حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ جَرِيرٍ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَتَاكُمُ الْمُصَدِّقُ فَلاَ يُفَارِقَنَّكُمْ إِلاَّ عَنْ رِضًا " .
। জারীর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাকাত আদায়কারী (সংগ্রহকারী) তোমাদের নিকটে আসলে তিনি যেন (তোমাদের উপর সন্তুষ্ট হয়েই ফিরতে পারে (তার সাথে ভাল ব্যবহার কর)। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৮০২), মুসলিম সংক্ষিপ্তভাবে
। আবূ আম্মার আল-হুসাইন ইবনু হুরাইস সুফিয়ান ইবনু উয়াইন হতে, তিনি দাউদ হতে, তিনি শা'বী হতে, তিনি জারীর হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উপরোক্ত হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। আবু ঈসা মুজালিদের হাদীসের (৬৪৭) তুলনায় দাউদের হাদীসকে (৬৪৮) বেশি সহীহ বলেছেন। মুজালিদকে কিছু হাদীস বিশেষজ্ঞ যঈফ বলেছেন এবং তিনি অনেক ভুলের শিকার হন।
। আওন ইবনু আবূ জুহাইফা (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (আবূ জুহাইফা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের (নিযুক্ত) যাকাত আদায়কারী আমাদের নিকটে আসলেন। তিনি আমাদের মালদারদের নিকট হতে যাকাত নিয়ে আমাদের দরিদ্রদের মাঝে বিলি করলেন। এ সময় আমি ইয়াতীম বালক ছিলাম। তিনি আমাকে তা হতে একটি হৃষ্টপুষ্ট মাদী উট দিলেন। - সনদ দুর্বল এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আবূ জুহাইফার হাদীসটি হাসান। ইমাম শাফিঈ এবং অন্যরা এই রকমই মত দিয়েছেন।
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষের নিকটে যে লোক হাত পাতে (সাহায্য প্রার্থনা করে) অথচ তার এটা হতে বাঁচার মত সম্বল আছে, সে লোক কিয়ামত দিবসে তার মুখমণ্ডলে এই সাহায্য চাওয়ার ক্ষত নিয়ে আল্লাহ্ তা'আলার সামনে উপস্থিত হবে। প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! কি পরিমাণ সম্পদ থাকলে সে লোক অন্য কারো নিকটে হাত পাততে পারবে না? তিনি বললেনঃ পঞ্চাশ দিরহাম বা সমমূল্যের স্বর্ণ। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (১৪৩৮), মিশকাত (১৮৪৭) আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। এ হাদীসের পরিপ্রেক্ষিতে শুবা হাকীম ইবনু জুবাইরের সমালোচনা করেছেন।
। মাহমূদ ইবনু গাইলান ইয়াহইয়া ইবনু আ-দাম হতে তিনি সুফিয়ান হতে, তিনি হাকীম ইবনু জুবাইর হতে..... এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। শুবার শাগরিদ আব্দুল্লাহ ইবনু উসমান বলেছেন, যদি হাকীম ব্যতীত অন্য কেউ হাদীসটি বর্ণনা করত একথা শুনে সুফিয়ান তাকে বললঃ শুবার কি হাকীম হতে বর্ণনা করা উচিত নয়? তিনি বললেন, হ্যাঁ, সুফিয়ান বলেন, আমি যুবাইদাকে উহা মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুর রাহমান হতে বর্ণনা করতে শুনেছি। এ হাদীস অনুযায়ী আমাদের কিছু সঙ্গী আমল করেছেন। সুফিয়ান সাওরী, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক, আহমাদ ও ইসহাক বলেছেন, পঞ্চাশ দিরহাম কোন লোকের মালিকানায় থাকলে সে লোকের জন্য যাকাতের মাল খাওয়া বৈধ নয়। অন্য একদল আলিম এ হাদীস অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি। তারা এ সুযোগটাকে আরো ব্যাপক রেখেছেন। তারা বলেছেন, পঞ্চাশ দিরহাম থাকার পরও কোন ব্যক্তি যদি প্রয়োজনে যাকাত নেয়ার মুখাপেক্ষী হয় তবে সেটা নেয়া তার জন্য বৈধ। ইমাম শাফিঈ, ও অন্যান্য ফিকহবিদের অনুরূপ মত।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অবস্থাপন্ন সচ্ছল ও সুস্থ-সবল লোকের জন্য ষাকাত নেয়া বৈধ নয়। — সহীহ, মিশকাত (১৪৪৪), ইরওয়া (৮৭৭) আবু হুরাইরা, হুবশী ইবনু জুনাদা ও কাবীসা ইবনু মুখারিক (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। এ হাদীসটি শুবাও সা’দ ইবনু ইবরাহীম হতে উল্লেখিত সনদে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ হাদীসকে তিনি মারফুহিসেবে বর্ণনা করেননি। অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “অবস্থাপন্ন সচ্ছল লোক এবং শক্তিমান ও সুস্থ দেহের অধিকারী লোকের পক্ষে অন্য কারো নিকটে হাত পাতা জায়িয নয়।" এ প্রসঙ্গে আলিমগণের অভিমত এটাই যে, যদি শক্তিমান সুঠাম দেহের অধিকারী লোক সাহায্যের মুখাপেক্ষী হয় এবং যদি তার নূন্যতম প্রয়োজন মেটানোর মত সম্বল না থাকে তবে সে লোককে যাকাত প্রদান করলে যাকাত আদায় হয়ে যাবে। কিছু মনীষীর মতে, ভিক্ষাবৃত্তি প্রসঙ্গে এ হাদীসটি বলা হয়েছে (যাকাত গ্রহণ জায়িয হওয়া বা না হওয়া প্রসঙ্গে নয়)।
। হুবশী ইবনু জুনাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বিদায় হাজের সময় বলতে শুনেছি। তিনি তখন আরাফার মায়দানে ছিলেন। এক বেদুঈন এসে তার চাঁদরের পার্শ্ব ধরে তার নিকটে কিছু চাইলো। তিনি তাকে কিছু দিলেন। লোকটি চলে গেল। এ সময়ই ভিক্ষারূপ পেশা নিষিদ্ধ করা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ধনী লোকের জন্য এবং সুস্থ সুগঠিত শরীরের অধিকারী সচল ব্যক্তির জন্য (অপরের নিকট) ভিক্ষা করা জায়িয নয়, তবে সর্বনাশা অভাবে পড়েছে এমন ব্যক্তি এবং অপমানকর কর্জে জর্জরিত ব্যক্তির জন্য জায়িয। যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ বাড়ানোর উদ্দেশে অপরের নিকটে ভিক্ষা চায়, কিয়ামতের দিন তার চেহারায় এর ক্ষতচিহ্ন হবে এবং সে জাহান্নামের উত্তপ্ত পাথর খাবে। অতএব যার ইচ্ছা হয় (ভিক্ষা) কম করুক আর যার ইচ্ছা হয় বেশী করুক। যঈফ, ইরওয়া
। মাহমূদ ইবনু গাইলান ইয়াহইয়া ইবনু আদম এর সূত্রে আব্দুর রহীম ইবনু সুলাইমান হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এই সূত্রে হাদীসটি গরীব।
হাদিস 655 — Jami At Tirmidhi 7:39
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ Muslim
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ أُصِيبَ رَجُلٌ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ثِمَارٍ ابْتَاعَهَا فَكَثُرَ دَيْنُهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَصَدَّقُوا عَلَيْهِ " . فَتَصَدَّقَ النَّاسُ عَلَيْهِ فَلَمْ يَبْلُغْ ذَلِكَ وَفَاءَ دَيْنِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِغُرَمَائِهِ " خُذُوا مَا وَجَدْتُمْ وَلَيْسَ لَكُمْ إِلاَّ ذَلِكَ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَجُوَيْرِيَةَ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي سَعِيدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ফল কিনে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে অনেক ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়ে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (লোকদের) বললেনঃ একে তোমরা দান-খায়রাত কর। লোকেরা তাকে দান-খয়রাত করল, কিন্তু তা ঋণ পরিশোধের সমপরিমাণ হল না। তারপর ঋণগ্রস্ত লোকের পাওনাদারদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এখন যা পাচ্ছ নিয়ে নাও, (আপাতত) এরচেয়ে বেশি আর পাবে না। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৩৫৬), মুসলিম আইশা, জুয়াইরিয়া ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
। বাহয ইবনু হাকীম (রাহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (দাদা) বলেন, কোন কিছু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে আনা হলে তিনি প্রশ্ন করতেনঃ এটা সাদকা না-কি উপহার? লোকেরা যদি এটাকে সাদকা বলত তবে তিনি তা খেতেন না এবং লোকেরা যদি এটাকে উপহার বলত তবে তিনি তা খেতেন। — হাসান সহীহ, আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বুখারী, মুসলিম আমর, আবু রাফি ও আবদুর রাহমান ইবনু আলকামা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উল্লেখিত হাদীসটি আব্দুর রাহমান ইবনু আলকামা হতে, আব্দুর রাহমান ইবনু আবূ আকীলার সূত্রেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে। বাহয (রাঃ)-এর দাদার নাম মুআবিয়া ইবনু হাইদা আল-কুশাইরী। আবু ঈসা বাহয ইবনু হাকীম (রাহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান গারীব বলেছেন।