। আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের (নারীদের) মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখিরাত দিবসে বিশ্বাসী, তারা যেন পুরুষদের মাথা উঠানোর পূর্বে নিজেদের মাথা উত্তোলন না করে। কেননা পুরুষদের সতর দেখা নারীদের জন্য অপছন্দীয়।[1] সহীহ।
হাদিস 852 — Sunan Abu Dawud 2:462
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (792) Sahih Muslim (471)
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْبَرَاءِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ سُجُودُهُ وَرُكُوعُهُ وَقُعُودُهُ وَمَا بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ قَرِيبًا مِنَ السَّوَاءِ .
। আল-বারাআ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিজদা্, রুকূ‘ ও দু’ সাজদার মধ্যবর্তী বৈঠক প্রায় একই সমান হতো।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
হাদিস 853 — Sunan Abu Dawud 2:463
সহিহসহিহসহিহসহিহ Muslim (473)
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ، وَحُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ مَا صَلَّيْتُ خَلْفَ رَجُلٍ أَوْجَزَ صَلاَةً مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي تَمَامٍ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " . قَامَ حَتَّى نَقُولَ قَدْ أَوْهَمَ ثُمَّ يُكَبِّرُ وَيَسْجُدُ وَكَانَ يَقْعُدُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ حَتَّى نَقُولَ قَدْ أَوْهَمَ .
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমন সংক্ষেপে অথচ পূণার্ঙ্গভাবে সালাত আদায় করতেন, আমি এরূপ সালাত অন্য কারো পিছনে আদায় করিনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্’’ বলার পর দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন, আমাদের মনে হতো যে, তিনি ভুলে গেছেন। অতঃপর তিনি তাকবীর বলে সিজদা্ করতেন এবং দু’ সাজদার মধ্যবর্তী সময়ে এতো দীর্ঘক্ষণ বসতেন যে, আমাদের মনে হতো তিনি দ্বিতীয় সাজদার কথা হয়তো ভুলে গেছেন।[1] সহীহ : মুসলিম, বুখারী সংক্ষেপে।
। আল-বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ইচ্ছাকৃতভাবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাতরত অবস্থায় দেখি। আমি তাঁর ক্বিয়ামকে রুকূ‘ ও সাজদার অনুরূপ পেলাম। তাঁর রুকূ‘ তাঁর সাজদার সমান এবং দু’ সাজদার মাঝখানের বৈঠক, অতঃপর সিজদা্ করা, অতঃপর সালাম ফিরানো পর্যন্ত বৈঠক প্রায় একই সমান পেয়েছি। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, মুসাদ্দাদ বলেন, তাঁর রুকূ‘ এবং দু’ রাক‘আতের মধ্যবর্তী ই‘তিদাল, তাঁর সিজদা্ ও দু’ সাজদার মাঝে বসা, দ্বিতীয় সিজদা্ এবং সালাম ফিরানোর পর লোকদের দিকে মুখ করে বসা- সবই প্রায় একই সমান ছিল।[1] সহীহ : মুসলিম।
। আবূ মাসউদ আল-বাদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রুকূ‘ ও সিজদাতে পিঠ সোজা করে না তার সালাত যথেষ্ট নয়।[1] সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করলো এবং এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম করলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সালামের জবাব দিয়ে বলেনঃ তুমি ফিরে যাও এবং আবার সালাত আদায় করো, তুমি সালাত আদায় করোনি। লোকটি ফিরে গিয়ে আগের মত সালাত আদায় করে এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পুনরায় সালাম দিলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সালামের জবাব দিয়ে বলেনঃ তুমি গিয়ে আবার সালাত আদায় করো, কারণ তুমি তো সালাত আদায় করোনি। এভাবে লোকটি তিনবার সালাত আদায় করলো। অতঃপর লোকটি বললো, ঐ আল্লাহর শপথ! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমি এর চাইতে উত্তমরূপে সালাত আদায় করতে পারি না। কাজেই আমাকে সালাতের পদ্ধতি শিখিয়ে দিন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি সালাতে দাঁড়ানোর সময় সর্বপ্রথম তাকবীরে তাহরীমা বলবে। তারপর তোমার সুবিধানুযায়ী কুরআনের আয়াত পাঠ করবে, অতঃপর শান্তি ও স্থিরতার সাথে রুকূ‘ করবে, অতঃপর রুকূ‘ হতে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। অতঃপর ধীরস্থিরভাবে সিজদা্ করবে। এরপর প্রশান্তির সাথে বসবে। এভাবেই তোমার পুরো সালাত আদায় করবে। অন্য বর্ণনায় রয়েছেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষে তাকে বললেনঃ তুমি এভাবে সালাত আদায় করলে তোমার সালাত পরিপূর্ণভাবে আদায় হবে। আর এর কোন অংশ আদায়ে ত্রুটি করলে তোমার সালাতও ত্রুটিপূর্ণ হবে। এতে আরো রয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ তুমি সালাত আদায় করতে চাইলে প্রথমে উত্তমরূপে অযু করে নিবে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। ‘আলী ইবনু ইয়াহইয়াহ (রহঃ) হতে তাঁর চাচার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করলো। অতঃপর তিনি পূর্ববতী হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তিনি তাতে বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ অযুর অঙ্গসমূহ উত্তমরূপে না ধুলে সালাত পূর্ণ হবে না। অযুর পর তাকবীরে তাহরীমা বলে হামদ ও সানা পড়ে কুরআন হতে যা ইচ্ছে হয় তিলাওয়াত করবে। অতঃপর আল্লাহু আকবার বলে এমনভাবে রুকূ‘ করবে যেন তার জোড়াসমূহ স্ব-স্ব স্থানে অবস্থান করে। অতঃপর ‘‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্’’ বলে স্থিরভাবে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আল্লাহু আকবার বলে এমনভাবে সিজদা্ করবে, যাতে শরীরের জোড়াসমূহ স্ব-স্ব স্থানে যথারীতি অবস্থান করে। অতঃপর ‘‘আল্লাহু আকবার’’ বলে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে বসবে এবং পুনরায় আল্লাহু আকবার বলে সিজদাতে যাবে, শরীরের জোড়া সমূহ প্রশান্তি লাভ না করা পর্যন্ত সিজদাতে অবস্থান করবে। অতঃপর আল্লাহু আকবার বলে সিজদা্ হতে মাথা উঠাবে। কোন ব্যক্তি যখন এরূপে সালাত আদায় করবে, তখনই তার সালাত পরিপূর্ণভাবে আদায় হবে।[1] সহীহ।
। রিফা‘আহ ইবনু রাফি‘ (রাঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মহান আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী পূণার্ঙ্গভাবে অযু না করলে কারও সালাত শুদ্ধ হবে না। সুতরাং সে তার মুখমন্ডল এবং উভয় হাত কনুই পর্যন্ত ধুবে, মাথা মাসাহ করবে এবং উভয় পা গোড়ালীসহ ধুবে। অতঃপর তাকবীরে তাহরীমা বলে হামদ পাঠ করে কুরআন হতে যে অংশ সহজ মনে হয় তিলাওয়াত করবে। অতঃপর হাম্মাদের হাদীসের অনুরূপ। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ আল্লাহু আকবার বলে কপাল মাটিতে লাগিয়ে সিজদা করবে এমনভাবে যেন শরীরের জোড়াসমূহ স্ব-স্ব স্থানে অবস্থান করে ও প্রশান্তি পায়। এরপর তাকবীর বলে সোজা হয়ে পাছার উপর ভয় দিয়ে বসবে এবং পিঠ সোজা রাখবে। এরূপে তিনি চার রাক‘আত সালাতের নিয়ম শেষ পর্যন্ত বর্ণনা দেন। এ পদ্ধতিতে সালাত আদায় না করলে তোমাদের কারো সালাতই পরিপূর্ণ হবে না।[1] সহীহ।
। রিফা‘আহ ইবনু রাফি‘ (রাঃ) হতে উপরোক্ত ঘটনা বর্ণিত আছে। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি সালাত আদায়ে দাঁড়ালে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হমুখী হয়ে আল্লাহু আকবার বলে সূরাহ ফাতিহা এবং কুরআনের কিছু অংশ তিলাওয়াত করবে। অতঃপর রুকূ‘তে তোমার দু’ হাত দু’ হাঁটুর উপর রাখবে এবং পিঠ লম্বা করে রাখবে। তিনি আরো বলেনঃ তুমি সিজদা্ করলে তাতে কিছুক্ষণ অবস্থান করবে এবং সিজদা্ হতে মাথা উঠানোর পর তোমার বাম উরূর উপর বসবে।[1] হাসান।
। রিফা‘আহ ইবনু রাফি‘ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উপরোক্ত ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি সালাত আদায়ে দাঁড়িয় মহা মহীয়ান আল্লাহর নামে তাকবীর বলবে। এরপর কুরআনের যে অংশ তোমার জন্য সহজ তা তিলাওয়াত করবে। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি সালাতের প্রথম বৈঠকে প্রশান্তির সাথে বসবে এবং এ সময় তোমার বাম পা বিছিয়ে দিবে, অতঃপর তাশাহহুদ পড়বে। অতঃপর আবার দাঁড়ালে উপরোক্ত নিয়মেই সালাত শেষ করবে।[1] হাসান।