। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে লোকেরা ফারয সালাত শেষে উচ্চস্বরে তাকবীর বলতো। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, এভাবে উচ্চস্বরে তাকবীর বলা শুনে আমি বুঝতে পারতাম যে, লোকদের সালাত সমাপ্ত হয়েছে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম সংক্ষিপ্ত করাকে সুন্নাত বলেছেন। ঈসা (রহঃ) বলেন, ইবনুল মুবারক (রহঃ) আমাকে এ হাদীস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণীরূপে বর্ণনা করতে নিষেধ করেছেন।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আমি আবূ উমাইর ঈসা ইবনু ইউনুস ইল-ফাখূরী আর-রামলী (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, আল-ফিরয়াবী মাক্কাহ হতে প্রত্যাবর্তনের পর এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বক্তব্য হিসাবে বর্ণনা করা ত্যাগ করেছেন এবং বলেছেন, ইমাম আহমাদ ইবনু হা্ম্বাল (রহঃ) তাকে এ হাদীস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী হিসাবে বর্ণনা করতে নিষেধ করেছেন।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ কি ফারয সালাত আদায়ের পর সামনে এগিয়ে বা পিছনে সরে অথবা ডানে বা বাম সরে নফল সালাত আদায় করতে অপারগ? হাম্মাদ (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে আছে, ফারয সালাত আদায়ের পর।[1] সহীহ।
। আল-আযরাক্ব ইবনু ক্বায়স (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমাদের ইমাম আবূ রিমসা (রাঃ) আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি বললেন, এ সালাত বা এরূপ সালাত আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আদায় করেছি। তিনি আরো বললেন, আবূ বাকর ও ‘উমার (রাঃ) সামনের কাতারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ডান পাশে দাঁড়াতেন। উক্ত সালাতে এমন এক ব্যক্তিও উপস্থিত ছিলো যিনি প্রথম তাকবীরেই সালাতে শামিল হতে পেরেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করে তাঁর ডান ও বাম দিকে সালাম ফিরালেন। আমরা তাঁর গলার শুভ্রতা দেখতে পেলাম। তারপর তিনি উঠে দাঁড়ালেন। যেমন আবূ রিমসা উঠে দাঁড়ালেন। অর্থাৎ তিনি নিজের কথাই বললেন। এ সময় প্রথম তাকবীরসহ সালাত পাওয়া ব্যক্তি দু’ রাকআত নফল সালাত আদায়ের জন্য উঠে দাঁড়ালে ‘উমার (রাঃ) তার দিকে ছুটে গিয়ে তার দুই কাঁধ ধরে সজোরে ঝাঁকুনি দিয়ে বললেন, বসো। কেননা আহলে কিতাবগণ এ কারণে ধ্বংস হয়েছে যে, তারা ফারয ও নফল সালাতের মাঝে কোন ব্যবধান করতো না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেদিকে তাকিয়ে বললেনঃ হে খাত্তাবের পুত্র! আল্লাহ তোমাকে দিয়ে সঠিক কাজ করিয়েছেন।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, কোন বর্ণনায় আবূ রিমসা (রাঃ) এর স্থলে আবূ উমাইয়াহর (রাঃ) কথা রয়েছে।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে যুহর বা ‘আসর সালাত আদায় করেন। বর্ণনাকারী (আবূ হুরায়রাহ) বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে নিয়ে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেই সালাম ফিরিয়ে দিলেন। অতঃপর তিনি মসজিদের সম্মুখ দিকে রাখা কাষ্ঠখন্ডের দিকে অগ্রসর হয়ে তার উপরে এক হাতকে অপর হাতের উপর রাখলেন। এ সময় তাঁর চেহারায় অসন্তুষ্টির ছাপ ছিল। লোকজন মাসজিদ থেকে দ্রুত বেরিয়ে যেতে যেতে বলছিল, ‘সালাত সংক্ষিপ্ত করে দেয়া হয়েছে, সংক্ষিপ্ত করে দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে আবূ বাকর এবং ‘উমার (রাঃ)-ও ছিলেন। তারা উভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এ নিয়ে কথা বলতে ভয় পাচ্ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে যুল-ইয়াদাইন (দু’ হাতবিশিষ্ট) বলে ডাকতেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি ভুল করেছেন, না সালাত সংক্ষিপ্ত করে দেয়া হয়েছে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি ভুলও করি নাই এবং সালাতও হ্রাস করা হয় নাই। যুল-ইয়াদাইন বললেন, হে আল্লাহর রসূল! তাহলে আপনি ভুল করেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকজনের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ যুল-ইয়াদাইন কি সত্য বলছে? জবাবে সকলেই ইশারায় হ্যাঁ বললেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জায়গায় এগিয়ে গেলেন এবং অবশিষ্ট দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন, এরপর তাকবীর বলে স্বাভাবিক সাজদার মত সিজদায় করলেন অথবা তার চেয়ে দীর্ঘ সিজদা্ করলেন। এরপর তাকবীর বলে মাথা উঠালেন, তারপর আবার তাকবীর বলে স্বাভাবিক সাজদার মত অথবা তার চেয়ে দীর্ঘ সিজদা্ করলেন, অতঃপর তাকবীর বলে মাথা উঠালেন।[1] বর্ণনাকারী আইয়ূব বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু সীরীনকে সাহু সিজদা্ এবং সালাম ফিরানো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রাহর কাছে এ বিষয়ে শুনেছি কিনা স্মরণ নেই। তবে আমাকে জানানো হয়েছে যে, ‘ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহু সাজদার পরও সালাম ফিরিয়েছিলেন। সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ, তিনি মালিক, তিনি আইয়্যুব হতে, তিনি মুহাম্মাদ হতে পূর্বোক্ত সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে বর্ণনাকারী হাম্মাদের সানাদে বর্ণিত হাদীসটিই পূর্ণাঙ্গ। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করলেন। এ বর্ণনায় ‘আমাদেরকে নিয়ে’ এবং ‘লোকদের ইশারা’ শব্দদ্বয় উল্লেখ নেই। বর্ণনাকারী বলেন, জবাবে লোকেরা শুধু হ্যাঁ বলেছিলো। বর্ণনাকারী বলেনঃ অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা উঠালেন। এতে ‘‘এরপর তাকবীর বলেন... অতঃপর মাথা উঠালেন’’ একথাগুলো উল্লেখ নেই। এভাবেই হাদীস শেষ হয়েছে। হাম্মাদ ইবনু যায়িদ ব্যতীত অন্য কেউ ‘‘ফা আওমায়ূ’’ (লোকদের ইশারা) শব্দটি উল্লেখ করেননি।[1] ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, যারা এ হাদীস বর্ণনা করেছেন তাদের কেউই ‘ফাক্ববারা’ (তিনি তাকবীর দিলেন) এবং রাজায়া (প্রত্যাবর্তন করলেন) শব্দদ্বয় উল্লেখ করেননি। সহীহ : বুখারী।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর হাম্মাদের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস ‘‘নুববি‘তু আন্না ইমরানাব্না হুসাইন ক্বালা সুম্মা সাল্লামা’’ পর্যন্ত বর্ণনা করলেন। বর্ণনাকারী সালামাহ বলেন, আমি তাকে (মুহাম্মাদ ইবনু সীরীরকে) জিজ্ঞেস করলাম, তাশাহহুদের বিষয়? তিনি বললেন, তাশহহুদ পড়া সম্পর্কে আমি তার নিকট থেকে কিছু শুনিনি। অথচ তাশাহহুদ পাঠ করা আমার কাছে সর্বাধিক প্রিয়। তিনি ‘‘কানা ইউসাম্মীহি যাল্-ইয়াদাইন’’, ‘‘ফাআওমায়ু’’ এবং ‘‘গাদাবা’’ এগুলো উল্লেখ করেননি। এ বিষয়ে হাম্মাদ বর্ণিত হাদীসটিই পূর্ণাঙ্গ।[1] সহীহ।