। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর সালাত নয় রাক‘আত আদায় করতেন। পরবর্তীতে (শেষ বয়সের দিকে) তিনি সাত রাক‘আত বিতর সালাত আদায় করেন এবং বিতরের পর বসাবস্থায় দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। তাতে ক্বিরাআত পাঠ করেছেন এবং রুকূ‘র সময় দাঁড়িয়ে রুকূ‘ করেছেন, অতঃপর সিজদা্ করেছেন। হাসান সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীস দুটি অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ আল-ওয়াসিত্বী (রহঃ) মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর হতে। তাতে রয়েছে, ‘আলকামাহ ইবনু ওয়াক্কাস বলেন, হে আম্মাজান! তিনি ঐ দু’ রাক‘আত কিভাবে আদায় করেছেন? অতঃপর হাদীসের ভাবার্থ উল্লেখ করেন।[1] সহীহ।
। হিশাম ইবনু সা‘দ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মাদীনায় এসে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) এর নিকট গিয়ে বললাম, আপনি আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত সম্বন্ধে বলুন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের নিয়ে ‘ইশার সালাত আদায়ের পর নিজের বিছানায় এসে ঘুমাতেন। অতঃপর মাঝ রাতে উঠে নিজের প্রয়োজন সেরে অযুর পানি নিয়ে অযু করে মসজিদে গিয়ে আট রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। আমার ধারণা, তিনি ক্বিরাআত, রুকূ‘ ও সাজদার মধ্যে সমতা বজায় রাখতেন। তারপর এক রাক‘আত বিতর করতেন। সবশেষে বসাবস্থায় দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে বিশ্রাম নিতেন। অতঃপর কখনো বিলাল এসে তাকে সালাতের সংবাদ দিতেন। কখনো তিনি আবার হালকা ঘুমিয়ে পড়েছেন কিনা, এ নিয়ে আমার সংশয় হতো। অতঃপর তাঁকে আবারো সালাতের জন্য ডাকা হতো। এ ছিল বয়োবৃদ্ধ বা শরীর ভারী হওয়া পর্যন্ত তাঁর রাতের সালাত। অতঃপর ‘আয়িশাহ তাঁর শরীর ভারী হওয়া সম্পর্কিত আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী যা উল্লেখ করার করেন। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন।[1] সহীহ।
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ঘুমালেন। অতঃপর তিনি দেখলেন যে, তিনি ঘুম থেকে জেগে মিসওয়াক করে অযু সেরে আল্লাহর এ বাণী তিলাওয়াত করলেনঃ ‘‘ইন্না ফি খালক্বিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি’’ সূরাহ আল ‘ইমরানের শেষ আয়াত পর্যন্ত। তারপর উঠে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। সালাতের ক্বিয়াম, রুকূ‘ ও সিজদা্ খুব দীর্ঘায়িত করলেন। অতঃপর সালাত শেষে তিনি নাক ডেকে ঘুমাতে লাগলেন। এরূপে তিনবারে ছয় রাক‘আত আদায় করলেন এবং প্রতিবারই মিসওয়াক করে অযু সেরে উক্ত আয়াতগুলো তিলাওয়াত করলেন। সবশেষে বিতর পড়লেন। বর্ণনাকারী ‘উসমান বলেন, তিনি বিতর সালাত তিন রাক‘আত আদায় করেছেন। অতঃপর মুয়াযযিন এলে তিনি মসজিদে চলে গেলেন। ইবনু ঈসা বলেন, তিনি বিতর করলেন, অতঃপর ফজরের আবির্ভাব হলে বিলাল (রাঃ) এসে তাঁকে সালাতের সংবাদ দিলেন। তিনি ফজরের দু’ রাক‘আত সুন্নাত আদায়ের পর মসজিদে যান এবং এ দু‘আ পাঠ করেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমার অন্তরে নূর দাও, আমার জবানে নূর দাও, আমার কানে নূর দাও, আমার চোখে নূর দাও, নূর দান করো আমার পেছন ও সম্মুখভাগে এবং আমার উপরে ও নীচে। হে আল্লাহ! আমাকে পর্যাপ্ত নূর দান করো’’।[1] সহীহ : মুসলিম।
। আল-ফাদল ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, স্বচক্ষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত আদায়ের পদ্ধতি অবলোকনের উদ্দেশে আমি একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রাত যাপন করি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুম থেকে উঠে অযু করে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। তাঁর দাঁড়ানোর দীর্ঘতা ছিল তাঁর রুকূ‘র সমান এবং তাঁর রুকূ‘র দীর্ঘতা ছিলো তাঁর সাজদার সমান। অতঃপর তিনি কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে আবার সজাগ হয়ে অযু ও মিসওয়াক করে সূরাহ আল ‘ইমরান হতে এ পাঁচটি আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ ‘‘ইন্না ফি খালকিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়াখতিলাফিল লাইলি ওয়ান নাহারি’’। এরূপে তিনি দশ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন এবং শেষে এক রাক‘আত দ্বারা বিতর করলেন। এ সময় মুয়াযযিন আযান দিলে তিনি সংক্ষেপে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে বসে থাকলেন। অতঃপর ফজরের সালাত আদায় করলেন।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ইবনু বাশশার বর্ণিত এ হাদীসটির কিছু অংশ আমার নিকট অস্পষ্ট।
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি আমার খালা মায়মূনাহর রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা নিকট অবস্থান করি। সন্ধ্যার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে জিজ্ঞেস করলেন, ‘বালকটি কি সালাত আদায় করেছে? তারা বললেন, হাঁ। অতঃপর তিনি শুয়ে পড়লেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি উঠে অযু করে বিতর সহ সাত বা পাঁচ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। এতে তিনি কেবল শেষ রাক‘আতেই সালাম ফিরান।[1] সহীহ।
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি আমার খালা মায়মূনাহ বিনতুল হারিসের ঘরে অবস্থান করি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইশার সালাত আদায়ের পর ঘরে এসে চার রাক‘আত সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়লেন। অতঃপর আবার উঠে সালাত আদায় করতে লাগলেন, তখন আমি তাঁর বাম পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। তিনি আমাকে ঘুরিয়ে এনে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করালেন এবং তিনি পাঁচ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি আবার ঘুমালেন; এমনকি আমি তাঁর নাক ডাকার শব্দ শুনতে পেলাম। অতঃপর আবার উঠে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর (ঘর থেকে) বের হয়ে (মসজিদে) গিয়ে ফজরের সালাত আদায় করেন।[1] সহীহ।
। সাঈদ ইবনু জুবাইর (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা তাকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি উঠে দু’ দু’ রাক‘আত করে আট রাক‘আত সালাত আদায়ের পর পাঁচ রাক‘আত বিতর করেন এবং তিনি এ রাক‘আতগুলোর মাঝে বসেননি।[1] সহীহ।
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের পূর্বের দু’ রাক‘আতসহ সর্বমোট তের রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। দু’ দু’ রাক‘আত করে ছয় রাক‘আত এবং বিতর পাঁচ রাক‘আত, এর সর্বশেষ রাক‘আত ছাড়া তিনি মাঝখানে বসতেন না।[1] সহীহ।