। হাযম ইবনু উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ)-এর নিকট এমন সময় এলেন যখন তিনি মাগরিবের সালাতের ইমামতি করছিলেন। বর্ণনাকারী এ হাদীসে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু‘আয (রাঃ)-কে ডেকে বললেনঃ হে মু‘আয! তুমি ফিতনা সৃষ্টিকারী হয়ো না। কেননা তোমার পেছনে বৃদ্ধ, রোগাগ্রস্ত, কর্মব্যস্ত এবং মুসাফির লোকেরা সালাত আদায় করে।[1] মুসাফির উল্লেখের দ্বারা মুনকার
হাদিস 792 — Sunan Abu Dawud 2:402
সহিহসহিহসহিহদাঈফ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ بَعْضِ، أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِرَجُلٍ " كَيْفَ تَقُولُ فِي الصَّلاَةِ " . قَالَ أَتَشَهَّدُ وَأَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ أَمَا إِنِّي لاَ أُحْسِنُ دَنْدَنَتَكَ وَلاَ دَنْدَنَةَ مُعَاذٍ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " حَوْلَهَا نُدَنْدِنُ " .
। আবূ সালিহ (রহঃ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈক সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বললেন, তুমি সালাতে কি দু‘আ পাঠ কর? লোকটি বলল, আমি তাশাহহুদ (তথা আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি..) পাঠ করি এবং বলি ‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আ‘উযুবিকা মিনান্ নার।’ কিন্তু আমি আপনার ও মু‘আযের অস্পষ্ট শব্দগুলো বুঝতে পারি না ( অর্থাৎ আপনি ও মু‘আয কি দু‘আ পড়েন তা বুঝতে সক্ষম হই না)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমরাও তার আশে-পাশে ঘুরে থাকি (অর্থাৎ জান্নাত প্রার্থনা করি)।[1] সহীহ।
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি মু‘আয (রাঃ)-এর ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক যুবককে বললেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি সালাতে কি পড়? সে বলল, আমি সূরাহ ফাতিহা পড়ি এবং আল্লাহর কাছে জান্নাতের প্রত্যাশা ও জাহান্নাম হতে আশ্রয় চাই। আমি আপনার ও মু‘আযের অস্পষ্ট শব্দগুলো বুঝি না (অর্থাৎ আপনি এবং আমাদের ইমাম মু‘আয সালাতে নীরবে কোন কোন শব্দযোগে দু‘আ ও মুনাজাত করেন তা আমি অবহিত নই)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি এবং মু‘আয উভয়ের আশে-পাশেই ঘুরে থাকি (অর্থাৎ আমরাও জান্নাতের প্রত্যাশা এবং জাহান্নাম হতে আশ্রয় প্রার্থনা করি), অথবা অনুরূপ কিছু বলেছেন।[1] সহীহ।
হাদিস 794 — Sunan Abu Dawud 2:404
সহিহসহিহসহিহ Bukhari (703)
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ لِلنَّاسِ فَلْيُخَفِّفْ فَإِنَّ فِيهِمُ الضَّعِيفَ وَالسَّقِيمَ وَالْكَبِيرَ وَإِذَا صَلَّى لِنَفْسِهِ فَلْيُطَوِّلْ مَا شَاءَ " .
। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ সালাতে ইমামতিকালে যেন সালাত সংক্ষেপ করে। কেননা মুক্তাদীদের মধ্যে দুর্বল, রুগ্ন এবং বৃদ্ধ লোকও থাকে। অবশ্য কেউ একাকী সালাত আদায় করলে সে তার ইচ্ছানুযায়ী সালাত দীর্ঘায়িত করতে পারে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ সালাতে ইমামতি করলে যেন সালাত সংক্ষেপ করে। কারণ মুক্তাদীদের মধ্যে দুর্বল, বৃদ্ধ ও কর্মব্যস্ত লোকেরাও থাকে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। ‘আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ এমন লোকও আছে (যারা সালাত আদায় করা সত্ত্বেও সালাতের রুকন ও শর্তগুলো সঠিকভাবে আদায় না করায় এবং সালাতে পরিপূর্ণ একাগ্রতা ও খুশুখুযু না থাকায় তারা সালাতের পরিপূর্ণ সাওয়াব পায় না)। বরং তারা দশ ভাগের এক ভাগ, নয় ভাগের এক ভাগ, আট ভাগের এক ভাগ, সাত ভাগের এক ভাগ, ছয় ভাগের এক ভাগ, পাঁচ ভাগের এক ভাগ, চার ভাগের এক ভাগ, তিন ভাগের একভাগ বা অর্ধাংশ সাওয়াব প্রাপ্ত হয়। [1] হাসান।
। আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করতেন। তিনি যুহর ও ‘আসর সালাতের প্রথম দু’ রাক‘আতে সূরাহ ফাতিহা ও অন্য দু’টি সূরাহ পাঠ করতেন। তিনি কোন কোন সময়ে আমাদেরকে শুনিয়ে আয়াত পড়তেন। তিনি যুহর সালাতের প্রথম রাক‘আত কিছুটা দীর্ঘ করতেন এবং দ্বিতীয় রাক‘আত সংক্ষেপ করতেন। তিনি ফজর সালাতেও অনুরূপ করতেন। [1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, মুসাদ্দাদ তার বর্ণনাতে সূরাহ ফাতিহা ও অন্য সূরাহ পাঠের কথা উল্লেখ করেননি।
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ ক্বাতাদাহ্ (রহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তাতে এও রয়েছেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের শেষ দু’ রাক‘আতে শুধু সূরাহ ফাতিহা পাঠ করতেন। হাম্মামের বর্ণনায় আরো রয়েছেঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বিতীয় রাক‘আতের তুলনায় প্রথম রাক‘আত কিছুটা দীর্ঘ করতেন। তিনি ফজর ও ‘আসর সালাতেও অনুরূপ করতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ ক্বাতাদাহ্ (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাদের ধারণা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম রাক‘আত হয়ত এজন্যই দীর্ঘ করতেন যাতে লোকেরা প্রথম রাক‘আত থেকেই জামা‘আতে শরীক হওয়ার সুযোগ পান।[1] সহীহ।