি বংশ ও লোকালয়ে মাসজিদ তৈরী করা।
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ রাত ও দিনের (নফল) নামায দুই রাকাআত দুই রাকাআত। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১৩২২)। আবু ঈসা বলেনঃ শু’বার সঙ্গীরা ইবনু উমর (রাঃ)-এর হাদীসটি বর্ণনায় মত পার্থক্য করেছেন। তাদের কয়েকজন এটাকে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আবার কয়েকজন মাওকুফ হিসেবে। নাফি (রহঃ) ইবনু উমারের সূত্রে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। সহীহ বর্ণনা হলো, ইবনু উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে বর্ণনা করেছেন, “রাতের নামায দুই দুই রাকাআত”। নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) রাবীগণ ইবনু উমারের সূত্রে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে যে বর্ণনা করেছেন তাতে দিনের নামাযের উল্লেখ করেননি। ইবনু উমর (রাঃ) প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাতের নামায দুই রাকাআত করে এবং দিনের নামায চার রাক’আত করে আদায় করতেন। এ প্রসঙ্গে বিদ্বানদের মধ্যে মতের অমিল রয়েছে। ইমাম শাফিঈ ও আহমাদ রাত ও দিনের (ফরয ছাড়া অন্যান্য) নামায এক সালামে দুই দুই রাকাআত (করে আদায় করতে হবে) বলে মত দিয়েছেন। অপর একদল বলেছেন, রাতের নামায দুই দুই রাকাআত। তাদের মতে দিনের নফল ও অন্যান্য নামায চার রাকাআত করে, যেমন যুহরের পূর্বে চার রাকাআত আদায় করা হয়। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক ও ইসহাক এ মতেই মত দিয়েছেন।
। আসিম ইবনু যামরা (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আমরা আলী (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিনের বেলার নামায প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, তোমরা সে রকম নামায আদায় করতে সক্ষম হবে না। আমরা বললাম, আমাদের মধ্যে কে সে রকম আদায় করতে সক্ষম হবে? তিনি বললেন, যখন সূর্য এদিকে (পূর্বকাশে) এরূপ হতো যেমন আসরের সময় হয়ে থাকে, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই রাকাআত (সালাতুল ইশরাক) নামায আদায় করতেন। আবার যখন সূর্য এদিকে (পূর্বকাশে) এরূপ হতো, যেমন যুহরের ওয়াক্তের সময় (পশ্চিমাকাশে) হয় তখন তিনি চার রাকাআত (সালাতুদ যুহা) নামায আদায় করতেন। তিনি যুহরের পূর্বে চার রাকাআত এবং পরে দুই রাকাআত এবং আসরের পূর্বে চার রাকাআত নামায আদায় করতেন। তিনি নৈকট্য লাভকারী ফেরেশতা, নবী-রাসূল এবং তাদের অনুসারী মু'মিন মুসলিমদের প্রতি সালাম পাঠানোর মাধ্যমে প্রতি দুই রাকাআতের মাঝখানে অন্তরাল সৃষ্টি করতেন। (অর্থাৎ দুই দুই রাকাআত করে আদায় করতেন)। —হাসান। ইবনু মাজাহ- ১১৬১)।
। অপর একটি সূত্রেও আসিম (রাঃ) হতে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। এটি হাসান হাদীস। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিনের বেলার নফল নামায সম্পর্কে এ হাদীসটি সর্বাধিক সহীহ। ইবনুল মুবারাক এ হাদীসটিকে যঈফ বলতেন। আমার মতে তার এ হাদীসটিকে যঈফ বলার কারণ এই যে, আল্লাহ তা'আলাই বেশি ভাল জানেন, কেবল উল্লেখিত সূত্রেই হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু হাদীস বিশারদদের মতে আসিম ইবনু যামরা নির্ভরযোগ্য রাবী। সুফিয়ান সাওরী বলেন, আমাদের কাছে হারিসের হাদীসের তুলনায় আসিমের হাদীস বেশি উত্তম।
হাদিস 600 — Jami At Tirmidhi 6:57
সহিহসহিহহাসান SahihIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ أَشْعَثَ، وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ يُصَلِّي فِي لُحُفِ نِسَائِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رُخْصَةٌ فِي ذَلِكَ .
। আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিবিদের ওড়না, চাদর ইত্যাদিতে নামায আদায় করতেন না। —সহীহ। আবু দাউদ- (৩৯১)। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে সম্মতির কথাও উল্লেখ আছে।
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি (যখন) আসলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তখন) নামায আদায় করছিলেন। এ সময় ভিতর হতে ঘরের দরজা আটকানো ছিল। তিনি (নামাযরত অবস্থায়) হেঁটে এসে আমার জন্য দরজা খুলে দিলেন। তারপর তিনি নিজের জায়গায় ফিরে আসলেন। দরজাটি কিবলার দিকে ছিল। —হাসান। সহীহ আবু দাউদ- (৮৫৫), মিশকাত— (১০০৫), আল-ইরওয়া— (৩৮৬)। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান গারীব।
। আমাশ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আবু ওয়ায়িলকে বলতে শুনেছি, এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-কে (সূরা মুহাম্মাদের) একটি শব্দ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করল, এটা কি গাইর আসিনিন’ হবে না 'গাইরু ইয়াসিনিন’ হবে? তিনি বললেন, এটা ছাড়া তুমি কি সমগ্র কুরআন পাঠ করে নিয়েছ? সে বললঃ হ্যাঁ। তিনি বললেন, একদল লোক কুরআন পাঠ করে এবং তারা এটাকে ঝাড়ে নিম্নমানের খেজুর ঝাড়ার মত। তাদের (কুরআন) পাঠ তাদের কণ্ঠনালীর উপরে উঠে না। আমি দুই দুইটি সাদৃশ্যপূর্ণ সূরা সম্পর্কে জানি যেগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একত্রে মিলিয়ে পাঠ করতেন। রাবী বলেন, আমরা আলকামা (রহঃ)-কে প্রশ্ন করতে বললে তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলেন। তিনি বললেন, মুফাস্সাল সূরাগুলোর মধ্যে এমন বিশটি সূরা রয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেগুলোর দুই দুইটিকে পরস্পরের সাথে মিলিয়ে প্রতি রাকাআতে পাঠ করতেন (অর্থাৎ এক এক রাকাআতে দুটি করে সূরা পাঠ করতেন)। -সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১২৬২), সিফাতুস সালাত, বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওযু করল তারপর নামাযের উদ্দেশ্যে রাওয়ানা হল। একমাত্র নামাযই তাকে (ঘর হতে) বের করল অথবা নামাযই তাকে উঠিয়েছে, এ অবস্থায় তার প্রতিটি কদমের বিনিময়ে আল্লাহ তা'আলা তার একগুণ মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন অথবা একটি করে গুনাহ মাফ করে দিবেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৭৭৪), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।