। সাহল ইবনু সা‘দ আস-সাঈদী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা কিরাআত করছিলাম এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত হয়ে বললেন, আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহর কিতাব একটাই। আর তোমাদের কেউ লাল, কেউ বা সাদা এবং কেউ বা কালো রঙের। তোমরা ঐ সম্প্রদায়ের আবির্ভাবের পূর্বে (কুরআন) পড় যারা কুরআনকে তীরের ন্যায় দৃঢ় করবে। তারা কুরআন পাঠে তাড়াহুড়া করবে, অপেক্ষা করবে না (অর্থাৎ আখিরাতের অপেক্ষা না করে এর বিনিময় দুনিয়াতেই পেতে চাইবে)।[1] হাসান সহীহ।
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক লোক এসে বলল, আমি কুরআন মুখস্থ করতে পারি না। অতএব আমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিন যা কুরআনের পরিবর্তে যথেষ্ট হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি বলোঃ ‘‘সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহ আকবার ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’’ তখন লোকটি বলল, হে আল্লাহর রসূল! এটা তো মহা সম্মানিত আল্লাহর জন্য, আমার জন্য কি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি বলোঃ ‘‘আল্লাহুম্মা ইরহামনী, ওয়ারযুক্বনী, ওয়া ‘আফিনী ওয়াহদিনী।’’ বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর লোকটি ওগুলো হাতের অঙ্গুলিতে গণনা করল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই লোক তার হাতকে উত্তম বস্তু দ্বারা পরিপূর্ণ করেছে।[1] হাসান।
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নফল সালাতে দাঁড়ানো ও বসা অবস্থায় দু‘আ করতাম এবং রুকূ‘ ও সিজদা্ অবস্থায় তাসবীহ পড়তাম।[1] দুর্বল মাওকূফ।
। হাম্মাদ (রহঃ) হুমায়িদ সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে নফল সালাতের কথা উল্লেখ নেই। তিনি (হুমায়িদ) বলেন, হাসান (রহঃ) যুহর এবং ‘আসর সালাতে- ইমাম কিংবা মুক্তাদী উভয় অবস্থায়ই সূরাহ ফাতিহা পড়তেন এবং তিনি উক্ত সালাতে সূরাহ ক্বাফ ও সূরাহ যায়িরাত পাঠের অনুরূপ সময় পর্যন্ত তাসবীহ তাহলীল ও তাকবীর পড়তেন।[1] সহীহ মাক্বতূ।
। মুত্বাররিফ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি এবং ‘ইমরান ইবনু হুসায়িন ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)-এর পিছনে সালাত আদায় করি। তিনি সিজদা্ ও রুকূ‘কালে তাকবীর বলতেন এবং দু‘ রাক‘আত সালাত শেষে (তৃতীয় রাক‘আতের জন্য) উঠার সময় তাকবীর বলতেন। সালাত শেষে প্রত্যাবর্তনকালে ‘ইমরান (রাঃ) আমার হাত ধরে বললেনঃ ইতিপূর্বে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে যে নিয়শে সালাত আদায় করেছেন তিনিও সে নিয়মেই সালাত আদায় করলেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। আবূ বাকর ইবনু ‘আবদুর রহমান এবং আবূ সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) প্রত্যেক ফরয ও অন্যান্য সালাতে দাঁড়ানো এবং রুকূ‘র সময় তাকবীর বলতেন। অতঃপর সিজদায় যাওয়ার পূর্বে (দাঁড়িয়ে) বলতেন ‘‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’’ এরপর বলতেন ‘‘রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ।’’ তারপর সিজদাকালে তিনি আল্লাহু আকবার বলতেন। এরপর সিজদা্ থেকে মাথা উঠানো ও পুনরায় সিজদাকালে এবং পুনরায় সিজদা্ হতে মাথা উঠানোর সময় তিনি তাকবীর বলতেন। দ্বিতীয় রাক‘আতের বৈঠক হতে দাঁড়ানোর সময়ও তিনি তাকবীর বলতেন। প্রত্যেক রাক‘আতেই বলতেন। অতঃপর সালাত শেষে তিনি বলতেনঃ সেই সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার প্রাণ। তোমাদের তুলনায় আমার সালাত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি দুনিয়া ত্যাগের পূর্ব পর্যন্তই এভাবেই সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ : বুখারী, মুসলিম সংক্ষেপে। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ইমাম মালিক, যুবায়দী, ও অন্যরা যুহরী হতে ‘আলী ইবনু হুসাইনের সূত্রে এটাকে সর্বশেষ বাক্য বলেছেন। আর ‘আবদুল আ‘লা মা‘মার হতে যুহরীর সূত্রে এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন।
। ‘আবদুর রহমান ইবনু আবযা হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করেছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ণভাবে তাকবীর বলতেন না। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এর অর্থ হচ্ছে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ‘ থেকে মাথা উঠানোর পর সিজদায় গমনের ইচ্ছা করলে পূর্ণরূপে তাকবীর বলতেন না এবং সিজদা্ থেকে উঠে দাঁড়ানোর সময়ও পূর্ণরূপে তাকবীর বলতেন না।[1] দুর্বল।
। ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ) সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখেছি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে সিজদায় গমনকালে (জমিনে) হাত রাখার পূর্বে হাঁটু রাখতেন এবং এবং সিজদা্ হতে দাঁড়ানোর সময় হাঁটুর পূর্বে হাত উঠাতেন।[1] দুর্বল।
। ‘আবদুল জাব্বার ইবনু ওয়ায়িল হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত সম্পর্কে হাদীস বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদাকালে স্বীয় হস্তদ্বয় মাটিতে রাখার পূর্বে হাঁটদ্বয় মাটিতে স্থিরভাবে রাখতেন। বর্ণনাকারী হাম্মাম (রহঃ) শাকীক সূত্রে বর্ণনা করেন যে, ‘আসিম ইবনু কুলায়িব তাঁর পিতার হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। উল্লিখিত বর্ণনাকারীদ্বয়ের মধ্যে আমার জানামতে সম্ভাব্য মুহাম্মাদ ইবনু জুহাদা বর্ণিত হাদীসে রয়েছেঃ তিনি সিজদার পর উঠে দাঁড়ানোর সময় হাঁটু ও রানের উপর ভর করে দাঁড়াতেন। [1] দুর্বল।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন সিজদার সময় উটের ন্যায় না বসে এবং সিজদাকালে যেন মাটিতে হাঁটু রাখার পূর্বে হাত রাখে।[1] সহীহ।