। মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর আল-‘আমিরী সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি সাহাবীগণের মাজলিসে উপস্থিত হই। সেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত সম্পর্কে আলোচনা হচ্ছিল। তখন আবূ হুমায়িদ (রাঃ) বলেন ..... তারপর বর্ণনাকারী পূর্বোক্ত হাদীসের অংশ বিশেষ বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তিনি রুকুতে স্বীয় হাতের তালু দ্বারা হাঁটু মজবুতভাবে ধরতেন, হাতের অঙ্গুলিগুলো পরস্পর বিচ্ছিন্ন রাখতেন এবং স্বীয় মাথা পিঠের সাথে সমান্তরাল রাখতেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর দুই রাক‘আত সালাত শেষে বসার সময় বাম পায়ের উপর বসতেন এবং ডান পায়ের পাতা দাঁড় করিয়ে রাখতেন। তারপর চতুর্থ রাক‘আতে বসার সময় স্বীয় দু’ পা ডান দিকে বের করে দিয়ে বাম পাশের পাছার উপর ভর করে বসে যেতেন।[1] সহীহ, তবে তার(وَلَا صَافِحٍ بِخَدِّه) কথাটি বাদে।
। মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর ইবনু ‘আত্বা সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি সিজদাতে নিজের দু’ হাত একেবারে বিছিয়েও দিতেন না আবার তা শরীরের সাথে মিলিয়েও রাখতেন না। তিনি তাঁর পায়ের আঙ্গুলগুলো কিবলামুখী করে রাখতেন।[1] সহীহ : বুখারী।
। ‘আব্বাস অথবা ‘আইয়্যাশ ইবনু সাহল আস-সাঈদী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি সাহাবীগণের একটি মাজলিসে উপস্থিত হন, যেখানে তাঁর পিতা, আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ), আবূ হুমায়িদ আস-সাঈদী এবং আবূ উসায়িদ (রাঃ)-ও উপস্থিত ছিলেন। এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীস কিছুটা হ্রাসবৃদ্ধিসহ বর্ণিত হয়েছে। তাতে বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু' হতে মাথা উঠিয়ে ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্ আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ’ বলে নিজের দু’ হাত উত্তোলন করতেন। তারপর আল্লাহ আকবার বলে সিজদায় যেতেন এবং সিজদাতে হাতের তালু, হাঁটু ও পায়ের পাতার উপর ভর করতেন। তারপর তিনি আল্লাহু আকবার বলে (সিজদা্ হতে উঠে) বাম পার্শ্বের পাছার উপর ভর করে বসতেন আর অন্য পা সোজা করে রাখতেন। তারপর তাকবীর বলে সিজদায় যেতেন এবং পুনরায় তাকবীর বলে সিজদা্ হতে উঠে বাম পার্শ্বের পাছার উপর না বসে দাঁড়িয়ে যেতেন। অতঃপর (পুরো) হাদীস বর্ণনা করেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি দু’ রাক‘আত সালাত শেষে বসার পর (তৃতীয় রাক‘আতের জন্য) দাঁড়ানোর ইচ্ছা করলে তাকবীর বলে দাঁড়াতেন এবং (এভাবে) অবশিষ্ট দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। কিন্তু তাতে শেষ বৈঠকে বাম পার্শ্বের পাছার উপর বসার কথা উল্লেখ নেই।[1] দুর্বল।
। ‘আব্বাস ইবনু সাহল (রহঃ) বলেন, আবূ হুমায়িদ, আবূ উসায়িদ, সাহল ইবনু সা‘দ এবং মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) একটি মাজলিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন। তখন আবূ হুমায়িদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত সম্পর্কে আমি আপনাদের চাইতে অধিক অবগত ..... অতঃপর তিনি এখানে অংশ বিশেষ বর্ণনা করেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকুতে নিজের দু’ হাতে শক্তভাবে হাঁটুদ্বয় ধরে রাখতেন এবং দু’ হাতকে তাঁর পার্শ্বদেশ হতে বিচ্ছিন্ন করে রাখতেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি সিজদাতে নাক ও কপাল মাটির সাথে মিলিয়ে রাখতেন এবং দু’ হাতকে তাঁর পার্শ্বদেশ হতে বিচ্ছিন্ন করে রাখতেন। .... অতঃপর বসে বাম পা বিছিয়ে দিতেন, ডান পায়ের সম্মুখ ভাগ কিবলামুখী করে রাখতেন, ডান হাতের তালু ডান পায়ের ঊরুর উপর এবং বাম হাতের তালু বাম পায়ের ঊরুর উপর রাখতেন এবং তাঁর (শাহাদাত) আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। [1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হাদীসটি ‘উত্বাহ ইবনু আবূ হাকীম (রহঃ) ‘আব্দুল্লাহ হতে ‘আব্বাস ইবনু সাহল সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁরা তাতে বাম পার্শ্বের পাছার উপর বসার কথা উল্লেখ করেননি।
। আবূ হুমায়িদ (রাঃ) সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, তিনি সিজদাতে স্বীয় পেট ঊরু থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতেন।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হাদীসটি ইবনুল মুবারক ও অন্যান্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
। ‘আবদুল জাববার ইবনু ওয়ায়িল তাঁর পিতা হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় গমনকালে যমীনে স্বীয় হাত রাখার পূর্বে হাঁটু রাখতেন। বর্ণনাকারী আরো বলেন, সিজদাতে তিনি নিজের দু’ হাতের তালুর মধ্যবর্তী স্থানে কপাল রাখতেন এবং দু’ হাত বগল হতে দূরে সরিয়ে রাখতেন।[1] দুর্বল। قَالَ حَجَّاجٌ وَقَالَ هَمَّامٌ وَحَدَّثَنَا شَقِيقٌ حَدَّثَنِي عَاصِمُ بْنُ كُلَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم بِمِثْلِ هَذَا وَفِي حَدِيثِ أَحَدِهِمَا - وَأَكْبَرُ عِلْمِي أَنَّهُ حَدِيثُ مُحَمَّدِ بْنِ جُحَادَةَ - وَإِذَا نَهَضَ نَهَضَ عَلَى رُكْبَتَيْهِ وَاعْتَمَدَ عَلَى فَخِذَيْهِ . - ضعيف . ‘আসিম ইবনু কুলাইব তাঁর পিতা হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, যথা সম্ভব মুহাম্মাদ ইবনু জুহাদাহ বর্ণনায় রয়েছেঃ তিনি দাঁড়ানোর সময় ঊরু ও হাঁটুর উপর ভর দিয়ে দাঁড়াতেন। দুর্বল।
হাদিস 737 — Sunan Abu Dawud 2:347
দাঈফদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ فِطْرٍ، عَنْ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَرْفَعُ إِبْهَامَيْهِ فِي الصَّلاَةِ إِلَى شَحْمَةِ أُذُنَيْهِ .
। ‘আবদুল জাব্বার ইবনু ওয়ায়িল থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাকবীর বলার সময় তাঁর দু’ হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি কানের নিম্নভাগ পর্যন্ত উঠাতে দেখেছি।[1] দুর্বল।
। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের জন্য তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় নিজের দু’ হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন। এমনিভাবে রুকু‘তে গমনকালে, রুকু‘ হতে সোজা হওয়ার সময় এবং দু’ রাক‘আত শেষে (তৃতীয় রাক‘আতের জন্য) দাঁড়ানোর সময়ও দু’ হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন।[1] দুর্বল।
। মায়মূন আল-মাক্কী সূত্রে বর্ণিত। তিনি দেখলেন যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়ির (রাঃ) লোকদের সালাত আদায়কালে দাঁড়ানোর সময়, রুকু‘ হতে সোজা হওয়ার সময়, সিজদা্কালে, এবং (দু’ রাক‘আত শেষে তৃতীয় রাক‘আতের জন্য) দাঁড়ানোর সময় তাঁর দু’ হাত উঠালেন। অতঃপর আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে তাঁকে ইবনুয যুবায়িরের সালাত সম্পর্কে বললাম, কাউকে তো এভাবে হাত উঠিয়ে সালাত আদায় করতে দেখিনি। তিনি বললেন, তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের পদ্ধতি অবলোকন করতে চাইলে ইবনুয যুবায়িরের সালাতের অনুসরণ কর।[1] সহীহ।
। নাদর ইবনু কাসীর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ‘আবদুল্লাহ ইবনু তাউস (রহঃ) খায়িফের মসজিদে আমার পাশে দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কালে প্রথম সিজদায় যাওয়ার পর সিজদা্ হতে মাথা উঠানোর সময় চেহারা বরাবর দু’ হাত উত্তোলন করলেন। বিষয়টি আমার কাছে অপ্রীতিকর মনে হওয়ায় আমি এ ব্যাপারে উহায়িব ইবনু খালিদকে জিজ্ঞাসা করি। ফলে উহায়িব (রহঃ) ‘আবদুল্লাহকে বললেন, তুমি এমন একটি কাজ করেছ, যা আমি ইতিপূর্বে আর কাউকে করতে দেখিনি। ‘আবদুল্লাহ ইবনু তাউস (রহঃ) বলেন, আমি আমার পিতাকে এরূপ করতে দেখেছি এবং আমার পিতা বলেছেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে এরূপ করতে দেখেছি। আমি নিশ্চিত অবগত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন।[1] দুর্বল।