। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সূত্রে যুল্-ইয়াদাইন সম্পর্কিত হাদীসে রয়েছেঃ তিনি তাকবীর বলে সিজদা্ করলেন। আর হিশাম ইবনু হাসসান বলেছেন, তিনি তাকবীর বললেন, অতঃপর আবারো তাকবীর বললেন এবং সিজদায় করলেন।[1] শায। ইমাম ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাবীব ইবনুল শাহীদ, হুমাইদ, ইউনুস এবং ‘আসিম আল-আহ্ওয়াল-মুহাম্মদ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাদের কেউই হাম্মাদ ইবনু যায়িদ হতে হিশাম সূত্রে বর্ণিত হাদীসের এ কথাগুলো উল্লেখ করেননি- (অর্থাৎ) ‘‘তিনি তাকবরি বললেন, অতঃপর আবারো তাকবীর বললেন এবং সিজদা্ করলেন।’’ হাম্মাদ ইবনু সালামাহ ও আবূ বাকর ইবনু আইয়্যাশ এ হাদীস হিশাম হতে বর্ণনা করেছেন। তারা দু‘জন হিশাম হতে ‘পরপর দুইবার তাকবীর’ দেয়ার কথা উল্লেখ করেননি, যা হাম্মাদ উল্লেখ করেছেন।
। ইবনু শিহাব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তাকে আবূ বাকর ইবনু সুলায়মান ইবনু আবূ হাসমাহ অবহিত করেছেন যে, তার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, সালাতে সন্দেহ হলে যে দু‘টি সিজদা্ দিতে হয় সে বিষয়ে লোকদের জিজ্ঞাসাবাদের পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করেননি। ইবনু শিহাব বলেন, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব এ হাদীসটি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবূ হুরাইরাহ হতে। তিনি আরো বলেন, আবূ সালামাহ ইবনু ‘আবদুর রহমান, আবূ বাকর ইবনু হারিস ইবনু হিশাম এবং ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহও আমার কাছে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।[1] ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ ঘটনাটি ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাসীর এবং ‘ইমরান ইবনু আবূ আনাস (রহঃ) আবূ সালামাহ ইবনু ‘আবদুর রহমান হতে আবূ হুরাইরাহ সূত্রে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাতে ‘দু’টি সিজদার কথা উল্লেখ নেই। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, যুবাইদী-যুহরী-আবূ বাকর ইবনু সুলায়মান ইবনু আবূ হাসমাহ হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সূত্রে যে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তাতে রয়েছে, তিনি দু‘টি সাহু সিজদা্ আদায় করেননি। শায।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত (ভুল বশতঃ) দু’ রাক‘আত আদায় করেই সালাম ফিরালেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, সালাত কি সংক্ষিপ্ত করে দেয়া হয়েছে? এ কথা শুনে তিনি আরো দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে দু‘টি সিজদা্ করলেন।[1] সহীহ।
। দামদাম ইবনু জাওস আল-হাফফানী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) এ হাদীসটি অনুরূপভাবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফিরানোর পর দু‘টি সাহু সিজদা্ করেছেন।[1] হাসান সহীহ।
। ‘ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আসরের তিন রাক‘আত সালাত আদায় করেই সালাম ফিরালেন এবং হুজরায় প্রবেশ করলেন। তখন লম্বা হাতওয়ালা বিশিষ্ট খিরবাক্ব নামক এক ব্যক্তি উঠে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! সালাত কি কমিয়ে দেয়া হয়েছে? এ কথা শুনে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত অবস্থায় চাদর টানতে টানতে বেরিয়ে এসে লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, সে কি সত্য বলেছে? লোকজন বললো, হাঁ, তখন তিনি অবশিষ্ট এক রাক‘আত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। অতঃপর দু‘টি সাহু সিজদা্ দিয়ে পরে সালাম ফিরালেন।[1] সহীহ : মুসলিম।
। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত পাঁচ রাক‘আত আদায় করেন। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, সালাত কি বৃদ্ধি করা হয়েছে? তিনি বললেনঃ তা আবার কিভাবে! সকলেই বললো, আপনি তো পাঁচ রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাম ফিরানোর পর দু‘টি সাহু সিজদা্ করলেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করলেন। ইবরাহীম বলেন, এ সালাতে তিনি বেশী করেছিলেন না কম করেছিলেন তা আমি অবহিত নই।। তিনি সালাম ফিরালে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! সালাতে নতুন কিছু হয়েছে কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা আবার কেমন করে? তারা বললো, আপনি তো সালাতে এরূপ এরূপ করেছেন (কম অথবা বেশী সালাত আদায় করেছেন)। এ কথা শুনে তিনি পা ঘুরিয়ে কিবলামুখী হয়ে দু‘টি সাহু সিজদা্ করে সালাম ফিরালেন। সালাত শেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে ঘুরে বললেন, সালাতের ব্যাপারে নতুন কিছু ঘটে থাকলে আমি তোমাদেরকে তা অবহিত করতাম। কিন্তু আমি তো তোমাদের মতই মানুষ। তোমাদের মতো আমিও ভুল করে থাকি। কাজেই আমি ভুলে গেলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিবে। তিনি আরো বললেনঃ তোমাদের কেউ সালাতে সন্দিহান হলে সে যেন সঠিক দিক বের করতে চিন্তা-ভাবনা করে, অতঃপর তার ভিত্তিতে সালাত সম্পন্ন করে এবং সালাম ফিরায় অতঃপর দু‘টি সাহু সিজদা্ আদায় করে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।