Qurani·قرآني
বাংলা

সালাত (কিতাবুস সালাত)

770 হাদিস · #391–1160

হাদিস 741 — Sunan Abu Dawud 2:351
সহিহসহিহIsnaad Sahih Sahih Bukhari (739)
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ إِذَا دَخَلَ فِي الصَّلاَةِ كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ وَإِذَا رَكَعَ وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ وَإِذَا قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ رَفَعَ يَدَيْهِ وَيَرْفَعُ ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ الصَّحِيحُ قَوْلُ ابْنِ عُمَرَ وَلَيْسَ بِمَرْفُوعٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى بَقِيَّةُ أَوَّلَهُ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ وَأَسْنَدَهُ وَرَوَاهُ الثَّقَفِيُّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ أَوْقَفَهُ عَلَى اب��نِ عُمَرَ وَقَالَ فِيهِ وَإِذَا قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ يَرْفَعُهُمَا إِلَى ثَدْيَيْهِ وَهَذَا هُوَ الصَّحِيحُ ‏.‏ قال أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ وَمَالِكٌ وَأَيُّوبُ وَابْنُ جُرَيْجٍ مَوْقُوفًا وَأَسْنَدَهُ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ وَحْدَهُ عَنْ أَيُّوبَ وَلَمْ يَذْكُرْ أَيُّوبُ وَمَالِكٌ الرَّفْعَ إِذَا قَامَ مِنَ السَّجْدَتَيْنِ وَذَكَرَهُ اللَّيْثُ فِي حَدِيثِهِ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ فِيهِ قُلْتُ لِنَافِعٍ أَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَجْعَلُ الأُولَى أَرْفَعَهُنَّ قَالَ لاَ سَوَاءً ‏.‏ قُلْتُ أَشِرْ لِي ‏.‏ فَأَشَارَ إِلَى الثَّدْيَيْنِ أَوْ أَسْفَلَ مِنْ ذَلِكَ ‏.‏
। নাফি' (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) সালাতে দাঁড়িয়ে তাকবীর বলার সময়, রুকু‘তে গমনকালে, রুকু‘ হতে মাথা উত্তোলনকালে সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্ বলে এবং দুই রাক‘আত সালাত আদায়ের পর (তৃতীয় রাক‘আতের জন্য) দাড়ানোর সময় উভয় হাত উত্তোলন করতেন। তিনি এর বর্ণনা সূত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন (অর্থাৎ এটি মারফূ হাদীস)। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, সঠিক হচ্ছে, এটি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর বক্তব্য, মারফূ হাদীস নয়। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) আরো বলেন, প্রথম হাদীসের দুই রাক‘আত সালাত শেষে দাঁড়ানোর সময় হাত উত্তোলনের কথাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণিত নয়। আর সাক্বাফী এটি ‘উবাইদুল্লাহ সূত্রে ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর মাওকূফ বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাতে উল্লেখ আছেঃ ‘‘তিনি দু’ রাক‘আত সালাত শেষে দাড়ানোর সময় উভয় হাত বক্ষ পর্যন্ত উঠাতেন।’’ এ বর্ণনাটি সহীহ।[1] সহীহ : বুখারী। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) আরো বলেন, লাইস ইবনু সা‘দ, মালিক, আইয়ূব ও ইবনু জুরায়িজ প্রমুখ বর্ণনাকারীগণ এর বর্ণনা সূত্র সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। হাম্মাদই কেবল এককভাবে হাদীসকে মারফূ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী ইবনু জুরায়িজ বলেন, আমি নাফি‘কে জিজ্ঞাসা করলাম, ইবনু ‘উমার (রাঃ) কি অন্য সময়ের চেয়ে তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় তাঁর হাত অধিক উঠাতেন? তিনি বলেন, না; বরং তিনি সব সময়ই একইভাবে হাত উঠাতেন। আমি বললাম, আমাকে ইশারায় দেখিয়ে দিন। তিনি তার বুক বা তার চেয়ে একটু নীচে পর্যন্ত ইশারা করে দেখালেন।
হাদিস 742 — Sunan Abu Dawud 2:352
সহিহসহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ إِذَا ابْتَدَأَ الصَّلاَةَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ رَفَعَهُمَا دُونَ ذَلِكَ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ لَمْ يَذْكُرْ رَفْعَهُمَا دُونَ ذَلِكَ ‏.‏ أَحَدٌ غَيْرَ مَالِكٍ فِيمَا أَعْلَمُ ‏.‏
। নাফি' (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সালাত আরম্ভের সময় নিজের দু’ হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন এবং রুকূ হতে মাথা উঠাবার সময় দু’ হাত একটু কম উপরে উঠাতেন।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আমার জানা মতে বর্ণনাকারী মালিক ছাড়া কেউ হাত কম উঠানোর কথা উল্লে­খ করেননি।
হাদিস 743 — Sunan Abu Dawud 2:353
সহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمُحَارِبِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ ‏.‏
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের দুই রাক‘আত আদায় শেষে দাঁড়িয়ে তাকবীর বলে উভয় হাত উঠাতেন।[1] সহীহ।
হাদিস 744 — Sunan Abu Dawud 2:354
হাসান Sahihহাসান SahihহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْهَاشِمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ بْنِ رَبِيعَةَ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، - رضى الله عنه - عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ الْمَكْتُوبَةِ كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ وَيَصْنَعُ مِثْلَ ذَلِكَ إِذَا قَضَى قِرَاءَتَهُ وَأَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ وَيَصْنَعُهُ إِذَا رَفَعَ مِنَ الرُّكُوعِ وَلاَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي شَىْءٍ مِنْ صَلاَتِهِ وَهُوَ قَاعِدٌ وَإِذَا قَامَ مِنَ السَّجْدَتَيْنِ رَفَعَ يَدَيْهِ كَذَلِكَ وَكَبَّرَ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ فِي حَدِيثِ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ حِينَ وَصَفَ صَلاَةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ كَمَا كَبَّرَ عِنْدَ افْتِتَاحِ الصَّلاَةِ ‏.‏
। ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরয সালাতে দাঁড়িয়ে তাকবীর বলে তাঁর দু’ হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন। তিনি কিরাত শেষে রুকু‘তে গমনকালে এবং রুকু‘ হতে উঠার সময়ও অনুরূপ করতেন। তবে বসে সালাত আদায়কালে তিনি এরূপ হাত তুলতেন না। তিনি সিজদার পর দাঁড়ালে হাত উঠিয়ে তাকবীর বলতেন।[1] হাসান সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আবূ হুমায়িদ আস-সাঈদী (রাঃ)-এর হাদীসে রয়েছেঃ যখন তিনি সালাতের দুই রাক‘আত আদায় শেষে দাঁড়াতেন, তখন তাকবীর বলে তাঁর দু’ হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন, যেরূপ তিনি সালাত আরম্বকালে উঠাতেন।
হাদিস 745 — Sunan Abu Dawud 2:355
সহিহসহিহসহিহ Muslim (391)
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ نَصْرِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَرْفَعُ يَدَيْهِ إِذَا كَبَّرَ وَإِذَا رَكَعَ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ حَتَّى يَبْلُغَ بِهِمَا فُرُوعَ أُذُنَيْهِ ‏.‏
। মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাকবীরে তাহরীমা বলার সময়, রুকু‘তে গমনকালে এবং রুকু‘ হতে উঠার সময় দু’ হাত কানের উপরিভাগ পর্যন্ত উঠাতে দেখেছি। [1] সহীহ : মুসলিম।
হাদিস 746 — Sunan Abu Dawud 2:356
সহিহসহিহসহিহIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا ابْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ مَرْوَانَ، حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْحَاقَ الْمَعْنَى - عَنْ عِمْرَانَ، عَنْ لاَحِقٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ نَهِيكٍ، قَالَ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ لَوْ كُنْتُ قُدَّامَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَرَأَيْتُ إِبْطَيْهِ ‏.‏ زَادَ ابْنُ مُعَاذٍ قَالَ يَقُولُ لاَحِقٌ أَلاَ تَرَى أَنَّهُ فِي الصَّلاَةِ وَلاَ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَكُونَ قُدَّامَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَزَادَ مُوسَى يَعْنِي إِذَا كَبَّرَ رَفَعَ يَدَيْهِ ‏.‏
। বাশীর ইবনু নাহীক সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে দাঁড়ালে তাঁর বগল দেখতে পেতাম (অর্থাৎ তিনি হাত এতটা পৃথক রাখতেন)। ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু মু‘আয আরো উল্লে­খ করেন যে, বর্ণনাকারী নাহীক বলেন, তুমি কি দেখনি আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সালাতের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে যেতে পারেন না। বর্ণনাকারী মূসা ইবনু মারওয়ান তাঁর হাদীসে আরো উল্লেখ করেন যে, তিনি তাকবীর বলার সময় দু’ হাত উত্তোলন করতেন।[1] সহীহ।
হাদিস 747 — Sunan Abu Dawud 2:357
সহিহসহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ عَلَّمَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصَّلاَةَ فَكَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ فَلَمَّا رَكَعَ طَبَّقَ يَدَيْهِ بَيْنَ رُكْبَتَيْهِ قَالَ فَبَلَغَ ذَلِكَ سَعْدًا فَقَالَ صَدَقَ أَخِي قَدْ كُنَّا نَفْعَلُ هَذَا ثُمَّ أُمِرْنَا بِهَذَا يَعْنِي الإِمْسَاكَ عَلَى الرُّكْبَتَيْنِ ‏.‏
। ‘আলকামাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সালাতের পদ্ধতি শিখিয়েছেন। তিনি তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় তাঁর দু’ হাত উঠিয়েছেন এবং রুকুতে দু’ হাত একত্র করে দু’ হাঁটুর মাঝখানে রেখেছেন। এ সংবাদ সা‘দ (রাঃ)-এর নিকট পৌঁছলে তিনি বলেন, আমার ভাই (‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ) সত্যই বলেছেন। পূর্বে আমরা এরূপই করেছি। পরবর্তীতে আমাদেরকে এরূপ (দু’ হাঁটুর মাঝখানে হস্তদ্বয় স্থাপন) করা হতে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়। [1] সহীহ।
হাদিস 748 — Sunan Abu Dawud 2:358
সহিহসহিহদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَاصِمٍ، - يَعْنِي ابْنَ كُلَيْبٍ - عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ أَلاَ أُصَلِّي بِكُمْ صَلاَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَصَلَّى فَلَمْ يَرْفَعْ يَدَيْهِ إِلاَّ مَرَّةً ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا مُخْتَصَرٌ مِنْ حَدِيثٍ طَوِيلٍ وَلَيْسَ هُوَ بِصَحِيحٍ عَلَى هَذَا اللَّفْظِ ‏.‏
। ‘আলকামাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমি কি তোমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত কিরূপ ছিল তা শিক্ষা দেব না? বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন এবং তাতে কেবলমাত্র একবার হাত উত্তোলন করলেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি একটি দীর্ঘ হাদীসের সারসংক্ষেপ। উপরোক্ত শব্দে হাদীসটি সহীহ নয়।[1] সহীহ। [1] তিরমিযী (অধ্যায়ঃ সালাত, হাঃ ২৫৭, অনুঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল প্রথমবারই হাত উঠিয়েছেন), নাসায়ী (অধ্যায়ঃ তাত্ববীক, অনুঃ ঐরূপ না করার অনুমতি প্রসঙ্গে, হাঃ ১০৫৭) উভয়ে ওয়াকী থেকে। হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী হাসান বলেছেন এবং ইবনু হাযাম বলেছেন সহীহ। পক্ষান্তরে অন্যান্য ইমামগণ এটিকে দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন। যেমন ইমাম বুখারী, ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল, ইমাম নাববী, ইমাম শাওকানী (রহঃ) প্রমুখ ইমামগণ হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। (আল-মাজমু‘আহ ফী আহাদীসিল মাওযু‘আহ, ২০ পৃঃ)। [১ম অংশ] ইমাম ইবনু হিব্বান বলেন, রফ‘উল ইয়াদাইন না করার পক্ষে কূফাবাসীদের এটিই সবচেয়ে বড় দলীল হলেও এটিই সবচেয়ে দুর্বলতম দলীল। কেননা এর মধ্যে এমন সব বিষয় রয়েছে যা একে বাতিল গণ্য করে। (নায়লুল আওত্বার ৩/১৪, ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/১০৪, ‘আওনুল মা‘বূদ)। হাফিয ইবনু হাজার (রহঃ) ‘আত-তালখীস’ গ্রন্থে বলেন, ইবনুল মুবারক বলেছেন, হাদীসটি আমার নিকট প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত নয়। ইবনু আবূ হাতিম বলেন, এ হাদীসটি ভুল ও ত্রুটিযুক্ত। ইমাম আহমাদ ও তাঁর শায়খ ইয়াহইয়া ইবনু আদম বলেন, হাদীসটি দুর্বল। ইমাম আবূ দাঊদ বলেন, হাদীসটি সহীহ নয়। ইমাম দারাকুতনী বলেন, হাদীসটি প্রমাণিত নয়। ইমাম বায়হাক্বী এবং ইমাম দারিমী (রহঃ)ও হাদীসটিকে দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেছেন। অন্যদিকে ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বললেও তিনি নিজেই আবার ‘আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহঃ)-এর সূত্রে উল্লেখ করেছেন যে, এ হাদীসটি প্রমাণিত নয় এবং প্রতিষ্ঠিতও নয়। (আওনুল মা‘বূদ, নায়লুল আওত্বার, জামি আ-তিরমিযী ও অন্যান্য)। আল্লামা শামসুল হাক্ব ‘আযীমাবদী (রহঃ) বলেন, তাকবীরে তাহরীমাহ ব্যতীত অন্যত্র রফ‘উল ইয়াদাইন না করার পক্ষে এ হাদীসটিকে দলীল হিসেবে পেশ করা হয়। কিন্তু হাদীসটি দলীলযেগ্য নয়। কেননা হাদীসটি দুর্বল ও অপ্রমাণিত। আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ইবনু মাসঊদের সূত্র চাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে রফ‘উল ইয়াদাইন ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে সহীহ সুন্নাহ সাব্যস্ত হয়নি। আর ইবনু মাসঊদের এ হাদীসটিকে সহীহ মেনে নিলেও তা রফ‘উল ইয়াদাইন এর পক্ষে বর্ণিত সহীহ হাদীসসমূহের বিপরীতে পেশ করা যাবে না এবং ইবনু মাসঊদের এ হাদীসের উপর ‘আমঅল করা উচিত হবে না। কেননা এটি না বোধক আর ঐগুলি হাঁ বোধক। ইলমে হাদীসের মূলনীতি অনুযায়ী হাঁ বোধক হাদীস না বোধক হাদীসের উপর অগ্রাধিকারযোগ্য। মাযহাবী থিওরীতেও বলা হয়েছে, হানাফী ও অন্যদের নিকট যখন হাঁ সূচক ও না সূচকের সাথে দ্বন্দ্ব দেখা দিবে তখন না সূচকের উপর হাঁ সূচক অগ্রাধিকার পাবে। এরূপ নীতি বলবৎ হয় যদি হাঁ সূচকের পক্ষে একজনও হয় তবুও। সুতরাং সেখানে বিরাট এক জামা‘আত হা সূচকের পক্ষে সেখানে অন্য কোনো প্রশ্নই আসতে পারে না। যেমনটি এ মাসআলার ক্ষেত্রে। সুতরাং দলীল সাব্যস্ত হওয়ার পর গোড়ামীনা করাটাই উচিত....। (হাশিয়া মিশকাত: আলবানী ১/১৫৪, ও যঈফাহ ৫৬৮)। ইমাম খাত্তাবী (রহঃ) বলেন, রুকু‘র সময় এবং রুকু‘ থেকে মাথা উঠানোর পর রফ‘উল ইয়াদাইন করার পক্ষে যে সমস্ত সহীহ হাদীসাবলী বর্ণিত হয়েছে তা ইবনু মাসঊদের হাদীসের চেয়ে অগ্রগণ্য। প্রমাণ্যযোগ্য হাঁ বোধক হাদীস না বোধকের উপর প্রাধাণ্যযোগ্য। * ইবনু মাস‘উদের হাদীস সম্পর্কে ইবরাহীম নাখায়ীল ধারণামূলক উক্তিঃ ইবনু মাসঊদের হাদীস সম্পর্কে ইবরাহীম নাখায়ীর এক বিতর্কের কথা কতিপয় গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। যেমন আমর ইবনু মুররাহ বলেন, আমি মসজিদে হাযরামাউতে প্রবেশ করে দেখি, আলকামাহ ইবনু ওয়ায়িল তাঁর পিতা সূত্রে বর্ণনা করেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু‘র পূর্বে ও পরে রফ‘উল ইয়াদাইন করেছেন। অতঃপর আমি ইবরাহীম নাখায়ীর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেন, তিনিই শুধু দেখেছেন আর ইবনু মাসঊদ ও তার ছাত্ররা দেখেনি? (ত্বাহাভী ১/২২৪)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ইবরাহীম নাখায়ী বলেন, ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ) একজন গ্রাম্য লোক। তিনি ইসলামের বিধি বিধান জানেন না। তিনি যদি রফ‘উল ইয়াদাইন করতে একবার দেখে থাকেন তাহলে ইবনু মাসঊদ পঞ্চাশবার না করতে দেখেছেন, ইত্যাদি। (আবূ ইউসূফের আসার ২১ পৃঃ, জামি‘উল মাসানিদ ১/৩৫৮, ত্বাহাভী ১/১২০)। কিন্তু ইবরাহীম নাখায়ীর এ মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ কেবল ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ) নন বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসংখ্য সাহাবায়ি কিরাম রফ‘উল ইয়াদাইনের হাদীস বর্ণনা করেছেন। যাঁদের সংখ্যা মুতাওয়াতির পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। সুতরাং ‘‘ইবনু মাসঊদ পঞ্চাশবার রফ‘উল ইয়াদাইন না করতে দেখেছেন’’- এটা ইবরাহীম নাখায়ীর শুধু দাবীমাত্র। তাই তো হাদীস সম্রাট ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেনঃ এটা ইবরাহীম নাখায়ীর শুধু ধারণা যে, ওয়ায়িল ইবনু হুজর ‘‘একবার রফ‘উল ইয়াদাইন করতে দেখেছেন।’’ অথচ ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ) নিজে বর্ণনা করেছেন যে, ‘তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবীগণকে বহুবার রফ‘উল ইয়াদাইন করতে দেখেছেন’ এবং ওয়ায়িল ঐরূপ ধারণার মুখাপেক্ষী নন। কারণ তাঁর চোখে দেখা এবং গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা অন্যের (ইবরাহীম নাখায়ীর) ধারণার চেয়ে অনেক উত্তম। (দেখুন, জুযউল ক্বিরাআত, পৃঃ ২৩)। ইমাম বায়হাক্বী ‘আলমা‘রিফাহ গ্রন্থে বলেনঃ ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেনঃ উচিত হচ্ছে, ওয়ায়িলের বক্তব্যকে গ্রহণ করা। কেননা তিনি একজন জলীলুল কদর সাহাবী (রাঃ)। এমতাবস্থায় তাঁর হাদীসকে কিভাবে প্রত্যাখ্যান করা যায় এমন লোকের কথায় যিনি সাহাবী নন? বিশেষ করে ওয়ায়িলের পাশাপাশি অসংখ্য সাহাবায়ি কিরাম (রাঃ)-ও রফ‘উল ইয়াদাইনের হাদীস বর্ণনা করেছেন। (দেখুন, নাসবুর রায়াহ)। ফাক্বীহ আবূ বাকর ইবনু ইসহাক্ব (রহঃ) বলেনঃ (ইবরাহীম নাখায়ীর) এ উক্তি দোষণীয়, এর উপর নির্ভর করা যায় না। কেননা রফ‘উল ইয়াদাইন করা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ সূত্রে সাব্যস্ত হয়েছে, অতঃপর খুলাফায়ি রাশিদীন থেকে, অতঃপর সাহাবীগণ ও তাবিঈগণ থেকে। আর ইবনু মাসঊদের রফ‘উল ইয়াদাইন ভুলে যাওয়া এটা ওয়াজিব করে না যে, এ সমস্ত সাহাবায়ি কিরামগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রফ‘উল ইয়াদাইন করতে দেখেননি। ইমাম বায়হাক্বী, শায়খ আবূল হাসান সিন্দী হানাফী ও ফাক্বীহ আবূ বাকর ইবনু ইসহাক্ব (রহঃ) প্রমুখগণ বলেনঃ বরং ইবনু মাসঊদ এমন কিছু বিষয় ভুলে গেছেন যে ব্যাপারে মুসলিমগণ মতভেদ করেননি। যেমনঃ (১) তিনি সমস্ত সাহাবায়ি কিরাম ও মুসলিম উম্মাহর বিপরীতে সূরাহ নাস ও সূরাহ ফালাক্বকে কুরআনের অংশ মনে করতেন না। (২) তিনি তাতবীক অর্থাৎ রুকু‘র সময় দু’ হাঁটুর মাঝখানে দু’ হাত জড়ো করে হাঁট দ্বারা চেপে রাখতে বলতেন। অথচ এরূপ ‘আমল রহিত হয়ে যাওয়া এবং তা বর্জন করার উপর সকল ‘আলিমগণ যে একমত হয়েছেন তাও তিনি ভুলে গেছেন। (৩) ইমামের সাথে দু’ জন মুক্তাদী হলে মুক্তাদীদ্বয় কোথায় কিভাবে দাঁড়াবেন তাও তিনি ভুলে গেছেন। তিনি বলতেন, ইমামের বরাবর দাঁড়াতে হবে। অথচ এটা হাদীসের সম্পূর্ণ খেলাফ। (৪) তিনি ভুলে গিয়েছিলেন বিধায় এরূপ বলতেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল আযহার দিন ফজরের সালাত সঠিক সময়ে পড়তেন না বরং ঈদের সালাতের পূর্বে পড়তেন। অথচ এটা সমস্ত মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধ মত। এ ব্যাপারে সমস্ত ‘আলিমগণের ঐক্যমতের কথাও তিনি ভুলে গেছেন। (৫) তিনি ভুলে গেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আরাফা ময়দানে কী নিয়মে দু’ ওয়াক্ত সালাত একত্রে আদায় করেছেন। (৬) তিনি সিজদার সময় মাটিতে হাত বিছিয়ে রাখতে বলতেন। অথচ এটি হাদীসের পরিপন্থি হওয়ার ব্যাপারে ‘আলিমগণ মতভেদ করেননি বরং একমত পোষণ করেছেন, তাও ইবনু মাসঊদ ভুলে গেছেন। (৭) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম وما خلق الذكر والأنثى আয়াতটি কিভাবে পড়তেন তাও তিনি ভুলে গেছেন। অতএব এ সমস্ত ভুল যাঁর হয়েছে, তাঁর সালাতে রফ‘উল ইয়াদাইন না করা এবং সে বিষয়ে হাদীস না জানা বা না বলাও ভুলের অন্তর্ভুক্ত। এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাছাড়া মুহাদ্দিসীনে কিরামের নিকট এ কথা প্রসিদ্ধ যে, ইবনু মাসঊদের শেষ বয়সে বার্ধক্যজনিত কারণে স্মৃতি ভ্রম ঘটে। সুতরাং রফ‘উল ইয়াদাইন না করার হাদীসটিও সে সবের অন্তর্ভুক্ত হওয়া মোটেই অস্বাভাবিক নয়। (দেখুন, মাওয়াহিবু লাতীফা ১/২৬০, ইমাম বুখারী জুযউ রফ‘উল ইয়াদাইন, ইমাম যায়লায়ী’ হানাফীর নাসবুর রায়াহ ৩৯৭-৪০১ পৃঃ, ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/১৩৪, শারহু মুসনাদে ইমাম আবূ হানিফা ১৪১ পৃঃ, বালাগুল মুবীন ১/২২৯, ও অন্যান্য)। * ইবনু মাসঊদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত আরো কয়েকটি হাদীসঃ (ক) ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেনঃ ‘‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর ও উমার (রাঃ)-এর সাথে সালাত আদায় করেছি। তাঁরা সালাতে রফ‘উল ইয়াদাইন করেননি। সালাতের শুরুতে ছাড়া।’’ (বায়হাক্বী ‘সুনানুল কুবরা’ ২/১১৩, ১১৪, দারাকুতনী ১/২৯৫, ইবনু আদী কামিল ফিয যু‘আফা ৬/১৫২, উক্বাইলী ২/৪২৯, ইবনু হিববান ‘আল-মাজরুহীন ২/২৭০)। এ হাদীসকে ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহঃ), আল্লামা সুয়ূতী (রহঃ), ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহঃ) ও ইমাম শাওকানী (রহঃ) বানোয়াট (মাওযু) বলেছেন- (দেখুন, তাসহীলুল ক্বারী, আল-ফাওয়ায়িদুল মাওযু‘আহ, আল-লাআ-লিল মাসনু‘আহ ফিল আহাদীসিল মাওযু‘আহ ২/১৯, এবং অন্যান্য)। ইবনুল জাওযী (রহঃ) হাদীসটিকে তার ‘আল-মাওযু’আত’ কিতাবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তিনি ইমাম আহমাদ সূত্রে বলেছেনঃ এর বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনু জাবির কিছুই না। তার থেকে কেবল এমন লোকই হাদীস বর্ণনা করে থাকেন যিনি তার চেয়েও নিকৃষ্ট। হাফিয ‘আত-তাক্বরীব’ (২/১৪৯) গ্রন্থে তাকে দুর্বল বলে উল্লেখ করেছেন। ইমাম দারাকুতনী বলেনঃ এতে মুহাম্মাদ ইবনু জাবির একক হয়ে গেছেন। তিনি দুর্বল। হাম্মাদ থেকে ইবরাহীম সূত্রে। হাদীসটি হাম্মাদ ছাড়াও ইবরাহীম থেকে মুরসালভাবে ইবনু মাসঊদ সূত্রে মাওকূফভাবে বর্ণিত হয়েছে, মারফূভাবে নয়। আর এটাই সঠিক অর্থাৎ মাওকূফ। বায়হাক্বী তার ‘সুনান’ গ্রন্থে বলেনঃ অনুরূপ বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনু সালামাহ, হাম্মাদ ইবনু আবূ সুলায়মান থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে ইবনু মাসঊদ সূত্রে মুরসালভাবে। (খ) উক্ত রিওয়ায়াতটিই বর্ণনা করেছেন বায়হাক্বী তার ‘খুলাফিয়াত’ গ্রন্থে তারই সনদে ইবরাহীম সূত্রে এভাবেঃ ‘‘ইবনু মাসঊদ (রাঃ) সালাত আরম্ভকালে তাকবীর দিয়ে রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন কেবল একবার। এরপর আর রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন না।’’ ইমাম হাকিম বলেনঃ এটাই সঠিক অর্থাৎ মাওকূফ। ইবরাহীম ইবনু মাসঊদের সাক্ষাৎ পাননি। সুতরাং বর্ণনাটি মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন)। এছাড়া সনদের মুহাম্মাদ ইবনু জাবির সম্পর্কে হাদীসবিশারদ ইমামগণ সমালোচনা করেছেন। তার ব্যাপারে উত্তম কথা হচ্ছেঃ তিনি হাদীস চুরি করতেন। তার হাদীসে মুনকার ও মাওযু‘আতের আধিক্য রয়েছে। ইবনু ‘আদী বলেন, ইসহাক্ব ইবনু আবূ ইসরাঈল মুহাম্মাদ ইবনু জাবিরকে তার একদল শায়খের উপর মর্যাদা দিতেন। তার থেকে আইয়ূব, ইবনু ‘আওন, হিশাম ইবনু হাসসান, সাওরী, শু‘বাহ, ইবনু উ‘আইনাহ ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন। তিনি সমালোচিত। তথাপি তার হাদীস লিখে রাখা হতো। তার ব্যাপারে ইমাম বুখারী বলেনঃ তিনি শক্তিশালী নন। ইবনু মাঈন বলেনঃ তিনি দুর্বল। (দেখুন, নাসবুর রায়াও অন্যান্য)। (গ) ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেনঃ ‘‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে,আবূ বাকর ও উমার (রাঃ)-এর পিছনে ১২ বছর এবং ‘আলীর পিছনে কুফায় ৫ বছর সালাত আদায় করেছি। এরা কেউ রফ‘উল ইয়াদাইন করেননি।’’ এটাও বানানো হাদীস। এর বর্ণনাকারী আসবাগ ইবনু খালীল মালিকী মাযহাবের মুফতি ছিলেন। হাদীসের জ্ঞান ছিলো না। ইলমে হাদীস ও আসহাবে হাদীসের দুশমন ছিলেন। তিনি মালিকী মাযহাবের পক্ষে এ হাদীস তৈরী করেন। ইবনু মাসঊদের মৃত্যু হয় উসমানের খিলাফাতকালে। সুতরাং তার উক্তি ‘‘আমি আলীর পিছনে ৫ বছর সালাত আদায় করেছি’’ কত হাস্যকর। এ থেকে বুঝা যায় আসবাগ ইতিহাসের জ্ঞানে দুর্বল ছিলেন। তা না হলে এমন অপ্রয়োজনীয় ভুল করতেন না। (দেখুন, তাযকিরাতুল মাওযু‘আত, পৃঃ ৩৯)। (ঘ) ইবনু মাসঊদ বলেনঃ ‘‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত উঠাতেন আমরাও হাত উঠাতাম। তিনি হাত উঠানো ছেড়ে দিলেন আমরাও ছেড়ে দিলাম।’’ এ বর্ণনা বানানো এবং সনদ বিহীন। (ঙ) ত্বাহাবী শারহু মাআনীতে বর্ণনা করেন যে, ইবরাহীম নাখায়ী বলেনঃ ‘‘ইবনু মাসঊদ কেবল সালাতের শুরুতে হাত উঠাতেন, এছাড়া অন্যত্র হাত উঠাতেন না।’’ এর সনদ মুনকাতি। ইমাম ত্বাহাবী বলেনঃ ইবরাহীম নাখায়ী ইবনু মাসঊদ সূত্রে সেই হাদীসকেই মুরসালভাবে বর্ণনা করেন, যা তার নিকট সহীহ ও একাধিকসূত্রে পৌঁছেছে। রফ‘উল ইয়াদাইন না করার অন্যান্য দুর্বল ও ভিত্তিহীন বর্ণনাঃ একঃ বারা‘আ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) বর্ণিত হাদীস। যা সহীহ নয় বরং ভিত্তিহীন। সামনে ৭৪৯ ও ৭৫২ নং হাদীসের টিকায় এর আলোচনা আসবে। দুইঃ ইবনু যুবায়র (রাঃ) বলেনঃ ‘‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, পরে ছেড়ে দিয়েছেন।’’- এর কোনই ভিত্তি নেই। বরং ইবনু যুবায়র (রাঃ) সূত্রে রফ‘উল ইয়াদাইনের পক্ষেই সহীহ হাদীস বর্ণিত আছে। তিনঃ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীসঃ (ক) ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ ‘‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু‘র সময় ও রুকু‘ থেকে উঠার সময় দু’ হাত তুলতেন। পরবর্তীতে তিনি সালাত শুরুর সময় বাদে অন্যত্র দু’ হাত তুলেননি।’’ এটিও ভিত্তিহীন হাদীস। বরং ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে সহীহভাবে রুকু‘ কালে ও রুকু থেকে উঠার সময় দু’ হাত তোলার হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনুল জাওযী (রহঃ) ‘আত-তাহক্বীক্ব’ গ্রন্থে বলেনঃ হানাফীদের ধারণা, ইবনু আব্বাস ও ইবনু যুবায়র বর্ণিত উপরোক্ত হাদীসদ্বয় দ্বারা রফ‘উল ইয়াদাইন মানসূখ হয়ে গেছে। অথচ হাদীস দু’টির কোনো ভিত্তিই নেই। বরং ইবনু আব্বাস ও ইবনু যুবায়র (রাঃ) সূত্রে এর বিপরীতে রফ‘উল ইয়াদাইনের পক্ষেই সুরক্ষিত (মাহফূয) বর্ণনা রয়েছে। তা হলোঃ একদা ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে মায়মূন আল-মাক্বী বললেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু জুবায়র (রাঃ)-কে সালাতের শুরুতে, রুকু‘র সময়, সিজদার প্রাক্কালে এবং তৃতীয় রাক‘আতের জন্য দাঁড়ানোর সময় দু’ হাতে ইশারা (রফ‘উল ইয়াদাইন) করতে দেখেছি। এ কথা শুনে ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, তুমি যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত দেখতে পছন্দ করো তাহলে ইবনু জুবায়রের সালাতের অনুকরণ করো। (হাদীস সহীহ, দেখুন, আবূ দাঊদ, ত্বাবারানী ‘কাবীর’ ১১/১৩৩, আহমাদ ১/২৫৫, ২৮৯)। ইবনুল জাওযী (রহঃ) বলেনঃ যদি উক্ত বর্ণনাদ্বয় সহীহ হতো, তথাপি মানসুখ হওয়ার দাবী করা সঠিক হতো না। কেননা (কোনো হাদীস) নাসিখ হওয়ার জন্য সেটি মানসুখের চেয়ে অধিক মজবুত হওয়া শর্ত। (দেখুন, নাসবুর রায়াহ ও অন্যান্য)। (খ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বানানো আরেকটি বর্ণনা। তিনি বলেনঃ ‘‘দশজন সুসংবাদ প্রাপ্ত সাহাবী রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন না।’’ হাদীসটি বানানো। মৌলভী ‘আব্দুল হাই ফিরিংগী বলেনঃ এটার সনদ না পাওয়া পর্যন্ত এর কোনো মূল্য নেই। (দেখুন, আত-তা‘লিকুল মুমাজ্জাদ, পৃঃ ৭১) (গ) ‘‘সাতটি স্থান ব্যতীত অন্যত্র হাত উঠানো যাবে না, যথাঃ সালাত আরম্ভকালে, মাসজিদুল হারামে প্রবেশের সময় বাইতুল্লাহ দেখাকালে, মারওয়াতে দাঁড়িয়ে, লোকদের সাথে আরাফায় অবস্থানকালে, জাম‘আতে এবং জামরাতে পাথর নিক্ষেপের সময় উভয় মাকামে।’’ (ত্বাবারানী কাবীর) উপরোক্ত শব্দে হাদীসটি বাতিল। এর কয়েকটি দোষণীয় দিক রয়েছে। যেমনঃ ১. হাদীসটি বর্ণনায় ইবনু আবূ লায়লাহ একক হয়ে গেছেন। তার দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। ইমাম বায়হাক্বী বলেন, তিনি মজবুত নন। বাযযার বলেন, তিনি হাফিয নন। তিনি এটি কখনো মারফূ আবার কখনো মাওকূফভাবে বর্ণনা করেছেন। ‘আবদুল হাক্ব ইশাবিলী ‘আল-আহকাম’ (১/১০২) গ্রন্থে বলেনঃ একাধিক সূত্রে এটি মাওকূফভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং ইবনু আবূ লায়লাহ হাফিয নন। হাফিয ‘আত-তাক্ববীর’ গ্রন্থে বলেন, একাধিক সূত্রে এটি মাওকূফভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং ইবনু আবূ লায়লাহ হাফিয নন। হাফিয ‘আত-তাক্ববীর’ গ্রন্থে বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু স্মরণশক্তি খারাপ। ইমাম যাহাবী ‘যুআফা’ গ্রন্থে বলেন, তার স্মরণশক্তি খারাপ। এজন্য তার বর্ণিত হাদীস সাধারণ দুর্বলের অন্তর্ভুক্ত না করে কঠিন দুর্বল হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২. এ হাদীস যারা ইবনু আবূ লায়লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে ওয়াকী‘ সবচেয়ে প্রমাণযোগ্য। তিনি এটি ইবনু আব্বাস ও ইবনু উমারের মাওকূফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ৩. তাবেঈনদের একদল সহীহ সনদসমূহ দ্বারা বর্ণনা করেছেন যে, ইবনু আব্বাস ও ইবনু উমার রুকু‘র সময় ও রুকু‘ থেকে উঠে রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন। ৪. শু‘বাহ বলেন, মুকসিম থেকে হাকাম শুধুমাত্র চারটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে এ হাদীসটি নেই। ৫. হাদীসটির শব্দগত গড়মিল রয়েছে। কখনো এটি ‘লা তারফাউ’ শব্দে আবার কখনো কেবল ‘তারফাউ’ শব্দে বর্ণিত হয়েছে। সঠিক হচ্ছে ‘লা’ শব্দযোগে। ৬. হাদীসটি অন্যান্য সহীহ হাদীসসমূহের পরিপন্থি। কেননা মুতাওয়াতিরভাবে সহীহ হাদীসসমূহে উক্ত সাতটি স্থান ছাড়াও অন্যত্র রফ‘উল ইয়াদাইন করার কথা বর্ণিত হয়েছে। যেমনঃ দু‘আ করার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত উত্তোলন, সালাতে হাত উঠিয়ে দু‘আ করা এবং এ জন্য নির্দেশ প্রদান করা, কুনুতে নাজিলা ও বিতরের কুনুতে হাত উত্তোলন, জানাযার সালাতে প্রতি তাক্ববীরে হাত উত্তোলন, ইসতিসকার সালাতে হাত উত্তোলন, রুকু‘র আগে রুকু‘র পরে এবং দু’ রাক‘আত শেষে তৃতীয় রাক‘আতে দাঁড়ানোর সময় হাত উত্তোলন ইত্যাদি। জ্ঞাতব্যঃ ‘মাযমাউয জাওয়ায়িদ’ গ্রন্থে হাইসামীর বক্তব্যঃ ‘এর সনদে ইবনু আবূ লায়লাহ রয়েছে। তার স্মরণশক্তি খারাপ এবং তার হাদীস হাসান ইনশাআল্লাহ।’ শায়খ আলবানী বলেনঃ কিন্তু তার এ বক্তব্য মুসতাকিম নয়। কেননা যে বর্ণনাকারীর স্মরণশক্তি খারাপ হয় তার বর্ণনা মারদূদ (প্রত্যাখ্যাত বর্ণনার) অন্তর্ভুক্ত হয়। যা উসলুল হাদীসে স্বীকৃত বিষয়। তিনি যদি এ কথার দ্বারা তার (মুতলাক) সাধারণ বর্ণনাকে বুঝান যা প্রকাশ্য (তবে সে কথা ভিন্ন)। কিন্তু তিনি যদি তার এ হাদীসকে হাসান বুঝান তাহলে তা কিভাবে সম্ভব? এর কোনো শাহিদ বর্ণনা নেই যা একে শক্তিশালী করবে যার দ্বারা এটি হাসান রূপান্তরিত হবে। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুতাওয়াতিরভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু‘র সময়, রুকু‘র পরে, ইসতিসকার দু‘আ ও অন্যত্র দু’ হাত উঠিয়েছেন। আমাদের জন্য হাদীসটি প্রত্যাখ্যানের জন্য এ কথা উল্লেখ করা যথেষ্ট হবে যা ইমাম জায়লায়ী হানাফী ‘নাসবুর রায়াহ’ গ্রন্থে বলেছেন। ইমাম যায়লায়ী হানাফী (রহঃ) ‘নাসবুর রায়াহ’ গ্রন্থে বলেনঃ স্পষ্ট কথা এই যে, হাদীসটি মারফূ‘ ও মাওকুফ কোনোভাবেই সহীহ নয়। অতঃপর তাবারানীর সনদে মুহাম্মাদ ইবনু ‘উসমান ইবনু আবূ শায়বাহ রয়েছে। তার সম্পর্কে বহু সমালোচনা আছে। অন্তত পক্ষে বিরোধপূর্ণ বিষয়ে তার হাদীস দলীলযোগ্য নয়। এই বৈশিষ্ট্য এখানে বিদ্যমান। ‘‘লা তারফাউ...’’ হাদীসটি ‘‘ওয়া ‘আলাল মাইয়্যিত’’ শব্দযোগে বর্ণিত হয়েছে। সেটির সনদও দুর্বল। সনদে ইবনু যুরাইজ এবং মুকসিমের মাঝে ইনকিতা (বিচ্ছিন্নতা) ঘটেছে। সম্ভবতঃ তাদের মাঝে ইবনু আবূ লায়লাহ ছিলো। এছাড়া সনদে সাঈদ ইবনু সালিমের স্মরণশক্তি খারাপ। (বিস্তারিত দেখুন, নাসবুর রায়াহ, সিলসিলাতুল আহদিসিস যঈফাহ, হা- ১০৫৪ ও অন্যান্য)। (ঘ) ‘‘সিজদা দিতে হয় সাতটি অঙ্গে। যথাঃ দু’ হাত, দু’ পা, দু’ আঠু ও কপাল। আর হাত উত্তোলন করতে হয় কা‘বা দেখাকালে। সাফা ও মারওয়াতে, আরাফায়, জামা‘আতে, পাথর নিক্ষেপের সময় এবং সালাত ক্বায়িমের সময়।’’ (ত্বাবারানী কাবীর) উল্লেখিত হাদীসে ‘হাত উত্তোলন করতে হয়...’ কথাগুলো মুনকার। হাদীসের এ দ্বিতীয় অংশটি বর্ণনাকারী ‘আত্বা ইবনু সায়িব একা বর্ণনা করেছেন। তার কারণে সনদটি দুর্বল। ‘আত্বা সংমিশ্রণ করতেন। যেমনটি হায়সামী, ইবনু হিব্বান ও অন্যান্যরা বলেছেন। (বিস্তারিত দেখুন, সিলসিলাহ যঈফাহ হাঃ/১০৫৩)। চারঃ জাবির ইবনু সামুরাহ থেকে বর্ণিত, একদা আমাদের সালাতের হাত উত্তোলন অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে বললেনঃ ‘‘কি ব্যাপার! দুষ্ট ঘোড়ার লেজের ন্যায় হাত উত্তোলন করছো? সালাতে স্থিরতা অবলম্বন করো।’’ এ হাদীসের সাথে রুকু‘র আগে ও পরে রফ‘উল ইয়াদাইনের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। হাদীসটি সমস্ত মুহাদ্দিসগণই সালাম ও তাশাহুদ পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যেমন, সহীহ মুসলিমে অনুচ্ছেদঃ সালাতে স্থিরতার নির্দেশ ও হাত দ্বারা ইশারা করা নিষেধ এবং সালামের সময় হাত উঁচু করা নিষেধ।’’, সহীহ ইবনু খুযাইমাহর অনুচ্ছেদঃ ‘‘সালাতরত অবস্থায় ডান ও বাম হাতের ইশারা করার ব্যাপারে তিরস্কার।’’, ইমাম নাসায়ী অনুচ্ছেদ বেঁধেছেন এভাবেঃ ‘‘সালাতরত অবস্থায় হাত দিয়ে সালাম দেয়া’’ ইত্যাদি। ইবনু হিব্বান, আবূ ‘আওয়ানাহ, ইমাম বায়হাক্বী এবং অন্যান্য মুরশিদগণও অনুরূপ পরিচ্ছেদ বেঁধেছেন। তাই তো ইমাম নাববী (রহঃ) বলেন, জাবির ইবনু সামুরাহর হাদীস দ্বারা তারা অতি আশ্চর্য বস্তুর ন্যায় দলীল গ্রহণ করে এবং সুন্নাত দ্বারা অধিক নিন্দনীয় অজ্ঞতাপূর্ণ দলীল গ্রহণ করে। কেননা রুকু‘র আগে ও রুকু‘র পরে রফ‘উল ইয়াদাইন সম্পর্কে ঐ হাদীসটি বর্ণিত হয়নি। (দেখুন, সারাহ্ সহীহ মুসলিম ৩/৪০৩)। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, ঘটনাটি ছিলো তাশাহুদের অবস্থায় ক্বিয়ামের অবস্থায় নয়। তাঁদের (সাহাবীগণ) কেউ কেউ একে অন্যকে সালাতের মধ্যে সালাম দিতেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশাহুদে হাত উঠাতে নিষেধ করলেন। যাদের সামান্যতম জ্ঞান আছে তারা এ ধরণের হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করেননি। আর এটা সুপরিচিত, প্রসিদ্ধ, এতে কোনো মতভেদ নেই। আর যদি ব্যাপারটি ঐরূপ হয় তাহলে তো তাক্ববীরে তাহরীমায় হাত উত্তোলন, ঈদের সালাতে হাত উত্তোলনও নিষেধ হয়ে যাবে। কেননা এতে এক রফ‘উল ইয়াদাইন থেকে আরেক রফ‘উল ইয়াদাইনকে পার্থক্য করা হয়নি। জাবির ইবনু সামুরাহ বর্ণিত আরেক হাদীস বিষয়টি আরো সুস্পষ্ট করেছে। তা হলোঃ জাবির ইবনু সামুরাহ বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে সালাত আদায়কালে বলতাম, আসসালামু আলাইকুম, আসসালামু আলাইকুম। মিস‘আর তার দু’ হাত দিয়ে ইশারা করে দেখালেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কি হলো! এরা তাদের হাত দ্বারা ইশারা করছে, যেন দুষ্ট ঘোড়ার লেজের ন্যায়? তাদের জন্য যথেষ্ট হচ্ছে তারা তাদের হাতকে রানের উপর রাখবে, অতঃপর ডান দিকেও বাম দিকের ভাইকে সালাম করবে। (দেখুন, বুখারী জুযউ রফ‘উল ইয়াদাইন)। [পরের অংশ নোটে দেখুন]
হাদিস 749 — Sunan Abu Dawud 2:359
দাঈফদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، وَخَالِدُ بْنُ عَمْرٍو، وَأَبُو حُذَيْفَةَ قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، بِإِسْنَادِهِ بِهَذَا قَالَ فَرَفَعَ يَدَيْهِ فِي أَوَّلِ مَرَّةٍ وَقَالَ بَعْضُهُمْ مَرَّةً وَاحِدَةً ‏.‏
। সুফিয়ান (রহঃ) থেকে পূর্বোক্ত হাদীস এই সানাদে বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি শুধুমাত্র প্রথমবারই একবার হাত উঠিয়েছেন। কতিপয় বর্ণনাকারী বলেন, তিনি শুধুমাত্র একবার হাত উঠান।[1] সহীহ।
হাদিস 750 — Sunan Abu Dawud 2:360
দাঈফদাঈফদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْبَرَاءِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلاَةَ رَفَعَ يَدَيْهِ إِلَى قَرِيبٍ مِنْ أُذُنَيْهِ ثُمَّ لاَ يَعُودُ ‏.‏
। বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আরম্ভের সময় কেবল একবার কানের কাছাকাছি পর্যন্ত হাত উঠাতেন। এরপর আর হাত উঠাতেন না।[1] দুর্বল।
← আগের সংগ্রহে ফিরে যান পরের →

শুধুমাত্র সহিহ ও হাসান হাদিস দেখানো হয়।