। সা‘দ ইবনু ইসহাক ইবনু কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (রহঃ) তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী ‘আবদুল আশহালের মসজিদে এসে সেখানে মাগরিবের সালাত আদায়ের পর দেখলেন, সালাত শেষে লোকেরা সেখানেই (সুন্নাত) সালাত আদায় করছে। তখন তিনি বললেনঃ এটাতো ঘরের সালাত।[1] হাসান।
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের ফারয সালাতের পর দু’ রাক‘আত (সুন্নাত) সালাতের ক্বিরাআত এতো দীর্ঘ করতেন যে, মসজিদের লোকজন চলে যেতো।[1] দুর্বল।
হাদিস 1302 — Sunan Abu Dawud 5:53
দাঈফদাঈফহাসানহাসান
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، عَنْ جَعْفَرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ مُرْسَلٌ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ حُمَيْدٍ يَقُولُ سَمِعْتُ يَعْقُوبَ يَقُولُ كُلُّ شَىْءٍ حَدَّثْتُكُمْ عَنْ جَعْفَرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَهُوَ مُسْنَدٌ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
। সাঈদ ইবনু জুবাইর (রাঃ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সূত্রে এ হাদীসের ভাবার্থ মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।[1] দুর্বল।
হাদিস 1303 — Sunan Abu Dawud 5:54
দাঈফদাঈফদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ الْعُكْلِيُّ، حَدَّثَنِي مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ، حَدَّثَنِي مُقَاتِلُ بْنُ بَشِيرٍ الْعِجْلِيُّ، عَنْ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَ سَأَلْتُهَا عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ مَا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ قَطُّ فَدَخَلَ عَلَىَّ إِلاَّ صَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ أَوْ سِتَّ رَكَعَاتٍ وَلَقَدْ مُطِرْنَا مَرَّةً بِاللَّيْلِ فَطَرَحْنَا لَهُ نِطْعًا فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى ثُقْبٍ فِيهِ يَنْبُعُ الْمَاءُ مِنْهُ وَمَا رَأَيْتُهُ مُتَّقِيًا الأَرْضَ بِشَىْءٍ مِنْ ثِيَابِهِ قَطُّ .
। শুরাইহ ইবনু হানী (রহঃ) হতে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি (শুরাইহ) বলেন, আমি তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইশার ফারয সালাত আদায়ের পর আমার ঘরে আসলে অবশ্যই চার কিংবা ছয় রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। একদা রাতে আমাদের এখানে বৃষ্টি হওয়ায় আমরা তাঁর জন্য চামড়া বিছিয়ে দেই। আমি যেন এখন চাক্ষুস দেখছি যে, খেজুর পাতার চালনির ছিদ্র দিয়ে পানি গড়ে পড়ছে। আমি তাঁকে কখনো কোনো কাপড় দিয়ে মাটি হতে রক্ষা করতে দেখিনি।[1] দুর্বল।
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি সূরাহ মুযযাম্মিল সম্পর্কে বলেন, আল্লাহর বাণীঃ ‘‘কুমিল লায়লাহ ইল্লা ক্বালীলান নিসফাহু’’ (অর্থঃ আপনি রাতের কিছু অংশ ব্যতীত সারা রাত আল্লাহর ‘ইবাদাতে দাঁড়িয়ে থাকুন)। অতঃপর এর পরবর্তী আয়াতটি এ নির্দেশকে রহিত করেঃ ‘‘আলিমা আন লান তুহসূহু ফাতাবা ‘আলাইকুম ফাক্বরাউ মা তাইয়াস্সারা মিনাল কুরআন।’’ (অর্থঃ তিনি খুব ভাল করেই জানেন যে, তা করা তোমাদের পক্ষে অসম্ভব। তাই তিনি তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। সুতরাং এখন তোমরা কুরআনের যতটুকু পাঠ করা সম্ভব ততটুকুই পড়ো) এবং রাতের প্রথমাংশ। তাদের সালাত রাতের প্রথমভাগেই হয়ে থাকতো। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, কাজেই আল্লাহ তোমাদের উপর যেটুকু রাতের ইবাদত ফারয করেছেন তা সঠিকভাবে আদায় করো। কেননা মানুষ ঘুমিয়ে গেলে কখন সে জাগ্রত হবে তা বলতে পারে না। আল্লাহর বাণীঃ ‘‘ আকওয়ামু কীলা’’ -অর্থ হচ্ছে কুরআনকে অনুধাবন করার অধিক যোগ্য। আল্লাহর বাণীঃ ‘‘ইন্না লাকা ফিন নাহারি সাবহান তাবীলা’’ এর অর্থ হচ্ছে, আপনি দিনের বেলায় বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন।[1] হাসান।
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূরাহ মুযযাম্মিলের প্রথমাংশ অবতীর্ণ হলে মুসলিমরা রমাযান মাসের ন্যায় রাতে দীর্ঘ ক্বিয়াম (সালাত আদায়) করতে লাগলেন। অতঃপর এ সূরাহর শেষাংশ অবতীর্ণ হয়। এ সূরাহর প্রথম ও শেষাংশ অবতীর্ণের মধ্যে এক বছরের ব্যবধান ছিল।[1] সহীহ।
হাদিস 1306 — Sunan Abu Dawud 5:57
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (1142) Sahih Muslim (776)
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন শয়তান তার মাথার পিছনে তিনটি গিরা দেয় এবং প্রতিটি গিরা দেয়ার সময় বলে, আরো ঘুমাও, রাত এখনো অনেক বাকী। যদি ঐ ব্যক্তি সজাগ হয়ে আল্লাহর যিকির করে, তখন একটি গিরা খুলে যায়। যদি সে অযু করে তাহলে আরেকটি গিরা খুলে যায় এবং যদি সে সালাত আদায় করে, তাহলে শেষ গিরাও খুলে যায়। ফলে ঐ ব্যক্তি সতেজ ও উৎফুলতা নিয়ে সকাল করে। (আর এরূপ না করে ঘুমিয়ে থাকলে) সে অলসতা ও মন্দ মন নিয়ে সকাল করবে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
হাদিস 1307 — Sunan Abu Dawud 5:58
সহিহসহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُمَيْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي قَيْسٍ، يَقُولُ قَالَتْ عَائِشَةُ رضى الله عنها لاَ تَدَعْ قِيَامَ اللَّيْلِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يَدَعُهُ وَكَانَ إِذَا مَرِضَ أَوْ كَسِلَ صَلَّى قَاعِدًا .
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ ক্বায়িস (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেছেন, তুমি রাতের ক্বিয়াম ছেড়ে দিবে না। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো একে পরিত্যাগ করতেন না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অসুস্থ হলে কিংবা অলসতা বোধ করলে বসে সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ এমন ব্যক্তির প্রতি দয়া করুন যে রাতে সজাগ হয়ে নিজে সালাত আদায় করে এবং তার স্ত্রীকেও সজাগ করে। স্ত্রী উঠতে না চাইলে সে তার মুখমন্ডলে পানি ছিটায়।[1] হাসান সহীহ।
। আবূ সাঈদ ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি রাতের বেলায় স্বীয় স্ত্রীকে সজাগ করে উভয়ে কিংবা প্রত্যেকে দু’ দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলে তাদেরকে আল্লাহর স্মরণকারী ও স্মরণকাণীর তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হয়।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ইবনু কাসীর এ হাদীস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছাননি এবং তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-এর নাম উল্লেখ করেননি বরং বলেছেন, এটি আবূ সাঈদ (রাঃ)-এর নিজস্ব বক্তব্য।