। ইবনু আবূ লায়লাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতের অবস্থা পর্যায়ক্রমে তিনবার পরিবর্তন হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, আমাদের সাথীরা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেন যে, রসূলু্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের মুসলিমগণ অথবা মু’মিনগণের একত্রে জামা‘আতে সালাত আদায় করাটা আমার কাছে আনন্দদায়ক। এমনকি প্রাথমিক অবস্থায় আমি চিন্তা করলাম, সালাতের সময় হলে মানুষদের ডেকে আনার জন্য ঘরে ঘরে লোক পাঠিয়ে দিব। এমনকি আমি এ ইচ্ছাও করলাম যে, সালাতের সময় উপস্থিত হলে কিছু লোককে দুর্গের উপর দাঁড় করিয়ে দিব যারা মুসলিমদের সালাতের জন্য আহবান করবে। এমনকি তারা ‘নাকুস’ ঘন্টা ধ্বনিও বাজালো বা বাজাবার উপক্রম করল। বর্ণনাকারী বলেন, এমন সময় এক আনসারী এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনাকে উৎকন্ঠিত দেখে আপনার কাছ থেকে ফিরে যাওয়ার পর (রাতে স্বপ্নে) এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলাম। লোকটি যেন দু’টি সবুজ কাপড় পরে মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে আযান দিল। কিছুক্ষণ বসে থাকার পর সে আবারও আযানের অনুরূপ শব্দ উচ্চারণ করল (ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিল)। কিন্তু ‘ক্বাদ ক্বামাতিস্ সালাতু’ অতিরিক্ত বলল। লোকেরা আমাকে মিথ্যাবাদী মনে না করলে আমি অবশ্যই বলব, আমি জাগ্রতই ছিলাম, ঘুমন্ত নয়। ইবনুল মুসান্নার বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তোমাকে অবশ্যই উত্তম স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তবে ‘আমরের বর্ণনায় ‘‘আল্লাহ অবশ্যই তোমাকে উত্তম স্বপ্ন দেখিয়েছেন’ কথাটুকু নেই। তুমি বিলালকে আযান দেয়ার নির্দেশ দাও। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমিও তার মত একই ধরনের স্বপ্ন দেখেছি। কিন্তু লোকটি আগেই বলে ফেলাতে আমি বলতে লজ্জাবোধ করি। ইবনু আবূ লায়লাহ বলেন, আমাদের সাথীরা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেন যে, প্রাথমিক পর্যায়ে কোন লোক মসজিদে এসে জামা‘আত হতে দেখলে মুসল্লীদের কাছে সালাত কয় রাক‘আত হয়েছে তা জিজ্ঞেস করত। অতঃপর ইশারায় তা জানিয়ে দেয়া হতো। তারপর তারা ঐ পরিমাণ সালাত দ্রুত আদায় করে জামা‘আতে শামীল হত। ফলে তাঁর পিছনের মুক্তাদীদের অবস্থা পৃথক পৃথক হত। কেউ দাঁড়ানো, কেউ রুকু‘তে, কেউ বসা, আবার কেউ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথেই সালাতরত অবস্থায় থাকত। ইবনু মুসান্না ‘আমর ও হুসায়ন ইবনু আবূ লায়লাহ সূত্রে বর্ণনা করেন, এমন সময় (জামা‘আত শুরু হওয়ার পর) মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) আসলেন। শু’বাহ (রহঃ) বলেন, আমি একথা হুসাইন থেকে শুনেছিঃ তিনি বললেন, আমি আপনাকে যে অবস্থায় পাবো, তারই তো অনুসরণ করব। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মু‘আয তোমাদের জন্য একটি সুন্নাত নির্ধারণ করেছে। তোমরাও সেরূপ করবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমাদের সাথীরা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় পদার্পণ করে তাদের তিন দিন সিয়াম পালনের নির্দেশ দেন। অতঃপর রমাযানের সিয়াম ফরয (হওয়া সম্পর্কিত) আয়াত অবতীর্ন হয়। সাহাবীগণের ইতিপূর্বে সিয়াম পালনের অভ্যাস না থাকায় সিয়াম পালনের বিধান তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ে। কাজেই কেউ সিয়াম পালন অক্ষম হলে মিসকীনকে খাদ্য আহার করাতেন। এমতাবস্থায় এই আয়াত নাযিল হলোঃ ‘‘তোমাদের মধ্যে কেউ রমাযান মাস পেলে সে যেন অবশ্যই সিয়াম পালন করে’’- (সূরাহ বাক্বারাহ, ১৮৫)। এতে রোগী ও মুসাফিরকে অব্যাহতি দিয়ে অবশিষ্ট সবাইকে সিয়াম পালনের নির্দেশ দেয়া হলো। আমাদের সাথীরা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেনঃ (ইসলামের প্রাথমিক অবস্থায়) কেউ ইফতার করে আহার না করে ঘুমিয়ে পড়লে তার পক্ষে পরদিন সূর্যাস্তের পূর্বে কোন কিছু খাওয়া বৈধ ছিল না। একদা ‘উমার (রাঃ) সহবাসের ইচ্ছা করলে তার স্ত্রী বললেন, আমি তো ঘুমিয়ে ছিলাম। ‘উমার ধারনা করলেন, তার স্ত্রী বাহানা করছে। তাই তিনি স্ত্রী সহবাস করলেন। অন্যদিকে জনৈক আনসারী (ইফতারের পর) খাদ্য চাইলে লোকেরা বলল, অপেক্ষা করুন আমরা আপনার জন্য খানা তৈরি করছি।। ইতিমধ্যে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। অতঃপর সকাল বেলা এই আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ ‘‘রোযার রাতে স্ত্রী সহবাস তোমাদের জন্য বৈধ করা হলো।’’ (সূরাহ বাক্বারাহ, ১৮৭)[1] সহীহ।
। মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতের অবস্থা পর্যায়ক্রমে তিনবার পরিবর্তন হয়েছে। অনুরূপ সিয়ামের অবস্থাও তিনবার পরিবর্তন হয়েছে। তারপর বর্ণনাকারী নাসর ঐরূপ দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেন। ইবনুল মুসান্না কেবল বাইতুল মাক্বদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায়ের ঘটনা সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, তৃতীয় অবস্থা এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় পদার্পণ করার পর তের মাস যাবত বাইতুল মাক্বদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেন। অতঃপর আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেনঃ ‘‘আসমানের দিকে তোমার মুখ উত্তোলন আমরা লক্ষ্য করেছি। অতএব তোমার পছন্দের ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)র দিকে আমি তোমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছি। এখন তুমি তোমার চেহারা মাসজিদুল হারামের দিকে ফেরাও। (সূরহ বাক্বারাহ, ১৪৪)। এভাবে আল্লাহ তাঁর মুখ কা’বার দিকে ফিরিয়ে দিলেন। ইবনুল মুসান্নার হাদীস এখানেই শেষ। আর যিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন নাসর তার নাম উলেখ করে বলেনঃ অতঃপর আনসার গোত্রের ‘আব্দুল্লাহ ইবনু যায়িদ (রাঃ) আসলেন। তিনি উক্ত হাদীসে বলেনঃ স্বপ্নে দেখা লোকটি কিবলার দিকে মুখ করে বললঃ আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, হাইয়্যা ‘আলাস্-সলাহ দু’বার, হাইয়্যা ‘আলাল-ফালাহ দু’বার। আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ। অতঃপর কিছুক্ষণ নীরব থেকে আবারও দাঁড়িয়ে পূর্বের কথারই পুনরাবৃত্তি করল। তবে ‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদ বলেন, লোকটি হাইয়্যা ‘আলাল-ফালাহ বলার পর ক্বাদ্ ক্বামাতিস্ সালাতু ক্বাদ্ ক্বামাতিস্ সলাহ বাক্য দু’বার বলল। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ এটা তুমি বিলালকে শিখিয়ে দাও। অতঃপর বিলাল (রাঃ) শিখানো শব্দগুলো দ্বারা আযান দিলেন। এরপর বর্ণনাকারী সওম (রোযা) সম্পর্কে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি মাসে তিন দিন এবং আশুরার দিন সিয়াম পালন করতেন। অতঃপর আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করলেনঃ ‘‘তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হলো যেরূপ তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরয করা হয়েছিল, যেন তোমরা আল্লাহভীরু (মুত্তাক্বী) হতে পারো। নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের জন্য। তোমাদের মধ্যে কেউ রোগাক্রান্ত হলে অথবা মুসাফির হলে পরবর্তীতে তাকে এর ক্বাযা করতে হবে। যারা সিয়াম পালনে সক্ষম (হয়েও সিয়াম পালন করে না) তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে আহার করাবে’’- (সূরাহ বাক্বারাহ, ১৮৩-১৮৪)। এতে কেউ ইচ্ছে হলে সিয়াম পালন করত, আর কেউ বা সিয়াম পালন না করে প্রতি সিয়ামের পরিবর্তে একজন মিসকীনকে আহার করাতো। এটাই তার জন্য যথেষ্ট ছিল। (সিয়ামের প্রাথমিক অবস্থা এরূপই ছিল) অতঃপর এ বিধান পরিবর্তন করে আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করলেনঃ ‘‘রমাযান হচ্ছে মহিমান্বিত মাস, যে মাসে কুরআন নাযিল করা হয়েছে যা মানব জাতির পথপ্রদর্শক, হিদায়াতের স্পষ্ট দলীল এবং (হাক্ব ও বাতিলের মধ্যে) পার্থক্যকারী। তোমাদের যে কেউ রমাযান মাস পেলে সে যেন সিয়াম পালন করে। আর কেউ অসুস্থ হলে বা সফরে থাকলে সে পরবর্তী সময়ে তা ক্বাযা করে নিবে’’- (সূরাহ বাক্বারাহ, ১৮৫)। এরপর থেকে রমাযান মাস প্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তির উপর সিয়াম ফরয হয়ে যায় এবং মুসাফিরের জন্য এর ক্বাযা আদায় ফরয সাব্যস্ত হয়। আর ফিদয়ার ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হয় সিয়াম পালনে অপারগ বৃদ্ধ ও বৃদ্ধাদের জন্য। সাহাবী সিরমাহ (রাঃ) সারা দিন পরিশ্রম করেছিলেন। এরপর বর্ণনাকারী পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন।[1] সহীহ, প্রথম দিকে তাকবীরে তারবী' সহকারে। ইরওয়াউল গালীল ৪/ ২০-২১।
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলালকে আযান জোড় ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত) বেজোড় সংখ্যায় বলার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। হাম্মাদ তার হাদীসে আরো বলেন, কিন্তু ‘‘ক্বাদ ক্বামাতিস সলাহ’’ বাক্যটি ছাড়া (অর্থাৎ এ বাক্যটি দু’বার বলতে হবে)।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। আনাস (রাঃ) সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে। ইসমাঈল বলেন, আমি এ হাদীস আইউবের নিকট বর্ণনা করলে তিনি বলেন, কিন্তু ক্বাদ ক্বামাতিস্ সলাহ (বাক্যটি জোড় সংখ্যায় বলবে)।
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে আযানের শব্দগুলো দু’বার করে এবং ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের শব্দগুলো একবার করে বলা হত। তবে ‘‘ক্বাদ ক্বামাতিস সালাতু’’ বাক্যটি দু’বার বলা হত। আমরা ইক্বামাত(ইকামত/একামত) শুনলেই অযু করে সালাত আদায় করতে আসতাম। শু’বাহ (রহঃ) বলেন, আমি আবূ জা‘ফর থেকে কেবলমাত্র এ হাদীসটিই শুনেছি।[1] হাসান।