। ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরয সালাতে দাঁড়িয়ে তাকবীরে তাহরীমা বলে দু’ হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন। তিনি কিরাত পাঠ শেষে রুকু‘তে গমনকালে এবং রুকু‘ হতে উঠার সময়ও অনুরূপ করতেন। তবে তিনি বসা অবস্থায় হাত উত্তোলন করতেন না। তিনি দু’ সিজদা্ শেষে (অর্থাৎ দুই রাক‘আত আদায় শেষে) উঠার সময়ও অনুরূপভাবে হাত উঠাতেন এবং তাকবীর বলে ‘আবদুল ‘আযীয বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদীসে উল্লিখিত দু‘আ পাঠ করতেন। তবে এ বর্ণনায় দু‘আ কিছুটা কম-বেশি রয়েছে এবং ‘‘ওয়াল খায়রু কুল্লুহূ ফী ইয়াদাইকা ওয়াশ-শাররু লাইসা ইলাইকা’’- বাক্যটির উল্লেখ নেই। বর্ণনাকারী এতে আরো উল্লেখ করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষে বললেনঃ ‘‘আল্লাহুম্মাগফিরলী মা ক্বাদ্দামতু ওয়া আখখারতু ওয়া আসরারতু ওয়া‘আলানতু আনতা ইলাহী লা ইলাহা ইল্লা আনতা।’’[1] হাসান সহীহ।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি দ্রুত গতিতে ক্লান্ত অবস্থায় মসজিদে (সালাতে) উপস্থিত হয়ে বলল, ‘‘আল্লাহু আকবার আলহামদু লিল্লাহি হামদান কাসীরান ত্বাইয়্যিবান মুবারাকান ফীহ।’’ অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমাদের মধ্যকার কে এই দু‘আটি পড়েছে? সে তো মন্দ কিছু বলেনি। তখন লোকটি বলল, আমি হে আল্লাহর রসূল! আমি ক্লান্ত অবস্থায় মসজিদে এসে এই দু‘আটি পড়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি দেখতে পেলাম, বারজন মালায়িকাহ্ (ফিরিশতা) এজন্য প্রতিযোগিতায় ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছে যে, কে সর্বাগ্রে দু‘আটি আল্লাহর দরবারে নিয়ে যাবেন। বর্ণনাকারী হুমায়িদের বর্ণনায় আরো রয়েছে, তোমাদের কেউ (মসজিদে) এলে যেন স্বাভাবিক গতিতে আসে। অতঃপর ইমামের সাথে যেটুকু সালাত পাবে আদায় করবে এবং সালাতের ছুটে যাওয়া অংশ (ইমামের সালাম ফিরানোর পর) একাকী আদায় করে নিবে।[1] সহীহ : মুসলিমে অতিরিক্ত অংশ বাদে।
। ইবনু জুবায়ির ইবনু মুত্বঈম হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কোন এক সালাত আদায় করতে দেখেছেন। বর্ণনাকারী ‘আমর বলেন, সেটা কোন সালাত ছিল (ফরয না নফল) তা আমার জানা নেই। তিনি (সালাত আদায়কালে) বলেছেন, ‘‘আল্লাহু আকবার কাবীরান, আল্লাহু আকবার কাবীরান, আল্লাহু আকবার কাবীরান, আলহামদু লিল্লাহি কাসীরান, আলহামদু লিল্লাহি কাসীরান, আলহামদু লিল্লাহি কাসীরান, ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতাও ওয়া আসীলা’’, (তিনবার) ‘‘আ‘উযু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রাজীমি মিন নাফখিহি ওয়া নাফসিহি ওয়া হামযিহি।’’ বর্ণনাকারী (‘আমর ইবনু মুররাহ) বলেন, নাফখিহি হচ্ছে শয়তানের কবিতা, নাফসিহি হচ্ছে শয়তানের অহঙ্কার এবং হামযিহি হচ্ছে শয়তানের কুমন্ত্রণা।[1] দুর্বল : মিশকাত ৮১৭, ইরওয়া ৩৪২।
হাদিস 765 — Sunan Abu Dawud 2:375
দাঈফদাঈফহাসান Lighairihiহাসান
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي التَّطَوُّعِ ذَكَرَ نَحْوَهُ .
। নাফি‘ ইবনু জুবায়ির (রহঃ) হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নফল সালাত আদায়কালে বলতে শুনেছি ..... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। [1] দুর্বল।
। ‘আসিম ইবনু হুমায়িদ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের সালাত কিসের দ্বারা আরম্ভ করতেন সে সম্পর্কে আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তুমি আমাকে এমন একটি প্রশ্ন করেছ যা ইতিপূর্বে কেউ করেনি। অতঃপর তিনি বলেন, তিনি সালাতে দাঁড়িয়ে প্রথমে দশবার আল্লাহু আকবার, দশবার আলহামদুলিল্লাহ, দশবার সুবহানাল্লাহ, দশবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং দশবার আস্তাগফিরুল্লাহ বলতেন। তারপর এই দু‘আ পড়তেনঃ ‘‘আল্লাহুম্মাগফির লী ওয়াহদিনী ওয়ারযুকনী, ওয়া ‘আফিনী।’’এছাড়া তিনি কিয়ামতের দিনের সংকীর্ণ স্থান হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। [1] হাসান সহীহ। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, বর্ণনাকারী খালিদ ইবনু মা‘দান, রবী‘আহ হতে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
। ‘ইকরামাহ একই সানাদে ভিন্ন শব্দে ও অর্থে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে (তাহাজ্জুদ) সালাতে দাঁড়িয়ে আল্লাহু আকবার উচ্চারণ করে বলতেন ... (হাদীস)।[1] হাসান।