হজের মানাসিক ও বিধিবিধান (কিতাবুল মানাসিক ওয়াল হজ্জ)
325 হাদিস · #1721–2045
হাদিস 1951 — Sunan Abu Dawud 11:231
সহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ حُمَيْدٍ الأَعْرَجِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُعَاذٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ خَطَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم النَّاسَ بِمِنًى وَنَزَّلَهُمْ مَنَازِلَهُمْ فَقَالَ " لِيَنْزِلِ الْمُهَاجِرُونَ هَا هُنَا " . وَأَشَارَ إِلَى مَيْمَنَةِ الْقِبْلَةِ " وَالأَنْصَارُ هَا هُنَا " . وَأَشَارَ إِلَى مَيْسَرَةِ الْقِبْلَةِ " ثُمَّ لْيَنْزِلِ النَّاسُ حَوْلَهُمْ " .
। ‘আব্দুর রহমান ইবনু মুয়ায (রহ.) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈক সাহাবী সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনাতে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং তাদের অবস্থান স্থল নির্ধারণ করে দিলেন। তিনি কিবলাহর ডান দিকে ইঙ্গিত করে বললেনঃ এখানে মুহাজিরগণ অবস্থান করবে এবং কিবালাহর বাম দিকে ইঙ্গিত করে বললেনঃ এখানে আনসারগণ অবস্থান করবে। আর অন্যান্য লোক তাদের আশেপাশে অবস্থান করবে।[1] সহীহ।
হাদিস 1952 — Sunan Abu Dawud 11:232
সহিহসহিহসহিহদাঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَجُلَيْنِ، مِنْ بَنِي بَكْرٍ قَالاَ رَأَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ بَيْنَ أَوْسَطِ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ وَنَحْنُ عِنْدَ رَاحِلَتِهِ وَهِيَ خُطْبَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّتِي خَطَبَ بِمِنًى .
। ইবনু আবূ নাজীহ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি তাঁর পিতা থেকে বনী বাকরের দুই ব্যক্তি সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তারা বলেছেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ‘আইয়্যামে তাশরীকে’ মধ্যের দিন (বারো তারিখ) খুৎবা দিতে দেখেছি। এই সময় আমরা তাঁর সওয়ারীর নিকটেই ছিলাম। মিনাতে এটাই ছিলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেশকৃত খুৎবা।[1] সহীহ।
। সাররা বিনতু নাবহান (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি জাহিলী যুগে প্রতীমা ঘরের তত্ত্বাবধায় ছিলেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আইয়্যামে তাশরীকের দ্বিতীয় দিন আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেনঃ আজ কোন্ দিন? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক অবগত। তিনি বললেনঃ এটা কি আইয়্যামে তাশরীকের দিন নয়? ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, অনুরূপভাবে আবূ হাররাহ আর-রাকাশীর চাচাও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আইয়্যামে তাশরীকের মাঝের দিন খুৎবা দিয়েছেন।[1] দুর্বল।
হাদিস 1954 — Sunan Abu Dawud 11:234
হাসানহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ، حَدَّثَنِي الْهِرْمَاسُ بْنُ زِيَادٍ الْبَاهِلِيُّ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ النَّاسَ عَلَى نَاقَتِهِ الْعَضْبَاءِ يَوْمَ الأَضْحَى بِمِنًى .
। আল-হিরমাস ইবনু যিয়াদ আল-বাহিলী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কুরবানীর দিন মিনায় তাঁর আল-‘আদবা নামক উষ্ট্রীর উপর চড়ে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে দেখেছি।[1] হাসান।
হাদিস 1955 — Sunan Abu Dawud 11:235
সহিহসহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا مُؤَمَّلٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْفَضْلِ - الْحَرَّانِيُّ - حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا ابْنُ جَابِرٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمُ بْنُ عَامِرٍ الْكَلاَعِيُّ، سَمِعْتُ أَبَا أُمَامَةَ، يَقُولُ سَمِعْتُ خُطْبَةَ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِنًى يَوْمَ النَّحْرِ .
। আবূ উমামহ (রাযি.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কুরবানীর দিন মিনায় খুৎবা দিতে শুনেছি।[1] সহীহ।
হাদিস 1956 — Sunan Abu Dawud 11:236
সহিহসহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ عَامِرٍ الْمُزَنِيِّ، حَدَّثَنِي رَافِعُ بْنُ عَمْرٍو الْمُزَنِيُّ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ النَّاسَ بِمِنًى حِينَ ارْتَفَعَ الضُّحَى عَلَى بَغْلَةٍ شَهْبَاءَ وَعَلِيٌّ - رضى الله عنه - يُعَبِّرُ عَنْهُ وَالنَّاسُ بَيْنَ قَاعِدٍ وَقَائِمٍ .
। রাফী ইবনু ‘আমর আল-মুযানী (রাযি.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিনাতে দ্বি-প্রহরে শাহবা নামক খচ্চরে উপবিষ্ট হয়ে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে দেখেছি। এ সময় আলী (রাযি.) তাঁর ভাষণের পুনরাবৃত্তি করে শুনাচ্ছিলেন। তখন লোকদের কেউ দাঁড়ানো এবং কেউ বসা অবস্থায় ছিলো।[1] সহীহ।
। ‘আব্দুর রহমান ইবনু মুয়ায আত-তাইমী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। এ সময় আমরা ছিলাম উৎকর্ণ, যাতে তাঁর বক্তব্য (ভালো করে) শুনতে পাই। আমরা আমাদের নিজ নিজ অবস্থানেই ছিলাম। তিনি তাদের হজের (হজ্জের) যাবতীয় বিধি-বিধান শিখালেন, এমন কি কংকর মারা সম্পর্কেও। তিনি তাঁর উভয় শাহাদাত আঙ্গুল নিজের দু‘কানের মধ্যে রেখে বললেনঃ কংকরগুলো খুবই ক্ষুদ্র হওয়া চাই। তারপর মুহাজিরদেরকে নির্দেশ দিলে তারা মসজিদের পেছনে গিয়ে অবস্থান করলেন। অতঃপর অন্যান্য লোক তাদের অবস্থান গ্রহণ করে।[1] সহীহ। সংক্ষিপ্তভাবে এটি গত হয়েছে।
। ‘আব্দুর রহমান ইবনু ফাররূখ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি ইবনু ‘উমার (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করেন, আমরা লোকদের মালপত্র ক্রয় করি এবং তা সংরক্ষণের জন্য আমাদেরকেও মক্কায় গিয়ে রাত যাপন করে। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনাতেই রাত যাপন করতেন এবং দিনেও সেখানেই থাকতেন।[1] দুর্বল।
হাদিস 1959 — Sunan Abu Dawud 11:239
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (1745) Sahih Muslim (1315)
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، وَأَبُو أُسَامَةَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ اسْتَأْذَنَ الْعَبَّاسُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَبِيتَ بِمَكَّةَ لَيَالِيَ مِنًى مِنْ أَجْلِ سِقَايَتِهِ فَأَذِنَ لَهُ .
। ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল-আব্বাস (রাযি.) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হাজীদেরকে পানি পান করানোর জন্য মিনায় অবস্থানের রাতগুলোতে মক্কায় অবস্থান করার অনুমতি প্রার্থনা করলে তিনি তাকে অনুমতি দেন।[1] সহীহ।
হাদিস 1960 — Sunan Abu Dawud 11:240
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (1084) Sahih Muslim (695)
। ‘আব্দুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উসমান (রাযি.) মিনাতে চার রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন (কসর করেননি)। ‘আব্দুল্লাহ বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আবূ বাকর ও ‘উমার (রাযি.)-এর সাথে দুই রাক‘আত সালাত আদায় করেছি। হাফস ইবনু গিয়াছের বর্ণনায় রয়েছে, এবং ‘উসামন (রাযি.)-এর খিলাফাতের শুরুতে তার সাথেও দুই রাক‘আত সালাত আদায় করেছি। অতঃপর ‘উসমান (রাযি.) চার রাক‘আত পড়েছেন। অতঃপর বর্ণনাকারী আবূ মু‘আবিয়্যাহ থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে, পরে এ নিয়ে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়। আমি নিজের জন্য চার রাক‘আতের চেয়ে দুই রাক‘আত মাকবুল সালাতই পছন্দ করি। আনাস (রাযি.) বলেন, মু‘আবিয়্যাহ ইবনু কুররাহ তাঁর শায়েখদের সূত্রে আমাকে বলেছেন, পরে ‘আব্দুল্লাহ (রাযি.) ‘উসমান (রাযি.)-এর সাথে চার রাক‘আতই পড়েছেন। কেউ তাকে জিজ্ঞেস করলো, ‘উসমান (রাযি.) চার রাক‘আত সালাত আদায়ের কারণে আপনি তার সমালোচনা করেছেন। অথচ দেখছি আপনিও চার রাক‘আত আদায় করেছেন। তখন তিনি বললেন, মত পার্থক্য করা মন্দ কাজ।[1] সহীহ।