Qurani·قرآني
বাংলা

সালাত (কিতাবুস সালাত): নফল সালাত

121 হাদিস · #1250–1370

হাদিস 1360 — Sunan Abu Dawud 5:111
সহিহসহিহসহিহসহিহ Muslim (737)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ ‏:‏ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي بِاللَّيْلِ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً بِرَكْعَتَىِ الْفَجْرِ ‏.‏
। ‘উরওয়াহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাকে বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু’ রাক‘আত (সুন্নাত) সহ রাতে সর্বমোট তের রাক‘আত সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
হাদিস 1361 — Sunan Abu Dawud 5:112
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (1159)
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، وَجَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ يَزِيدَ الْمُقْرِئَ، أَخْبَرَهُمَا عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي أَيُّوبَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، ‏:‏ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الْعِشَاءَ، ثُمَّ صَلَّى ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ قَائِمًا، وَرَكْعَتَيْنِ بَيْنَ الأَذَانَيْنِ وَلَمْ يَكُنْ يَدَعُهُمَا ‏.‏ قَالَ جَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ فِي حَدِيثِهِ ‏:‏ وَرَكْعَتَيْنِ جَالِسًا بَيْنَ الأَذَانَيْنِ، زَادَ ‏:‏ جَالِسًا ‏.‏
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইশার সালাত আদায়ের (অনেকক্ষণ) পরে দাঁড়িয়ে আট রাক‘আত সালাত আদায় করেন এবং দু’ আযানের (ফজরের আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের) মাঝখানে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেন। তিনি কখনো এ দু’ রাক‘আত ছেড়ে দেননি। জা‘ফর ইবনু মুসাফিরের বর্ণনায় রয়েছেঃ তিনি দু’ আযানের মাঝখানে দু’ রাক‘আত সালাত বসে আদায় করেছেন।[1] সহীহ : তার একথাটি বাদেঃ দুই আযানের মাঝে। সংরক্ষিত হচ্ছেঃ বিতরের পরে।
হাদিস 1362 — Sunan Abu Dawud 5:113
সহিহসহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَيْسٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ رضى الله عنها ‏:‏ بِكَمْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُوتِرُ قَالَتْ ‏:‏ كَانَ يُوتِرُ بِأَرْبَعٍ وَثَلاَثٍ، وَسِتٍّ وَثَلاَثٍ، وَثَمَانٍ وَثَلاَثٍ، وَعَشْرٍ وَثَلاَثٍ، وَلَمْ يَكُنْ يُوتِرُ بِأَنْقَصَ مِنْ سَبْعٍ، وَلاَ بِأَكْثَرَ مِنْ ثَلاَثَ عَشْرَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ زَادَ أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ ‏:‏ وَلَمْ يَكُنْ يُوتِرُ بِرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْفَجْرِ ‏.‏ قُلْتُ ‏:‏ مَا يُوتِرُ قَالَتْ ‏:‏ لَمْ يَكُنْ يَدَعُ ذَلِكَ ‏.‏ وَلَمْ يَذْكُرْ أَحْمَدُ ‏:‏ وَسِتٍّ وَثَلاَثٍ ‏.‏
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ ক্বায়িস (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিতর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তিনি চার এবং তিন, ছয় এবং তিন, আট এবং তিন অথবা তিন রাক‘আত বিতর পড়তেন। তিনি সাত রাক‘আতের কম এবং তের রাক‘আতের অধিক বিতর করতেন না।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আহমাদের বর্ণনায় (রহঃ) ছয় ও তিন রাক‘আতের কথা উল্লেখ নেই।
হাদিস 1363 — Sunan Abu Dawud 5:114
দাঈফদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مَنْصُورِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيِّ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ، ‏:‏ أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى عَائِشَةَ فَسَأَلَهَا عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِاللَّيْلِ ‏.‏ فَقَالَتْ ‏:‏ كَانَ يُصَلِّي ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً مِنَ اللَّيْلِ، ثُمَّ إِنَّهُ صَلَّى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً، وَتَرَكَ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ قُبِضَ صلى الله عليه وسلم حِينَ قُبِضَ وَهُوَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ تِسْعَ رَكَعَاتٍ، وَكَانَ آخِرُ صَلاَتِهِ مِنَ اللَّيْلِ الْوِتْرَ ‏.‏
। আল-আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে তাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাতের সালাত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, তিনি রাতে তের রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। পরবর্তীতে তিনি দু’ রাক‘আত বাদ দিয়ে এগার রাক‘আত আদায় করেছেন। অতঃপর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি রাতে নয় রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। বিতর হতো তাঁর রাতের শেষ সালাত।[1] দুর্বল।
হাদিস 1364 — Sunan Abu Dawud 5:115
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (992) Sahih Muslim (763)
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلاَلٍ، عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، أَنَّ كُرَيْبًا، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، قَالَ ‏:‏ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِاللَّيْلِ قَالَ ‏:‏ بِتُّ عِنْدَهُ لَيْلَةً وَهُوَ عِنْدَ مَيْمُونَةَ، فَنَامَ حَتَّى إِذَا ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ أَوْ نِصْفُهُ اسْتَيْقَظَ فَقَامَ إِلَى شَنٍّ فِيهِ مَاءٌ فَتَوَضَّأَ وَتَوَضَّأْتُ مَعَهُ، ثُمَّ قَامَ فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ عَلَى يَسَارِهِ فَجَعَلَنِي عَلَى يَمِينِهِ، ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ عَلَى رَأْسِي كَأَنَّهُ يَمَسُّ أُذُنِي كَأَنَّهُ يُوقِظُنِي فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ، قُلْتُ ‏:‏ فَقَرَأَ فِيهِمَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ ثُمَّ سَلَّمَ ثُمَّ صَلَّى حَتَّى صَلَّى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً بِالْوِتْرِ، ثُمَّ نَامَ فَأَتَاهُ بِلاَلٌ فَقَالَ ‏:‏ الصَّلاَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ فَقَامَ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ صَلَّى لِلنَّاسِ ‏.‏
। মাখরামাহ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, তাকে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) এর মুক্তদাস কুরাইব (রহঃ) অবহিত করেছেন যে, তিনি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাতের সালাতের পদ্ধতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। তিনি বলেছেন, একদা আমি মায়মূনাহ রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমার ঘরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রাত যাপন করি। সেখানে তিনি কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে রাতের এক-তৃতীয়াংশ বা অর্ধেক অতিবাহিত হওয়ার পর জেগে উঠে পানির মশকের নিকট গিয়ে অযু করলেন। আমিও তাঁর সাথে অযু করলাম। তিনি সালাতে দাঁড়ালেন। আমি তাঁর বাম পাশে গিয়ে দাঁড়ালে তিনি আমাকে টেনে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করালেন। অতঃপর তিনি আমার মাথার উপর তাঁর হাত রাখলেন, যেন তিনি আমার কান স্পর্শ করে আমাকে সজাগ করছেন। অতঃপর তিনি সংক্ষেপে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। প্রতি রাক‘আতে তিনি সূরাহ ফাতিহা পাঠ করেন। অতঃপর তিনি সালাম ফিরালেন এবং আবার সালাত আদায় করলেন। শেষ পর্যন্ত বিতর সহ মোট এগার রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। এরপর ঘুমালেন। অতঃপর বিলাল এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! সালাত। তখন তিনি উঠে দু’ রাক‘আত (সুন্নাত) সালাত আদায়ের পর লোকদেকে নিয়ে ফারয সালাত আদায় করলেন।[1] সহীহ।
হাদিস 1365 — Sunan Abu Dawud 5:116
সহিহসহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا نُوحُ بْنُ حَبِيبٍ، وَيَحْيَى بْنُ مُوسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ ‏:‏ بِتُّ عِنْدَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّى ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً مِنْهَا رَكْعَتَا الْفَجْرِ، حَزَرْتُ قِيَامَهُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ بِقَدْرِ ‏{‏ يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ ‏}‏ لَمْ يَقُلْ نُوحٌ ‏:‏ مِنْهَا رَكْعَتَا الْفَجْرِ ‏.‏
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার খালা মায়মূনাহ রাযিয়াল্লাহু ‘আনহার নিকট এক রাত অতিবাহিত করি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের সালাতের উদ্দেশ্যে দাঁড়ালেন। তিনি তের রাক‘আত সালাত আদায় করলেন, তাতে ফজরের দু’ রাক‘আত সুন্নাতও ছিল। আমি অনুমান করলাম, তাঁর প্রতি রাক‘আতে দাঁড়ানোর সময়টুকু ছিল ‘‘ইয়া আইয়্যূহাল মুয্যাম্মিল’’ সূরাহ পাঠের সময়ের অনুরূপ। বর্ণনাকারী নূহ্ ইবনু হাবীব, তন্মধ্যে ফজরের দু’ রাক‘আতও ছিল’ এ কথাটি বলেননি।[1] সহীহ।
হাদিস 1366 — Sunan Abu Dawud 5:117
সহিহসহিহসহিহসহিহ Muslim (765)
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسِ بْنِ مَخْرَمَةَ، أَخْبَرَهُ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، أَنَّهُ - قَالَ - لأَرْمُقَنَّ صَلاَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اللَّيْلَةَ، قَالَ ‏:‏ فَتَوَسَّدْتُ عَتَبَتَهُ أَوْ فُسْطَاطَهُ، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ طَوِيلَتَيْنِ طَوِيلَتَيْنِ طَوِيلَتَيْنِ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَهُمَا دُونَ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ دُونَ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ دُونَ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ دُونَ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا، ثُمَّ أَوْتَرَ، فَذَلِكَ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً ‏.‏
। যায়িদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাতের সালাত স্বচক্ষে দেখার সংকল্প করলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর ঘরের চৌকাঠ বা তাঁবুর দরজাতে মাথা রেখে শুয়ে থাকলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংক্ষেপে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর দু’ রাক‘আত আদায় করলেন খুবই দীর্ঘভাবে। অতঃপর আরো দু’ রাক‘আত। তবে এর দীর্ঘতা পূর্বের দু‘ রাক‘আতের চেয়ে কম। অতঃপর দু’ রাক‘আত পড়লেন, এটা পূর্বের দু‘ রাক‘আতের চেয়ে সংক্ষিপ্ত ছিলো। অতঃপর আরো দু’ রাক‘আত আদায় করলেন পূর্বেরটির চেয়ে সংক্ষিপ্ত করে। অতঃপর বিতর আদায় করলেন। এ নিয়ে সর্বমোট তের রাক‘আত সালাত।[1] সহীহ : মুসলিম।
হাদিস 1367 — Sunan Abu Dawud 5:118
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (992) Sahih Muslim (763)
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، أَخْبَرَهُ ‏:‏ أَنَّهُ، بَاتَ عِنْدَ مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ خَالَتُهُ - قَالَ - فَاضْطَجَعْتُ فِي عَرْضِ الْوِسَادَةِ، وَاضْطَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَهْلُهُ فِي طُولِهَا، فَنَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا انْتَصَفَ اللَّيْلُ - أَوْ قَبْلَهُ بِقَلِيلٍ، أَوْ بَعْدَهُ بِقَلِيلٍ - اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَلَسَ يَمْسَحُ النَّوْمَ عَنْ وَجْهِهِ بِيَدِهِ، ثُمَّ قَرَأَ الْعَشْرَ الآيَاتِ الْخَوَاتِمَ مِنْ سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ، ثُمَّ قَامَ إِلَى شَنٍّ مُعَلَّقَةٍ فَتَوَضَّأَ مِنْهَا فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ، ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي، قَالَ عَبْدُ اللَّهِ ‏:‏ فَقُمْتُ فَصَنَعْتُ مِثْلَ مَا صَنَعَ، ثُمَّ ذَهَبْتُ فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ، فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى رَأْسِي فَأَخَذَ بِأُذُنِي يَفْتِلُهَا، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، قَالَ الْقَعْنَبِيُّ ‏:‏ سِتَّ مَرَّاتٍ، ثُمَّ أَوْتَرَ، ثُمَّ اضْطَجَعَ، حَتَّى جَاءَهُ الْمُؤَذِّنُ فَقَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ، ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الصُّبْحَ ‏.‏
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমার মুক্তদাস কুরাইব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা তাকে বর্ণনা করেছেন যে, এক রাত তিনি তার খালা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী মায়মূনাহ (রাঃ)-এর ঘরে অবস্থান করেন। তিনি বলেন, আমি বিছানায় আড়াআড়ি ঘুমিয়ে পড়ি আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর স্ত্রী লম্বালম্বী ঘুমালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমিয়ে থাকলেন। অতঃপর রাতের অর্ধেক অথবা সামান্য অতিবাহিত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় হাত দিয়ে নিজের মুখমন্ডল হতে ঘুমের রেশ মুছতে মুছতে উঠে বসেন এবং সূরাহ আলে ‘ইমরানের শেষ দশ আয়াত তিলাওয়াত করেন। এরপর পানির একটি ঝুলন্ত মশকের নিকট গিয়ে তা থেকে পানি নিয়ে খুব ভালভাবে অযু করলেন। তারপর দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমিও উঠে তিনি যা যা করেছেন তা করলাম এবং তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপর রেখে আমার কান ধরে টানলেন। অতঃপর তিনি দু’ রাক‘আত, দু’ রাক‘আত, অতঃপর দু’ রাক্‘আত, দু’ রাক‘আত, আবার দু’ রাক‘আত এবং আবার দুই রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। বর্ণনাকারী আল-কা‘নবী বলেন, তিনি এভাবে ছয়বার আদায় করেন। অতঃপর বিতর করে বিশ্রাম নেন। অবশেষে মুয়াযযিন এলে তিনি উঠে সংক্ষেপে দু’ রাক‘আত (সুন্নাত) সালাত আদায় করে বের হলেন এবং (মসজিদে গিয়ে) ফজরের সালাত আদায় করলেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
হাদিস 1368 — Sunan Abu Dawud 5:119
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (5861) Sahih Muslim (782)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏:‏ ‏ "‏ اكْلَفُوا مِنَ الْعَمَلِ مَا تُطِيقُونَ، فَإِنَّ اللَّهَ لاَ يَمَلُّ حَتَّى تَمَلُّوا، وَإِنَّ أَحَبَّ الْعَمَلِ إِلَى اللَّهِ أَدْوَمُهُ وَإِنْ قَلَّ ‏"‏ ‏.‏ وَكَانَ إِذَا عَمِلَ عَمَلاً أَثْبَتَهُ ‏.‏
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সাধ্যানুযায়ী (নিয়মিতভাবে) আমল করবে। কেননা তোমরা বিরক্ত না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ প্রতিদান দেয়া বন্ধ করেন না। মহান আল্লাহ ঐ আমলকে ভালবাসেন যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা পরিমাণে কম হয়। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোন আমল করলে তা নিয়মিতভাবে করতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
হাদিস 1369 — Sunan Abu Dawud 5:120
সহিহসহিহIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا عَمِّي، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، ‏:‏ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ إِلَى عُثْمَانَ بْنِ مَظْعُونٍ فَجَاءَهُ فَقَالَ ‏:‏ ‏"‏ يَا عُثْمَانُ أَرَغِبْتَ عَنْ سُنَّتِي ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ‏:‏ لاَ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَلَكِنْ سُنَّتَكَ أَطْلُبُ ‏.‏ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ فَإِنِّي أَنَامُ وَأُصَلِّي، وَأَصُومُ وَأُفْطِرُ، وَأَنْكِحُ النِّسَاءَ، فَاتَّقِ اللَّهَ يَا عُثْمَانُ، فَإِنَّ لأَهْلِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَإِنَّ لِضَيْفِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَإِنَّ لِنَفْسِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، فَصُمْ وَأَفْطِرْ، وَصَلِّ وَنَمْ ‏"‏ ‏.‏
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উসমান ইবনু মাযউন (রাঃ)-কে ডেকে পাঠালেন। তিনি এলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে ‘উসমান! তুমি কি আমার সুন্নাতকে এড়িয়ে চলছো? তিনি বললেন, না, আল্লাহর শপথ, হে আল্লাহর রসূল! বরং আমি আপনার সুন্নাতেরই প্রত্যাশী। তিনি বললেনঃ আমি (রাতে) ঘুমাই এবং সালাতও আদায় করি, সওম পালন করি এবং ইফতারও করি এবং নারীদেরকে বিবাহও করি। হে উসমান! আল্লাহকে ভয় করো! কেননা তোমার প্রতি তোমার পরিবারের হক আছে, তোমার মেহমানের হক আছে এবং তোমার নিজের শরীরেও হক আছে। কাজেই তুমি সওম পালন করবে এবং ইফতারও করবে, সালাত আদায় করবে এবং নিদ্রায়ও যাবে।[1] সহীহ।
← আগের সংগ্রহে ফিরে যান পরের →

শুধুমাত্র সহিহ ও হাসান হাদিস দেখানো হয়।