حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي الْوَزِيرِ الْبَصْرِيُّ، ثِقَةٌ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ صَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي مَسْجِدِ بَنِي عَبْدِ الأَشْهَلِ الْمَغْرِبَ فَقَامَ نَاسٌ يَتَنَفَّلُونَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " عَلَيْكُمْ بِهَذِهِ الصَّلاَةِ فِي الْبُيُوتِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَالصَّحِيحُ مَا رُوِيَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ فِي بَيْتِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ عَنْ حُذَيْفَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الْمَغْرِبَ فَمَا زَالَ يُصَلِّي فِي الْمَسْجِدِ حَتَّى صَلَّى الْعِشَاءَ الآخِرَةَ . فَفِي هَذَا الْحَدِيثِ دِلاَلَةٌ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ فِي الْمَسْجِدِ .
। সা'দ ইবনু ইসহাক ইবনু কাব ইবনু উজরা (রাঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা এবং দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল আশহাল গোত্রের মসজিদে মাগরিবের নামায আদায় করলেন। লোকেরা নফল নামায আদায় করতে দাড়াল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ নামায অবশ্যই তোমাদের ঘরে আদায় করা উচিৎ। -হাসান। ইবনু মাজাহ– (১১৬৫)। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। কেননা এটা আমরা শুধুমাত্র উল্লেখিত সূত্রেই জেনেছি। ইবনু উমারের সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি সহীহ। তাতে আছে, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের পরের দুই রাকাআত নিজের ঘরেই আদায় করতেন।" হুযাইফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, “নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের নামায আদায় করলেন, তিনি বরাবর মসজিদে নামায আদায় করতে থাকলেন। এমনকি ইশার ওয়াক্ত উপস্থিত হলো। তিনি ইশার নামায আদায় করলেন।” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের পর দুই রাকাআত (সুন্নাত) নামায মসজিদেও আদায় করেছেন, এ হাদীস হতে তার প্রমাণ পাওয়া যায়।
। কাইস ইবনু আসিম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি ইসলাম কবুল করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কূলের পাতা মেশানো পানি দিয়ে গোসল করার হুকুম দিলেন। —সহীহ। তাখরীজুল মিশকাত— (৫৪৩), সহীহ আবু দাউদ- (৩৮১)। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। উপরোক্ত সনদসূত্রেই আমরা হাদীসটি অবগত হয়েছি। এ অনুচ্ছেদে আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসের পরিপ্রেক্ষিতে আলিমগণ বলেছেন, মুসলিম হওয়ার সময় গোসল করা ও পরনের পোশাক ধোয়া মুস্তাহাব।
হাদিস 606 — Jami At Tirmidhi 6:63
সহিহসহিহদাঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ بَشِيرِ بْنِ سَلْمَانَ، حَدَّثَنَا خَلاَّدٌ الصَّفَّارُ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ النَّصْرِيِّ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، رضى الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " سَتْرُ مَا بَيْنَ أَعْيُنِ الْجِنِّ وَعَوْرَاتِ بَنِي آدَمَ إِذَا دَخَلَ أَحَدُهُمُ الْخَلاَءَ أَنْ يَقُولَ بِسْمِ اللَّهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَإِسْنَادُهُ لَيْسَ بِذَاكَ الْقَوِيِّ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَشْيَاءُ فِي هَذَا .
। আলী ইবনু আবু তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জিনের দৃষ্টি ও আদম সন্তানের লজ্জাস্থানের মাঝখানে পর্দা হলো, যখন তাদের কেউ পায়খানায় প্রবেশ করে সে যেন বিসমিল্লাহ বলে। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (২৯৭)। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই আমরা হাদীসটি জেনেছি। এর সনদ খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়। এ প্রসঙ্গে আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
। আবদুল্লাহ ইবনু বুসর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কিয়ামতের দিন আমার উম্মাতের মুখ-মন্ডল সিজদার কল্যাণে আলোক উদ্ভাসিত হবে এবং ওযুর কল্যাণে হাত-মুখ চমকপ্রদ (আলোকিত) হবে। -সহীহ। আস-সহীহাহ– (২৮৩৬)। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি উপরোক্ত সূত্রে হাসান, সহীহ্ গারীব।
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্রতা অর্জন, মাথা আচড়ানো এবং জুতা পরার সময় এ কাজগুলো ডান দিক থেকে শুরু করাই পছন্দ করতেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৪০১)। বুখারী ও মুসলিম অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 609 — Jami At Tirmidhi 6:66
সহিহসহিহদাঈফ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عِيسَى، عَنِ ابْنِ جَبْرٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يُجْزِئُ فِي الْوُضُوءِ رِطْلاَنِ مِنْ مَاءٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ شَرِيكٍ عَلَى هَذَا اللَّفْظِ . وَرَوَى شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَبْرٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَوَضَّأُ بِالْمَكُّوكِ وَيَغْتَسِلُ بِخَمْسَةِ مَكَاكِيَّ . وَرُوِيَ عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عِيسَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَبْرٍ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَوَضَّأُ بِالْمُدِّ وَيَغْتَسِلُ بِالصَّاعِ . وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ شَرِيكٍ .
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দুই রিতল পানিই ওযুর জন্য যথেষ্ট। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (২৭০)। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই উপরোক্ত শব্দে হাদীসটি জেনেছি। আনাস (রাঃ) হতে অপর এক বর্ণনায় আছে– “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাকুক পানি দিয়ে ওযু এবং পাঁচ মাকুক পানি দিয়ে গোসল করতেন।” অপর বর্ণনায় আছে, আনাস (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মুদ্দ পানি দিয়ে ওযু এবং এক সা’ পানি দিয়ে গোসল করেছেন। এই হাদীসটি শারীকের হাদীস হতে অধিক সহীহ।
। আলী ইবনু আবু তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুগ্ধপোষ্য শিশুর পেশাব প্রসঙ্গে বলেনঃ পুরুষ শিশুর পেশাবে পানি ছিটিয়ে দিতে হবে এবং কন্যা শিশুর পেশাব ধুয়ে ফেলতে হবে। কাতাদা (রহঃ) বলেনঃ শিশুরা যতক্ষণ শক্ত খাবার না ধরবে ততক্ষণ এই নির্দেশ বহাল থাকবে। শক্ত খাবার খাওয়া শুরু করলে উভয়ের পেশাবই ধুয়ে ফেলতে হবে। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৫২৫)। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। হিশাম আদ-দাসতাওয়াঈ এটি মারফু হিসেবে এবং কৃতাদা মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
। শাহর ইবনু হাওশাব হতে বর্ণিত; তিনি বলেনঃ আমি জারীর ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ)-কে ওযু করতে ও মোজার উপর মসাহ করতে দেখলাম। ও তাকে এ বিষয়ে সিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওযু করতে ও মোজার উপর মাসাহ করতে দেখেছি। আমি তাকে বললাম, এটা কি সূরা আল-মায়িদাহ অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে না পরে? তিনি বললেনঃ আমি তো মায়িদাহ অবতীর্ণ হওয়ার পরেই মুসলিম হয়েছি। —সহীহ। ইরওয়া— (১/১৩৭)।
। খালিদ ইবনু যিয়াদ থেকে অন্য সূত্রেও হাদীসটি অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ এই হাদীসটি গারীব। শাহর ইবনু হাওশাব থেকে মুকাতিল ইবনু হাইয়ান ছাড়া অন্য কোন সূত্রে হাদীসটি জানতে পারিনি।