حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ أَبِي حَكِيمٍ، قَالَ سَمِعْتُ الزِّبْرِقَانَ، يُحَدِّثُ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الظُّهْرَ بِالْهَاجِرَةِ وَلَمْ يَكُنْ يُصَلِّي صَلاَةً أَشَدَّ عَلَى أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْهَا فَنَزَلَتْ { حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى } وَقَالَ " إِنَّ قَبْلَهَا صَلاَتَيْنِ وَبَعْدَهَا صَلاَتَيْنِ " .
। যায়িদ ইবনু সাবিত (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত দুপুরে (সূর্য ঢলা পরপরই প্রচন্ড গরমে) আদায় করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের নিকট অন্যান্য সালাতের চেয়ে এ সালাতই ছিল বেশি কষ্টদায়ক। অতঃপর এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ ‘‘তোমরা সালাত সমূহের হিফাযাত কর, বিশেষ করে মধ্যবর্তী সালাতের’’ (সূরাহ বাক্বারাহ, ২৩৮)। যায়িদ (রাঃ) বলেন, এ সালাতের পূর্বে এবং পরে দু’ ওয়াক্ত করে সালাত রয়েছে।[1] সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে ‘আসরের সালাত এক রাক‘আত আদায় করতে পারল সে (যেন ওয়াক্তের মধ্যেই পুরো) ‘আসর সালাত পেল। আর যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের সালাতের এক রাক‘আত আদায় করতে সক্ষম হল সে (যেন ওয়াক্তের মধ্যেই পুরো) ফজর সালাত পেল। [1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। আল-‘আলা ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যুহর সালাত আদায়ের পর আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে দেখলাম, তিনি ‘আসরের সালাত আদায় করতে দাঁড়িয়েছেন। তার সালাত আদায় শেষে আমরা তার বেশী আগে (‘আসর) সালাত আদায় করা নিয়ে আলোচনা করলাম। অথবা তিনিই এ বিষয়ে আলোচনা করলেন এবং (এর কারণ সম্পর্কে) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ এটা মুনাফিকদের সালাত! এটা মুনাফিকদের সালাত!! এটা মুনাফিকদের সালাত!!! এদের কেউ বসে থাকে আর যখন সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ করে এবং তা শয়তানের দু’ শিংয়ের মধ্যখানে বা উপর অবস্থান করে তখন সে দাঁড়িয়ে চারটি ঠোকর মারে। তাতে সে খুব সামান্যই আল্লাহর স্মরণ করে থাকে। [1] সহীহ : মুসলিম।
হাদিস 414 — Sunan Abu Dawud 2:24
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (552) Sahih Muslim (626)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الَّذِي تَفُوتُهُ صَلاَةُ الْعَصْرِ فَكَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ " أُتِرَ " . وَاخْتُلِفَ عَلَى أَيُّوبَ فِيهِ وَقَالَ الزُّهْرِيُّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " وُتِرَ " .
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির ‘আসরের সালাত ছুটে গেল (আদায় করল না) তার যেন পরিবার-পরিজন ধ্বংস হয়ে গেলো এবং তার ধনসম্পদ লুট হয়ে গেল (নিঃসম্বল হয়ে গেল)। [1] ইমাম আবূ দাউদ বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর, আইয়ূব ও যুহরী "أُتِرَ" (উতিরু) শব্দের বানানে কিছুটা পার্থক্য করেছেন। সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। আবূ ‘আমর আল-আওযাঈ (রহঃ) বলেন, ‘আসরের সালাতে বিলম্ব করার অর্থ হচ্ছে, সূর্যের হলুদ রং জমিনে প্রতিভাত হতে দেখা (পর্যন্ত বিলম্ব করা)।[1] দুর্বল মাক্বতূ।
হাদিস 416 — Sunan Abu Dawud 2:26
সহিহসহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ شَبِيبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كُنَّا نُصَلِّي الْمَغْرِبَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ نَرْمِي فَيَرَى أَحَدُنَا مَوْضِعَ نَبْلِهِ .
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মাগরিবের সালাত আদায় করতাম। অতঃপর তীর নিক্ষেপ করতাম। আমাদের প্রত্যেকেই তখনো তার তীর পতিত হওয়ার স্থান দেখতে পেত।[1] সহীহ।
হাদিস 417 — Sunan Abu Dawud 2:27
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (561) Sahih Muslim (636)
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عِيسَى، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الْمَغْرِبَ سَاعَةَ تَغْرُبُ الشَّمْسُ إِذَا غَابَ حَاجِبُهَا .
। সালামাহ ইবনুল আকওয়া' (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের সালাত সূর্য গোলক সম্পূর্ণ অস্ত যাওয়ার পরপরই আদায় করতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। মারসাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবূ আইয়ূব (রাঃ) জিহাদ হতে ফিরে আমাদের নিকট আসলেন, সে সময় ‘উক্ববাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ) মিশরের শাসনকর্তা ছিলেন। তিনি মাগরিবের সালাত আদায়ে বিলম্ব করলে আবূ আইয়ূব (রাঃ) ‘উক্ববাহ্ (রাঃ)-এর সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, হে ‘উক্ববাহ্! এটা আবার কেমন সালাত? ‘উক্ববাহ্ (রাঃ) বললেন, আমরা কাজে ব্যস্ত ছিলাম। তিনি বললেন, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেননিঃ আমার উম্মাত ততদিন কল্যাণের মধ্যে থাকবে অথবা মূল অবস্থায় থাকবে যতদিন তারা মাগরিবের সালাত আদায়ে তারকা উজ্জ্বল হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করবে না।[1] হাসান সহীহ।
। নু’মান ইবনু বাশীর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এই ‘ইশার সালাতের শেষ ওয়াক্ত সম্পর্কে অন্যদের চেয়ে বেশি অবগত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত সালাত (এ পরিমান সময়ের পর) আদায় করতেন, যখন তৃতীয়বার চাঁদ অস্তমিত হয়।[1] সহীহ।
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমরা ‘ইশার সালাত আদায়ের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমনের অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে তিনি আসলেন রাতের এক-তৃতীয়াংশ বা এর চেয়েও কিছু সময়ের পর। তিনি কোন কাজে ব্যস্ততার জন্য নাকি অন্য কিছুর কারণে বিলম্ব করলেন আমরা তা অবগত নই। তিনি এসে বললেনঃ তোমরা কি এ (‘ইশার) সালাতের জন্য অপেক্ষা করছো? আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর না হলে আমি এ সময়েই (‘ইশার সালাত) আদায় করতাম। অতঃপর তিনি মুয়াজ্জিনকে ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়ার নির্দেশ দিয়ে সালাত আদায় করলেন।[1] সহীহ : মুসলিম।